Sunday Suspense - Monihara | মণিহারা | Rabindranath Tagore | Mirchi Bangla Horror & Mystery — Transcript
Full transcript
- 0:09সানডে সাসপেন্স
- 0:12শুধুমাত্র রেডিও মিজি 98.3 এফএস
- 0:16হট
- 0:23বাংলা সাহিত্যের রোমাঞ্চকর কিছু গল্প
- 0:25দিয়ে সাজানো আমাদের এই বিশেষ নিবেদন
- 0:29সানডে সাসপেন্স
- 0:31চলছে কবিপক্ষ সেই উপলক্ষে সানডে সাসপেন্সে
- 0:36আমাদের নিবেদন গল্পগুচ্ছের একটি গল্পের
- 0:39বেতার রূপ মনিহারা
- 0:43বাংলা ছোট গল্পের জন্ম রবীন্দ্রনাথের হাত
- 0:46দিয়ে তার রচিত ছোট গল্পের সঙ্গে বিশ্ব
- 0:49সাহিত্যে এডগারঅলন পো আন্তন চেকফ বা
- 0:52গায়েদে মপাসার মত লেখকদের রচনার তুলনা
- 0:56করা হয় গল্পটি কবিগুরু লেখেন অগ্রহায়ন
- 1:001305 বঙ্গাব্দে অর্থাৎ 1898 খ্রিস্টাব্দে
- 1:05মনিহারা 1961 সালে নির্মিত সত্যজিত রায়ের
- 1:09তিন কন্যার এক কন্যা
- 1:12রেডিওমিচির সব শ্রোতাদের এর কথা চিন্তা
- 1:15করে লেখার ভাষাটিকে আমরা কিছুটা সহজ ও
- 1:18চলিত করে নিয়েছি। প্রধান চরিত্রে স্কুল
- 1:22মাস্টার ফনিভূষণ মধুসূদন এবং মনি মালিকা
- 1:28গল্প পাঠে মীর মনি মালিকার চরিত্রে
- 1:32ইন্দ্রানী। গল্পের সূত্রধার দীপ
- 1:37শুরু হচ্ছে মনিহারা।
- 1:52সেই ভাঙ্গাচোড়া বাঁধাঘাটের ধারে আমার বোট
- 1:56লাগানো ছিল।
- 1:58তখন সূর্য অস্ত গেছে।
- 2:01বোটের ছাদের উপরে মাঝি নামাজ পড়ছে।
- 2:05স্থির রেখাহীন নদীর জলের উপর একের পর এক
- 2:11রঙের খেলা চলছে।
- 2:14জানলা ভাঙ্গা বারান্দা ঝুলে পড়া মস্ত
- 2:17বাড়িটার সামনে ঘাটের উপর আমি একা বসে।
- 2:22এমন সময় হঠাৎ মাথা থেকে পা পর্যন্ত চমকে
- 2:27উঠে শুনলাম
- 2:29মজায়ের কোত থেকে আসা হচ্ছে
- 2:32দেখলাম ভদ্রলোকটি অত্যন্ত রোগা তেলচিটে
- 2:36ময়লা পোশাক পরিহিত যেন কর্মক্ষেত্র থেকে
- 2:40কিছুক্ষণ আগেই ফিরেছেন
- 2:43এবং যে সময় জল খাবার খাওয়া উচিত সে সময়
- 2:47হতভাগা নদীতীরে সন্ধ্যের হাওয়া খেতে
- 2:50এসেছেন।
- 2:52অপরিচিত ভদ্রলোকটি পাশের সিঁড়িতে এসে
- 2:55বসলেন। আমি বললাম,
- 2:58আমি রাঁচি থেকে আসছি।
- 3:01ও কি করায়?
- 3:04ব্যবসা করি। কিসের ব্যবসা?
- 3:08হরতুকি
- 3:09রেশমের গুটি আর ও কাঠের ব্যবসা।
- 3:13কি নাম?
- 3:16একটু থেমে যে নামটা বললাম সেটা আমার নিজের
- 3:20নাম নয়।
- 3:22ভদ্রলোকের কৌতুহল মিটলো না। আবার প্রশ্ন
- 3:26করলেন, এখানে কি করতে আসা হয়েছে?
- 3:30আমি বললাম
- 3:32বায়ু পরিবর্তন।
- 3:35লোকটি একটু আশ্চর্য হয়ে জানালেন প্রায় ছ
- 3:39বছর এখানে থেকেও এখানকার বায়ু এবং ওষুধ
- 3:44তার শরীরে লাগেনি।
- 3:47তিনি বললেন,
- 3:48এখানে কোথায় থাকবেন?
