Sunday Suspense | Raktochosa | রক্তচোষা | Ajeyo Ray | Mirchi Bangla Audio Story — Transcript
Full transcript
- 0:08কত রাত হয়ে গেল গো যাই বললা কিন্তু
- 0:13[চিৎকার করা]
- 0:20আমার ছেলেটার কি হল গো
- 0:23>> কে কে ওখানে এই ওখানে কে রইছে কি হইছে কি
- 0:28এই আলো নিয়ে আয় আলো নিয়ে আস তাড়াতাড়ি
- 0:30করো। কি হয়েছে?
- 0:32>> এত রক্ত কোত্থেকে গেল গো?
- 0:34>> আ বলেছো রক্ত সাংঘাতিক। ইস আরে গলার কাজটা
- 0:38গর্ত করে বের করে নিয়েছে গো। রক্ত শুষে
- 0:41নিয়েছে একেবারে। এ মানুষের কাজ হতেই
- 0:43পারেনি রক্তচোষা।
- 0:46নিশ্চয়ই রক্ত শোষার কাজ। রক্ত শোষা। একদম
- 0:50একদম ঠিক। রক্তচোষার কাজ। এটা বল কি গো?
- 0:54গেল। কে কে গেল?
- 1:04কাকে দেখলো গ্রামের লোকেরা সেই রাতে জানতে
- 1:08হলে আপনাকে শুনতে হবে বাংলা সাহিত্যের
- 1:11রোমাঞ্চকর [মিউজিক] কিছু গল্প দিয়ে
- 1:12সাজানো আমাদের এই বিশেষ নিবেদন সানডে
- 1:16সাসপেন্স সানডে সাসপেন্সে আজ অজয় রায়ের
- 1:19লেখা গল্প রক্তচোষা এই গল্পটি আমরা
- 1:23নিয়েছি দেশ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত অজয়
- 1:26রায় অলৌকিক রোমাঞ্চ সমগ্র এই বইটি থেকে
- 1:30শুরু হচ্ছে রক্তচোষা।
- 1:38গৃশবের ছুটি শেষ হতে আর বেশিদিন বাকি নেই।
- 1:42কলেজ খুললেই আবার ক্লাস পরীক্ষা সব পরপর
- 1:46শুরু হয়ে যাবে। কাজেই ছুটি শেষ হবার আগে
- 1:50কয়েকদিন হাতে থাকতেই আমি আর সুনন্দ বেড়াতে
- 1:54গেলাম ঘাটশিলায়।
- 1:56সুনন্দর মামার একটা বাড়ি আছে ঘাটশিলায়।
- 1:59কেউ বড় জায়দায় না। বন্ধই থাকে 12 মাস।
- 2:03একজন মালিক সেই বাড়ি আগলায়। সুতরাং ইচ্ছে
- 2:07ছিল নির্বিঘ্নে আড্ডা মারবো আর বেড়াবো।
- 2:10কলকাতার ভিড় আর হট্টগোল ছেড়ে এমন খোলামেলা
- 2:14প্রকৃতি রাজ্যে এসে আমাদের মন উড়তে লাগলো।
- 2:18ঘাটশিলা শহরটা বেশ তকতকে পরিষ্কার। বাড়িঘর
- 2:23লোকজনের ঘেসাঘেসি নেই। শহরের বাইরে
- 2:26চারপাশে ধুধু পাথরে মাঠ কোথাও শালবোড়
- 2:31একধারে পরপর কতগুলো জঙ্গলে ঢাকা ছোট ছোট
- 2:34পাহাড়
- 2:36শহরের পাশ দিয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী
- 2:40চওড়া নদী খাতের ভিতর প্রকাণড প্রকান্ড
- 2:43পাথরের চাইয়ের ফাঁকে হুহু করে জল ছুটে
- 2:46চলেছে সুবর্ণরেখা ছাড়াও কয়েকটি ছোট ছোট
- 2:51পাহাড়ি নদী আছে ধারে কাছে
- 2:54সুনন্দর তোর মামার বাড়িটা শহরের প্রায়
- 2:56বাইরে একটু নির্জন অংশে। ধলভুঙ্গড় যাবার
- 3:00পিচ বাঁধানো চওড়া রাস্তাটা আমাদের বাড়ির
- 3:03সামনে দিয়ে গেছে। এই পথ শহর ছাড়িয়ে
- 3:07প্রান্তর ভেদ করে শালবনের গা ছুয়ে দূর
- 3:11দিগন্তে গিয়ে মিশেছে।
- 3:15তখন একটু একটু বর্ষা নেমেছে। গরম কমেছে।
- 3:19তবে দিনের বেলা চড়া রোদ ওঠে। কিন্তু
- 3:23আমাদের পরোয়ানি দুটো সাইকেল জোগাড় করে
- 3:27দিনের বেলাটা টোটো করে ঘুরে বেড়াই।
- 3:30রাতে বিছানায় শুয়ে শুনতে পাই হায়নার খ্যাক
- 3:33খ্যাক হাসি।
- 3:36মালির বউ লাস্মি রান্না করে দেয়। ভাত,
- 3:39ডাল, তরকারি সে মোটামুটি রাধে। কিন্তু মাছ
- 3:43মাংস নিজেরাই বানায়। ভোরবেলা প্রায়ই হাজির
- 3:46হয় বুধন মাঝি। কোনদিন সে আনে তাজা ফলমূল
- 3:52মাছ মুরগি বা ডিম কোনদিন আবার মধু কখনো বা
- 3:57কলসি ভরা টাটকা খেজুর রস
- 4:00বুধন মাঝি সাওতাল মাঝ বৈশি আমাদের সঙ্গে
- 4:05তার বেশ ভাব হয়ে গেছে ও থাকে মাইল তিন
- 4:08চার দূরে একটা গ্রামে গ্রামের নাম
- 4:11মহুয়াডাঙ্গা
- 4:13বুধন ঘাটশিলার বাজারে জিনিস বিক্রি করতে
- 4:16যায় পথে আমাদের বাড়িতে বসে প্রায় খানিক
- 4:19গল্প করে নেয়। লোকটি চায়ের ভক্ত। চায়ের
- 4:24সময় এলে আমরা ওকে চা অফার করি। বুধন
- 4:27লাজুক লাজুক মুখে চোখ বুঝে [মিউজিক]
- 4:30চায়ের কাপে চুমুক দেয়। মোটামুটি একই
- 4:34ছাদে কাটছিল দিনগুলো। হঠাৎ ঘটনার মোড় গেল
- 4:38ঘুরে।
- 4:40একদিন ভোরবেলা বুধন এল। কয়েকটা ডিম এনেছে
- 4:44সেদিন বিক্রি করতে।
- 4:46লক্ষ্য করলাম তার মুখটা ভারী বিষন্ণ।
- 4:50সুনন্দ ঠাট্টা করে বলল,
- 4:53কি বুধন? মুখ বেজার কেন? বউয়ের সঙ্গে
- 4:56ঝগড়া হয়েছে নাকি? বুধন মুখে কিছু না বলে
- 5:01শুধু মাথা নাড়লো। তারপর কেমন যেন ঝিম
- 5:04মেরে বসে রইল। বুঝলাম ব্যাপার কিছু গরুতর।
- 5:09হয়তো ওর বাড়িতে কারো অসুখ বিশুখ করেছে।
- 5:13আমি সহানুভূতি দেখিয়ে বলি
- 5:16বুধন কি হলো? কি হয়েছে বলো?
- 5:20>> বাবু
- 5:22আমার ভাইটারে মেরে ফেলবে। ঠিক মেরে ফেলবে।
- 5:28>> সে কি? তোমার ভাই মানে সেই যে ছোট ভাইয়ের
- 5:32কথা বলেছিলে তাকে? কিন্তু তাকে কে মারবে?
- 5:37কেন মারবে?
- 5:38>> রক্তচা মারবে বাবু। রক্তচোসা
- 5:42রক্তচোষা
- 5:44সেটা কি?
- 5:46>> আমাদের মহুয়াডাঙ্গায় রক্তচোষার [মিউজিক]
- 5:48উৎপাদ শুরু হয়েছে বাবু। রাতের বেলা ঘুরে
- 5:51বেড়ায় আর মানুষের রক্ত চুষে খায়। তোমরা
- 5:54কেউ নিজের চোখে দেখেছো তাকে? সে যে বুনো
- 5:57বাবু। আমার ভাই।
- 6:01কি? মানেটা কি? তুই কি বলছিস তুই জানিস?
- 6:05চারদিন আগে মহুয়াডাঙ্গায় আমাদের গায়ে একটা
- 6:08উৎসব ছিল বাবু। রাইত করে সবাই লাজ গান
- 6:11করছে। তারপর যে যেখানে পারে শুয়ে পড়ছে।
- 6:16হঠাৎ একটা চিৎকার শুনে নেকে ছুটে যায়।
- 6:20[চিৎকার করা]
- 6:22গিয়ে সবাই দেখে বোকা মাঝির বউ জাম ফুল
- 6:26চেচাচ্ছে।
- 6:29কোলে তার চার বছরের বিটা ছেলে। সুবাই
- 6:32দেখলো বাচ্চাটার গোলার পাশ দিয়ে টপ টপ করে
- 6:35রক্ত পড়ছে।
- 6:38গোলার ওই জায়গাটায় একটা গর্ত মত হয়ে
- 6:41ভেতরের মাংস দেখা যাচ্ছে।
- 6:44একচিলতে চামড়া যেন গোল করে কেটে নেয়া
- 6:48হয়েছে।
- 6:50তার তোলায় মাংসের মধ্যে ছোট্ট গর্তের মত
- 6:53ফোটা
- 6:55আর সেখান দিয়ে সমানের রক্ত বেরিয়ে আসছে।
- 6:58তা ওই বউটাকে কেউ জিজ্ঞাসা করেনি যে কি
- 7:01হয়েছে?
- 7:02>> হ বাবু করেছিল তো তাকে জিজ্ঞেস করছিল।
- 7:05তারপর
- 7:09আমারে কি সর্বনাশ হলো গো? কিন্তু গলায় তো
- 7:13একটা গর্ত হয়ে আছে। মনে হচ্ছে কিছুর কামড়ে
- 7:18কামড়েছে। কিসের কামড়? দেখে তো মনে হচ্ছে
- 7:21ইদুর বা সুচ কামড়েছে। এই না মনে হচ্ছে সাপ
- 7:25সাপে কামড়েছে। না না [সশব্দ হাসি] সাপটাপ
- 7:28নয়। দেখি দেখি।
- 7:30জায়গাটা একটু দেখতে দাও দেখি ভালো করে।
- 7:32দেখি
- 7:35কি গো? কিছু বুঝে
- 7:38>> না হে কিছুই তো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না যাই
- 7:42হোক একখান [সশব্দ হাসি] কাজ করো দেখি
- 7:45নেকড়া পোড়া চাপা দিয়ে রক্ত বন্ধ করতে হবে
- 7:47আগে
- 7:48>> আরে আগে রক্ত পড়াটা বন্ধ তো করো
- 7:53>> অভিজ্ঞ লোকেরা কাটা জায়গা পরীক্ষা করে
- 7:56সবাই মিলে পরামর্শ করে যখন কিসে কামড়েছে
- 7:59কেউ বুঝতে পারলো নাই তখন আগে নাকড়া পোড়া
- 8:02দিয়ে রক্ত বন্ধ করা হলো তবে বাবু
- 8:07জামফুল সেদিন
- 8:10আর একটা খবর দিছিল কি কি বলেছিল সে নাকি
- 8:14ছেলের কান্নায় ঘুম ভেঙেই দেখে বুনো সামনে
- 8:18দিয়ে হন হন করে হেটে চলে যাচ্ছে হ্যাঁ
- 8:21তবে সেদিন কেউ বুনোকে লিয়ে মাথা ঘামায়নি
- 8:24ঠিকই
- 8:26বুনো সম্বন্ধে [মিউজিক] গায়ের লোকের মনে
- 8:28সন্দেহ জাগলো আরো দুদিন পরে
- 8:33অর্থাৎ গত পরশু রাতে কি করে
- 8:37ডেঙ্গামাঝি বুনোর প্রতিবেশী বাবু ডেঙ্গা
- 8:40ঘুমিয়েছিল তার খরের চালা লিচা খাটিয়া
- 8:44পেতে
- 8:45একসময় ঘুম ভেঙে ঘাড়ে হাত দিয়ে বোঝে
- 8:49চর্চাটে কি যেন একটা লেগে আছে তেলায় জেলে
- 8:54দেখে রক্ত বেরচ্ছে
- 8:57গায়েও শুকন রক্ত লেগেছিল ওর
- 9:01আর সেই একই রকম গর্ত গোলারে একপাশে
- 9:05রক্ত যেন থামতেই চাই না। তারপর তারপর
- 9:09গায়ের লোক আর ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দিতে
- 9:11পারলো নাই। কোন চেনা জীবজন্তু দাঁত বা
- 9:15নখের দাগ যখন লয় তখন তাদের ধারণা হইছে
- 9:19[মিউজিক]
- 9:20এর নিশ্চয় কোন পিশাচ বা দানর কীর্তি।
- 9:25সে ঘুমন্ত মানুষের দেহে ফুটো করে রক্ত
- 9:27চুষে নিচ্ছে।
- 9:30কিন্তু এমন কাজ তোমার ভাই করতে পারে সেটা
- 9:33মনে হলো কেন? গ্রামের লোকের শুধু সেদিন ওই
- 9:36জামফুল দেখেছিল বলেই আচ্ছা আচ্ছা কে করতে
- 9:40পারে এই কাজ বুনোকে সন্দেহ করার একটা কারণ
- 9:44আছে বাবু আর সেই কারণেই সোবার নজর বুনোর
- 9:48উপরে পড়েছে কি কারণ
- 9:53একটু একটু করে বুধনের কাছ থেকে আমি আর
- 9:56সুনন্দ সমস্ত ঘটনাটা উদ্ধার করলাম এক
- 10:01আশ্চর্য অবিশ্বাস্য কাহিনী
- 10:04মানুষের রক্তলোভী কোন নিশাচর প্রাণী এ
- 10:07ঘটনা ঘটাচ্ছে ঠিকই। তবে গ্রামের লোক যে
- 10:10কেন বুধনের ভাই বুনোকেই সেই রক্তচোষা বলে
- 10:14সন্দেহ করছে তার কারণটাও এরপর বুধনের
- 10:18কাছেই শুনলাম।
- 10:20বুনো ছোটবেলা থেকেই নামে যেমন বুনো
- 10:24স্বভাবেও তেমনি বুনো ছিল। ছোট থেকেই বুনো
- 10:29বাউন্ডুলে একরোখা দুর্ধর্শ প্রকৃতির।
- 10:33অনেকবার বাড়ি ছেড়ে চলেও গিয়েছিল। মাসের
- 10:36পর মাস পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরেছে। কাজকর্ম
- 10:40চাষবাস এসবে একটুও মন নেই ওর। শুধু যত
- 10:45অদ্ভুত বিদ্যা শেখার ঝোক রয়েছে মনের
- 10:48মধ্যে। ও যাদের কাছে সাকৃতি করে মন্ত্র
- 10:52তন্ত্র তুকতাকু শিখেছে অনেক। অত্যন্ত
- 10:56বদরাগী।
- 10:57কারোর সঙ্গে ওর সদভাব নেই। বুধনের সঙ্গেও
- 11:01তেমন কথাবার্তা বলে না। ডেঙ্গা মাঝির
- 11:04সঙ্গে বুনোর কদিন [মিউজিক] আগে ঝগড়া
- 11:06হয়েছিল। দুজনের বাড়ির সীমানায় একটা
- 11:10কলাগাছের দখল নিয়ে [মিউজিক] ডেঙ্গাকে
- 11:12সাসিয়েছিল বুনো। ডেঙ্গা বলেছিল যখন তার বউ
- 11:16ডেঙার ঘাড়ের রক্ত বন্ধ করতে ব্যস্ত।
- 11:20তখন সে দেখেছে তার উঠনে বুনো দাঁড়িয়ে।
- 11:25তার বাড়িতে এত রাতে বুনো কি করতে এসেছিল?
