YouTube2Text

কর্ম করে যান সফলতা আসবেই | Shri Krishna Bani in Bengali | Bhagavad Gita Bani | Shri Krishna Updesh — Transcript

by মন মন্দির · 7,029 words · 1,025 segments · language en · Watch on YouTube

Full transcript

  1. 0:00ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়
  2. 0:06নমস্কার। জয় গীতা জয় শ্রীকৃষ্ণ রাধে রাধে।
  3. 0:12আমাদের মন স্বভাবতই খুব চঞ্চল। আমরা সবাই
  4. 0:15চাই জীবনে খুব দ্রুত সবকিছু পেয়ে যেতে।
  5. 0:18কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ ভগবত গীতায়
  6. 0:21আমাদের শিখিয়েছেন নিষ্ঠার সঙ্গে কর্ম করে
  7. 0:24যাও। সফলতা একদিন অবশ্যই আসবে। আজকের এই
  8. 0:28দ্রুতগতির জীবনে আমরা অনেক সময় কর্মে
  9. 0:31মনোযোগ না দিয়ে দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ি।
  10. 0:34অচেনা পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াই।
  11. 0:37যার যেন কোন শেষ নেই। সামান্য ব্যর্থতা
  12. 0:40এলেই আমরা হতাশ হয়ে যাই। কর্ম থেকে বিমুখ
  13. 0:43হয়ে পড়ি। কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  14. 0:45স্পষ্টভাবে বলেছেন, সৎকর্ম কখনো বৃথা যায়
  15. 0:48না। ধৈর্য ও অধ্যাবসায় থাকলে সফলতা
  16. 0:52অবশ্যই আসে। ভগবান আমাদের জীবনে সবকিছুই
  17. 0:56দিতে চান যা সত্যিই আমাদের মঙ্গলের জন্য
  18. 0:58প্রয়োজন। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো
  19. 1:01আপনি যদি কোন কর্মই না করেন শুধু মনে মনে
  20. 1:04ভাবেন যে একদিন অনেক ধনসম্পদের মালিক হয়ে
  21. 1:07যাবেন তাহলে তা কিভাবে সম্ভব? কর্ম ছাড়া
  22. 1:11ফল লাভ করা যায় না। ভগলানও কর্মহীন
  23. 1:14মানুষকে ফল প্রদান করেন না। যেমন গাছ না
  24. 1:17লাগিয়ে ফলের আশা করা যায় না। ঠিক তেমনি
  25. 1:20কর্ম না করে সফলতার খাসা করাও অর্থহীন।
  26. 1:23তাই ফলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত না হয়ে
  27. 1:26নিজের কর্তব্য ও কর্ম করে যেতে হবে। মনে
  28. 1:29রাখবেন আজ না হোক কাল আপনার পরিশ্রমের ফল
  29. 1:33অবশ্যই আপনার কাছে ফিরে আসবে। প্রিয়
  30. 1:36কৃষ্ণ ভক্ত বন্ধুরা আজকের ভিডিওতে আমরা
  31. 1:39জানবো কিভাবে আমাদের মনকে কর্মমুখর করা
  32. 1:42যায়। কিভাবে অযথা দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও
  33. 1:45[মিউজিক] বেদনা কমিয়ে কর্মের মাধ্যমে
  34. 1:47জীবনে সাফল্য আসে। কারণ কর্মই জীবনের
  35. 1:51প্রকৃত চালিকাশক্তি। তাই আর দেরি না করে
  36. 1:54শুরু করা যাক আজকের এই বিশেষ আলোচনা।
  37. 1:56ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণীগুলো যদি আপনার