- 3:51আমি ঘাটের উপরের পুরনো বাড়িটা দেখিয়ে
- 3:54বললাম,
- 3:55এই বাড়িতে।
- 3:58বোধহয় লোকটির মনে সন্দেহ হলো আমি এই পুরো
- 4:01বাড়িতে কোন গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছি।
- 4:04কিন্তু সে নিয়ে কোন তর্কে গেলাম না। কেবল
- 4:08আজ থেকে 15 বছর আগে এই অভিশাপগ্রস্ত
- 4:12বাড়িতে যে ঘটনাটা ঘটেছিল তারই বিস্তারিত
- 4:15বর্ণনা দিলেন।
- 4:18জানলাম লোকটি এখানকার স্কুল মাস্টার।
- 4:23মাঝি নামাজ পড়া শেষ করে রান্নার কাজে হাত
- 4:26দিয়েছে।
- 4:27সন্ধ্যের শেষ আভাটুকু মিলিয়ে গিয়ে ঘাটের
- 4:32ওপরের জনশূন্য অন্ধকার বাড়িটা প্রকান্ড
- 4:36প্রেত মূর্তির মত চুপি সারে দাঁড়িয়ে
- 4:40স্কুল মাস্টার বললেন
- 4:42আমি এই গ্রামে আসার প্রায় 10 বছর আগে এই
- 4:46বাড়িতে ফনিভূষণ সাহা থাকতেন
- 4:50তিনি তার পুত্র সন্তানহীন পিতৃব্য
- 4:52দুর্গামোহন সাহার সমস্ত সম্পত্তি ও
- 4:56ব্যবসার উত্তরাধিকারী হন।
- 4:59কিন্তু তাকে একালে ধরেছিল।
- 5:03তিনি লেখাপড়া শিখেছিলেন।
- 5:06তিনি জুতো পড়ে সাহেবের আপিশে ঢুকে খাঁটি
- 5:09ইংরেজি কথা বলতেন।
- 5:11তার উপর আবার দাড়ি রেখেছিলেন। সুতরাং
- 5:15সাহেব সওদাগরের কাছে তার উন্নতির কোন
- 5:18সম্ভাবনাই ছিল না। আবার ঘরের মধ্যেও এক
- 5:22উপসর্গ জুটেছিল। তার স্ত্রীটি ছিলেন
- 5:27সুন্দরী। একে কলেজে পড়া তার উপর সুন্দরী
- 5:31স্ত্রী। সুতরাং সে কালের চালচলনা থাকলো
- 5:37না।
- 5:39মশাই নিশ্চয়ই বিবাহিত।
- 5:41অতএব এ কথা আপনাকে বলাই বাহুল্য যে
- 5:45সাধারণত স্ত্রী জাতি কাঁচা আম ঝাল লঙ্কা
- 5:51এবং কড়া স্বামী ভালোবাসে।
- 5:56যে দুর্ভাগা পুরুষ নিজের স্ত্রীর ভালোবাসা
- 5:59পায় না সে যে কুশ্রী অথবা দরিদ্র তা নয়
- 6:05সে নিতান্ত নিরীহ।
- 6:09স্ত্রীলোক পুরুষকে ভুলিয়ে নিজের শক্তিতে
- 6:13ভালোবাসা আদায় করে নিতে চায়। স্বামী যদি
- 6:17ভালো মানুষ হয়ে সে সুযোগটুকু না দেয় তবে
- 6:21স্বামীর ভাগ্য মন্দ এবং স্ত্রী তার চেয়েও
- 6:25বেশি।
- 6:27অভাগা ফনিভূষণ আধুনিক হলেও অত্যন্ত ভালো
- 6:32মানুষ ছিলেন। ব্যবসায় ও সংসারে। তাই কোন
- 6:38সুবিধা করে উঠতে পারেননি।
- 6:41বনিভূষণের স্ত্রী মনি মালিকা বিনা
- 6:45চেষ্টায় ভালোবাসা ঢাকায় শাড়ি বাজু বন্ধ
- 6:49পেয়ে যেত। তাই তার ভালোবাসা নিশ্চেষ্ট
- 6:53হয়ে গিয়েছিল।
- 6:55সে কেবল নিত।
- 6:57দিত না কিছুই।
- 6:59তার স্বামীও মনে করতো দান করলেই বুঝি
- 7:03প্রতিদান পাওয়া যায়। একেবারেই উল্টো
- 7:07বুঝেছিল
- 7:10মনি মালিকা ফনিভূষণকে
- 7:13শাড়ি গয়না দেওয়ার একটা যন্ত্র ছাড়া আর
- 7:17কিছুই ভাবতো না।
- 7:19ফনিভূষণের জন্মস্থান ফুলবেড়ে।
- 7:23ব্যবসার জন্য এখানে থাকতেন।
- 7:26ফুলবেড়ের বাড়িতে তার পিশি মাসি আর
- 7:29অন্যান্য পাঁচজনের সঙ্গে স্ত্রীকে না রেখে
- 7:33নিজের কাছেই রেখেছিল।
- 7:36স্ত্রীটি বেশি কথাবার্তা বলতো না। কারো
- 7:40সঙ্গে মেলামেশাও করতো না। পুজো ব্রত
- 7:44উপলক্ষে কারোকে কোন কিছু দানও করতো না।
- 7:48স্বামীর থেকে পাওয়া সবকিছুই সে জমিয়ে
- 7:51রাখতো। একমাত্র ভালোবাসা ছাড়া
- 7:56ঈশ্বর তাকে সন্তান সুখ থেকে বঞ্চিত
- 7:59করেছিলেন।
- 8:01তার কাছে এমন কিছু ছিল না যাকে সে নিজের
- 8:05লোহার সিন্দুকের মনিমাণিক্যের থেকে বেশি
- 8:08ভালোবাসতে পারে।
- 8:11কিন্তু মনি মালিকা কাজে কর্মে ছিল মজবুত।
- 8:15সে কারোর জন্য চিন্তা করতো না। কারোকে
- 8:18ভালোবাসতো না। কেবল কাজ করতো আর জমা করতো।
- 8:23এইজন্য তার রোগ শোখ তাপ কিছুই ছিল না।
- 8:30অপরিমিত স্বাস্থ্য, অবিচলিত শান্তি এবং
- 8:34সঞ্চিত সম্পদের মধ্যে সে সব বিরাজ করত।
- 8:40যদিও রান্নায় নুন কম হতো না বা পানের চুনও