- 11:30গ্রামের লোক এরপরই আতঙ্কের দিশাহারা হয়ে
- 11:34পড়ে একেবারে। তাদের মতে রাতের বেলা বুনো
- 11:39নিশ্চয়ই দান হয়ে মানুষের রক্ত চুষে
- 11:42খায়।
- 11:44গ্রামের মোড়ল বুনোকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস
- 11:47করেছিল,
- 11:50কিরে বুনো? সবাই যে বলছে তুই নাকি রাতের
- 11:53বেলা রক্ত চুষে খেয়ে বেড়াস। সত্যি
- 11:57কি হয়েছে কি বলছে আমি রক্তচা সো মিচে মিচে
- 12:01আমার পিছনে লাগছে আমি এ ব্যাপারে কিছু
- 12:03জানিনা না আমার কোন হাত নেই এ ব্যাপারে
- 12:06আমি শুধু ডেঙ্গার চিৎকার শুনে দেখতে
- 12:09গিয়েছিলাম ব্যাপারটা কি ব্যাস আর কিছু
- 12:11জানি না আমি
- 12:17কিন্তু গায়ের লোকের বিশ্বাস হয়নি বাবু
- 12:19বুনোর কথা সবাই ফুসফাস গুজগাজ করতে লাগলো
- 12:23যে বুনই দায়ী এ কাজ বুনরই করা
- 12:28মুয়াডাঙ্গার সব মানুষগুলাকে সে এবার একে
- 12:31একে মেরে ফেলবে ও আর মানুষ নাই দান হয়ে
- 12:36গেছে
- 12:38কেউ ওকে তাড়িয়ে দিতে চায় গা থেকে তো কেউ
- 12:40পিটিয়ে মেরে ফেলতে চায় বাবু
- 12:42>> আরে এমনটা আদেও সম্ভব নাকি সত্যি বুনো
- 12:45এরকম কাজ করতে পারে নাকি এই তোমার কি মনে
- 12:48হয় আমি আড়ালে জিজ্ঞেস করেছিলাম ওকে বুনো
- 12:51বলেছে আমি করিনি ওকে দেখে মনে হলো বাবু ও
- 12:56বোধহয় মিছা কথা বলছেনি।
- 12:59বুধন
- 13:01বুধন তোর ভাইকে কিছুদিনের জন্য গ্রাম ছেড়ে
- 13:04চলে যেতে বল। একবার যখন সন্দেহ ঢুকেছে
- 13:08মাথায় বারবার এরকম হলে হয়তো মরিয়া হয়ে
- 13:11গ্রামের লোক বুনোকে খুন করে বসবে।
- 13:14বলেছিলাম তাই। বুনো যাবেগলায়।
- 13:17>> কেন?
- 13:18>> ওই মেয়েটার জন্যে।
- 13:20>> মেয়ে? কোন মেয়ে?
- 13:23বুনো বিয়ে করেছিল।
- 13:25বউ মরে গেছে।
- 13:28কিন্তু পাঁচ বছর একটা মেয়ে আছে ওর। মেয়েটা
- 13:31পঙ্গু। বছর ধরে আগে পড়ে গিয়ে ডান পায়ে চোর
- 13:35লাগে। তারপর থেকে আস্তে আস্তে পাটা
- 13:38[মিউজিক] কেমন শুকিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে।
- 13:40পায়ে জোর লায়।
- 13:43প্রায় সব [মিউজিক] সময় শুয়েই থাকে। বসে
- 13:46বসে হাত ভর দিয়ে হিজড়ে হিজড়ে কোন রকমে
- 13:48একটু আত্রু নড়াচাড়া করে। ওকে লাইয়া খাইয়া
- 13:52দিতে হয় বাবু। এক বুড়ি আছে [মিউজিক] তার
- 13:55দেখাশোনা করে। বুনোর মেয়ে? না বাবু। মেয়ের
- 13:59উপর বুনর প্রচন্ড টান। মেয়ের জন্যই আজকাল
- 14:03বাড়ি ছেড়ে দূরে [মিউজিক] যায় না। ও
- 14:05দুনিয়ায় একমাত্র মেয়েটাকে ও ভালোবাসেছে।
- 14:09গা ছেড়ে চলে গেলে ওর মেয়েকে যদি গায়ের
- 14:11লোকে মেরে ফেলে সেই ভয়েও কোথাও যেতে চায়
- 14:14না। [মিউজিক] এমনকি এ ব্যাপারে আমাকেও
- 14:16বিশ্বাস করে না বুনো। আবার মেয়েকে সঙ্গে
- 14:18লিয়ে বাইরে কোথাও যেতে পারবে না। বাইরে
- 14:21কোথাও গেলে কুড়া মেয়েকে কার কাছে রেখে
- 14:23সারাদিন মজুরি কাটতে যাবে।
- 14:26কে জদুলাবে ওর মেয়ের তাই বুন জেদ ধরছে
- 14:31গ্রামেই থাকবে। তাতে ওর যা হয় হোক।
- 14:37আমি ও সুনন্দ এবার মাথা ঘামাতে শুরু
- 14:40করলাম।
- 14:42ঠিক করলাম বুনো যতই একগুয়ে বা রাগী হোক সফ
- 14:47সন্দেহের শিকার হয়ে তাকে মারা পড়তে দেওয়া
- 14:50যায় না। [মিউজিক]
- 14:51ওই অসহায় মেয়েটার ভাগ্যে সত্যি তো তখন কি
- 14:56ঘটবে?
- 14:58এ কাজ কার সেটা এবার বের করতেই হবে। এ কাজ
- 15:03কি কোন মানুষ পিশাচের না কোন জন্তু
- 15:06জানোয়ারের?
- 15:08গ্রামের অন্য কোন শয়তান কি এই কীর্তি করে
- 15:11বুনোর ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে? কেউ তো
- 15:14স্বচক্ষে দেখেনি বুনোকে রক্তপান করতে। এখন
- 15:17বুনোকে তার মেয়েকে বাঁচায় কি করে? দুই
- 15:22বন্ধু প্রাণপনে বুদ্ধি হাতড়াতে থাকি।
- 15:25সুনন্দকে বললাম,
- 15:27এই পুলিশে খবর দিলে কেমন হয়?
- 15:31কোন লাভ নেই। গ্রামের ঘরোয়া ব্যাপারে
- 15:34পুলিশ নাক গলাবে না। আহা তবু চেষ্টা তো
- 15:37করি। যদি যায় পুলিশ তাহলে একটু ভয় দেখে
- 15:41আসে। তাহলে চট করে বুনোর ক্ষতি করতে
- 15:44অন্যেরা সাহস পাবে না। আর হয়তো এই
- 15:47রক্তচোষার ব্যাপারটা থেমে যেতে পারে।
- 15:51যাবে না যাবে না। পুলিশ যাবে না।
- 15:54স্রেফ গুজব শুনে তিন চার মাইল পথ ঠেঙ্গিয়ে
- 15:57যেতে রাজি হবে না। উল্টে আমাদের নিট্টা
- 16:00করবে। তাহলে পুলিশ যেতে চাইবে যদি খুন
- 16:05খারাবি কিছু একটা হয়। তারপর
- 16:09তখন গিয়ে কি লাভটা হবে বলতো? ঘোড়ার ডিম।
- 16:12তিনজনে চুপচাপ বসে বুনোকে বাঁচানোর একটা
- 16:16উপায় বের করার জন্য আপ্রাণ মাথা
- 16:18ঘামাচ্ছি।
- 16:20কিন্তু বুনোকে বাঁচাবার কোন উপায় আমাদের
- 16:22মাথায় আসছে না। হঠাৎ সুনন্দ বলে উঠলো
- 16:28দেখ পুলিশ না যাক আমরা যাব। মাঝে মাঝে
- 16:31ঘুরে আসবো এই গ্রামে বুনোর খোঁজখবর করব
- 16:33ঠিক আছে আর তাহলে গ্রামের লোক কিন্তু
- 16:35সাবধানও হয়ে যাবে
- 16:38কিন্তু
- 16:40কিছু একটা ছুতো চাই বুঝলি কিছু তো মুরগি
- 16:45মুরগির খোঁজে যাওয়া যেতে পারে বুধন বুধন
- 16:49বুনোর মুরগি আছে
- 16:50>> ও আচ্ছা তাহলে তাহলে আমরা দুজনেই কালকে
- 16:54মুরগি কিনতে যাব বুনোর কাছে এই বুধন ওকে
- 16:57কিন্তু বলে রাখিস আবার আমাদের যেন
- 16:59হাঁকিয়ে না দেয় দেখিস ওর ভালোর জন্যই
- 17:01কিন্তু যাচ্ছি। বাইরের লোক বারবার বুনোর
- 17:05কাছে বুনোর খোঁজে আসছে দেখলে কেউ ওকে
- 17:08মারবার সাহস পাবে না। কারণ জানে যে বুনোর
- 17:11কিছু ঘটলে আমাদের তা নজরে পড়বে এবং
- 17:14ঘটনাটা অস্বাভাবিক মনে হলে পুলিশের কাছে
- 17:18খবরও যাবে। আচ্ছা বাবু সেই বাল।
- 17:22আমাদের যুক্তি বুধনের পছন্দ হল। সে খুশি
- 17:26মনে বিদায় নিল। সুনন্দ মহা উত্তেজিত।
- 17:30এক রহস্যময় রোমাঞ্চের গন্ধ পেয়ে সে উৎসাহে
- 17:34টকবক করতে লাগলো। আমার মনেও লাগলো তার
- 17:37ছোঁয়া।
- 17:39আর তার ফল হলো বিচিত্র এক অভিজ্ঞতা।
- 17:48দুপুরবেলা।
- 17:50আমি ও সুনন্দ সাইকেলে চেপে মহুয়া
- 17:53ডাকাগ্রামের দিকে চললাম। আমাদের বাড়ি থেকে
- 17:57শহর ছাড়িয়ে মাইলখানে গিয়ে ধলভুমগড়
- 18:00যাওয়ার বড় রাস্তা থেকে ডান পাশে এক শরুম
- 18:04মেঠো রাস্তা বেরিয়ে গেছে। ওই রাস্তাটাই
- 18:06[মিউজিক]
- 18:07মাইল দুই দূরে মহুয়াডাঙ্গায় শেষ হয়।
- 18:10পথের দুপাশে প্রান্তরে বড় বড় পাথর পড়ে
- 18:13আছে। মাঠে গাছপালা খুব কম। মাঝে মাঝে
- 18:17কয়েকটা শুধু খেজুর তাল বা বাবলা গাছ। আর
- 18:22এক নিঃসঙ্গ প্রাচীন বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে
- 18:25অনেকখানি [মিউজিক] জায়গা জুড়ে।
- 18:28দূর থেকে মহুয়াডাঙ্গা গ্রাম দেখা যায়।
- 18:32গ্রামে অবশ্য বেশ গাছপালা রয়েছে। একটা
- 18:35পুকুর রয়েছে।
- 18:37এমন অসময় দুই শহরে যুবকের আবির্ভাবে
- 18:41গ্রামের লোক অবাক হয়ে গেল।
- 18:45বলছে বুনো মাঝির বাড়ি কোনটা?
