YouTube2Text

তারানাথ তান্ত্রিক ও তন্ত্রের অভিশাপ - Taranath Tantrik Golpo | Bangla Bhuter Golpo | Bhuter Cartoon — Transcript

by Bong Toon · 3,291 words · 536 segments · language en · Watch on YouTube

Full transcript

  1. 0:00[মিউজিক]
  2. 0:08[মিউজিক]
  3. 0:16[মিউজিক]
  4. 0:22জীবনে তন্ত্র সাধনা তো কম করলাম না বহু
  5. 0:27স্থান ঘুরেছি আর খুব মানুষের সাথে পরিচয়
  6. 0:32হয়েছে কিন্তু এই তন্ত্রের যেমন ভালো দিক
  7. 0:37আছে তেমন খুব খারাপ দিকও আছে এমন অনেক
  8. 0:42তন্ত্র আছে যার সাধনা করতে গিয়ে সাধককে
  9. 0:47অভিশাপ ভোগ করতে
  10. 0:49হয়েছে আজ সেই রকমই একটা ঘটনার কথা মনে
  11. 0:54পড়ে
  12. 0:55গেল শীতের সন্ধ্যায় গরম তেলে ভাজা আর
  13. 0:59মুড়ি খেতে খেতে তারানাথের ঘরে বসে আমাদের
  14. 1:02আড্ডা চলছে তবে আজ তারানাথকে গল্পের জন্য
  15. 1:06আবেদন করতে হয়নি তিনি নিজে থেকেই শুরু
  16. 1:09করেছেন কি বলছেন ঠাকুরমশাই সাধক যদি
  17. 1:13অভিশাপ পায় তাহলে সাধনটা করবে কিভাবে সেই
  18. 1:17কথাই তো বলছি অত ছটফট করলে হয় রসো রসো
  19. 1:23আগে একটা সিগারেট ধরিয়ে নিই পাসিং শো এর
  20. 1:27প্যাকেট থেকে অতি যত্নে একটা সিগারেট বার
  21. 1:30করে তারানাথ ধরালেন তারপর এক রস ধোঁয়া
  22. 1:34ছেড়ে বলতে শুরু
  23. 1:42করলেন পথে ঘুরতে ঘুরতে একবার পৌঁছে
  24. 1:47গিয়েছিলাম পিঞ্জলা নামের একটি
  25. 1:51গ্রামে গ্রামটা পুরুলিয়ার একটা প্রত্যন্ত
  26. 1:55অঞ্চলে
  27. 1:56অবস্থিত আমি যেখানে পৌঁছেছি সেখানে কোন
  28. 2:01জনবসতি চোখে পড়লো না হাঁটছি তো হাঁটছি
  29. 2:08দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো
  30. 2:12ততক্ষণে আমি একটা নদীর তীরে উপস্থিত
  31. 2:15হয়েছি এইরকম নির্জন স্থানে কি করে রাত
  32. 2:20কাটাবো ভাবছি এমন সময় একটি ছোট ডিঙি নৌকা
  33. 2:26চোখে পড়লো কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই নৌকাটি
  34. 2:31পাড়ে এসে
  35. 2:32থামলো আমাকে একলা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে
  36. 2:36মাঝি জিজ্ঞাসা করল আপনি মনে হচ্ছে এই
  37. 2:40অঞ্চলে নতুন তা আপনি যাবেন কোথায় আমি
  38. 2:45ভবঘুরে পথিক পথ চলতে চলতে এখানে এসে
  39. 2:50পড়েছি যাওয়ার তেমন বিশেষ জায়গা নেই
  40. 2:54আপনি নৌকায় উঠে আসুন ওই পাড়ে গোবরান্দা
  41. 2:58গ্রাম আপনাকে পার করে দিই আমি আর কথা না
  42. 3:02বাড়িয়ে কাঁদা মাটিতে নেমে
  43. 3:05পড়লাম তারপর নৌকায় উঠে
  44. 3:10বসলাম মাঝি নৌকা বাইতে শুরু করল
  45. 3:16নদীর ঠিক মাঝ বরাবর গেছি এমন সময় শুনতে
  46. 3:21পেলাম নদীর তীরে একটি নারী মূর্তি চিৎকার
  47. 3:26করে
  48. 3:27বলছে আমাকে
  49. 3:30আমাকে বাঁচাও কেউ কেউ
  50. 3:34শুনছো আমাকে বাঁচাও
  51. 3:38নৌকা তীরে ভিড়তেই মেয়েটি এক লাফে নৌকার
  52. 3:42ভিতর উঠে এলো তারপর খুব ভীত স্বরে আমার
  53. 3:46কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলল আমাকে
  54. 3:52বাঁচান ওরা ওরা আমার বাচ্চাকে মেরে ওরা
  55. 3:57আমাকে মারতে চায় এতক্ষণে দেখলাম তার হাতে
  56. 4:02একটা কাঠের ছোট্ট
  57. 4:05সিন্দুক অনেকটা ওই সেকেলের গয়নার
  58. 4:08সিন্দুকের মত নদীর ঢেউ এর দোলায় নৌকাটি
  59. 4:13সামান্য দুলে উঠলো আর ঠিক সেই মুহূর্তেই
  60. 4:16হয়তো
  61. 4:18অসাবধানতাবশত মেয়েটির হাত থেকে পড়ে
  62. 4:21সিন্দুকটার ঢাকনাটি গেল খুলে অবাক হয়ে
  63. 4:25দেখলাম এক মুঠো মনিমুক্ত খচিত গয়না নৌকার
  64. 4:30পাটাতনের উপর ঝমঝম শব্দে পড়ে গেল তখন সেই
  65. 4:35মহিলা বাক্সে হাত ঢুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে
  66. 4:38উঠে
  67. 4:40বলল আমার
  68. 4:43বাচ্চা আমার
  69. 4:45বাচ্চা
  70. 4:47বাবা কথা বল বাবা কথা
  71. 4:51বল কিন্তু আশ্চর্য বাক্সে তো কোন বাচ্চার
  72. 4:56অস্তিত্বই নেই শুধু পড়ে আছে মলের সাদা
  73. 5:00একটা কাপড় আবারো ভালো করে দেখলাম না আর
  74. 5:05তো কিছুই নেই তাহলে মহিলাটি কি নিছক