- 8:45বেশি হতো না তবুও ফনিভূষণের হৃদয়ে কিসের
- 8:50যেন একটা অভাব বোধ হতো
- 8:53স্ত্রীর কোন দোষ ছিল না তবু স্বামীর কোন
- 8:57সুখ ছিল না তাই সে স্ত্রীকে কেবলই হিরে
- 9:01মুক্তর গয়না দিত যা জমা হতো ওই লোহা
- 9:05সিন্দুকে
- 9:07কিন্তু স্ত্রীর হৃদয় য় ওটা শূন্যই থাকতো।
- 9:15ঠিক এমন সময় আশেপাশের কোন এক ঝোপের থেকে
- 9:18শিয়ালরা চিৎকার করে উঠলো।
- 9:21মাস্টার মশাইয়ের গল্পস্রোতে
- 9:24মিনিট কয়েকের জন্য বাধা পড়ল।
- 9:27ঠিক মনে হলো শেয়ালরা বুঝি মাস্টার মশাইয়ের
- 9:31গল্প শুনে অট্টহাসি করে উঠলো।
- 9:35তারা থামবার পর মাস্টার তার বড় বড় চোখ
- 9:39পাকিয়ে আবার গল্প বলতে লাগলেন।
- 9:44ফনিভূষণের ব্যবসায় হঠাৎ এক ভাড়া এলো।
- 9:49হঠাৎ কি এক কারণে বাজারে তার ক্রেডিট ধরে
- 9:53রাখা কঠিন হলো। যদি কেবলমাত্র পাঁচটা
- 9:56দিনের জন্য সে কোথাও থেকে লাখ দেড়ে টাকা
- 10:00বার করতে পারে। বাজারে একবার বিদ্যুতের মত
- 10:04এই টাকাটার চেহারা দেখানো যায় তাহলে
- 10:08মুহূর্তের মধ্যে সেই ভাড়া কাটতে পারে।
- 10:12টাকাটা জোগাড় করা যাচ্ছিল না। স্থানীয়
- 10:15পরিচিত মহাজনদের কাছে ধার করলে ব্যবসায়
- 10:19ক্ষতির আশঙ্কা করে ফনিভূষণ।
- 10:22আবার অন্য কোথাও ঋণ করলে উপযুক্ত কিছু
- 10:25বন্ধক না রাখলে চলে না। কিন্তু গয়না
- 10:30বন্ধক রাখলে ঋণ অত্যন্ত সহজেই পাওয়া
- 10:34যায়।
- 10:36ফনিভূষণ একবার স্ত্রীর কাছে গেল। নিজের
- 10:39স্ত্রীর কাছে স্বামী যেমন সহজভাবে যেতে
- 10:42পারে ফনিভূষণের তেমন করে যাবার ক্ষমতা
- 10:46কিন্তু ছিল না। সে স্ত্রীকে অতি কষ্টে তার
- 10:50ব্যবসার কথা বললেও স্পষ্ট করে বলতে পারলো
- 10:55না। ওগো আমার দরকার হয়েছে তোমার
- 10:58গয়নাগুলো দাও।
- 11:01[মিউজিক]
- 11:02কথাটা বলল খুব দুর্বলভাবে।
- 11:06মনি মালিকা যখন হ্যাঁ না কিছুই উত্তর দিল
- 11:09না তখন সে একটা অত্যন্ত নিষ্ঠুর আঘাত পেল।
- 11:15কিন্তু আঘাত করলো না।
- 11:19কারণ পুরুষচিত বরবরতা
- 11:23তার মধ্যে ছিল না। যেখানে জোর করে কেড়ে
- 11:27নেওয়া উচিত ছিল সেখানে সে নিজের মনের
- 11:30দুঃখ চেপে গেল।
- 11:34যাই হোক স্ত্রীর গয়না স্পর্শ না করে
- 11:38ফনিভূষণ অন্য উপায়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য
- 11:41কলকাতায় চলে গেল।
- 11:44সংসারে সাধারণত স্ত্রীকে স্বামী যতটা চেনে
- 11:49স্ত্রী স্বামীকে তার চেয়ে অনেক বেশি
- 11:52চেনে। কিন্তু ফনিভূষণকে তার স্ত্রী ঠিক
- 11:57বুঝতো না। সুতরাং মনি মালিকা পরামর্শের
- 12:02জন্য তার মন্ত্রীকে ডাকলো।
- 12:07গ্রাম সম্পর্কে অথবা দুঃসম্পর্কে
- 12:09মনিমালিকার এক ভাই মধুসুদন
- 12:14ফনিভূষণের পুঠিতে গোমস্তার অধীনে কাজ
- 12:18করতো। তার এমন স্বভাব ছিল না যে কাজের
- 12:22দ্বারা উন্নতি লাভ করবে। আত্মীয়তার জোরে
- 12:26বেতন এবং বেতনেরও বেশি কিছু আদায় করে
- 12:28নিত।
- 12:31মনি মালিকা তাকে ডেকে সব কথা বলল এবং কি
- 12:35করবে সে বিষয়ে পরামর্শ চাইল।
- 12:39সে অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মত মাথা নেড়ে
- 12:41বলল,
- 12:43বাবু কখনোই টাকা জোগাড় করতে পারবেন না।
- 12:47শেষে তোমার এই গয়নাতেই টান পড়বে।
- 12:52মনি মালিকার দুশ্চিন্তা বেড়ে গেল। সংসারে
- 12:56তার সন্তান নেই। স্বামী থাকলেও তার
- 12:59অস্তিত্ব সে অন্তরে অনুভব করে না। তার
- 13:03একমাত্র যত্নের ধন তার সর্বাঙ্গের গয়না।
- 13:08[মিউজিক]
- 13:10সেই অনেক দিনের অনেক স্বাধের বস্তু
- 13:14এক মুহূর্তেই ব্যবসায় লেগে যাবে। একথা
- 13:18কল্পনা করে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে
- 13:22বলল,
- 13:23কি করা যায়?