- 18:48পথে একজনকে বুনোর বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস
- 18:51করতেই সে দেখিয়ে দিল আঙ্গুল বাড়িয়ে।
- 18:54>> আচ্ছা কিন্তু তার চোখের অদ্ভুত চাউনিটা
- 18:58আমাদের নজর এড়ালো না।
- 19:02গ্রামে ঢোকার মুখেই বুনর বাড়ি। একখানা
- 19:05মাত্র ছোট্ট মাটির ঘর। তাতে খরের চাল।
- 19:09টকটকে এক ফালিম ঢোল। একটা প্রকান্ড শুয়র
- 19:13বাড়ির সামনে মাটিতে গড়াচ্ছে। তার গায়ের
- 19:16উপর চার পাঁচটা ছানা।
- 19:19ঘরের বাইরে তেঁতুল গাছের ছায়ায় দড়ির
- 19:23খাটিয়াতে বুনো বসেছিল। পাশে তার মেয়ে
- 19:26শুয়ে।
- 19:28সাইকেলটাকে একটা গাছে ঠেস দিয়ে রেখে আমরা
- 19:32তার কাছে এগিয়ে যেতেই বুনো উঠে দাঁড়ালো।
- 19:35সুরটা ঘুতঘুত করে পালালো। পিছনে পিছনে
- 19:39ছুটলো তার বাচ্চারা।
- 19:43বনুর প্রথম দর্শনেই ছ্যাত করে উঠলো বুকটা।
- 19:48কেমন একটা দুশমনের মত চেহারা যেন। রীতিমত
- 19:53লম্বা গিট পাকানো দেহ। মুখে অজস্র ভাজ।
- 19:58প্রণাদ অব্ধি কালো কুচকুচে বাবরি চুল। ছোট
- 20:03ছোট চোখ দুটো।
- 20:05করমচার মত লালচে
- 20:08সে ঘাড় কাত করে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল
- 20:11আমাদের দিকে আমি বললাম
- 20:16তোমার নাম বুনো
- 20:21আমাদের
- 20:23বুধন ওই বুধন পাঠিয়েছে আমরা মুরগি কিনতে
- 20:27এসেছি
- 20:27>> মুরগি মাঠে চলছে এখন ধরা যাবে না
- 20:30>> আচ্ছা
- 20:34বনু ওর কন্ঠস্বর ফ্যাসফ্যাসে।
- 20:36ওর ভাবভঙ্গি দেখে বুঝলাম আমাদের আগমনে ও
- 20:40মোটেই খুশি হয়নি। নেহাদ যেন ঠেকায় পড়ে
- 20:44আমাদের উপস্থিতি সহ্য করছে। ওর দাঁতগুলো
- 20:48বড় বড়। চওড়া হা। দেখলেই মনে হয় লোকটা
- 20:53রাগী বেপরোয়া।
- 20:55আমি বেশ চোটলাম মনে মনে। এমন খুনি চেহারার
- 20:59বেয়াদব লোকটার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত
- 21:01হতে ভারী দায়ে পড়েছে আমাদের। ফিরে যাই।
- 21:05ওর বড়াতে যা হবার হোক আমাদের বয়েই গেছে।
- 21:09কষ্ট করে এলাম এতদূর। এই ঢের সত্যি কথা
- 21:13বলতে কি লোকটাকে দেখে আমার মন বলছিল এর
- 21:16দ্বারা যেকোন ভয়ঙ্কর কাজ সম্ভব। হয়তো
- 21:19গ্রামের লোকের ধারণা ঠিকই। বুধন তার ভাই
- 21:23সম্পর্কে দুর্বল। তাই অন্যদের কথা মানতে
- 21:26চাইছে না।
- 21:28সুনন্দ কিন্তু বুনোর ব্যবহারে তোমলো না।
- 21:31দিববি ঘোষমেজাজে বলল,
- 21:35বেশ তো বেশ। আমরা আবার পরশুদিন আসবো কেমন?
- 21:38একটা মুরগি ধরে রাখিস। এই বুনো একটু জল
- 21:42খাওয়া না খুব তেষ্টা পেয়েছে রে।
- 21:47বুনু নিঃশব্দে ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল।
- 21:50আমাদের দৃষ্টি পড়লো খাটিয়ায় শোয়া ছোট্ট
- 21:54মেয়েটির দিকে। আহা মেয়েটার মুখখানা কি
- 21:59মিষ্টি।
- 22:00করুণ চোখে অবাক হয়ে দেখছে আমাদের। মেয়েটার
- 22:05একটা পাার সরু অক্ষণ।
- 22:08শরীরও খুব রোগা।
- 22:10বড় মায়া হলো দেখে। এমন সময় সুনন্দ চাপা
- 22:15স্বরে বলল,
- 22:18অসিত
- 22:20এই অসিত ওই দেখ অনেকে আমাদের লক্ষ্য করছে
- 22:25ওই দেখ ও দেখ
- 22:28কথাটা ঠিক আড়াল আবডাল থেকে অনেক মেয়ে
- 22:32পুরুষ উকিঝুকি মারছিল তাদের চোখে কৌতুহল
- 22:38বুনো জল নিয়ে এল ঝকঝকে পিতলের খুটিতে
- 22:43খেলাম জল
- 22:46যাবার সময় সুনন্দ চেচিয়ে বলল
- 22:49বুনো
- 22:51আমরা আবার পরশুদিন আসবো কেমন পরশুদিন
- 22:56হ্যাঁ আজ আসি হ্যা
- 23:00[হাহাকার]
- 23:05প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে ফিরে চলেছি গ্রাম
- 23:08ছাড়িয়ে খানিক গিয়ে একটা দৃশ্য দেখে
- 23:11আশ্চর্য হয়ে গেলাম
- 23:14আসার সময় মহুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায়
- 23:17মাইলখানিক দূরে মাঠের মধ্যে প্রকান্ড একটা
- 23:20বট গাছ দেখেছিলাম। সেই গাছের নিচে এখন
- 23:25একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ আকৃতি।
- 23:29পরণে গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি ও সাদা
- 23:31পায়জামা। চোখে দূরবীন লাগিয়ে গাছের ডালে
- 23:36না জানি কি দেখছে সুনন্দ বলল
- 23:40অসিত এই ওই দেখ প্রতাপ রুদ্র
- 23:46ওই যে ঝাউ বাংলো আছে না ওই ঝাউ বাংলোতে
- 23:49থাকেন
- 23:51আমাদের পাড়ার একেবারে শেষ বাড়িটা হলো
- 23:53ঝাউ বাংলো এই নাম স্থানীয় লোকেদের দেওয়া
- 23:57ঝাউ বাংলো অন্য বাড়িগুলোর থেকে বেশখানিক
- 24:00তফাতে
- 24:02বিরাট কম্পাউন্ড ওয়ালা বাড়ি উঁচু পাঁচি
- 24:05লেখেরা ভিতরে প্রচুর গাছপালা
- 24:08মস্ত লোহার ফটক থেকে বসৎবাড়ি অব্ধি
- 24:12কাঁকড় ফেলা চওড়া রাস্তা তার দুধারে আছে
- 24:15দুসারি ঝাউ গাছ বোধহয় এইজন্যই ঝাউ বাংলো
- 24:19নামের উৎপত্তি
- 24:20ও বাড়ির বাসিন্দাদের চিনি না শুধু জেনেছি
- 24:24প্রতাপ রুদ্র ওই বাড়ির মালিক ঘাটশিলার
- 24:28স্থানীয় কাউকে বা কোন চেঞ্জারকে ঝাউ
- 24:32বাংলোয় কখনো [মিউজিক] বেড়াতে যেতে দেখিনি।
- 24:34প্রতাপ বাবুকে কয়েকবার মাত্র দেখেছি। খুব
- 24:38ভোরে কালো রঙের থেবড়ামুখ বিশাল এক কুকুর
- 24:41নিয়ে মাঠে বেড়াতে। ভদ্রলোকের নিজের
- 24:44চেহারাও চোখে পড়ার মত। ছ ফুটের উপর খাড়া
- 24:47শরীর। টোহাড়া শক্ত গড়ণ। রোদে পোড়া ফর্সা
- 24:53রং। আর মাংসহীন লম্বাটে মুখ। চাপা পাতলা
- 24:58ঠোট। টিয়া পাখির মত বাঁকানো নাকের নিচে
- 25:01পাকানো গোপ আর চিবুকে ফ্রেঞ্চ কার্ড দাড়ি।
- 25:05মাথায় কাঁচা পাকা ঘন চুল। পরণে থাকে হাঁটু
- 25:10অব্ধি [মিউজিক] ঝুলের পাঞ্জাবি ও পায়জামা।
- 25:13তার গম্ভীর ধরণ দেখলে নিজে থেকে আলাপ করার
- 25:17উৎসাহ জাগে না। শুনেছি ভদ্রলোক দু বছর হলো
- 25:21বাড়িখানা কিনে এখানে বাস করছেন। তবে
- 25:24ঘাটশিলায় প্রায় থাকেনি না। ওই বাড়িটা
- 25:28আগে ছিল এক জমিদারের সম্পত্তি।
- 25:31আরো শুনেছি বাড়িটায় নাকি একটা ছোটখাট
- 25:34চিড়িয়াখানা আছে। কারণ প্রতাপ রুদ্রের
- 25:37পশুপাখির বেজায় শখ। অনেক বিচিত্র
- 25:41জীবজন্তুর ডাক ভেসে আসে বাড়ির ভেতর থেকে।
- 25:44কিন্তু কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না ভেতরে।
- 25:47প্রতাপ রুদ্র সম্পর্কে আমাদের কৌতুহল ছিল
- 25:51যথেষ্ট। কিন্তু মেয়েটাবার সুযোগ পাইনি
- 25:54কখনো। সুনন্দকে জিজ্ঞেস করলাম,
- 25:58এখানে কি করছে বলতো ভদ্রলোক? মনে হয়
- 26:01বার্ড ওয়াচার বুঝলি পাখি দেখছে। দেখ
- 26:04যাদের এই নেশা থাকে এরা যেখানে সেখানে
- 26:07ঘুরে বেড়ায় পাখির খোঁজে। ভদ্রলোক শুনেছি
- 26:09নানা রকম জীবজন্তু পোষান প্রশান্ত
- 26:13আমার না ওর সঙ্গে আলাপ করার ইচ্ছা আছে
- 26:16জানিস ভীষণ ইন্টারেস্টিং লোক
- 26:20কথা বলতে বলতে আমরা সাইকেলে পাশাপাশি চলছি
- 26:23দুজন প্রতাপ রুদ্র একবার ঘাড় ফিরিয়ে
- 26:27দেখলেন আমাদের তারপর আবার দূরবিনে চোখ
- 26:30লাগালেন বললাম
- 26:33সনন্দ বনু লোকটাকে কেমন লাগলো নিরীহ মানে
- 26:37সত্যি নির্দোষ মনে হয় কি? দেখ নিরীহ মোটেই
- 26:42নয়। তবে দোষী না নির্দোষ সেটা এখনই বলা
- 26:47শক্ত।
- 26:48চল।
- 26:51অর্থাৎ বুনোর হাবেই সুনন্দরও ধোখা লেগেছে।
- 26:56বিকেলে খরশ্রোতা নদী ধরে অনেকদূর বেড়াতে
- 27:00গেলাম দুজনে। ধলভুমড়ের রাস্তা আড়াড়িভাবে
- 27:04কেটে খরশ্রোতা বয়ে চলেছে। রাস্তা গেছে
- 27:08নদীর ওপর সাঙ্ক দিয়ে। ক্ষিণকায় নদীর টলটলে
- 27:12জলে বড়জোর হাঁটু ডোবে। স্ফটিক স্বচ্ছ জলের
- 27:16তলায় নড়ি পাথর। বালি ঝিনুক এসব পরিষ্কার
- 27:20দেখা যায়। কখনো নদীর পাড়ে পাড়ে কখনো বা
- 27:25ঠান্ডা জলের স্রোতে পা ডুবিয়ে অনেকটা
- 27:27হাঁটলাম।
- 27:29ফিরতে সন্ধে হয়ে গেল।
- 27:32সাকোর কাছাকাছি পৌঁছেছি। একটা লোক দ্রুত
- 27:35পায়েশাক বেরিয়ে চলে গেল। প্রতাপ রুদ্র
- 27:40আমাদের তিনি দেখতে পেলেন না।
- 27:43আমরা লক্ষ্য করলাম প্রতাপ বাবু কিছুটা
- 27:45এগিয়ে ধলভুঙ্গড়ের রাস্তা ছেড়ে মাঠে
- 27:48নামলেন।
- 27:50ওটাই তো মহুয়াডাঙ্গা গ্রামে যাবার পথ।
- 27:54সরঝোপের আড়াল থেকে দেখলাম সেই দীর্ঘ গায়ে
- 27:57ঋজু দেহ ক্রমে ছোট হয়ে যাচ্ছে। কখনো বা
- 28:01উঁচু ঢিবির আড়ালে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। আলো
- 28:05কমে আসায় তাকে বেশিদূর অব্ধি নজর করতে
- 28:08পারলাম না।
- 28:10সুনন্দ প্রথমে কথা বলল।
- 28:13কি ব্যাপার বলতো?