  75. 5:09কল্পনা করছে সন্তান হারিয়ে সেই বেদনায়
  76. 5:13হয়তো প্রলাপ
  77. 5:15বকছে কি হয়েছে আপনার একটু ভালো করে দেখুন
  78. 5:19এখানে কোন বাচ্চার অস্তিত্বই নেই আপনি কি
  79. 5:23কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না দেখুন দেখুন ভালো
  80. 5:27করে এইতো দেখুন
  81. 5:30ওরা ওরা আমার বাচ্চার শরীর থেকে চামড়া
  82. 5:34ছাড়িয়ে নিয়েছে কত রক্ত ঝরছে দেখুন ওই
  83. 5:40ওই ওরা আমার
  84. 5:43সন্তানের একটা হাতও কেটে নিয়েছে মহিলাটির
  85. 5:48কথা শুনে আবারো একবার বাক্সটার ভিতর
  86. 5:52তাকালাম এবার সত্যিই দেখলাম এক বিভৎস
  87. 5:57দৃশ্য একটা বাচ্চা শরীরটা চামড়া বিহীন
  88. 6:02এবং বাম হাতের কবজিটা কাটা দু হাত দিয়ে
  89. 6:06নিজের মুখটা ঢেকে মনে মনে
  90. 6:09ভাবলাম ঈশ্বর কি হচ্ছে এসব আমার সাথে আমি
  91. 6:14অপলক চোখে মহিলাটির দিকে তাকিয়ে আছি এমন
  92. 6:18সময় আবিষ্কার করলাম মহিলাটির পিছনে মাঝি
  93. 6:22লালায়িত দৃষ্টিতে সিন্দুক থেকে পড়ে
  94. 6:25যাওয়া গয়নার দিকে তাকিয়ে আছে সে সবে
  95. 6:30বাক্সটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছিল
  96. 6:33মহিলাটিও তার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরে
  97. 6:36মুহূর্তেই বাক্সটাকে বুকের সাথে শক্ত করে
  98. 6:39চেপে ধরলো শুরু হলো দুজনের মধ্যে
  99. 6:43হাতাহাতি মাঝিটি যে করেই হোক সেই গয়নার
  100. 6:47বাক্সটি নেবেই আর মহিলাটিও যেকোনো মূল্যে
  101. 6:51হোক বাক্সটাকে হাতছাড়া করবে না আমার হাত
  102. 6:55পা অসার হয়ে আসতে লাগলো যেন বায়োস্কোপে
  103. 6:59সিনেমা দেখে
  104. 7:01তুমূল ধস্তাধস্তির মধ্যে দুজনেই যে কখন
  105. 7:04নৌকার একেবারে কিনারায় পৌঁছে গিয়েছে তা
  106. 7:08তারা বুঝে ওঠার আগেই নৌকা থেকে পড়ে গেল
  107. 7:11জলে
  108. 7:14নদী তখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্রোত বেশ
  109. 7:18গতিশীল দুজনেই জলে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে
  110. 7:22নদীর গৌভরে তবুও কেউ কারো কাছে হার মানছে
  111. 7:26না আমি আমি নিরুপায় হয়ে চিৎকার করে বলে
  112. 7:28উঠলাম কেউ আছো বাঁচাও ওরা জলে ডুবে যাচ্ছে
  113. 7:33বাঁচাও কিন্তু কেউই আমার চিৎকার শুনতে পেল
  114. 7:37না কারণ আশেপাশে একটা জনবসতির বিন্দুমাত্র
  115. 7:41অস্তিত্ব নেই শুধু কুলকুল করে বয়ে যাওয়া
  116. 7:45নদীর স্রোতের সুরধ্বনি শুনতে পেলাম এবার
  117. 7:49নিজের মনকে শক্ত করে সেই মহিলাটিকে মাঝির
  118. 7:53হাত থেকে বাঁচাতে আমি জলে ঝাঁপ দিলাম জলে
  119. 7:58পড়ে একটা ডুব দিয়ে যেই বিনা মাথা তুললাম
  120. 8:01অমনি আমি অবাক হয়ে গেলাম কোথায় মহিলা আর
  121. 8:05কোথায় বা সেই মাঝি এমনকি নৌকাটা পর্যন্ত
  122. 8:08নেই শুধু ঢেউ মিশ্রিত নদীর জলে আমি একা
  123. 8:12ভেসে আছি কেউ কোথাও নেই হঠাৎ একটা জোর
  124. 8:17ঝাঁকুনি অনুভব করলাম যেন জলের ভিতর থেকে
  125. 8:20কে আমার পা ধরে
  126. 8:27টানছে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখ দুটো ওই
  127. 8:31অন্ধকারের মধ্যেও যেন অন্ধকার হয়ে
  128. 8:36গেল যখন চোখ খুললাম দেখতে পেলাম একটা
  129. 8:40বিছানাতে শুয়ে আছি দিনের আলোতে চারিদিক
  130. 8:45স্পষ্ট কিছুক্ষণের মধ্যে গতকাল রাতের ঘটে
  131. 8:49যাওয়া সব কথা মনে পড়ে গেল এই সময় একটা
  132. 8:54লোক আমার মুখের কাছে ঝুঁকে আমার পরিচয়
  133. 8:57জানতে চাইলেন ধীরে ধীরে নিজের নাম পরিচয়
  134. 9:02সব বলে জানতে পারলাম আমাকে কিছু জেলে নদীর
  135. 9:06পাড়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে
  136. 9:09নিয়ে
  137. 9:10এসেছে যার সাথে বাক্য লাভ করছিলাম তিনি
  138. 9:14এইখানেই থাকেন তার নাম পঞ্চানন
  139. 9:17মুকুজে বয়স আন্দাজে 50 55 হবে সম্ভবত
  140. 9:23আমার গলার পইতে দেখেই আমাকে ব্রাহ্মণ বুঝে
  141. 9:27জেলেরা পঞ্চাননের বাড়িতে দিয়ে
  142. 9:30গেছে তারপর আমি গত রাতে আমার সাথে ঘটে