- 13:24মধুসূদন বলল, গয়নাগুলো নিয়ে এইবেলা
- 13:28বাপের বাড়ি চলো।
- 13:31গয়নার কিছু অংশে এমনকি বেশিরভাগটাই তার
- 13:36ভাগে যাতে আসে বুদ্ধিমান মধু তার উপায়
- 13:40বার করে রাখলো মনে মনে।
- 13:43মনি মালিকা এ প্রস্তাবে সঙ্গে সঙ্গেই রাজি
- 13:48হয়ে গেল।
- 13:50আসর শেষের সন্ধেবেলায়
- 13:53এই ঘাটের ধারে একটা নৌকও এসে লাগলো।
- 13:57মেঘাচ্ছন্ন অন্ধকারে ভোরবেলা একটা মোটা
- 14:01চাদরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে মনি
- 14:06মালিকা নৌকায় উঠলো।
- 14:08মধুসুদন নৌকার ভেতর থেকে বলে উঠলো, গয়নার
- 14:13বাক্সটা আমাকে দাও। মনি বলল,
- 14:16সে পরে হবে। এখন নৌকা খুলে দাও।
- 14:21নৌকা খুলে দেওয়ার পর খরস্রোতে হুহু করে
- 14:25ভেসে গেল সেই নৌকা।
- 14:29মনি মালিকা সমস্ত রাত ধরে একটা একটা করে
- 14:34তার সমস্ত গয়না পড়েছে।
- 14:37মাথা থেকে পা পর্যন্ত কোন জায়গা বাদ ছিল
- 14:41না।
- 14:43বাক্সে গয়না নিলে সে বাক্স হারিয়ে যেতে
- 14:46পারে বলে সে আশঙ্কা করেছিল।
- 14:49কিন্তু গায়ে পড়ে নিলে তাকে না মেরে ফেললে
- 14:54সেই গয়না কেউ নিতে পারবে না।
- 14:59সঙ্গে কোন প্রকার বাক্স না দেখে মধুসুদন
- 15:03কিচ্ছু বুঝতে পারলো না। মোটা চাদরের নিচে
- 15:08যে মনি মালিকার দেহপ্রাণের সঙ্গে সঙ্গে
- 15:11গয়নাগুলি ঢাকা ছিল তা সে অনুমান করতে
- 15:15পারেনি।
- 15:17মনি মালিকা পনিভূষণকে বুঝতো না বটে
- 15:21কিন্তু মধুসুদনকে চিনতে তার বাকি ছিল না।
- 15:27মধুসূদন গোমস্তার কাছে একটা চিঠি রেখে গেল
- 15:31যে সে কর্তৃকে বাপের বাড়ি পৌঁছে দিতে
- 15:34রওনা হয়েছে।
- 15:37গোমস্তা ফনিভূষণের বাপের আমলের। সে
- 15:41অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে মনিবকে এক চিঠি লিখল।
- 15:46যার মূল বক্তব্য হলো স্ত্রীকে অযথা
- 15:50প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
- 15:53[মিউজিক]
- 15:55বনিভূষণ মনি মালিকার মনের কথাটা ঠিক
- 15:58বুঝলো।
- 15:59তার মনে আঘাত লাগলো। সে ভাবল,
- 16:04আমি ভীষণ রকম ক্ষতির সম্ভাবনা সত্ত্বেও
- 16:08স্ত্রীর অলংকার ছেড়ে প্রাণপন চেষ্টায় টাকা
- 16:12রোজগারের চেষ্টা করছি। তবু আমাকে সন্দেহ
- 16:17আমাকে আজও চিনলো না।
- 16:20[মিউজিক]
- 16:22বনিভূষণ অপরাধীনী স্ত্রীকে লক্ষ্য করে মনে
- 16:25মনে বলল,
- 16:28এই যদি তোমার বিচার হয়
- 16:31তবে তাই হোক।
- 16:35আমার কর্তব্য আমি করে যাব।
- 16:39সে স্ত্রীকে কোন চিঠি লিখলো না এবং মনে
- 16:43মনে প্রতিজ্ঞা করল এ সম্বন্ধে স্ত্রীর
- 16:46কাছে কষনো সে কোন কথার উল্লেখ করবে না।
- 16:52কি ভীষণ দন্ডবিধি।
- 16:56দিন দশেক পরে কোন মতে উপযুক্ত টাকা জোগাড়
- 17:01করে বিপদমুক্ত ফনিভূষণ বাড়ি ফিরে এল। সে
- 17:06জানতো বাপের বাড়ি গয়নাগাটি রেখে এতদিনে
- 17:10মনে মালিকা ঘরে ফিরে এসেছে।
- 17:13সেদিনকার দিন প্রার্থী ভাব ত্যাগ করে
- 17:17কৃতকার্য কৃতি পুরুষ স্ত্রীকে দেখা দিলে
- 17:21মনি যে লজ্জিত হবে একথা ভাবতে ভাবতে
- 17:26ফনিভূষণ
- 17:27অন্তপপুরে সোবার ঘরের দরজার কাছে এল।
- 17:32দেখলো দরজা বন্ধ।
- 17:35তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখলো ঘর ফাঁকা।
- 17:39কোনে লোহার সিন্দুক খোলা পড়ে আছে। তাতে
- 17:43গয়নার চিহ্নও নেই।
- 17:46স্বামীর বুকের মধ্যে ধক করে ঘা লাগলো। মনে
- 17:51হলো সংসার উদ্দেশ্যহীন
- 17:55এবং ভালোবাসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য
- 17:59সবই ব্যর্থ।
- 18:02ফনিভূষণ স্ত্রীর কোন খোঁজখবরের চেষ্টা করল
- 18:06না।
- 18:08মনে করল যদি ইচ্ছে হয় তো ফিরে আসবে।
- 18:14বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ গোমস্তা নিজে উদ্যোগী হয়ে
- 18:18মনি মালিকার বাপের বাড়িতে লোক পাঠালো।
- 18:22সেখান থেকে খবর এলো
- 18:25মনি অথবা মধু কিন্তু সেখানে যায়নি।
- 18:32তখন চারদিকে খোঁজ পড়ে গেল। নদীর তীরে