- 28:15এই সময় ওইদিকে ভদ্রলোক চললেন কোথায়? হয়তো
- 28:19নিশাচর পাখির খুঁজে যাচ্ছে কিংবা সাংতাল
- 28:23গ্রামে হাড়িয়া খাওয়ার অভ্যাস আছে। হতে
- 28:26পারেশাক
- 28:30রেলিং আমরা আরো ঘন্টাখানিক বসে রইলাম।
- 28:34>> একটার পর একটা গান গাইলাম হেড়ে গলায়।
- 28:39>> শেষে গলা ধরে যেতে চায়ের তাগিদে উঠলাম।
- 28:43প্রতাপ রুদ্র কিন্তু কখনো ফিরলেন না।
- 28:52পরদিন ভোরে বুধন এল। বুধন জানালো গত রাতে
- 28:56আবার রক্তচোষার আবির্ভাব ঘটেছিল
- 28:59মহুয়াডাঙ্গায়।
- 29:01এবার সে হানা দিয়েছে ঘরের মধ্যে। শিকার এক
- 29:06যুবক।
- 29:08শেষ রাতে ঘুম ভেঙে দেখে বা পায়ের বুড়ো
- 29:12আঙ্গুলে অবিকল ওই রকম ক্ষত। তা থেকে রক্ত
- 29:16ঝরছে। সুনন্দ জিজ্ঞাসা করে বুধন
- 29:21ঘরের দরজা কি খোলা ছিল
- 29:23>> না আর জানলা
- 29:26একটা জানলা খোলা ছিল বটা
- 29:28>> এই বুনোকে কেউ দেখেছে নাকি কাছে বেটে তবে
- 29:31ডেঙ্গা বলছে বুনো কাল রাত অব্দি জেগে
- 29:34বসছিল ওর উঠালে
- 29:36গায়ের লোকে ওকেই সন্দেহ করছে কথাটা বলে
- 29:40বুধন বুকের মধ্যে মুখ খুজে বসে রইল বেচারা
- 29:43ভাইয়ের বিপদের আশঙ্কায় বড় মুসড়ে পড়েছে।
- 29:48সুনন্দ বুধনকে জিজ্ঞেস করল,
- 29:51হুম। আচ্ছা ওই যে ছাউ ভাঙলো তুই ওর
- 29:55মালিককে চিনিস?
- 29:57>> হ চিনি। লম্বাপড়া মানুষ কুকুর নিয়ে ঘোড়ায়।
- 30:01>> হ্যাঁ ঠিক। আচ্ছা। ওই বাবু কাল রাতে তোদের
- 30:04গ্রামে গিয়েছিল।
- 30:05>> কই না তো।
- 30:07>> উনি মহুয়াডাঙ্গায় গিয়েছেন কখনো?
- 30:09>> ও গেছে অনেকবার।
- 30:11>> কি করতে যায় রে?
- 30:12>> চোখের নল লাগিয়ে পাখি দেখে বোটে।
- 30:15>> আচ্ছা। উনি এই রক্ত চোষার ব্যাপারে কিছু
- 30:18জানেন নাকি?
- 30:20>> তা তো জানিনা বাবু। তবে একদিন দূর থেকে
- 30:23দেখছি ডেঙ্গামাজির সাথে কি সবলি কেমন কথা
- 30:25বলছিল। হুম।
- 30:28ঠিক আছে।
- 30:29তুই আজকে যা সাবধানে থাকিস। হ্যাঁ। আচ্ছা
- 30:32বাবু। হ্যা। বুধন চলে যেতে সুনন্দ বলল,
- 30:37অসিত।
- 30:39প্রতাপ রুদ্র কাল রাতে মহুয়াডাঙ্গার দিকে
- 30:42গিয়েছিলেন।
- 30:43কিন্তু গ্রামে ঢোকেননি।
- 30:47তাহলে কোথায় গিয়েছিলেন? [দীর্ঘশ্বাস]
- 30:51ভারি আশ্চর্য তো। হয়তো মাঠে মাঠে
- 30:54পায়চারি করেছেন। লোকটা কিন্তু বেশ
- 30:56রহস্যময়।
- 30:58চল একটু বেরিয়ে আসি।
- 31:01তখনো রোদের তেজ বাড়েনি। দুজনে বেড়াতে
- 31:05বের হলাম। ঝাউ বাংলোর সামনে দেখি প্রতাপ
- 31:08রুদ্র প্রাথক ভ্রমণ ছেড়ে ফিরছেন।
- 31:12হাতে চেনে বাঁধা সেই বিরাট কুকুর। সুনন্দ
- 31:17সোজা এগিয়ে গেল ভদ্রলোকের দিকে।
- 31:20অমনি বাঘের মত কুকুরটা গড়গড় করে উঠে
- 31:23চেনে টান দিল। থমকে দাঁড়ালো সুনন্দ।
- 31:27তারপর প্রতাপ রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলল,
- 31:31নমস্কার। আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। আসলে
- 31:35আপনাকে প্রায়ই দেখি এটা এটা কি জাতের
- 31:38কুকুর জিজ্ঞাসা করব ভাবি আর করাই হয় না
- 31:42প্রতাপ রুদ্র স্থির চোখে কয়েক মুহূর্ত
- 31:46সুনন্দর দিকে তাকিয়ে থাকলে কি তীঘ্ন
- 31:49দৃষ্টি আবার একটু কৌতুকের আভাস রয়েছে যেন
- 31:54সুনন্দর অবস্থা দেখে মজা পেয়েছেন। সুনন্দ
- 31:57কাঠের মত দাঁড়িয়ে বারবার আর চোখে
- 32:01কুকুরটাকে দেখছে। ভরাট কন্ঠস্বরে প্রতাপ
- 32:05রুদ্র জিজ্ঞাসা করলেন সুনন্দকে
- 32:08>> আপনি কুকুর ভালোবাসেন আগে আগে হ্যাঁ
- 32:12>> এটা ম্যাস্টিফ
- 32:14>> ও দারুন কুকুর আচ্ছা আপনি তো অনেক জন্তু
- 32:19জানোয়ার পুষেছেন দেখাবেন আমাদের সুনন্দ
- 32:23আলাপ জমাবার চেষ্টা করলেও প্রতাপ রুদ্রের
- 32:27মুখে কিন্তু বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখা গেল
- 32:29না আমাদের আরেক প্রস্থ আপাদমস্তক দেখে
- 32:33তারপর বললেন
- 32:35>> দেখাতে পারি তবে একটা শর্তে
- 32:38>> কি শর্ত
- 32:39>> মাত্র একবার দেখাবো এবং আর কাউকে জুটিয়ে
- 32:42আনা চলবে না কিন্তু
- 32:43>> আচ্ছা
- 32:44>> লোকজন এলে আমার কাজের খুব অসুবিধা হয়
- 32:47>> বেশ বেশ তাই হবে
- 32:49চল বসি
- 32:52প্রতাপ বাবু আহ্বান জানালেন
- 32:55তার সঙ্গে এগোতেই নেপালি দারোয়ান গেট
- 32:58খুলে দিল
- 33:01আমরা ভিতরে ঢুকলাম
- 33:03একজন পরিচারক এসে নীরবে প্রতাপ বাবুর কাছ
- 33:06থেকে কুকুরটাকে নিয়ে বাড়ির দিকে চলে
- 33:09গেল।
- 33:11পরিচারকটি এদেশীও নয়। দারুণ গুন্ডামার্কা
- 33:15জোয়ান। কাকড় বিছানো পথ ধরে চলতে চলতে
- 33:19রুদ্র জেনে নিলেন আমাদের পরিচয়। প্রতাপ
- 33:22বাবু একটু ঠাট্টা সুরে বললেন,
- 33:26আমাদের কালেকশনে কিন্তু বাঘসিংহ নেই। সবই
- 33:29ছোট জীবজন্তু।
- 33:31সাধারণত যেসব পশুপাখি কেউ পোষে না আমি
- 33:35তাদের পোষ মানাবার চেষ্টা করি। ওদের
- 33:38চরিত্রের খুঁটিনাটি স্টাডি করি। আমরা
- 33:41বাগানের ভিতরে চললাম। বাগানের এক জায়গায়
- 33:45পরপর 15 16 টা বড় বড় খাঁচা। খাঁচাগুলো
- 33:49তারের জালে ঘেরা। মাথায় খড়ের চাল। কোনটাতে
- 33:54রয়েছে জন্তু, কোনটায় পাখি।
- 33:56ঠিক কলকাতার চিড়িয়াখানায় যেমন দেখেছি
- 34:00তেমন করেই জীবজন্তুগুলো রাখা হয়েছে।
- 34:03প্রতাপ রুদ্র একটার পর একটা খাঁচার সামনে
- 34:07দাঁড়িয়ে চিনিয়ে দিতে লাগলেন। লোকটির
- 34:10চেহারা ও কথা বলার ভঙ্গিতে জোরালো
- 34:13ব্যক্তিত্বের ছাপ। এক ফাঁকে তিনি বললেন,
- 34:16>> আমি বয়সে অনেক বড়। আশা করি তুমি বললে
- 34:20আপত্তি নেই।
- 34:21>> না না বিন্দুমাত্র নেই।
- 34:22>> আপত্তির কি আছে?
- 34:24>> এসো।
- 34:25এই দেখো
- 34:27একজোড়া ডিঙ্গ অস্ট্রেলিয়ার বুনো কুকুর
- 34:30কিছুতেই পোষ মানে না। তবে আমি কিছুটা বাঘে
- 34:34আনতে পেরেছি।
- 34:36>> কথাটা বলতে বলতেই তিনি পকেট থেকে বিস্কুট
- 34:39বের করে খাঁচার ভিতরে ছুড়ে দিলেন।
- 34:43>> অনেকটা আমাদের দেশি কুকুরের মত চেহারা।
- 34:47মেটে লাল রঙের ডিঙ্গ দুটো বিস্কুট খেয়ে
- 34:50লেজ নাড়তে লাগল। তারপর প্রতাপ রুদ্র
- 34:53দেখালেন
- 34:55আর এই হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ালা।
- 34:59ঠিক যেন ক্ষুদে ভালুক।
- 35:02এ ভাল্লুক নয়।
- 35:03>> তবে ভাল্লুক স্তন্নপায়ী। আর এরা
- 35:06মারসুপিয়ান। অর্থাৎ পেটের তলায় থলিতে
- 35:09বাচ্চা বয়ে বেড়ায়। যেমন ক্যাঙ্গারু।
- 35:12একটা খাঁচার সামনে দাঁড়াতেই কালো সাদা
- 35:16লোমওয়ালা বেঞ্জি জাতীয় দুটো জন্তু দাঁত
- 35:19খিচিয়ে উঠল। রুদ্র বললেন, আর এইগুলো উত্তর
- 35:23আমেরিকার এক ধরনের বেজি খুব হিংস্র।
- 35:28এরপর একে একে দেখলাম মাদাগাস্কারের লেমুর
- 35:31ও স্লথ আফ্রিকার বনবিড়াল। দক্ষিণ আমেরিকার
- 35:35ধেড়ে ইদুর ইত্যাদি নানা অদ্ভুত যত।
- 35:39তারপর পাখি। কত রকম রংবেরঙের পাখি।
- 35:44বেশিরভাগেরই নাম শুনিনি। কোনটা ভারী
- 35:47সুন্দর শীষ দিচ্ছে। গাছের ছায়ায় দাড়ের উপর
- 35:51সরু চেনে পা বাঁধা এক কাকাতুয়া বসেছিল।
- 35:55তার গায়ের পালক ধবধবে সাদা। মাথায় হলদে
- 36:00ঝুটি।
- 36:01কালো বাঁকা ঠোট। আমরা কাছে যেতেই চোখ
- 36:05পাকিয়ে তড়বড় করে পরিষ্কার গলায় বলতে
- 36:08লাগলো,
- 36:10গুড মর্নিং। গুড মর্নিং। নমস্কার।
- 36:12নমস্কার।
- 36:14>> ও তাক বুঝে মানুষের ভাষা ব্যবহার করতে
- 36:17শিখেছে। রুদ্র হাত নাড়তেই কাকাতুয়া বলে
- 36:20উঠলো
- 36:21>> বাই বাই বাই বাই
- 36:26>> আচ্ছা মিস্টার রুদ্র এইসব পশুপাখি আপনি
- 36:30জোগাড় করেন কিভাবে
- 36:32>> কিনে আনি নানান দেশ থেকে দু একটা নিজেও
- 36:35ধরেছি
- 36:37>> আমাদের মাথার উপর অদ্ভুত দেখতে একটা ছোট্ট
- 36:40কালো রঙের বাঁদ গাছের ডালে লেজ পাকিয়ে
- 36:43মাথা নিচু করে দোল খাচ্ছিল তার ভাটার মত
- 36:47চোখ
- 36:48মস্ত লেজ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা এটা
- 36:51কোন দেশী বাদর?