  38. 1:58হৃদয় স্পর্শ করে তাহলে অবশ্যই ভিডিওটিতে
  39. 2:01একটি লাইক দিন এবং কমেন্টে লিখুন জয় গীতা
  40. 2:05জয় শ্রীকৃষ্ণ রাধে রাধে। আর যদি ভিডিওর
  41. 2:08বাণীগুলো আপনার মন ছুয়ে যায় তাহলে দয়া
  42. 2:11করে আমাদের চ্যানেল মন মন্দির সাবস্ক্রাইব
  43. 2:13করে দিবেন। মানুষ জন্মগ্রহণ করে তার সাথে
  44. 2:16ভয়েরও জন্ম হয়। ছোটবেলা থেকেই আমাদের
  45. 2:19মনে কোন না কোন প্রকারের ভয় থেকেই যায়।
  46. 2:23কেউ এই বিষয়ে ভয় পায় যে তার কোন বস্তু
  47. 2:26তার থেকে দূরে [মিউজিক] চলে যাবে। কেউ এই
  48. 2:28বিষয়ে ভয় পায় যে আমি নিজেকে হারিয়ে
  49. 2:31ফেলবো। কেউ এইভাবে ভয় পায় যে আমার
  50. 2:34প্রিয়জনেরা তারা যেন আমার থেকে দূরে না
  51. 2:36চলে যায়। কেউ এইভাবে ভয় পায় যে আমরা
  52. 2:39যেন পথ না হারিয়ে ফেলি। আদি ইত্যাদি।
  53. 2:42কিন্তু সত্যি কথা বলতে ভেবে দেখুন এই ভয়
  54. 2:46বাস্তবে কি? শুধুই একটা মনোস্থিতি আর
  55. 2:49কিছুই নয়। যা কিছু আপনি জীবনে পেয়েছেন
  56. 2:52তা একদিন আপনাকে হারাতে হবে। এই জীবন হলো
  57. 2:56আপনারই কিন্তু তাও একদিন সমাপ্ত হবে। তাই
  58. 3:00ভয় পেয়ে কি লাভ? এই ভয় শুধু আপনাকে
  59. 3:03জীবনযাপন করা থেকে বাধা দিচ্ছে আর কিচ্ছু
  60. 3:06নয়। পথ হারিয়ে ফেললেই বুঝতে পারবেন যে
  61. 3:09নতুন পথ কিভাবে বানাতে হয়। কিছু মানুষকে
  62. 3:12জীবন থেকে হারালে তবেই আপনি বুঝবেন যে
  63. 3:15আপনার আপনজন কে। এই ভয়ের কারণে ভীত হয়ে
  64. 3:19থাকবেন না। এই তারা নক্ষত্র অন্ধকারের
  65. 3:23অভাবে গুরুত্ব হারায়। শিবকেও মহাদেব হওয়ার
  66. 3:26জন্য বিষ পান করতে হয়েছিল। প্রত্যেক
  67. 3:29[মিউজিক] পরিস্থিতি প্রত্যেক সাফল্য আপনার
  68. 3:32পরীক্ষা নিবে। তাতে উত্তীর্ণ হওয়া হলো
  69. 3:35আপনার কর্ম। যখনই আপনি ভয় পাবেন বা
  70. 3:38সংকটের সম্মুখীন হবেন তখন সাহসের সাথে তার
  71. 3:42সম্মুখীন হন। মনে রাখবেন যে সম্মুখীন হতে
  72. 3:45জানে সাফল্য তার সাথে সবসময় থাকে। আসুন
  73. 3:49আর আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। এই
  74. 3:53সংসারে সবথেকে বেশি কোমল বস্তু হলো রেশম।
  75. 3:56এই রেশম এতটাই কোমল হয় যে এর পুরো একটা
  76. 4:00থান শুধুমাত্র একটা হাতে ধরা সম্ভব। কখনো
  77. 4:03ভেবে দেখেছেন এই রেশম কিভাবে হয়? একটি
  78. 4:07কিট তার লালার দ্বারা উৎপন্ন হয়। এই কীট
  79. 4:10সেই রেশমকে পাক দিতে থাকে। দিতেই থাকে
  80. 4:13দিতেই থাকে। আর আস্তে আস্তে তার মধ্যেই
  81. 4:16জড়িয়ে পড়ে। শেষে ওর এই সুন্দর অমূল্য
  82. 4:19সৃষ্টি রেশমের এই সুতো তার নির্মাণ কার্য
  83. 4:23পূর্ণ হয়। কিন্তু তাতেই ও নিজে বন্দি