- 18:35তীরে প্রশ্ন করতে লোক ছুটলো। মধুর খোঁজ
- 18:38করতে পুলিশে খবর দেওয়া হলো।
- 18:41কোন নৌকা নৌকার মাঝিকে কোন পথে তারা
- 18:45কোথায় চলে গেল
- 18:47তার কোন খবর পাওয়া গেল না।
- 18:53সব রকম আশা ছেড়ে দিয়ে একদিন সন্ধেবেলা
- 18:57ভনিভূষণ তার অনেকদিনের অব্যবহিত শোবার ঘরে
- 19:01ঢুকলো। সেদিন জন্মাষ্টমী।
- 19:04সকাল থেকে অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে। উৎসবের
- 19:08জন্য গ্রামের মাঠে একটা মেলা বসে। সেখানে
- 19:12আটচালার মধ্যে বারোয়ারির যাত্রা শুরু
- 19:14হয়েছে। কুশল ধারায় বৃষ্টিপাতের শব্দের
- 19:18মধ্যেও
- 19:20যাত্রার গানের সুর অল্প অল্প শোনা যাচ্ছে।
- 19:24ওই যে জানলার উপরে আলগা হয়ে যাওয়া
- 19:26দরজাটা ঝুলে পড়েছে। ওখানে ফনিভূষণ
- 19:30অন্ধকারে একলা বসেছিল।
- 19:33বাদলার হাওয়া, বৃষ্টির ছাট এবং যাত্রার
- 19:38গান ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। কোন খেয়ালই
- 19:42ছিল না।
- 19:44ঘরের দেয়ালে লক্ষ্মী সরস্বতীর একজোড়া ছবি
- 19:47টাঙানো। আলনার উপরে একটা গামছা আর তোয়ালে
- 19:52একটা চুরি বেড়ে ও একটা ডুড়ে শাড়ি খানিক্ষণ
- 19:57আগেই যেন ব্যবহার করা হয়েছে। এমনভাবে
- 20:00ঝোলানো আছে।
- 20:02ঘরের কোনে টেবিলের উপর পেতলের কৌটয় মনি
- 20:07মালিকার নিজের হাতে তৈরি কয়েকটা পান
- 20:11শুকিয়ে পড়ে আছে।
- 20:14কাচের আলমারির মধ্যে তার ছোটবেলার চীনের
- 20:17পুতুল সেন্টের শিশি রঙিন কাচের
- 20:22ডিক্যান্টার সখীন তাস সমুদ্রের বড় বড়
- 20:27কড়ি এমনকি শূন্য সাবানের বাক্সগুলো
- 20:32পর্যন্ত অত্যন্ত পরিপাটি করে সাজানো
- 20:36যে খুবই ছোট গোল মতন শখের কেরোসিন ল্যাম্প
- 20:41সে নিজে প্রতিদিন জ্বালিয়ে ওই কুলুঙ্গির
- 20:44উপর রাখতো।
- 20:46সেখানে সেই নিভে যাওয়া এবং ময়লা হয়ে যাওয়া
- 20:50ল্যাম্পটা পড়ে আছে। কেবল সেই ছোট্ট
- 20:54ল্যাম্পটাই এই সোবার ঘরে মনি মালিকার শেষ
- 20:58মুহূর্তের নীরব সাক্ষী।
- 21:01সমস্ত শূন্য করে যে চলে যায়। সেও এত
- 21:06চিহ্ন,
- 21:08এত ইতিহাস,
- 21:10সমস্ত জড় বস্তুর উপর নিজের সজীব হৃদয়ের এত
- 21:16স্নেহ সাক্ষর রেখে যায়।
- 21:19এসো মনি মালিকা।
- 21:23এসো
- 21:24আর তোমার দ্বীপটা তুমি জ্বালাও।
- 21:28তোমার ঘর তুমি আলো করো।
- 21:32আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোমার যত্নে গুছিয়ে
- 21:36রাখা শাড়িটা তুমি পড়ো।
- 21:40তোমার জিনিসগুলো
- 21:42তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
- 21:46তোমার থেকে কেউ কিচছু চায় না।
- 21:49কেবল তুমি এসো। তোমার অমলীন সৌন্দর্য
- 21:54নিয়ে।
- 21:55চারিদিকের এইসব জড় বস্তুকে
- 21:59আবার জীবন্ত করে তুললো।
- 22:02এইসব জড়বস্তুর ক্রমাগত কান্না এই ঘরটাকে
- 22:06শ্মশানে পরিণত করেছে মনি মালিকা।
- 22:14গভীর রাতে কখন একসময় বৃষ্টির ধারা এবং
- 22:20যাত্রার গান থেমে গেছে।
- 22:23ফনিভূষণ জানলার কাছে যেমন বসেছিল
- 22:27তেমনি বসে আছে।
- 22:30জানলার বাইরে এমন একটা গাঢ় নিশ্ছিদ্র
- 22:34অন্ধকার
- 22:35যে তার মনে হচ্ছিল যেন সামনে জমালয়ের
- 22:40একটা আকাশ ছোঁয়া সিংহদার
- 22:44যেন এখানে দাঁড়িয়ে কেঁদে ডাকলে চিরকালের
- 22:48জন্য হারিয়ে যাওয়া জিনিস কিছুক্ষণের মত
- 22:53একবার দেখা দিলেও দিতে পারে
- 22:58এমন সময়
- 23:00একটা ঠকঠক শব্দের সঙ্গে সঙ্গে
- 23:04গয়নার ঝমঝম শব্দ শোনা গেল।
- 23:10ঠিক যেন মনে হলো
- 23:12শব্দটা নদীর ঘাটের উপর থেকে উঠে আসছে।
- 23:18তখন নদীর জল
- 23:20এবং রাতের অন্ধকার
- 23:23এক হয়ে মিশে গেছিল।
- 23:27আনন্দিত ভনিভূষণ
- 23:29উৎসুক দু চোখ দিয়ে অন্ধকার ঢেলে ঠেলে
- 23:34ফুড়ে ফুড়ে দেখতে চেষ্টা করল।
- 23:38আনন্দে ভরা হৃদয়
- 23:41এবং ব্যস্ত চোখ
- 23:43ব্যথায় ভরে উঠলো।
- 23:46তবুও
- 23:48কিছুই দেখা গেল না।
- 23:52দেখার চেষ্টা যতই বাড়ে