  143. 9:35যাওয়া সমস্ত ঘটনার কথা ওনাকে বললাম
  144. 9:40পঞ্চানন বিউহল দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে
  145. 9:44বললেন ইতিপূর্বে আরো জনা 25 জন মানুষের
  146. 9:48সাথে ঠিক এইরূপ ঘটনা ঘটেছে কিন্তু তারা
  147. 9:51কেউই বেঁচে নেই কিন্তু আপনি প্রথম ব্যক্তি
  148. 9:55যে এখনো বেঁচে আছেন হয়তো এর পেছনে কোন
  149. 9:58কারণ আছে সে এটা আন্দাজ করেই বলছি যে এই
  150. 10:01ঘটনার ইতিহাসটা আপনার জানা দরকার আজ থেকে
  151. 10:05150 বছর পূর্বে এ রাজ্যের রাজা ছিলেন রাজা
  152. 10:09বিক্রমাদিত্য যার নিবাস ছিল এই গোবরবান্ধা
  153. 10:13অঞ্চলে বিশাল রাজপ্রাসাদ আর সৈন্য সামন্ত
  154. 10:16তার শাসনের ঐতিহ্য নিদর্শন বহন করতো তার
  155. 10:20বিবাহ হয়েছিল পাশের রাজ্যের রাজকন্যা
  156. 10:22শীতলা দেবীর সাথে নদীর এপার ছিল রাজা
  157. 10:26বিক্রমাদিত্যের আর ওপার ছিল রানী শীতলা
  158. 10:29দেবীর পিতা রাজা সুবীরের রাজ্য রানী শীতলা
  159. 10:33ও রাজা বিক্রমাদিত্যের শুভ পরিণয় ঘটেছিল
  160. 10:36দুই রাজ্যের ভিতর সন্ধি স্থাপনের স্বার্থে
  161. 10:40খুব ধুমধাম করে তাদের বিবাহ হয়েছিল
  162. 10:43বিবাহের এক বছরের মধ্যেই রাজ্যে সুখবর এলো
  163. 10:47রানী শীতলার কোল জুড়ে এক রাজপুত্র জন্ম
  164. 10:50নিল চারিদিকে মহা আনন্দের ঢল বইতে আরম্ভ
  165. 10:54করল কিন্তু দুদিন পরে রাজ্যে নেমে এলো এক
  166. 10:59গভীর চোখের
  167. 11:01ছায়া এত লোকের মধ্যে থেকে রাজপুত্র
  168. 11:04বিষ্ণুকে কেউ চুরি করে নিয়ে গেল সকলে
  169. 11:08রাজপুত্রকে হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলো টানা
  170. 11:11তিনদিন তিন রাত খোঁজার পর রানীমা অরণ্যের
  171. 11:16মধ্যে এক পাতার কুটিরের মধ্যে থেকে
  172. 11:18বাচ্চার কান্নার শব্দ পেলেন
  173. 11:22তিনি তৎক্ষণাৎ ছুটে ভেতরে গিয়ে দেখলেন এক
  174. 11:25সন্ন্যাসী তার বাচ্চার গা থেকে চামড়া
  175. 11:28ছাড়িয়ে নিয়ে অন্য একটি সন্ন্যাসীকে
  176. 11:30দিচ্ছে রানী শীতলা এই বিভৎস দৃশ্য দেখে
  177. 11:34পাথরের মূর্তির ন্যায় স্থির হয়ে গেলেন
  178. 11:37তিনি দেখলেন সেই সন্ন্যাসী ওই চামড়াটা
  179. 11:40দিয়ে একটা পুথির মলার তৈরি করছে তারপর
  180. 11:44প্রথম সন্ন্যাসীটা বাচ্চাটার বাম হাত থেকে
  181. 11:47কেটে নিল পরমুহূর্তেই সেই অস্থি দিয়ে
  182. 11:50বাচ্চার বুকে সজরে আঘাত করল এবং ক্ষীণ
  183. 11:53শব্দে কোন এক মন্ত্র পাঠ আরম্ভ করল
  184. 12:00খালি খালি রানী মা এসব দেখে দিকবিধিক
  185. 12:03জ্ঞান হারিয়ে সামনে পড়ে থাকা মশাল নিয়ে
  186. 12:06সেই পাতার কুটিরে আগুন লাগিয়ে দিলেন
  187. 12:08তারপর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে
  188. 12:13পড়লেন পরদিন যখন চেতনা ফিরলো তিনি দেখলেন
  189. 12:18চারিদিকে পুড়ে যাওয়া ছাই মাটির উপর তিনি
  190. 12:20শুয়ে আছেন বহু কষ্টে সেই স্থান পরিত্যাগ
  191. 12:24করে তিনি প্রাসাদে ফিরে এলেন রানীমার সব
  192. 12:28কথা শোনার পর রাজা ওই স্থান তল্লাশি করতে
  193. 12:31তার সৈন্য পাঠালেন কিন্তু বহু অনুসন্ধান
  194. 12:35করেও সেই সন্ন্যাসীদের কেউ খুঁজে পেল না
  195. 12:39তখন রাজা তার মৃত রাজপুত্রের স্মৃতিসৌধ
  196. 12:42হিসেবে ওই স্থানে একটা মহল তৈরি করে দিলেন
  197. 12:46আর পাশে একটি মন্দির মহল আর মন্দিরের নাম
  198. 12:49দিলেন বিষ্ণুমহল ও বিষ্ণু
  199. 12:54মন্দির বছরখানিক পর রাজার এক কঠিন অসুখে
  200. 12:58ধরল তাতেই তিনি গত হলেন রানী মা একেবারে
  201. 13:02একা হয়ে গেলেন স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে
  202. 13:06ঠিক এমন সময় তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলতে
  203. 13:09থাকলো প্রাসাদে রানী শীতলা তা বুঝতে পেরে
  204. 13:12এক গভীর রাতে তার কিছু গহনা আর এক টুকরো
  205. 13:16সাদা মখমলের কাপড় যা রাজপুত্র বিষ্ণুর
  206. 13:19জন্মানোর সময় তার গায়ে জড়িয়ে দেওয়া
  207. 13:21হয়েছিল সেইটা একটা ছোট সিন্দুকে ভরলেন