  84. 4:26হয়ে যায়। নিজেরই মায়াজালে এই বন্দিগৃহে
  85. 4:29নিজেই ভেসে যায়। এবার এই সুতোকে
  86. 4:31ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য এই কীটগুলিকে
  87. 4:34এই কবচের সাথেই ফুটন্ত জলে ফেলে দেওয়া
  88. 4:36হয়। এই সংসারে যদি আমাদের স্বপ্ন এই
  89. 4:40সংসারের দুঃখ হরণ করার জন্য। এই সংসারের
  90. 4:43সুখ বিতরণ করার জন্য হয় তবেই আমাদের
  91. 4:46প্রগতি সম্ভব। যদি আমাদের এই স্বপ্ন শুধুই
  92. 4:49আমাদের এবং আমাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য
  93. 4:51হয়। তাহলে এই স্বপ্ন আমাদের অন্ধ করে
  94. 4:54দেবে। আমাদের অন্ধকারের পথে নিয়ে যাবে।
  95. 4:57আর আমরাও সেই কীটের মত হয়ে যাব। নিজেদের
  96. 5:00এই মায়াজালে আমরা নিজেই ভেসে যাব।
  97. 5:02[মিউজিক] আর শেষে যদি কিছু লাভ করি তা হবে
  98. 5:05একাকিত্ব। অন্ধকারময় মৃত্যু। তাই স্বপ্ন
  99. 5:09অবশ্যই দেখুন। কিন্তু এমনভাবে স্বপ্ন
  100. 5:12দেখবেন না যে তার এই বন্দিগৃহে আপনি নিজেই
  101. 5:15ভেসে গেলেন। স্বপ্ন দেখুন পরোপকারের
  102. 5:18পরমার্থের। সবাইকে উদ্ধারের অন্ধকারের নয়।
  103. 5:22তবেই কল্যাণ হবে। আর তবেই হৃদয় প্রসন্ন
  104. 5:25হয়ে বলবে রাধে রাধে মানুষ যখন এই সংসারে
  105. 5:29প্রবেশ করে অর্থাৎ জন্মগ্রহণ করে তখন
  106. 5:32নিশ্চিন্তে থাকে আনন্দে থাকে কিন্তু
  107. 5:35যেইমাত্র তার মধ্যে বোধশক্তি আসে তখন সে
  108. 5:38চিন্তা করতে শুরু করে চিন্তা ভবিষ্যতের
  109. 5:42সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে চিন্তা করে যা ওর
  110. 5:44হাতে নেই তারপর বড় হয় বিবাহ সম্পন্ন হয়
  111. 5:48গৃহস্থ জীবন যাপন করে তারপর আবার চিন্তায়
  112. 5:51মগ্ন হয়ে যায় ভাবে [মিউজিক] এই যে আমার
  113. 5:54পরিবার আমি কি ঠিকমত তার খেয়াল রাখতে
  114. 5:56পারছি কাল যখন আমি এই সংসার থেকে চলে যাব
  115. 5:59তখন আমার এই পরিবারের দেখাশোনা কে করবে
  116. 6:02শেষ পর্যন্ত এই পরিবার তো আমারই উত্তর
  117. 6:04দায়িত্ব যাক আপনাকে একটা প্রশ্ন করি এই
  118. 6:08সংসারে আসার পূর্বে আপনি কি এই প্রশ্ন
  119. 6:10করেছিলেন এটা ভেবেছিলেন যে আমাকে ছাড়া এই
  120. 6:14সংসার কিভাবে চলবে করেননি তাইতো তাই আপনার
  121. 6:17এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই
  122. 6:19যে আপনি যখন এই সংসার ত্যাগ করে চলে যাবেন
  123. 6:22তখন কি হবে আপনি যখন ছিলেন না তখনওই সংসার
  124. 6:26চলছিল। আপনি যখন এই সংসার ত্যাগ করবেন
  125. 6:29তখনও এই সংসার চলতে থাকবে। যদি কোন
  126. 6:32বিষয়ের প্রভাব থাকে তা হলো আপনার আজকের
  127. 6:35তথা বর্তমানের কর্ম। অর্থাৎ আজ আপনি কি