- 23:55অন্ধকার যেন ততই ঘন হয়ে আসে।
- 24:00শব্দটা
- 24:02ধীরে ধীরে ঘাটের উপরের সিড়ি ছাড়িয়ে
- 24:07বাড়ির দিকে এগোতে লাগলো।
- 24:11বাড়ির সামনে এসে থামলো।
- 24:15সদর দরজা বন্ধ করে দারোয়ান যাত্রা শুনতে
- 24:19গেছিল।
- 24:21তখন সেই বন্ধ দরজায়
- 24:25ঠকঠক ঝমঝম করে গা পড়তে লাগল।
- 24:29যেন গয়নার সাথে সাথে
- 24:32একটা শক্ত জিনিস দরজায় এসে পড়ছে।
- 24:37ফনিভূষণ
- 24:38আর থাকতে পারলো না। একের পর এক ঘর বেরিয়ে
- 24:45অন্ধকার সিনি দিয়ে নেমে বন্ধ দরজার সামনে
- 24:49এসে দাঁড়ালো।
- 24:51দরজা
- 24:53বাইরে থেকে তালা বন্ধ ছিল।
- 24:56হনিভূষণ প্রাণ বনে দু হাতে সেই দরজা নাড়া
- 25:01দিতেই সে ধাক্কা এবং তার শব্দে চমকে জেগে
- 25:05উঠলো।
- 25:07দেখল
- 25:09সে ঘুমন্ত অবস্থায়
- 25:12উপর থেকে নিচে নেমে এসেছে।
- 25:16তার সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। হাতপা
- 25:19বরফের মত ঠান্ডা এবং হৃদপিণ্ড খুব জোরে
- 25:23জোরে উঠছে নামছে।
- 25:30স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
- 25:33বাইরে
- 25:35আর কোন শব্দ নেই।
- 25:38কেবল শ্রাবণের ধারা।
- 25:40তখনো ঝরঝর শব্দে পড়ে চলেছে।
- 25:44আর তারই সাথে মিশে গেছে যাত্রার ছেলেদের
- 25:48ভৈরবী গান।
- 25:51যদিও ব্যাপারটা সবটাই স্বপ্ন
- 25:55কিন্তু এত বেশি কাছের
- 25:59এবং এতটাই সত্যের মত যে ভনিভূষণের মনে হলো
- 26:06যেন খুব অল্পের জন্য সে তার অসম্ভব
- 26:12আকাঙ্ক্ষার আশ্চর্য সফলতা লাভ করতে পারলো
- 26:16না।
- 26:17সেই জলের শব্দের সঙ্গে
- 26:20দূর থেকে আসা ভৈরবীর সুর তাকে বলতে লাগলো
- 26:27এই জেগে থাকাটাই স্বপ্ন।
- 26:30আবার
- 26:32এই জগতটাই মিথ্যে।
- 26:36[মিউজিক]
- 26:39তারপরের দিনও যাত্রা ছিল এবং দারোয়ানের
- 26:43ছুটি ছিল। ফনিভূষণ হুকুম দিল আজ সমস্ত রাত
- 26:49যেন সদর দরজা খোলা থাকে। দারোয়ান বলল,
- 26:53মেলার জন্য নানা দেশ থেকে নানা প্রকার লোক
- 26:56এসেছে। দরজা খোলা রাখতে সাহস হয় না।
- 27:00ফনিভূষণ সে কথা মানলো না। দারোয়ান বলল,
- 27:06তবে আমি সারারাত পাহারা দেব। ফনিভূষণ বলল,
- 27:11সে হবে না। তোমাকে যাত্রা শুনতে যেতেই
- 27:14হবে।
- 27:16দারোয়ান
- 27:18আশ্চর্য হয়ে গেল।
- 27:21পরদিন সন্ধেবেলায় প্রদীপ নিভিয়ে ভনিভূষণ
- 27:25তার সোমবার ঘরের সেই জানলায় এসে বসল।
- 27:30আকাশে মেঘ এবং চারদিকে কোন এক অজানা
- 27:35নিস্তব্ধতা।
- 27:38ভেকের এক টানা চিৎকার
- 27:42এবং যাত্রার গানের আওয়াজ সেই নিস্তব্ধতা
- 27:46ভাঙতে পারেনি।
- 27:49কেবল তার মধ্যে একটা অসঙ্গত অদ্ভুত রসের
- 27:54সঞ্চার করেছিল।
- 27:58অনেক রাতে
- 28:00একসময় ভেক এবং ঝিঝি
- 28:03এবং যাত্রারতলের ছেলেরা
- 28:06চুপ করে গেল
- 28:08এবং রাতের অন্ধকারের উপর
- 28:12আরো একটা কিসের অন্ধকার এসে পড়লো।
- 28:18বোঝা গেল
- 28:20এইবার সময় এসেছে।
- 28:25আগের দিনের মত নদীর ঘাটে একটা ঠকঠক এবং
- 28:30ঝমঝম শব্দ উঠলো।
- 28:34কিন্তু ফনিভূষণ
- 28:37সেদিকে তাকালো না।
- 28:40তার ভয় হলো
- 28:43পাছে তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
- 28:47পাছে তার অতি আগ্রহ
- 28:50তার ইন্দ্রিয়কে দুর্বল করে দেয়।
- 28:55সে কাঠের মূর্তির মত শক্ত হয়ে স্থির হয়ে
- 28:59বসে রইল।
- 29:01সেই শব্দ
- 29:04আজঘাট থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে
- 29:09খোলা দরজা বেরিয়ে
- 29:12ভেতরে ঢুকলো।
- 29:15শোনা গেল
- 29:18অন্দর মহলের গোল সিড়ি দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে
- 29:22শব্দ উপরে উঠছে।
- 29:26হনিভূষণ আর শান্ত থাকতে পারলো না। বুক
- 29:29ধরভর করতে লাগলো এবং এবং নিঃশ্বাস বন্ধ
- 29:33হয়ে এল।
- 29:35গোল সিড়ি দিয়ে সেই শব্দ বারান্দা হয়ে
- 29:39ঘরের দিকে এগোতে লাগল।
- 29:42অবশেষে
- 29:45ঠিক সেই সোবার ঘরের দরজার কাছে এসে
- 29:49খটখট