  208. 13:25তারপর খুব সতর্কতা অবলম্বন করে
  209. 13:28রাজপ্রাসাদের
  210. 13:30পথ ধরে নদী পাড়ে পৌঁছালেন তারপর নিজের
  211. 13:33পরিচিত ডিঙ্গিতে উঠে মাঝিকে নৌকা বাইতে
  212. 13:37বললেন গন্তব্য পিত্রালয় কিন্তু পথমধ্যে
  213. 13:41মাঝি তার উপর হামলা করল মাঝির উদ্দেশ্য
  214. 13:45ছিল শীতলার হাতের গয়নার সিন্দুকটা
  215. 13:47ছিনিয়ে নেওয়া ধস্তাধস্তির মধ্যে এক
  216. 13:50পর্যায়ে তারা দুজনেই নদীগর্ভে পড়ে আস্তে
  217. 13:53আস্তে তলিয়ে যেতে
  218. 13:57লাগলো পরদিন দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছিল
  219. 14:00সেখানে ঠিক আজ তোমায় যেখানে পাওয়া গেছে
  220. 14:04কিন্তু তোমার ভাগ্য ভালো কারণ এর আগে
  221. 14:07যাদেরকে পাওয়া গেছে তারা শুধু তাদের সাথে
  222. 14:10ঘটে যাওয়া গত রাতের বর্ণনা করেই প্রাণ
  223. 14:13ত্যাগ করেছে এসব শুনে গতকাল রাতের সবটা
  224. 14:17মেলাতে বেশি একটা কষ্ট হলো না আমার
  225. 14:22লোকটাকে রাজবাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করলাম
  226. 14:26সেটা অনেক আগেই ভূমিকম্পের জেড়ে জরাজীর্ণ
  227. 14:29হয়ে গেছে
  228. 14:30আর শুনেছি বিষ্ণু মন্দির ভূগর্ভে তলিয়ে
  229. 14:33গেছে এরপর উনি আমার ব্যাগটা ফেরত দিলেন
  230. 14:37ব্যাগটা জলে ভিজে গিয়েছিল বলে ভদ্রলোক
  231. 14:41আমার জিনিসপত্র সব রোদে শুকোতে দিয়েছিলেন
  232. 14:45মনে মনে লোকটার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
  233. 14:49জন্মালো ওনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওনার বাড়ি
  234. 14:53ত্যাগ
  235. 14:54করলাম ব্যাগ হাতে নিয়ে গোবরান্দা গ্রামের
  236. 14:58পথ ধরলাম
  237. 15:00উদ্দেশ্য বিষ্ণু মহলে পৌঁছে একটু
  238. 15:03বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে আগে তারপর
  239. 15:07মহলের রহস্যের জট ছাড়ানো যাবে মোড়ের
  240. 15:12মাথার একটা দোকান থেকে মুড়ি আর ঘুগনি
  241. 15:15কিনে খেলাম দোকানী জিজ্ঞাসা করল তা কার
  242. 15:20বাড়িতে যাবেন বিষ্ণুমহল আচ্ছা ভাই কোন
  243. 15:24পথে গেলে সেই স্থানে তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে
  244. 15:27পারবো বলতে পারো দোকানে আমাকে রাস্তা বলে
  245. 15:31দিল ঠিকই কিন্তু যেই না ওখান থেকে
  246. 15:34প্রস্থান করতে যাব লোকটি পিছন থেকে বলে
  247. 15:38উঠলো যাবেন না বাবু ও ভুতুরে মহল আছে যে
  248. 15:43যায় সে আর ফিরে আসে না আপনি যেখান থেকে
  249. 15:46এসেছেন সেখানে ফিরে যান লোকটিকে আর কিছু
  250. 15:50বলতে না দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলাম
  251. 15:54মনের ভিতর হাজারো রহস্য আঁচড় কাটছে
  252. 15:59একটু দূরে চোখে পড়লো বন জঙ্গলের মাঝে
  253. 16:03একটা বাড়ি বাইরের ভগ্ন দেওয়ালটা বুনো
  254. 16:07ললতার ন্যায় ভূমির উপর ঢলে পড়ে আছে
  255. 16:11বাড়ি ও দেওয়ালকে আবৃত করে রেখেছে অসংখ্য
  256. 16:16গুলমলতার ঝোপ ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দু
  257. 16:20হাতে জোর লাগিয়ে বাড়ির প্রধান এবং
  258. 16:23বহুকালের মর্চে ধরা লোহার গেটটা সরালাম
  259. 16:30দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা
  260. 16:33গেটটা প্রকৃতির নিয়মে বিকট শব্দে ছন্দে
  261. 16:38আওয়াজ করে উন্মুক্ত করে দিল আমার
  262. 16:42প্রবেশপথ অতি সন্তর্পণে আমি ভিতরে প্রবেশ
  263. 16:46করলাম ঘরের সামনে এসে দরজায় চোখ পড়লো
  264. 16:51দেখলাম বহু বছরের পুরনো একটি বড় তালা
  265. 16:56ভেঙে ঝুলছে তালাটি সযত্নে খুলে দরজায় চাপ
  266. 17:01দিতেই সেটি খুলে
  267. 17:04গেল দরজাটা ঠেলে ঘরে প্রবেশ
  268. 17:08করলাম মাকর্ষার নিখুতভাবে বোনা জাল আমার
  269. 17:13মুখের ওপর চেপে বসলো কিছুক্ষণ ভিতরটা
  270. 17:18পর্যবেক্ষণ করে একটা ঘরে কোন রকমে থাকবার
  271. 17:21ব্যবস্থা করে বাইরে বেরিয়ে এলাম পুরো
  272. 17:24বাড়িটা দেখবার
  273. 17:26জন্য আমি একটা গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে ওটার