- 36:52>> বাদর নয় একরকম ভাম। ব্রাজিল থেকে এনেছি।
- 36:57নাম কিং কাজু।
- 36:59এমনি লজে ঝোলার অভ্যাস একমাত্র সাউথ
- 37:02আমেরিকার প্রাণীদের মধ্যেই দেখা যায়। আমি
- 37:04দু মাস আগে সাউথ আমেরিকা থেকে ফেরার সময়
- 37:07কতগুলো স্পেসিমেন নিয়ে এসেছিলাম।
- 37:09>> ও তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে ভালো পোষ মেনেছে।
- 37:12>> আচ্ছা মিস্টার রুদ্র সেদিন আপনাকে ওই
- 37:15মহুয়াডাঙ্গা গ্রামের কাছে দেখলাম।
- 37:17বাইনেকুলার দিয়ে কি যেন একটা দেখছিলেন। হু
- 37:21পাখি দেখছিলাম। [মিউজিক]
- 37:23>> আপনি কি জানেন যে ওই গ্রামে একটা অদ্ভুত
- 37:26ব্যাপার ঘটছে।
- 37:27>> কি ঘটেছে?
- 37:28>> এই রাত্রির বেলা বুঝলেন ঘুমন্ত লোককে কিসে
- 37:32যেন কামড়াচ্ছে।
- 37:34কি কামড়ায়, কখন কামড়ায়। কেউ টের পায় না।
- 37:38ঘুম ভেঙে দেখে যে ক্ষতস্থান থেকে রক্ত
- 37:42পড়ছে।
- 37:43গ্রামের লোক তো খুব ভয় পেয়ে গেছে।
- 37:45>> কেন?
- 37:46ওদের ধারণা যে অলৌকিক কান্ড মানে কোন
- 37:49রক্তচোষা পিশাচ বা দানর কীর্তি। ও
- 37:54সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে প্রতাপ বাবু বেশ
- 37:57গম্ভীর হয়ে গেলেন। তারপর অন্য কথায় চলে
- 38:01গেলেন। অর্থাৎ এ বিষয়ে তিনি আর আলোচনা
- 38:05করতে চান না। সুনন্দ প্রফুল্লভাবে বলল,
- 38:10তা
- 38:11আপনি বুঝি অনেক দেশ ঘুরেছেন। তা ঘুরেছি।
- 38:16>> কোথায় কোথায় ঘুরেছেন?
- 38:17>> ইউরোপের সব জায়গায়। তাছাড়া মিডিল ইস্ট,
- 38:21সাউথ আমেরিকা।
- 38:22>> আমরা কিন্তু একদিন তাহলে গল্প শুনতে আসবো।
- 38:24হ্যাঁ।
- 38:25>> সরি এখন হবে না।
- 38:27>> ও
- 38:27>> আপাতত কদিন আমি একটু ব্যস্ত আছি।
- 38:31>> বেশ তাহলে পরেই হবে।
- 38:34অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় কথাকটা বলে প্রতাপ
- 38:38বাবু সুনন্দর আগ্রহে পুরো জল ঢেলে দিলেন।
- 38:42প্রতাপ বাবুর ব্যবহার শেষ থেকে বেশ রুহ
- 38:45মনে হলো। আমাদের বসতেও বললেন না।
- 38:49চিড়িয়াখানা দেখা হয়ে যেতে আবার সোজা গেট
- 38:52অব্ধি আমাদের এগিয়ে দিলেন।
- 38:56ফেরার সময় জিজ্ঞেস করলাম।
- 38:59এ সন্ধ কি বুঝলি? বুঝলাম যে প্রতাপ বাবু
- 39:03মহুয়াডাঙ্গার ঘটনা জানেন।
- 39:06কিন্তু অন্যদের কাছে ফাঁস করতে রাজি নন।
- 39:10আর দ্বিতীয়ত উনি এখন ব্যস্ত।
- 39:14>> চল।
- 39:18[ঘণ্টা] পরদিন বাজার থেকে ফিরে এসে সুনন্দ
- 39:20বলল,
- 39:23বুঝলি অসিত। প্রতাপ বাবু সম্পর্কে একটু
- 39:26খোঁজখবর করলাম।
- 39:28লোকটার অতীত সম্বন্ধে কেউ কিছু জানে না।
- 39:31শুধু জানলাম যে উনি একজন প্রাণিতত্ত্ববিদ
- 39:33এবং অনেক দেশে বিদেশে ঘুরেছেন।
- 39:36এখানকার লোকেদের সঙ্গে অবশ্য সামান্যই
- 39:38পরিচয় আছে। তবে বিচিত্র স্বভাব বুঝলি? এই
- 39:43আগের বছর একদল বেদে এসে এখানে আস্তানা
- 39:45গেড়েছিল। ওই মাঠটায় তারা সাপ খেলা
- 39:48দেখাতো, নাচ গান করতো। তারপর ওই বল না ওই
- 39:50যে বিক্রি করে ওরা ও জড়িবুটি ওই
- 39:53জড়িবুটির ওষুধ বিক্রি করতো। প্রতাপ বাবুর
- 39:56সঙ্গে নাকি তাদের বেশ দহরম মহরম একটা হয়।
- 40:01আবার এই মাস ছয় আগে এক তান্ত্রিক সাধু এসে
- 40:04এই শালবনের ভিতর কিছুদিন ছিল। তার কাছেও
- 40:08প্রতাপ বাবুকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
- 40:12তবে কি জানিস তো যে লোকটা পশুপাখির বিষয়ে
- 40:15একজন এক্সপার্ট। কলকাতা চিড়িয়াখানার
- 40:17সুপারইন্টেন্ডেন্ট একবার ওর সঙ্গে কয়েকটা
- 40:19জন্তু নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন আর কি।
- 40:23এইসব।
- 40:26সেদিন সন্ধেতেই দেখলাম প্রতাপ বাবু ঝাউ
- 40:30বাংলো থেকে বেরিয়ে খরশ্রোতা নদীর দিকে
- 40:32চলে গেলেন। সঙ্গে কুকুরটা নেই। আমরা নদীর
- 40:37ব্রিজে গিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইলাম।
- 40:41রাত হলো কিন্তু প্রতাপ বাবু ফিরলেন না।
- 40:46একটা সময় সুনন্দ উঠলো।
- 40:50চল তো একবার মাঠে যাই। প্রতাপ রুদ্রর
- 40:53খোঁজে।
- 40:56সুনন্দ মহুয়াডাঙ্গার পথে পা চালালো।
- 41:00কিছুটা গিয়েই থমকে দাঁড়ালাম দুজন।
- 41:04জনমানবহীন
- 41:06সেই বিশাল আঁধার মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে
- 41:10কেমন গাছ ছমছম করতে লাগলো।
- 41:13চারদিক নিঝুম।
- 41:15থেকে থেকে কোন রাত জাগা পাখির ক্ষীণ তীঘ্ন
- 41:20ডাক শোনা যাচ্ছে।
- 41:22মাথার উপর অগণিত তারা হীরের কুচির মত
- 41:26ঝিকমিক করছে।
- 41:29আচমকা কতগুলো শিয়াল সমস্বরে চেচিয়ে উঠলো।
- 41:34প্রান্তরে কোথাও আলোর চিহ্ন দেখতে পেলাম
- 41:38না। খানিক পরে সুনন্দকে ঠেলা মেরে বললাম,
- 41:44এই চল চল ফেরি।
- 41:48সুনন্দ কোন কথা না বলে নীরবে ফিরে চলল।
- 41:56বুধন এলো তিনদিন পরে। মহুয়াডাঙ্গায় গতকাল
- 42:01আবার সেই রক্তলোভী নিশাচরের উপদ্রোপ
- 42:04ঘটেছে। এবার আক্রমণ হয়েছে
- 42:09ডেঙ্গা মাঝির উপর।
- 42:12ডেঙ্গা এবার শুয়েছিল ঘরের ভিতর। পাশে ছিল
- 42:15তার বউ। বউই আবিষ্কার করে ডেঙ্গার গলায়
- 42:19একটা কাটা জায়গা থেকে রক্ত ঝরছে। ডেঙ্গা
- 42:23কিন্তু তখন অঘরে ঘুমোচ্ছে।
- 42:26মেঝে রক্ত পড়ে শুকিয়ে গেছে। বেশ অবসন্ন
- 42:30হয়ে পড়েছে ডেঙ্গা। রক্তপাতের চেয়ে
- 42:33ভয়েই কাতর হয়েছে বেশি। বুধল আরো জানালো
- 42:37যে
- 42:39গায়ের লোকে এবারে একেবারে ক্ষেপে উঠছে
- 42:41বাবু। তাদের মতে নিশ্চয়ই বুনর প্রতিশোধ।
- 42:44>> কেন? কারণ ডেঙ্গা ওর নামে মোড়লের কাছে
- 42:47কথা লাগিয়েছিল। গায়ে বুনকে খুন করার লেগে
- 42:50সোলা পরামর্শ চলছে। বাবু আমি শুনছি নিজের
- 42:53কানে শুনছি বুনর আর নিস্তানার নাই বাবু।
- 42:55>> তুই শান্ত হ শান্ত হ। আচ্ছা ঝাও বাংলোর
- 42:59বাবু মহুয়াডাঙ্গায় গিয়েছিল নাকি এর মধ্যে?
- 43:02>> হ গিয়েছিল। তবে গায়ে ঢুকেনি। মাঠে ঘুরছিল
- 43:05পাখি দেখার জন্যে। পাখি ধরার ফাঁত পাচ্ছিল
- 43:08গাছে।
- 43:08>> রাতের বেলা গ্রামের ভিতর কোন বাইরের লোককে
- 43:10দেখা গেছে?
- 43:14তারপর সেদিন সকালেই আমরা দুজন
- 43:16মহুয়াডাঙ্গায় এক রাউন্ড টহল দিয়ে এলাম।
- 43:19বোনর হাবভাব আরো অস্বাভাবিক মনে হলো।
- 43:24দুর্দান্ত লোকটা কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে।
- 43:29আর চোখে কেবল তাকাচ্ছে চারদিকে।
- 43:32ছটফট করছে। বারবার তার দৃষ্টি [মিউজিক]
- 43:34আটকে যাচ্ছে। বারান্দায় চাটাইয়ে শোয়া তার
- 43:39রুগ্ন মেয়ের দিকে। সে মুরগি দিল। পয়সা নিল
- 43:44কিন্তু কথাবার্তা বলল না। ঠিক চলে আসার
- 43:48আগে সুনন্দ তাকে বলল,
- 43:52বুনো তোর মেয়েকে হাসপাতালে দে। ও ভালো হয়ে
- 43:56যাবে।
- 43:57>> কি?
- 43:58>> ও ভালো হয়ে যাবে।
- 44:01>> হবে? ভালো হবে। বলছিস বাবু? আমার মেয়ে
- 44:05ভালো হয়ে যাবে বাবু। হ্যাঁ বাবু। আজ কি
- 44:09আজকে দিয়ে দেবো হাসপাতালে বাবু। তুই ঠিক
- 44:11করে দিবি না? তো ঠিক করে দে বাবু। আমার
- 44:14মেয়েকে এত তাড়াতাড়ি হবে না রে। আমি
- 44:17ডাক্তার বাবুর সঙ্গে কথা বলে তোকে জানাবো।
- 44:21>> ঠিক আছে বাবু।
- 44:24বোনও যেন দমে গেল। মনে হলো মেয়েকে কোন
- 44:29নিরাপদ আশ্রয় সরিয়ে ফেলতে পারলে [মিউজিক]
- 44:31ও নিশ্চিন্ত হয়।
- 44:36মুয়াডাঙ্গা ছেড়ে চলে আসবার সময় সুনন্দ
- 44:39আমায় বলল,
- 44:42অসিত
- 44:44অসিত
- 44:46একটা বিষয় লক্ষ্য করলি
- 44:48বুনো কিন্তু ভয় পেয়েছে হ্যা হয়তো হয়তো
- 44:54মেয়ের জন্যই ওর ভাবনা বেশি কিন্তু লোকটা
- 44:56সত্যি দোষী না নির্দোষ আমি এখনো ঠিক বুঝতে
- 45:00পারছি না রে আমার কি মনে হয় জানিস
- 45:04এই বিষয়ে বুনোর কোন হাত নেই
- 45:08তবে
- 45:14আর কিছু বলল না সুনন্দ। বিকেলের দিকে ওর
- 45:18মামার চেনা এক ডাক্তারের চেম্বারে গেল।
- 45:21>> আচ্ছা শোন অসিত আমার মামার চেনা এক
- 45:23ডাক্তারের সঙ্গে একটু দেখা করে আসি।
- 45:25আমাদের ওই স্টেশনের কাছেই থাকেন।
- 45:28>> ঠিক আছে যা। আমি মুরগিটা বেঁধে রাখবো। তুই
- 45:30ঘুরায়।
- 45:31>> হ্যাঁ। ঠিক আছে।
- 45:34আমি গেলাম না। জমাট এক ডিটেকটিভ বই শুরু
- 45:37করেছি। সুনন্দর ফিরতে রাত আটটা হলো। রাতে
- 45:42খাওয়ার পর বারান্দায় বসে গল্প করতে
- 45:44লাগলাম। শুক্লপক্ষ চলছে। কিন্তু একটা মেঘ
- 45:48জমেছে। তাই চাঁদের আলো তেমন ফোটেনি।
- 45:53কেমন যেন ঘোলাটে ভাব। অনেক দূরে দূরে
- 45:57কয়েকটা বৈদ্যুতিক আলো ঝকম করছে। আকাশে
- 46:00মেঘের ফাঁকে ফাঁকে দু চারটে মিটমিটে তারা।
- 46:04এমন নিস্তব্ধ রাত কলকাতায় টেরই পাওয়া
- 46:07যায় না। আমি বললাম,
- 46:11জানি সুরন্দ মহুয়াডাঙ্গারি রহস্য নিয়ে
- 46:15আমার মাথায় একটা থিওরি এসেছে।
- 46:17>> কি?