- 29:51আর ছমছম থেমে গেল।
- 29:55কেবল চৌকাঠটা বেরলেই হয়।
- 30:00ফরিভূষণ আর থাকতে পারলো না। তার রুদ্ধ
- 30:04আবেগ এক মুহূর্তে প্রবল বেগে উচ্ছষিত হয়ে
- 30:08উঠল। সে বিদ্যুৎ বেগে চৌকি থেকে উঠে কেঁদে
- 30:12চিৎকার করে উঠল। মনে
- 30:16অমনি সচকিত হয়ে জেগে দেখল
- 30:20তার সেই ব্যাকুল চিৎকারে ঘরের শাসিগুলো
- 30:24পর্যন্ত কেঁপে উঠেছে। বাইরে সেই ভেকের
- 30:28কলরম এবং যাত্রার ছেলেদের গান হয়ে চলেছে।
- 30:33ফনিভূষণ নিজের কপালে জোরে আঘাত করল।
- 30:40পরের দিন মেলা ভেঙে গেছে।
- 30:44ঢোকানী এবং যাত্রার দল চলে গেল। ফনিভূষণ
- 30:48হুকুম দিল সেদিন সন্ধ্যের পর তার বাড়িতে
- 30:53সে নিজে ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
- 30:57চাকরেরা মনে করল বাবু তান্ত্রিক মতে কোন
- 31:01এক সাধনায় নিযুক্ত আছেন।
- 31:05ফনিভূষণ
- 31:07সারাদিন উপোস করে রইল।
- 31:12জনহীন বাড়িতে
- 31:15সন্ধ্যেবেলা ফনিভূষণ জানলার নিচে এসে
- 31:18বসলো।
- 31:20সেদিন আকাশে মেঘ ছিল না। নক্ষত্রেরা
- 31:24অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল।
- 31:27কৃষ্ণপক্ষ
- 31:30দশমীর ছাঁদ উঠতে বেশ দেরি।
- 31:34মেলা উঠে যাওয়ায় নদীতে কোন নৌকও ছিল না
- 31:40এবং উৎসব জাগা ক্লান্ত গ্রাম দুর রাত
- 31:45জাগার পর আজ গভীরভাবে ঘুমিয়ে আছে
- 31:49ফনিভূষণ
- 31:51একটা চৌকিতে বসে চৌকির ওপর মাথা রেখে তারা
- 31:56দেখছিল আর ভাবছিল
- 31:59একদিন যখন তার বয়স ছিল 19
- 32:03যখন কলকাতার কলেজে পড়তো
- 32:07যখন সন্ধ্যেবেলা কোল দিঘির ঘাসের উপর চিত
- 32:10হয়ে হাতের উপর মাথা রেখে ওই তারাগুলোর
- 32:15দিকে তাকিয়ে থাকতো
- 32:17এবং মনে পড়তো তার শ্বশুর বাড়ির এক একাকি
- 32:21ঘরে 14 বছরের মনির সেই উজ্জ্বল কাঁচা
- 32:26মুখখানি
- 32:28তখনকার সেই বিরহ
- 32:31কি যে মধ মধুর লাগতো
- 32:34তা বলার নয়।
- 32:39দেখতে দেখতে
- 32:41তারারা সব সরে গেল।
- 32:45আকাশ থেকে একটা অন্ধকার নেমে এল।
- 32:48এবং পৃথিবী থেকে একটা অন্ধকার উঠে
- 32:52চোখের উপরে ও নিচে
- 32:55পাতার মত এক হয়ে এসে মিলিত হলো।
- 33:00আজ
- 33:02ফনিভূষণের মন শান্ত ছিল।
- 33:06সে নিশ্চিত ছিল।
- 33:09আজ তার চেষ্টা সফল হবে।
- 33:14আগের রাতের মত সেই শব্দ নদীর জলের মধ্যে
- 33:18থেকে ঘাটের সিড়ির উপর উঠলো।
- 33:23ফনিভূষণ দু চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে
- 33:26ধ্যানাসনে বসল।
- 33:29শব্দ দারোয়ান বিহীন সদর পেরিয়ে
- 33:33জনহীন অন্তপপুরের গোল সিঁড়ির মধ্যে দিয়ে
- 33:36ঘুরে ঘুরে উঠতে লাগলো।
- 33:42শব্দ লম্বা বারান্দা পেরিয়ে
- 33:45শোভার ঘরের দরজার কাছে এসে
- 33:49খানিক্ষণের জন্য থামলো।
- 33:52ফনিভূষণের হৃদয় ব্যাকুল
- 33:56এবং সর্বাঙ্গ কন্ঠকত হয়ে উঠলো।
- 34:00কিন্তু আজ
- 34:02সে চোখ খুললো না।
- 34:07পালটায় যেখানে শাড়ি পোচানো আছে,
- 34:11কুলুঙ্গিতে
- 34:12যেখানে কেরোসিনের ল্যাম্পটা আছে,
- 34:16টেবিলের ধারে যেখানে পানের বাটায় শুকন পান
- 34:20এবং সেই সব বিচিত্র জিনিসে ভর্তি আলমারির
- 34:24কাছে প্রত্যেক জায়গায় একবার একবার করে
- 34:28দাঁড়িয়ে
- 34:29শেষে শব্দটা ফনিভূষণের
- 34:32একেবারে কাছে এসে থামলো।
- 34:36তখন ফনিভূষণ চোখ মেল
- 34:40এবং দেখলো
- 34:43ঘরে নবীত দশমীর চাঁদের আলো এসে পড়েছে
- 34:49এবং তার চৌকির ঠিক সামনে
- 34:53একটা কঙ্কাল।
- 34:56সেই কঙ্কালের আট আঙ্গুলে আংটি
- 35:00করতলে রতন চক্র
- 35:02সারা হাতে বালা বাহুতে বাজু বন্ধ গলায় হার
- 35:07মাথায় সিধি তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত
- 35:10প্রত্যেকটা অস্থিতে এককেকটা সোনা ও হীরের
- 35:14গয়না ঝকঝক করছে
- 35:17গয়নাগুলো আলগা হয়ে ঢলঢল করছে কিন্তু গা
- 35:22থেকে খসে পড়ছে না
- 35:26সবথেকে ভয়ঙ্কর
- 35:28তার হাড়ময় মুখে দু চোখ অত্যন্ত সজীব
- 35:34সেই কালো তারা
- 35:37সেই ঘন চোখের পাতা