  274. 17:30সাহায্যে বন জঙ্গল সরিয়ে এগিয়ে যেতে
  275. 17:34লাগলাম হঠাৎ একটা কিসে যেন জোর হোচট খেয়ে
  276. 17:39পড়ে যাবার উপক্রম
  277. 17:40হলো ফুটপাচেকের একটি দেওয়াল হাতের সামনে
  278. 17:44পেয়ে ধাক্কাটা সামলে সোজা হয়ে
  279. 17:47দাঁড়ালাম কাছে এসে দাঁড়িয়ে যা বুঝলাম
  280. 17:51এটি একটি পরিত্যক্ত কুয়ো বুনো লতা পাতায়
  281. 17:55প্রায় ঢেকেই ফেলেছে যতটা পারলাম আলগা করে
  282. 17:59দেখে চেষ্টা করলাম আন্দাজ করলুম কুয়োর জল
  283. 18:03শুকিয়েই গেছে এমন ভাবছি হঠাৎ একটা টুপ
  284. 18:07করে শব্দ পেলাম বুঝলাম কুয়োটা খুব গভীর
  285. 18:12কুয়ো থেকে মাথা তুলে আবিষ্কার করলাম আরো
  286. 18:16একটা খিরকি খিরকির সামনে বেশ কটা সিঁড়ি
  287. 18:20যেন মাটি ভেদ করে সোজা পাতালে প্রবেশ
  288. 18:24করেছে কি আছে ওই সিঁড়ির নিচে তা
  289. 18:28উদ্ঘাটনের জন্য প্রায় এক ছুটে পৌঁছলাম
  290. 18:32সিঁড়ির প্রথম
  291. 18:34ধাপে তারপর মনের জোর নিয়ে নামতে লাগলাম
  292. 18:38নিচের দিকে 13 14 ধাপ নামার পর কানে এলো
  293. 18:42নদীর কুলকুল
  294. 18:46শব্দ জোর গতিতে নিচে নামতেই দেখি সিঁড়িটা
  295. 18:50নদীর পাড়ে এসে সমাপ্ত হয়েছে কি সুন্দর
  296. 18:54টলটলে স্রোতশীল নদী কোন কিছু না ভেবেই
  297. 18:59নদীর স্নান করার লোভ সামলাতে পারলাম
  298. 19:04না শীতল জলে হাত পা ছড়িয়ে স্নান করে মনে
  299. 19:08হলো আমার সব ক্লান্তি নদীর স্রোত যেন অনেক
  300. 19:13দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গেল শরীরে যে কি
  301. 19:17তৃপ্তি অনুভব করলাম তা বলে বোঝাতে পারবো
  302. 19:21না স্নান সেরে ঘরে ফিরে এলাম সবে মাত্র
  303. 19:27একটা বিড়ি ধরিয়েছি আর আগুন জ্বালাতেই
  304. 19:30পিছনের খিরকি থেকে একটা চাপা মৃদু গলার
  305. 19:34কান্নার আওয়াজ কানে ভেসে
  306. 19:37এলো খিরকির দিকে এগিয়ে যেতেই দেখলাম
  307. 19:41জানলার বাইরে বেশ কিছুটা দূরে সেই কুয়োটা
  308. 19:45দেখা যাচ্ছে মনের ভুল ভেবে ফিরে এলাম
  309. 19:49কিন্তু হঠাৎ আবার কুয়োর ভেতর থেকে সেই
  310. 19:52চাপা গলার মানুষের কান্নার আওয়াজ সাথে
  311. 19:56বিড়বিড় করে মন্ত্র বা গানের অস্পষ্ট
  312. 19:58শব্দ শোনা
  313. 20:01গেল দৌড়ে কুয়োর কাছে গেলাম মনে হচ্ছিল
  314. 20:05ভিতরের সেই মন্ত্র মিশ্রিত কান্নার আওয়াজ
  315. 20:08যেন আমাকে ডাকছে আমার কাছে যেন কেউ
  316. 20:11সাহায্য চাইছে কোনভাবে নিজেকে স্থির রাখতে
  317. 20:15পারলাম না আশেপাশে তাকিয়ে কিছু একটা
  318. 20:18খুঁজতে থাকলাম যার সাহায্যে কুয়োতে নামা
  319. 20:22যায় একসময় একটা বেশ পুরনো কিন্তু এখনো
  320. 20:26ব্যবহারযোগ্য মোটা লোহার শিকল চোখে পড়লো
  321. 20:31তখনই সেটা পাশের বুড়ো শিমুল গাছের মোটা
  322. 20:34গুড়িতে বেঁধে ঝুলিয়ে দিলাম কুয়োতে তারপর
  323. 20:38সেই শিকল বেয়ে কুয়োর ভিতর নামতে লাগলাম
  324. 20:42তখনও বিকেল কুয়োর ভিতর যত নামছি তত যেন
  325. 20:46কান্নার আওয়াজটা অস্পষ্ট হয়ে গুনগুন গান
  326. 20:50বা মন্ত্র যাই হোক ওটার আওয়াজ দেওয়ালে
  327. 20:52দেওয়ালে ঠোক্কর খেয়ে প্রতিধ্বনির মত
  328. 20:55ভেসে আসছে মনে হলো যেন ওখানে কোন মানুষ
  329. 20:58আটকে আছে শত শত বছর ধরে কিন্তু তাও কি
  330. 21:02কখনো সম্ভব
  331. 21:04ভিতরটা বেশ অন্ধকার হাত 15 নামার পর
  332. 21:09পায়ের নিচে মাটি পেলাম তাতে আরো কিছুটা
  333. 21:12অবাক হলাম কারণ আমি যখন ঢিল ফেলেছিলাম ওপর
  334. 21:16থেকে তখন জলে ঢিল পড়ার শব্দ পেয়েছিলাম
  335. 21:19আর এখন তো দেখছি ভিজে
  336. 21:22মাটি আমি ফতুয়ার পকেট থেকে দেশলাই বের
  337. 21:26করে একটা কাঠি জ্বালাতেই চমকে উঠলাম
  338. 21:29দেখলাম একটা মানুষ আমার দিকে তারা এক হাত
  339. 21:32বাড়িয়ে আমার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে
  340. 21:35দেশলাই এর ক্ষীণ আলোতেও স্পষ্ট দেখতে
  341. 21:38পেলাম সেটি একটি নারী মূর্তি পরণে শুভ্র