- 46:18>> ড্রাকুলা ফিল্মটা দেখেছিস?
- 46:20>> না।
- 46:21>> গল্পটা শুনেছিস?
- 46:23>> হ্যাঁ শুনেছিলাম। কিন্তু
- 46:25>> আমি ড্রাকুলা ফিল্মটা দেখেছি বুঝলি? বইটাও
- 46:28পড়েছি। মনে আছে রোমেনিয়ার এক জমিদার
- 46:31কাউন্ট ড্র্যাকিউলা ছিল ভ্যাম্পায়ার
- 46:34অর্থাৎ মানুষরূপী রক্তশোষক প্রেত
- 46:38সে ঘুমন্ত মানুষের বা মানুষকে সম্মোহন করে
- 46:42তার রক্তশোষে খেত মহরাঙ্গার কেসটা অনেকটা
- 46:46যেন সেই রকমই তো যতসব বাজে সংস্কার
- 46:50তাছাড়া ওসব ড্রাকুলা ফ্রাকুলা ওসব বিদেশী
- 46:53ব্যাপার এদেশে ড্রাকুলার কথা কখনো শোনা
- 46:55যায়নি মনে রাখিস প্রতাপ রুদ্র বহুদিন
- 46:59বিদেশে কাটিয়েছে। ওর ব্যাকগ্রাউন্ড কেউ
- 47:02জানে না। অবশ্যই বুন ভ্যাম্পায়ার হতে
- 47:05পারে।
- 47:07বুঝলাম
- 47:10আশ্চর্যের ব্যাপার হলো আমার ট্র্যাকিউলার
- 47:14আইডিয়াখানা শোনার পর থেকে সুনন্দুর
- 47:17কথাটথা কমে গেল।
- 47:19>> কিছু জিজ্ঞেস করলে হু হ্যাঁ করে দায় সারা
- 47:22গোছের জবাব দেয়।
- 47:24>> অন্যমনস্ক ভাবে মাথার চুল টানছে কেবল।
- 47:26ভাবতে হবে।
- 47:27>> ওর এই লক্ষণ আমি চিনি। সুনন্দর মস্তিষ্কে
- 47:31কোন একটা চিন্তা ঘুরঘুর করছে। বোধহয় আমার
- 47:35কথাটা ওর মনে লেগে গেছে। মনে মনে হাসলাম।
- 47:39কারণ আমি কিন্তু মোটেই সিরিয়াসলি
- 47:41ড্র্যাকুলার কথা ভাবিনি। রহস্য করছিলাম
- 47:44মাত্র।
- 47:46পরদিন সকালে চা এবং কিঞ্চিত টা গলাকরণ
- 47:49করেই সুনন্দ হুট করে কোথায় বেরিয়ে ফিরে
- 47:52এল মিনিট 15 বাদে। জানতে চাইলাম
- 47:56এই কোথায় গিয়েছিলি? ঝাও বাংলোয়। কেন?
- 47:59প্রতাপ বাবুর সঙ্গে দেখা করতে। হলো দেখা?
- 48:03না। দারোয়ান বলল বাবু নাকি খুব ব্যস্ত
- 48:06আছেন এখন দেখা হবে না।
- 48:07>> আরে গেছিলি কি জন্য? ছিল দরকার ছিল।
- 48:12বুঝেছি।
- 48:13>> কি বুঝেছিস? প্রতাপ রুদ্র সত্যি সত্যি
- 48:15ড্র্যাকুলা জাতীয় কোন জীব কিনা এইটা
- 48:17পরীক্ষা করতে গিয়েছিল। তো ঠিক আছে। শোন
- 48:21একটা বুদ্ধি দিচ্ছি। এরপর যেদিন দেখা করতে
- 48:23যাবি প্রতাপ বাবুকে একটা চকলেট বা বিস্কুট
- 48:26অফার করবি। যদি খেয়ে ফেলে তবে আমাদের
- 48:29থিওরি টিকলো না। আর যদি না খায় তাহলে ও
- 48:32নির্ঘাত রক্তচোষা। বুঝলাম?
- 48:34>> কারণ কাউন্ট ড্র্যাকুলা টাটকা রক্ত ছাড়া
- 48:37আর কিচছু খেত না। [সশব্দ হাসি]
- 48:41আমার রসিকতায় সুনন্দ কিন্তু একটুও হাসলো
- 48:44না। গোমরা মুখে বসে রইল। দুপুরে খাবার পর
- 48:49সুনন্দ বলল অসিত
- 48:52একটু টেনে ঘুমিয়ে নে
- 48:57আজ রাতে আর কপালে ঘুম নেই কেন
- 49:01>> কারণ আজ রাতে আমরা প্রতাপ রুদ্রকে ফলো করব
- 49:05>> অর্থাৎ তোর বিশ্বাস প্রতাপ রুদ্রই হচ্ছে
- 49:08মহুয়াডাঙ্গার নিশাচর আততাই লোকটা পিশাচ
- 49:11মানুষের রক্ত চুষে খায় দেখ এই বিজ্ঞানের
- 49:15যুগে এসব ধারণা সফ অচল আরে আমি তখন তামাশা
- 49:18করছিলাম ভাই।
- 49:19>> প্রতাপ রুদ্রর আসল পরিচয় আমি জানিনা।
- 49:23প্রমাণ না পেয়ে আমি কোন সিদ্ধান্তে আসবো
- 49:25না।
- 49:28কিন্তু কিন্তু
- 49:30আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে মহুয়াডাঙ্গার
- 49:32রহস্যের পেছনে ওর হাত আছে। কেন উনি
- 49:35প্রায়ই রাতে গ্রামের দিকে যান বলতো?
- 49:38>> আর যদি আজকে রাতে উনি মহুয়াডাঙ্গার দিকে
- 49:41না যান। ঠিক আছে আজ নয়তো কাল যেদিনই যাবে
- 49:46আমরা প্রতাপ রুদ্রকে ফলো করার জন্য তৈরি
- 49:49থাকবো ব্যাস
- 49:50>> অর্থাৎ এখন থেকে আমাদের রাতের ঘুমের
- 49:52দফারফা তাইতো
- 49:54>> রম করিস না ঘুমিয়ে পড়
- 49:57আমার মেজাজ একদম বিগড়ে গেল [মিউজিক]
- 50:00কিন্তু সুনন্দ যখন জেদ ধরেছে ও যাবে ঠিকই
- 50:05ও যা একরোখার ডানপিটে আমি যেতে না চাইলে ও
- 50:08একাই যাবে অথচ
- 50:11ওকে [মিউজিক] একা ছেড়ে দেওয়াও চলে না।
- 50:14বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। নির্জন নদীতটে
- 50:18কত রকম পাখির কাকুলি।
- 50:21ঝিরঝিরে বাতাসে ঠান্ডা আমেজ। ভারী
- 50:25আরামদায়ক।
- 50:27আমার ও সুনন্দর কিন্তু এসব উপভোগ করার মতন
- 50:30মনের অবস্থা নয়।
- 50:32প্রতাপ রুদ্র কখন আসবেন এই চিন্তা করতে
- 50:36করতে ঝোপের পিছনে লুকিয়ে অস্থিরভাবে
- 50:39অপেক্ষা করছি আমরা। হঠাৎই দেখলাম
- 50:44সেই দীর্ঘ ঋজু দেহ ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে
- 50:48আসছে এই পথে। তার গায়ে কালচে রঙের
- 50:52পাঞ্জাবি ও হালকা হলুদ রঙা পায়জামা।
- 50:56প্রতাপ রুদ্র ব্রিজ [মিউজিক] ছাড়লেন।
- 50:59তারপর খানিক এগিয়ে মাঠে নামলেন।
- 51:02অর্থাৎ আজও তার লক্ষ্যমো হোয়া ডাঙ্গা।
- 51:05[মিউজিক]
- 51:06নজর করলাম প্রতাপ বাবুর কাঁধে ঝুলছে একটা
- 51:10ক্যাম্বিসের ব্যাগ। সুনন্দ চাপা গলায় বলল,
- 51:15[মিউজিক] এগিয়ে যাক এগিয়ে যাক থাক।
- 51:19বেশ দূর থেকে ফলো করবো বুঝলি? না হলে
- 51:22আমাদের দেখে ফেলবে। প্রতাপ রুদ্রর চলমান
- 51:26মূর্তি ক্রমে মাঠের [মিউজিক] মধ্যে দিয়ে
- 51:29দূরে সরে যায়। তারপর ঢালু জমিতে নেমে
- 51:33চোখের বাইরে চলে গেল। [মিউজিক] তখন আমরা
- 51:37ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে পা টিপে টিপে
- 51:39এগোতে লাগলাম। [মিউজিক]
- 51:42কখনো ঢিবি বা পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে উকি
- 51:45মেরে দেখে নিচ্ছি।
- 51:47সূর্য হস্ত যাচ্ছে। সমস্ত পশ্চিম দিগন্ত
- 51:52সিদুর রঙে রাঙা হয়ে উঠলো। অপরূপ সে
- 51:55দৃশ্য।
- 51:57প্রতাপ বাবুকে শেষবারের মতো দেখলাম মাঠের
- 52:00মধ্যে সেই যে [মিউজিক] বিরাট বটগাছটা তার
- 52:03নিচে। তারপর অদৃশ্য হয়ে গেলেন। বেশ
- 52:08খানিক্ষণ অপেক্ষা করলাম। বসে রইলাম পাথরের
- 52:13আড়ালে।
- 52:14আবার দেখলাম প্রতাপ বাবু আবির্ভূত
- 52:17হয়েছেন। গাছের গাছে একটা [মিউজিক] বড়
- 52:21চ্যাটালো পাথর পড়েছিল। বিদির মত দেখতে।
- 52:25প্রতাপ বাবু তার উপর বসলেন। তার পিঠ
- 52:29আমাদের দিকে। কাছের [মিউজিক] দিকে মুখ।
- 52:32স্থিরভাবে বসে আছেন। আমরা আরো একটু কাছে
- 52:36এগিয়ে গেলাম।
- 52:39অবাক হয়ে দেখলাম প্রতাপ বাবু পাথরের উপর
- 52:44শটান চিত হয়ে শুয়ে পড়লেন।
- 52:47চুপচাপ শুয়ে রয়েছেন নিথর হয়ে।
- 52:52[মিউজিক] আমরা আরেকটু এগোলাম।
- 52:54প্রায় 50 হাত দূরে একটা পাথরের স্তুপের
- 52:58পিছনে ঘাপটি মেরে বসে কাজের ফাঁক দিয়ে
- 53:02লক্ষ্য করতে লাগলাম ভ্রতাপুত্রকে।
- 53:06ক্রমে দিনের আলো একেবারে নিভে গেল। একটার
- 53:10পর একটা তারা জ্বলে উঠলো আকাশপটে।
- 53:14ফিকে একটু চাঁদের আলো ফুটলো।
- 53:17আপছা দেখা যাচ্ছে চারপাশ। সামনে বট
- 53:20গাছটাকে যেন ঘোর কালো পাথরে তৈরি একটা
- 53:24পাহাড়ের মত দেখাচ্ছে।
- 53:26তার গায়ে অজস্র জোনাকি পোকার মিটমিটে আলো
- 53:30ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে।
- 53:32বাপাশে দূরে মহুয়াডাঙ্গা গ্রামের
- 53:35গাছপালার সীমারেখা আকাশের গায়ে ফুটে
- 53:39উঠেছে। গ্রামে কোন আলো নেই। আজ আর কোন
- 53:44শব্দই ভেসে আসছে না গ্রামের দিক থেকে। না
- 53:47মাদলের আওয়াজ না কোন মানুষের গলার স্বর না
- 53:51কুকুরের ডাক
- 53:53রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে এক অজানা বিভীষিকায়
- 53:57গোটা গ্রাম যেন বোবা হয়ে গেছে
- 54:01পাথরের উপর নিথর হয়ে শুয়ে থাকা প্রতাপ
- 54:03রুদ্রকে শুধু অস্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি
- 54:08ঠিক একইভাবে তিনি শুয়ে আছেন।
- 54:11কিসের মতলব কে জানে। ভাবলাম বোধহয় রাত
- 54:16আরো গভীর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
- 54:19ঝিনঝির এক ঘেয়ে রব ছাড়া অন্য কোন শব্দ
- 54:23নেই। আমরা দুজনে কাঠের মত বসে থাকি। প্রবল
- 54:28উত্তেজনায় বুকের ভিতরে যেন হাতুড়ির
- 54:31ঘাওয়া পড়ছে। এবার কি ঘটবে? কি হবে এবার?