- 35:41সেই রকম শান্তিময় দৃষ্টি
- 35:44আজ থেকে 18 বছর আগে একদিন আলোকিত সভাগৃহে
- 35:50নহবদের সুর তারই মধ্যে ফনিভূষণ যে দুটি
- 35:55আয়ত সুন্দর কালো কালো ঢলঢলের চোখ শুভ
- 36:00দৃষ্টিতে প্রথম দেখেছিল
- 36:03সেই দুটি চোখই
- 36:05আজ শ্রাবণের রাতে কৃষ্ণপক্ষ দশমীর চাঁদের
- 36:10আলোয়ে দেখল।
- 36:12দেখে তার সারা শরীরে
- 36:16রক্তহীন হয়ে এল।
- 36:19প্রাণপনে দুচোখ বুঝতে চেষ্টা করল।
- 36:23কিছুতেই পারলো না।
- 36:27তার চোখ মৃত মানুষের চোখের মত স্থির হয়ে
- 36:31থাকলো।
- 36:33তখন সেই কঙ্কাল হতভম ফনিভূষণের মুখের দিকে
- 36:37তার দৃষ্টি স্থির রেখে ডান হাত তুলে চুপি
- 36:42সারে আঙ্গুলের ইশারায় ডাকল।
- 36:45তার চার আঙ্গুলের হাড়ে
- 36:48হীরের আংটি ছক করে উঠল।
- 36:53ফনিভূষণ উঠে দাঁড়ালো।
- 36:56কঙ্কাল দরজার দিকে চলল।
- 37:00হাড়ে হাড়ে গয়নায় গয়নায়
- 37:04এক কঠিন শব্দ হতে লাগল।
- 37:09ফনিভূষণ দম দেওয়া পুতুলের মত পিছনে পিছনে
- 37:12চলল। বারান্দা পার হল। ঘন অন্ধকার গোল
- 37:17সিড়ি ঘুরে ঘুরে ঘটঘট ঠক ঠক ঝমঝম করতে
- 37:22করতে নিচে নামলো।
- 37:25নিজের বারান্দা পেরিয়ে
- 37:28জনশূন্য আলোবিহীন ফটকে ঢুকলো।
- 37:33অবশেষে
- 37:35ফটক পার হয়ে
- 37:38ইটের খোয়া দেওয়া বাগানের রাস্তায়
- 37:40বেরিয়ে এল।
- 37:43খোয়ার ওপর হাড় পড়ে করকর করতে লাগলো।
- 37:49সেখানে জোচনার আলো ভালোভাবে এসে পড়ছিল না।
- 37:55সেই বর্ষার গন্ধ মাখা অন্ধকার ছায়াপথে
- 38:00জোনাকির ঝাঁকের মধ্যে দিয়ে দুজনে
- 38:04নদীর ঘাটে এসে উপস্থিত হল।
- 38:08ঘাটের যে ধাপ বেয়ে শব্দ উপরে উঠেছিল
- 38:14সেই ধাপ দিয়ে গয়নায় আবৃত কঙ্কাল
- 38:18তার ধীরের স্থির গতিতে কঠিন শব্দ করে এক
- 38:24পা এক পা নামতে লাগল
- 38:27ভরা বর্ষার নদী
- 38:30প্রচন্ড স্রোত
- 38:32জলের ওপর যোচনার ছবি পড়ে
- 38:36ঝিকঝিক ঠিক হচ্ছে
- 38:40কঙ্কাল নদীতে নামলো পিছনে পিছনে আসা
- 38:44ফনিভূষণও
- 38:46জলে বাতিল
- 38:49জল স্পর্শ করা মাত্রই ফনিভূষণের থ্রা কেটে
- 38:54গেল সামনে আর তার পথপ্রদর্শক নেই
- 39:00কেবল নদীর ওপারে গাছগুলো চুপচাপ দাঁড়িয়ে
- 39:04আর তার মাথার ওপরে আধখানা চাঁদ অবাক হয়ে
- 39:08তার দিকে তাকিয়ে আছে।
- 39:12মাথা থেকে পা পর্যন্ত বারবার চমকে চমকে
- 39:16উঠে টলমল পায়ে ভনিভূষণ স্রোতের মধ্যে
- 39:19পড়ে গেল।
- 39:22যদিও সাতার জানতো
- 39:25কিন্তু স্নায়ু তার বস মানলো না।
- 39:30স্বপ্নের মধ্যে থেকে
- 39:33কেবল ক্ষণিকের জন্য জেগে উঠেই
- 39:37আবার চিরনিদ্রার মধ্যে তলিয়ে গেল।
- 39:42[মিউজিক]
- 39:44[সশব্দ হাসি]
- 39:44[মিউজিক]
- 39:49শুনছিলেন মনিহারা।
- 39:52রবীন্দ্রনাথের গল্পটি কিন্তু এখানেই শেষ
- 39:55হয় না। স্কুল মাস্টার গল্পটি শেষ করেন
- 39:59এবং শ্রোতাভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে
- 40:02পারেন তিনি ধনিভূষণ।
- 40:05স্কুল মাস্টার জিজ্ঞেস করেন খনিভূষণের
- 40:07স্ত্রীর নাম কি ছিল? খনিভূষণ বলেন,
- 40:11নৃত্যকালী।
- 40:13গল্পে সাসপেন্স বজায় রাখার জন্য আমরা এই
- 40:16শেষের কয়টি লাইন বাদ দিয়েছি। গল্প পাঠে
- 40:20ছিল মীর। মনি মালিকার ভূমিকায় ইন্দ্রানী।
- 40:25গল্পের সূত্রধার দপ। শব্দগ্রহণ, আবহ সংগীত
- 40:29এবং স্পেশাল ইফেক্ট রেচার। মনিহারার বেতার
- 40:32রূপটি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে
- 40:35বর্ণালী। পরিকল্পনা ও পরিচালনায়
- 40:38ইন্দ্রানী।
- 40:40আগামী রবিবার ঠিক এই সময় শুনতে ভুলবেন
- 40:44না। সানডে সাসপেন্স।
About this transcript
This page contains the full transcript of Sunday Suspense - Monihara | মণিহারা | Rabindranath Tagore | Mirchi Bangla Horror & Mystery by Mirchi Bangla, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 3,232 words across 661 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.