  342. 21:42কুয়াশা বস্ত্রের ন্যায় ধোঁয়াটে চাদর
  343. 21:44জড়ানো কোকড়ানো চুল চারিদিকে বুনো লতার
  344. 21:47মতো ঝুলে আছে প্রায় কোমর পর্যন্ত ডান
  345. 21:51হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে সে এক প্রবল
  346. 21:54আকর্ষণ নিজের অজান্তেই তার হিমশীতল হাত
  347. 21:58স্পর্শ করা মাত্রই সে আমায় টেনে নিয়ে
  348. 22:00এগিয়ে চলল সামনের দিকে
  349. 22:04দেশলাই এর কাঁঠি অনেক আগেই হাত থেকে পড়ে
  350. 22:06গিয়ে নিভে গেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও
  351. 22:09চারিপাশ একটা আপছা মায়াবী আলোয় যেন
  352. 22:12আলোকিত হয়ে আছে কিছুটা এগোতেই অনুভব
  353. 22:16করলাম কখন যেন মেয়েটি আমার হাত ছেড়ে
  354. 22:19অদৃশ্য হয়ে গেছে আমি বুঝতেও পারিনি হঠাৎ
  355. 22:23চোখ পড়লো একটা পাথর খন্ডের উপর কারণ তার
  356. 22:27উপর একটা পাতাহীন ছোট্ট বৃক্ষে নীলাভ সাদা
  357. 22:31ফুল ফুটে রয়েছে ফুলের নীলাভ আলোটা অনেকটা
  358. 22:35খদ্দতের আলোর মত অসচ্ছ আর তার নিচে কিছু
  359. 22:39একটা আটকে আছে মন আকুল করা ফুলের গন্ধ
  360. 22:44নাকে আসতে থাকলো এ গন্ধকে উপেক্ষা করার
  361. 22:47যেন কোন শক্তি আমার নেই খুব কষ্টে আটকে
  362. 22:51থাকা বস্তুটাকে সচরে পাথরের তলা থেকে বের
  363. 22:55করতেই আমার হৃদস্পন্দন দ্বিগুণ হয়ে উঠলো
  364. 22:59ঘটনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না
  365. 23:02আমার দু হাতে শক্ত করে ধরে রাখা বস্তুটি
  366. 23:05আর অন্য কিছু নয় একটা একটা পুথি যার
  367. 23:09ওপরের আবরণটি চামড়ার সেই চামড়ার তীব্র
  368. 23:13গন্ধ আমার নাকে এসে ঠেকলো এবার আমি শক্ত
  369. 23:16হলাম আর বিশেষ আগ্রহের সাথে সেই পুথিটি
  370. 23:20খুললাম পুথির ভাষা সম্পূর্ণ অচেনা কিন্তু
  371. 23:23কি অদ্ভুত আমি সেই ভাষার লেখা সব বুঝতে
  372. 23:27পারছি নিজের মত না না থাকা সত্ত্বেও কেউ
  373. 23:30যেন জোর করে আমায় দিয়ে মন্ত্রগুলো পাঠ
  374. 23:34করাচ্ছে ওম হৃং ক্রিং
  375. 23:38ছট ওং হৃং ক্রিং ছট পাঠ শেষে মনে হলো গভীর
  376. 23:46নিদ্রায় ঢলে পড়ছি চোখ বুঝে
  377. 23:49আসছে মুহূর্তেই নিদ্রা ভঙ্গ হয়ে দেখলাম
  378. 23:53সেই মেয়েটি আমার সামনে বসে আছে হাতে
  379. 23:56একখানা সেই স্নিগ্ধ নীলাভ শুভ্র ফুল
  380. 24:00ফুলটিকে আমার হাতে দেওয়ার জন্য হাত
  381. 24:03বাড়িয়ে আমার সামনে ধরলো আমি ফুলটি হাতে
  382. 24:06নিতেই ধীরে ধীরে মেয়েটি একটি
  383. 24:09পুরুষতান্ত্রিকের রূপান্তরিত হলো তারপর
  384. 24:12আমাকে আরো অবাক করে সে আমার সাথে কথা বলতে
  385. 24:16আরম্ভ
  386. 24:17করল বহুকাল পূর্বে আমি এক মন্দিরের পূজারী
  387. 24:21ছিলাম কিন্তু গোপনে তন্ত্র সাধনা
  388. 24:25করতাম পশ্চিমের অর্থাৎ হিমাচলের বাদদেশে
  389. 24:29থাকা একদল তান্ত্রিকের সাথে আমার কিছুদিন
  390. 24:32থাকবার সুযোগ হয়েছিল সেখানে দীক্ষা নিয়ে
  391. 24:36মন্ত্রপূত শক্তিকে পূর্ণশক্তির রূপ দিতে
  392. 24:39তারা আমাকে
  393. 24:41বলেছিল তারা আমাকে বলেছিল এর জন্য বলি
  394. 24:44দিতে হবে মানব সন্তান কিন্তু যাকে তাকে
  395. 24:48নয় কোন রাজ্যের ভাবী রাজা অর্থাৎ তাকে
  396. 24:52রাজপুত্র হতে হবে আর যার বাম হাতে থাকবে
  397. 24:56ছয়টি অঙ্গ তাই আমি সর্ব এইরূপ রাজপুত্রের
  398. 25:01সন্ধানে থাকতাম একসময় রাজপুত্র বিষ্ণুর
  399. 25:05খবর পেয়ে নিজের কার্যসিদ্ধির জন্য সকল
  400. 25:08চাহিদার পূর্ণতা পেয়ে গেলাম তাই রাজপুত্র
  401. 25:12বিষ্ণুকে চুরি করে আনলাম তাকে আশীর্বাদের
  402. 25:15ছলনায় কালবিলম্ব না করে সেই তান্ত্রিকদের
  403. 25:19সাথে কার্যে যোগ দিলাম বাচ্চাটিকে বলির
  404. 25:23পূর্বে তার গা থেকে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে
  405. 25:26একটি পুথির মলাট তৈরি করতে হবে আর ছয়
  406. 25:30আঙ্গুল যুক্ত হাতের কবজির হার কলম হিসেবে
  407. 25:33ব্যবহার করতে হবে ওই হাড় দ্বারাই তাকে
  408. 25:36আবার হত্যা করে সেই রক্ত দিয়ে প্রতিটিকে