- 54:37বেশিক্ষণ কাটেনি। হঠাৎ
- 54:40[চিৎকার করা][হাহাকার]
- 54:40এক চিৎকার শুনলাম।
- 54:43মানুষের গলা কিন্তু অদ্ভুত আওয়াজ
- 54:47বুঝি রুদ্ধ আগ্রোশ এবং আর্তনাদ মিশে আছে
- 54:51সেই স্বরে তারপরেই চ্যাচ করে এক অপার্থিব
- 54:56টানার তীঘ্ন শব্দে রাতের নিস্তব্ধতা
- 54:59[মিউজিক]
- 55:00খান খান হয়ে গেল মনে হলো আমাদের উল্টো
- 55:04দিকে প্রতাপ বাবুর কাছ থেকে প্রায় 25 30
- 55:07হাত দূর থেকেই সেই শব্দটা আসছে সঙ্গে
- 55:10সঙ্গে প্রতাপ বাবু তড়াক করে লাফিয়ে উঠে
- 55:14শব্দ লক্ষ্য করে প্রবল বেগে ছুটে গেলেন।
- 55:18সুনন্দ আমার হাত ধরে টানল। এদিকে আয়ু
- 55:23প্রতাপ রুদ্রের হাতের জোড়ালো টর্চ জ্বলে
- 55:25উঠল। সেই আলোতে দেখলাম একটা বড় পাথরের
- 55:29চাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দানবের মত একটা
- 55:33মূর্তি।
- 55:34কেশরের মত ভাপারো চুলের রাশি তার মুখের
- 55:38অনেকটা [মিউজিক] ঢেকে ফেলেছে।
- 55:41ধরাস করে উঠলো হৃদপিন্ড।
- 55:44থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
- 55:47তারপর চিনতে পারলাম তাকে।
- 55:51[হাঁপানো]
- 55:52বুন
- 55:55বুনুর হাতে একটা বলল। বুনো স্থির দৃষ্টিতে
- 55:58তাকিয়ে আছে প্রতাপ বাবুর দিকে। প্রতাপ
- 56:02বাবু মুহূর্তের জন্য থেমেছিলেন।
- 56:05তারপরেই দৌড়ে গিয়ে বুনর সামনে বসে
- 56:08পড়লেন।
- 56:10আমরাও চটকে এগলাম।
- 56:13ঘটনাস্থলে [মিউজিক] পৌঁছে দেখি প্রতাপ
- 56:16বাবু মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছেন। আর
- 56:20তার ডান হাতের মুঠ
- 56:23ছটফট করছে। কি একটা জীব প্রতাপ বাবুর বা
- 56:27হাতের টর্চ তার ডান হাতের উপর আলো ফেলল।
- 56:31আরে ভীষণ আশ্চর্য হয়ে [মিউজিক] বলে
- 56:34উঠলাম। আরে
- 56:37এতো একটা বাদর। আস্তে আস্তে
- 56:41বাদরটা ছোট্ট শিয়ালের মুখের মত দেখতে তার
- 56:45মুখ দুটো চকচকে ট্যাপ ট্যাপের চোখ খাড়া
- 56:48খাড়া কান ঝুনছো কয়েকটা দাঁত মিশ্রভাবে
- 56:52বেরিয়ে আছে প্রতাপ বাবু তার ডানা দুটো
- 56:55চেপে ধরেছে সে ক্রমাগত মুন্ডু ঘুরিয়ে
- 56:58কামড়াবার চেষ্টা করছে
- 57:00আমাদের দেখে বুনো কর্কশ গলায় বলে উঠল
- 57:05[চিৎকার করা]
- 57:06বাদুরটা আমার গায়ে বসেছিল হ্যাঁ ঠিক এমন
- 57:10সময় প্রতাপ বাবুর টর্চের আলো আমাদের মুখে
- 57:13পড়তেই প্রতাপ বাবু চমকে উঠলেন একেবারে
- 57:17দেখি তোমরা এখানে
- 57:19>> হ্যাঁ আমরা আশা করি চিনতে পারছেন তাই না
- 57:22প্রতাপ বাবু একটু অসময়ে দেখা হয়ে গেল এই
- 57:27আরক
- 57:28অসীত
- 57:30এটা কিন্তু সাধারণ বাদুর নয় [চিৎকার করা]
- 57:33ভ্যাম্পায়ার ব্যাট মিস্টার রুদ্র এবার
- 57:36আপনি ভ্যাম্পায়ার ব্যাট সেটা তুমি তুমি
- 57:38জানলে কি করে কে বলেছে
- 57:40>> অনুমান
- 57:42অনুমান মিস্টার রুদ্র অনুমান স্টেফ অনুমান
- 57:49কাল অসিত আমায় ড্র্যাকুলার গল্প শোনালো
- 57:52বলল ড্র্যাকুলার মত [মিউজিক] কোন
- 57:53ভ্যাম্পায়ার নিশ্চয়ই মহুয়াডাঙ্গার লোকের
- 57:56রক্ত শুষে খাচ্ছে
- 57:59অমনি [মিউজিক]
- 58:00একটা সম্ভাবনার উদয় হলো আমার মনে দেখুন
- 58:03ওসব ভুতুরে গল্পে আমি বিশ্বাস করি না
- 58:06কিন্তু একটা [মিউজিক] নতুন নতুন ক্লু
- 58:08মাথায় এলো ভূত প্রেত পিশাচ নয়
- 58:13বাদুর
- 58:15রক্তপাই বাদুর ভ্যাম্পায়ার ব্যাট
- 58:20ভ্যাম্পায়ার ব্যাটের রক্তপানের বর্ণনা আমি
- 58:22একটা বইয়ে পড়েছিলাম [মিউজিক]
- 58:24আর মহুয়াডাঙ্গার ঘটনাগুলোর সঙ্গে তা
- 58:26অদ্ভুতভাবে মিলে গেল ব্যাস তারপর আর
- 58:29কিদুয়ে দুয়ে চার মিস্টার রুদ্র যা এখানে
- 58:34এখানে ভ্যাম্পায়ার ব্যাট আসবে কোত্থেকে
- 58:36ইমপসিবল না ঠিকই তো আসবে না কারণ
- 58:39ভারতবর্ষে ভ্যাম্পায়ার ব্যাট নেই একমাত্র
- 58:42দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাজনের জঙ্গল ছাড়া
- 58:45পৃথিবীর আর কোথাও নেই তবে প্রতাপ বাবু
- 58:48মাত্র দু মাস আগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে
- 58:51কিছু পশুপাখি নিয়ে এসেছেন।
- 58:54অতএব এই প্রাণীটি নিশ্চয়ই তারই আমদানি।
- 58:58কি
- 58:59ঠিক বলিনি মিস্টার রুদ্র? কারেক্ট।
- 59:03তোমার অনুমানের প্রশংসা করি।
- 59:06এর নাম ডেসমোডাস। এক জাতীয় ভ্যাম্পায়ার
- 59:09ব্যাট। আমি সাউথ আমেরিকা থেকে আনিয়েছিলাম
- 59:12এদের ধরণ ধারণ রিসার্চ করতে। এরপর সুনন্দর
- 59:17মুখ থেকে যে কথাগুলো উচ্চারিত হলো তা শুনে
- 59:21আমি হকচকিয়ে গেলাম।
- 59:23>> মিস্টার রুদ্র
- 59:26আপনি কিন্তু ধরা পড়ে গেছেন।
- 59:29এবার আপনার [মিউজিক] নিষ্ঠুর খেলা যে বন্ধ
- 59:31করতে হবে। খেলা নিষ্ঠুর কি বলছো জাতা
- 59:35[মিউজিক] কেন না বোঝার কি আছে অতি সরল
- 59:39বাক্য
- 59:41আপনি আপনার ওই পোষা জীবটিকে রাতের পর রাত
- 59:44মহুয়াডাঙ্গার নিরীহ লোকেদের উপর [মিউজিক]
- 59:47লেলিয়ে দিয়েছেন তার রক্ত পিপাসা মেটাতে
- 59:51খেলাটা নিষ্ঠুর বই কি মিস্টার রুদ্র
- 59:55[সশব্দ হাসি]
- 59:57এবার তোমার অনুমান ফেল করেছে সুনন্দ বাবু
- 1:00:01এ বাদুর আমার পোষ মানেনি। আর আমি একে
- 1:00:04মহুয়াডাঙ্গার মানুষের উপর লেলিয়েও দিইনি।
- 1:00:07>> তাহলে তাহলে আপনি রাতে এখানে আসতেন কেন?
- 1:00:10>> আসতাম এই পলাতক জীবটিকে ধরবার উদ্দেশ্যে।
- 1:00:14একজোড়া ডেসমোটাস এনেছিলাম একটা [মিউজিক]
- 1:00:16মরে গেল। আর একটা খাঁচা থেকে পালা।
- 1:00:19[চিৎকার করা] কয়েকদিন পরেই মহুয়াডাঙ্গার
- 1:00:21ঘটনাটা কানে এল। বুঝলাম ড্যাসমোডাসটা
- 1:00:25তাহলে [মিউজিক] এই গ্রামের কাছেই আস্তানা
- 1:00:27গেড়েছে। জায়গাটা পরীক্ষা করে ধারণা হলো
- 1:00:30এই বট গাছের কোটরেও আশ্রয় নিয়েছে। গাছের
- 1:00:34গায়ে [মিউজিক] জাল খাটালাম। সারারাত জেগে
- 1:00:37থাকতাম গাছের কাছে। যদি ফাঁদে পড়ে এই
- 1:00:40আশায়।
- 1:00:41অন্য বাদুরের মত ভ্যাম্পায়ার ব্যাট
- 1:00:43সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। দিনের
- 1:00:46বেলায় অন্ধকার গুহায় ঘন পাতার ছায়ায়
- 1:00:49কিংবা গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকে। কেবল
- 1:00:52রাতে বেরোয়ে।
- 1:00:54চারদিন আগেই বুঝলাম আমার ধারণা সঠিক।
- 1:00:58কারণ সেদিন সন্ধ্যায় আমি যখন ওই পাথরে
- 1:01:01বসেছিলাম বাদুরটা আমার মাথার উপর দিয়ে
- 1:01:04কয়েকবার পাক খেয়ে উড়ে গেল। বোধহয় আমার
- 1:01:07রক্ত খাওয়ার মতলবে ছিল। [মিউজিক]
- 1:01:10টর্চের আলোয় তাকে চিনতে অসুবিধা হয়নি।
- 1:01:13তারপর থেকে একটা হাতে ছোড়া জাল আনতাম
- 1:01:16সঙ্গে। চুপচাপ পাথরের উপর শুয়ে টোপ
- 1:01:18ফেলতাম। তারপর
- 1:01:21>> [দীর্ঘশ্বাস]
- 1:01:22>> কাল ছুড়েছিলাম জান একটুর জন্য
- 1:01:25[সশব্দ হাসি] ফসকে গেল
- 1:01:27এবার আমার মিস্টেরিয়াস মুভমেন্টের কারণটা
- 1:01:30ক্লিয়ার
- 1:01:32থ্যাংক গড স্পেসিমেন্টটাকে জীবন্ত ধরতে
- 1:01:35পেরেছি শুধু একটা [মিউজিক] ডানা জখম
- 1:01:38হয়েছে এই লোকটা কিছু দিয়ে মেরেছে বোধহয়
- 1:01:44প্রতাপ বাবু পকেট থেকে একটা ছোট জালের থলি
- 1:01:47বের করে বাদুরটাকে তার মধ্যে পুড়ে বন্দি
- 1:01:50করে ফেললেন। আর থলির মুখ চেন টেনে বন্ধ
- 1:01:54করে দিলেন। সরি প্রতাপ বাবু
- 1:01:58সরি। কিন্তু এই বাদুরের কথা মহুয়াডাঙ্গার
- 1:02:03লোকেদের বলেননি কেন? ওরা কি ভীষণ আতঙ্কের
- 1:02:06মধ্যে আছে আপনি জানেন?
- 1:02:07>> জানাইনি ভয়। ভয়?
- 1:02:09>> জানলে ওরা হয়তো ক্ষেপে গিয়ে হাঙ্গামা
- 1:02:11বাধাতো। তার চেয়ে ভয় ছিল ওরা বাঘে পেলে
- 1:02:15আমার দুর্লভ স্পেসিমেন্টটাকেও মেরে ফেলবে।
- 1:02:19দিনের বেলায় এই বিরাট বটগাছের অবগন্তি
- 1:02:21কোটোর হাতড়ে বাদুরটা ধরা অসম্ভব ছিল।
- 1:02:25বিষধর সাপ থাকতে পারে। তবে গ্রামের লোক
- 1:02:28বাদুরকে মারতে চাইলে [মিউজিক]
- 1:02:30কোটরের বাইরে থেকে ফুটন্ত গরম জল ঢেলে
- 1:02:33দিলেই খতম। তাই চেষ্টায় ছিলাম আমি নিজেই।
- 1:02:38ও যখন রাতে বেরোবে তখন যদি ধরতে পারি সেই
- 1:02:42ভেবে প্রতাবাবু আপনার ওই মহামূল্যবান
- 1:02:45স্পেসিমেন্টির জন্য গ্রামের একজন লোক
- 1:02:48প্রাণ হারাতে বসেছে। আপনি কি সেই খবর
- 1:02:50রাখেন?
- 1:02:51>> সে কি? কে? কেন? হ্যাঁ। ওই যে বোনকে
- 1:02:56দেখছেন ওর বিপদ।
- 1:02:59গ্রামের লোকের সন্দেহ যে ওই দান হয়ে
- 1:03:01রাত্রিরে মানুষের রক্ত শুষে খাচ্ছে। ওকে
- 1:03:04খুন করার প্ল্যান করছে। বুনো এতক্ষণ
- 1:03:07স্থিরভাবে দাঁড়িয়েছিল। উদগ্রীব হয়ে আমাদের
- 1:03:10উত্তেজিত কথাবার্তার মর্ম গ্রহণের চেষ্টা
- 1:03:13করছিল। এবার সে বলে উঠলো বাদুরটা আমার
- 1:03:16গায়ে বসেছিল এক ঝাপড়ার দিলাম আচ্ছা বুনু
- 1:03:20তুমি এখানে কি করছিলে
- 1:03:23আমি পাহারা দিচ্ছিলাম সেই রক্ত খেকো
- 1:03:27দানটাকে ধরবো বলে দেখলাম তোরা তিনজনা
- 1:03:31মাঠের মধ্যে ঘুরছিস তাই লুকিয়ে নজর
- 1:03:35রাখছিলাম ওই পাথরের পিছনে শুয়ে বুনু তুই
- 1:03:40দানোটাকে ধরে ফেলেছিস আসলে দান পিশা নয়
- 1:03:44তাহলে
- 1:03:45>> এই বাদুরটাই আসামী ওই ঘুমন্ত লোকের
- 1:03:47রক্তশুসে খায় বাদুর রক্ত খায় দেশী বাদুর
- 1:03:52খায় না রে এরা বিদেশী বাদুর ফল পাখড় এসব
- 1:03:57খায় না এরা শুধু রক্ত খায়
- 1:04:01মানুষ বা পশুপাখির তাজা রক্ত মানুষের
- 1:04:05চামড়া নরম তাই এরা মানুষের গায়ে দাঁত
- 1:04:08ফোটাতে বেশি পছন্দ করে
- 1:04:12বুন বিষভারিত তু নেত্রে কয়েক মুহূর্ত
- 1:04:15দেখলেও বন্দি বাদুরটাকে
- 1:04:18তার সমস্ত শরীর ফুলে [মিউজিক] ফুলে উঠলো
- 1:04:21বিকৃত মুখে উন্নতের মত চিৎকার করে উঠলো
- 1:04:24বুনো ওটা বাদর নয় ওটা শয়তান ওটা শয়তান
- 1:04:28ওটাকে আমি মেরে ফেলবো
- 1:04:31>> হাতের বলম ফেলে দিয়ে বুনো এক লাফে প্রতাপ
- 1:04:34বাবুর দিকে এগিয়ে গেল প্রতাপ বাবুর ডান
- 1:04:36হাতে বন্দি বাদ তিনি বা হাতে বুনোকে
- 1:04:39ঠেকালে
- 1:04:41আমি আর সুনন্দ তষণ আর চাপতে ধরলাম। উফ কি
- 1:04:46প্রচন্ড জোর লোকটার গায়ে। ঝটকা দিয়ে
- 1:04:49আমাদের দুজনকে প্রায় ছাড়িয়ে ফেলে সে
- 1:04:52বারবার প্রতাপ বাবুর হাত থেকে বাদুরটা
- 1:04:55ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করতে লাগল।
- 1:04:57আমরা দুজন না আটকালে ও নির্ঘাত বাদুরটা
- 1:05:00কেড়ে নিয়ে মেরে ফেলত। ধাক্কা খেয়ে প্রতাপ
- 1:05:04বাবুর হাত থেকে টর্চ খসে পড়ে গেল। আমি
- 1:05:06তাড়াতাড়ি কুড়িয়ে নিলাম টর্চটা। গলা দিয়ে
- 1:05:09গোঙানির মত আওয়াজ বের হয়েছে। অনেক দিনের
- 1:05:12জমা হওয়ার সংজ্ঞা ও ক্ষোভ যেন ক্রোধের
- 1:05:15রূপ নিয়ে ফেটে পড়তে চাইছে। আমরা প্রাণ
- 1:05:18পরে বোঝাই তবু কোনর রাগ পড়ে না। সে কেবলই
- 1:05:23ফুসছে একটা ধস্তাধস্তা চলতে থাকে। সুনন্দ
- 1:05:27মাঠ হাত বলে ওঠে বুনো শোন বুনো এরকম করিস
- 1:05:30না। বুনো বুড়ো বুড়ো ডাক্তার বাবু বলেছেন
- 1:05:34তোর মেয়ের চিকিৎসা করবেন। তোর মেয়েকে
- 1:05:37তোর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেবেন।
- 1:05:39আমি কথা বলেছি।
- 1:05:41ডাক্তার বাবু বলেছে ডাক্তার বাবু বলেছে
- 1:05:44আমার মেয়ে ভালো হয়ে যাবে যাবে বই কি
- 1:05:48নিশ্চয়ই ভালো হয়ে যাবে
- 1:05:50>> আমার মেয়ে ভালো হয়ে যাবে না ভালো হবে তো
- 1:05:55ডাক্তার বাবু ভুলেছে ডাক্তার বাবু ভুলেছে
- 1:05:58আমার মেয়ে ভালো হয়ে যাবে
- 1:06:00>> কার অসুখ বুনোর মেয়ের মেয়েটির একটা পা
- 1:06:04আঘাত লেগে ঘোড়া হয়ে গেছে আমি দেখেছি
- 1:06:06মেয়েটিকে স্যাড কেস আমার মামার বন্ধু
- 1:06:10ডাক্তার চ্যাটার্জি বলেছেন মেয়েটি
- 1:06:12ট্রিটমেন্ট করবেন। তবে [দীর্ঘশ্বাস] তবে
- 1:06:16হাসপাতালে রাখতে হবে তার খরচ আছে।
- 1:06:20দেখি কি ব্যবস্থা করা যায়। বুনোর মেয়ের
- 1:06:23চিকিৎসার সব খরচ আমি দেব।
- 1:06:25>> দেবেন। [মিউজিক]
- 1:06:25>> এ আমার ঋণশোধ।
- 1:06:27তুমি বুনোকে বলে দাও।
- 1:06:29>> কিরে বুনো? বুনো শুনলি? শুনলি বাবু কি
- 1:06:33বললেন?
- 1:06:35[মিউজিক] বুনো প্রতাপ বাবুর দিকে তাকিয়ে
- 1:06:37রইল কিছুক্ষণ। এরপর সে জ্বলন্ত চোখে ভালো
- 1:06:42করে দেখতে লাগলো জালেবদ্ধ বাদুরটাকে।
- 1:06:45বিড়বিড় করে কি যেন বকতে লাগল নিজের মনে।
- 1:06:49বোঝা গেল ওই বাদুড়ের [মিউজিক] উপর তার রাগ
- 1:06:53ও বিদ্বেষ কিছুমাত্র কমেনি।
- 1:06:56বাদুড়ের মালিক সম্বন্ধেও তার মন রীতিমত
- 1:07:00সন্দিগ্ধ। আমি বললাম
- 1:07:03পুরো শোনো এই রক্তচোষা বাদুড়ের কথা তুমি
- 1:07:07গ্রামের কাউকে বলো না বরং গ্রামের লোকজনকে
- 1:07:10জানিয়ে দাও যে তুমি মন্ত্রের জোরে ওই
- 1:07:13দানটাকে তাড়িয়ে দিয়েছো
- 1:07:15তোমার খুব খাতির হবে গ্রামে বুঝলে
- 1:07:19বুনো তার ঝাঙ্কড়া চুল মাথাখানা ঝাকালো
- 1:07:24অর্থাৎ আমার পরামর্শ তার মনে ধরেছে
- 1:07:28সে একবার ঘাড় বেকিয়ে তার গ্রামের দিকে
- 1:07:32তাকালো। তারপর বলে উঠলো, যাই আমি মেয়েটাই
- 1:07:37কার রইছে। যাই
- 1:07:41[হাঁপানো][হাঁফ]
- 1:07:44মাটি থেকে বল্লমটা কুড়িয়ে নিয়ে বুনো হঠাৎ
- 1:07:47দৌড় হতে শুরু করল। লান যোচনা লোকে
- 1:07:51উন্মুক্ত প্রান্তরের বুক ছুয়ে বুনোর
- 1:07:55সুদীর্ঘ ছায়া মূর্তি যেন উড়ে চলল।
- 1:08:00ক্রমে সে হারিয়ে গেল দূর অন্ধকারে।
- 1:08:04[চিৎকার করা]
- 1:08:07একটা বিশ্রি চিড়া আওয়াজে আমাদের চমক
- 1:08:10ভাঙলো।
- 1:08:12মহুয়াডাঙ্গার রক্তচোষা
- 1:08:15তার বন্দি দশার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ
- 1:08:19জানাচ্ছে।
- 1:08:25সানডে সাসপেন্সে আজ শুনলেন অজেও রায়ের
- 1:08:28লেখা রক্তচোষা।
- 1:08:30অজয় রায়ের জন্ম 1935 সালে [মিউজিক] এবং
- 1:08:34তার মৃত্যু হয় 2008 সালে। বাংলা
- 1:08:37গোয়েন্দা ও রহস্য সাহিত্যের জগতে অন্যতম
- 1:08:40জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি মূলত কাল্পনিক
- 1:08:42গোয়েন্দা চরিত্র দীপাঞ্জনের স্রষ্টা
- 1:08:44হিসেবেই পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
- 1:08:48রোমাঞ্চকর [মিউজিক] প্লট ও সাবলীল বর্ণনার
- 1:08:51জন্য তার লেখা ছোটগল্প উপন্যাস আজও
- 1:08:54রহস্যপ্রেমীদের সমানভাবে আকর্ষণ করে। তার
- 1:08:58লেখা সন্দেশ আনন্দমেলা ও সুখতারার মত
- 1:09:01পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হতো।অজনের
- 1:09:05গহনে ফেরোমন [মিউজিক] এডভেঞ্চারস সমগ্র
- 1:09:08তার অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি। টানটান
- 1:09:11উত্তেজনা ও বৈজ্ঞানিক উপাদানের মেল বন্ধনে
- 1:09:14বাংলার শিশু এবং কিশোর সাহিত্যকে তিনি
- 1:09:16সমৃদ্ধ করেছেন।
- 1:09:19আজকের গল্পপাঠে এবং অসীতের চরিত্রে ঋতপ্রত
- 1:09:22মুখার্জী প্রতাপ রুদ্র শিখর সুনন্দ মিরচি
- 1:09:27[মিউজিক] সায়ন বুধন সৌমেন চক্রবর্তী বুনো
- 1:09:31সতুদ্র মন্ডল অন্যান্য চরিত্রে সঙ্গীতা
- 1:09:35গাঙ্গুলী সায়ন্তন হালদার সুশান্ত
- 1:09:38ব্যানার্জী আরজুজানা
- 1:09:40নাট্যরূপ পরিচালনা শাউলী মজুমদার
- 1:09:43শব্দগ্রহণ আবহ ও ধনি প্রক্ষেপণ সত্যজিত
- 1:09:47সেন শব্দমিশ্রণ
- 1:09:48>> [মিউজিক]
- 1:09:49>> সব্যসাচী মুখার্জী প্রচার অলংকরণ অভিব্রত
- 1:09:52সরকার প্রযোজনায় প্যাস্টেল
- 1:09:54এন্টারটেইনমেন্ট গল্পের সূত্রধার এবং
- 1:09:57সমগ্র পরিকল্পনায় ইন্দ্রানী সানডে
- 1:10:00সাসপেন্স আপনি [মিউজিক] শুনতে পারেন
- 1:10:02আমাদের ইউটিউব চ্যানেল.comমির
- 1:10:04বাংলা এবং গান অপে
About this transcript
This page contains the full transcript of Sunday Suspense | Raktochosa | রক্তচোষা | Ajeyo Ray | Mirchi Bangla Audio Story by Mirchi Bangla, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 7,227 words across 1,293 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.