  409. 25:39মন্ত্রপূত করতে হবে কাজ ভালোভাবেই চলছিল
  410. 25:44হঠাৎ কোথা হতে রানী শীতলা দেবী এসে হাজির
  411. 25:48হয়ে সপ্তাহ ভন্ডুল করে ছাড়লেন ওই রাতে
  412. 25:52ঘটে যাওয়া অনেক অজানা কাহিনী আজও সকলের
  413. 25:55অজানা তবে আজ আপনি তো জানেন চলেছে ওই রাতে
  414. 26:01রানী মা এসব সহ্য করতে না পেরে দুটি হাতে
  415. 26:05দুটি মশাল তুলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন
  416. 26:07আমাদের পর্ণ কুটিরে সেই আগুনে সবাই পুড়ে
  417. 26:10পড়ে শুধু একজন তান্ত্রিক বেঁচে থাকে সে
  418. 26:16হচ্ছি আমি
  419. 26:18রানী শীতলা আমায় অভিশাপ দিয়েছিলেন যে
  420. 26:20পুরুষ থেকে এক অন্ধ নারীতে পরিণত হবে আমার
  421. 26:24শরীর আর এই স্থান গহীন অন্ধকার কূপে পরিণত
  422. 26:29হবে
  423. 26:30আর আর এখানেই আবদ্ধ হয়ে থাকবো আমি যদি
  424. 26:35কখনো কোন মানুষ সমস্ত ঘটনা জানার পর আমাকে
  425. 26:39উদ্ধার করতে চায় তবেই আমি মুক্তি লাভ
  426. 26:43করবো এতটা বলে সে থামলো আমি বুঝলাম যে এই
  427. 26:48তান্ত্রিক ব্যক্তিটি তার অপরাধের জন্য
  428. 26:51খুবই অনুতপ্ত সে তার ঘৃণ্য অপরাধের জন্য
  429. 26:55এতদিন অভিশাপ ভোগ করে নিজের অপরাধ বুঝতে
  430. 26:58পেরেছে তাই আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম
  431. 27:02আপনাকে আমি কিভাবে মুক্তি দিতে পারি
  432. 27:06রানীমাতার মৃত্যু সজ্জায় আমায় অভিশাপ
  433. 27:08দিয়েছিলেন তাই আমার
  434. 27:11আত্মা আজও মুক্তি পায়নি অভিশপ্ত হয়ে আজও
  435. 27:16অতৃপ্ত যন্ত্রণায়
  436. 27:18ভুগছে আমার হাতের আমার হাতের এই ফুলটা
  437. 27:22রাজকুমার বিষ্ণুর অস্থি যা এখন এক পুষ্পের
  438. 27:26আকার ধারণ করেছে আর এর মাঝে যে নীলাবো আলো
  439. 27:30দেখছেন এ হলো এক খদ্দতের আলো অর্থাৎ
  440. 27:35জোনাকির আলো যেটি অস্থির মধ্যে ভরে লেখনীর
  441. 27:39শক্তি সঞ্চারিত
  442. 27:41হয়েছিল আর এই সেই পুথি যার মলার রাজকুমার
  443. 27:46বিষ্ণুর দেহের চামড়া দিয়ে
  444. 27:49আবৃত বুঝলাম আমি ঠিকই আন্দাজ করেছিলাম তাই
  445. 27:53আষ্টে গন্ধ আমার নাকে প্রবেশ করে প্রায়
  446. 27:56শ্বাস রোধের মত অবস্থা করার চেষ্টা করেছিল
  447. 27:59রানী শীতলা বলেছিলেন আমার আত্মা সেই মানুষ
  448. 28:02দ্বারাই মুক্তি লাভ করতে পারবে যে পথের
  449. 28:06সমস্ত অলৌকিক বাধা কাটিয়ে এই কুয়ো
  450. 28:09পর্যন্ত আসতে পারবে কারণ যে এই কুয়োর
  451. 28:12নিকটবর্তী হবে তার নদী পার হওয়ার পূর্বেই
  452. 28:16শীতলার সন্তান হারা বিদীর্ণ হৃদয়ের আত্মা
  453. 28:20আর সেই মাঝি তার মৃত্যুর পরেও পথিকের
  454. 28:25বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে যতক্ষণ না পর্যন্ত
  455. 28:28সেই পথিকের মৃত্যু
  456. 28:30হয় শীতলার ক্ষত হৃদয় বা আত্মা কোনভাবেই
  457. 28:35কাউকেই কুয়োর নিকটবর্তী হতে দেবে
  458. 28:39না তবে যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে রানী শীতলা
  459. 28:44নিজের হারানো সন্তানকে খুঁজে পান
  460. 28:47শুধুমাত্র তার হাতেই আমার অভিশপ্ত আত্মা
  461. 28:50মুক্তি পাবে বসে বসে এক মনে তান্ত্রিকের
  462. 28:55কথাগুলো শুনে যাচ্ছিলাম এবার মনের মধ্যে
  463. 28:58হুহু করে উঠলো নদীতে ঘটে যাওয়া অলৌকিক
  464. 29:02কাহিনীর সেই মমতাময়ী নারীর মুখটা বারবার
  465. 29:06মনে পড়তে
  466. 29:07লাগলো হঠাৎ কেমন যেন মিষ্টি গন্ধ পেতে
  467. 29:12লাগলাম সেই ফুলের স্নিগ্ধ গন্ধ কিন্তু এখন
  468. 29:16সে গন্ধে যেন মাতৃমমতা মেখে আছে তান্ত্রিক
  469. 29:21আমার পা জড়িয়ে বলে উঠলো
  470. 29:25বাবা আমায় মুক্তি দাও তোমার মাঝেই যে
  471. 29:30শীতলা মা তার সন্তানকে খুঁজে
  472. 29:32পেয়েছেন ইতিপূর্বে অনেকেই যে ওই নদী পথে
  473. 29:36সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে
  474. 29:39কিন্তু আজ পর্যন্ত এই শান পর্যন্ত কেউ এসে
  475. 29:43পৌঁছয়নি
  476. 29:45নদী পার হওয়ার মাঝপথে সকলেই শীতলার
  477. 29:49আত্মার কবল থেকে রেহাই না পেয়ে ডুবে
  478. 29:52মরেছে নদীর জলে আর আবার মুক্তি লাভের আশা
  479. 29:57সাঙ্গ হয়েছে বারবার
  480. 30:01অবশেষে তোমার দেখা পেলাম আমার আমার
  481. 30:05মুক্তির পথ তোমার হাতে তোমায় শুধু একটা
  482. 30:09কাজ করতে হবে তোমার হাতের এই খদ্দতের
  483. 30:13অস্থি ফুলটাকে আগুনে জ্বালিয়ে ছাই করে
  484. 30:16দিতে হবে এবার সবই তোমার হাতে আর
  485. 30:21আমার শুধু অপেক্ষা করার
  486. 30:25পালা কথাগুলো শুনতে শুনতে কখন যেন অচেত
  487. 30:29হয়ে
  488. 30:31পড়েছিলাম কতক্ষণ পর যে চেতনা ভেঙেছিল
  489. 30:35জানিনা চেতনা ভেঙে দেখলাম আমি ঘাস ভর্তি
  490. 30:39মাটির উপর পড়ে
  491. 30:41আছি উঠে বসতেই দেখি কুয়োটা যেন কোথায়
  492. 30:45আত্মগোপন করেছে তার কোন চিহ্ন মাত্র নেই
  493. 30:49শুধু হাতের মুষ্ঠির মধ্যে আছে সেই ফুলটা
  494. 30:54তখনই পকেট থেকে দেশলাই বের করে কিছু শুকনো
  495. 30:57পাতা আর গাছের ডাল করে আগুন
  496. 31:01জ্বালালাম তারপর রানী শীতলার কাছে ক্ষমা
  497. 31:04চেয়ে সেই জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে
  498. 31:07অস্থি ফুলটি ফেলে দিলাম চোখের সামনে
  499. 31:11দেখলাম সেই অগ্নিকুণ্ড থেকে একজন
  500. 31:14পুরুষতান্ত্রিকের অবয়ব বেরিয়ে এলো
  501. 31:17পরমুহূর্তেই বেরিয়ে এলো একটি নারী
  502. 31:20মূর্তির অবয়ব পুরুষ মূর্তিটি হাত জোর করে
  503. 31:24ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে নারী মূর্তিটির
  504. 31:27সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো
  505. 31:30নারী মূর্তিটি আমার দিকে এক পলক তাকালো
  506. 31:34তারপর স্মিত হাসি হেসে সেই পুরুষ
  507. 31:37অবয়বটিকে আশীর্বাদ করল তারপর ধীরে ধীরে
  508. 31:42রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে
  509. 31:47গেল আমিও ধীর পায়ে প্রাসাদের সেই ঘরটিতে
  510. 31:51ফিরে
  511. 31:52এলাম পরদিন সকালে এগিয়ে উপস্থিত হলাম সেই
  512. 31:56পঞ্চানন মুখুজ্জের বাড়ি
  513. 32:00সেখানে গিয়ে তাকে সব কথা খুলে বললাম সবটা
  514. 32:05শুনে তিনি
  515. 32:06বললেন হুম কিছু যে একটা পরিবর্তন হয়েছে
  516. 32:10সেটা গতকাল রাত্রেই বুঝেছি কারণ জেলেরা
  517. 32:14মাছ ধরতে গিয়ে রোজই সেই প্রেত মাঝির
  518. 32:16আত্মাকে নৌকা বাইতে দেখতো আর তার সাথে
  519. 32:19কানে আসতো রানী শীতলার আকুল কন্ঠের চিৎকার
  520. 32:23কিন্তু গতকাল রাত্রে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে
  521. 32:26কেউ কিচ্ছু দেখেনি বা শোনেনি আজ সকালেই
  522. 32:30সেই নিয়ে রীতিমত আলোচনা হয়েছে এখন তোমার
  523. 32:34কথা শুনে সবটা বুঝলাম তুমি আমাদের অনেক
  524. 32:38উপকার
  525. 32:39করলে তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি বাবা সেই
  526. 32:44দিনটা পঞ্চানন মুখুজ্জের বাড়িতে কাটিয়ে
  527. 32:48পরদিন আবার পথে বেরিয়ে পড়লাম কে জানে
  528. 32:53হয়তো আরো অনেক অজানা অচেনা রহস্য অপেক্ষা
  529. 32:57করে আছে আমার জন্য
  530. 33:07আমাদের এই গল্প যদি আপনাদের ভালো লেগে
  531. 33:09থাকে তাহলে অবশ্যই লাইক করবেন এবং শেয়ার
  532. 33:11করবেন যারা চ্যানেলটিতে নতুন তারা অবশ্যই
  533. 33:14সাবস্ক্রাইব করুন শুধু বেল আইকনটি টিপে
  534. 33:16নোটিফিকেশন অন করে দিন যাতে আমাদের
  535. 33:18পরবর্তী কাজগুলোর খবর সবার আগে আপনার কাছে
  536. 33:21পৌঁছায় ধন্যবাদ

About this transcript

This page contains the full transcript of তারানাথ তান্ত্রিক ও তন্ত্রের অভিশাপ - Taranath Tantrik Golpo | Bangla Bhuter Golpo | Bhuter Cartoon by Bong Toon, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 3,291 words across 536 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.

What you can do with it

Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.

Free YouTube transcript tool

YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.