  128. 6:38করছেন? কার জন্য মঙ্গল করছেন, কাকে
  129. 6:41প্রেরণা দিচ্ছেন, কাকে সাহায্য করছেন, কোন
  130. 6:44উদাহরণ প্রস্তুত করছেন আপনি? এই সংসারে যে
  131. 6:47ছবি অঙ্কন করবেন, সংসার সেটাই মনে রাখবে।
  132. 6:51তাহলে শুধু সৎকর্ম করুন, মঙ্গল করতে
  133. 6:54থাকুন। আর আমার সাথে ভালোবেসে বলুন
  134. 6:56[মিউজিক] রাধে রাধে। আমি মনুষ্য রূপে জন্ম
  135. 6:59নিয়েছি এবং সমস্ত কর্ম এই রূপেই করেছি।
  136. 7:04কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো যে আজও মানুষ
  137. 7:07আসেন এবং হাত জোড় করে প্রার্থনা করেন যেন
  138. 7:11আমি ওনাদের সাহায্য করি। আপনাদের একটা কথা
  139. 7:14বলতে চাই। আমি সকলকে সাহায্য করতে পারবো
  140. 7:18না। কিন্তু আমি শিক্ষা অবশ্যই দিতে পারব।
  141. 7:21জ্ঞান প্রদান করতে পারব। এমন কিছু জ্ঞান
  142. 7:25যার ভিত্তিতে মানুষ যা চাইবেন তাই লাভ
  143. 7:28করতে পারবেন যদি সঠিক কর্ম করতে থাকেন।
  144. 7:32যখন কংশের অসুররা গোকুলে ধ্বংসলীলা
  145. 7:35চালাচ্ছিলেন তখন আমি কারোর থেকে সাহায্য
  146. 7:38চাইনি। আমি দাঁড়িয়েছিলাম এবং আমি তার
  147. 7:42বিরোধিতা [মিউজিক] করেছিলাম। সবাই বলেন যে
  148. 7:45আমি ছোট্ট একটা আঙ্গুলে গোবর্ধন হেল
  149. 7:48তুলেছিলাম। কিন্তু আমি কি ওখানে একা
  150. 7:50ছিলাম? কখনোই নয়। আমার সাথে অসংখ্য
  151. 7:54গোকুলবাসী অসংখ্য বর্ষণাবাসী ছিলেন নিজের
  152. 7:57হাতে একটা লাঠি নিয়ে উনাদের মনোবল ওনাদের
  153. 8:01আশীর্বাদ আমার সাথে ছিল মহাভারতে আমি
  154. 8:05শুধুই শিক্ষক ছিলাম আমি শুধুই শিক্ষা
  155. 8:08দিয়েছি লক্ষ্য সাধন করেছে অর্জুন যুদ্ধ
  156. 8:12করেছে অর্জুনী এবং জয়ীও হয়েছে অর্জুনী
  157. 8:15আমি শুধুই শিক্ষা দিতে পারি অবশেষে আপনাকে
  158. 8:19শুধু এটুকুই বুঝতে হবে যে ঈশ্বর সবকিছু
  159. 8:22করতে পারেন না। করতে হবে আপনাকে। ঈশ্বর
  160. 8:26আপনাকে আশীর্বাদ করতে পারেন। যে কাজ আপনি
  161. 8:29মন থেকে করবেন সেটা অবশ্যই পূরণ হবে।
  162. 8:32সেইজন্য নিজের লক্ষ্যের পথে এগোতে থাকুন।
  163. 8:36চেতনা, বিবেক এবং পরিশ্রমের দ্বারা আপনার
  164. 8:40যা যা স্বপ্ন আছে, যা লক্ষ্য আছে আপনি
  165. 8:43অবশ্যই লাভ করবেন। আর এই মন সুপ্রসন্ন
  166. 8:47হয়ে বলবে [মিউজিক] রাধে রাধে। সুখ, দুঃখ
  167. 8:51এবং শক্তি। এই তিন হলো এই সংসারের
  168. 8:55ত্রিদেবের মত। আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটছে
  169. 8:59এই তিনটির [মিউজিক] ভিত্তির উপরেই হচ্ছে।
  170. 9:02আসলে এই সংসারের একটা নিয়ম আছে। যখনই
  171. 9:06আপনি কিছু লাভ করেন এই সংসার আপনার
  172. 9:08পরীক্ষা নেয়। এটা জানার [মিউজিক] জন্য
  173. 9:11পরীক্ষা নেয় যে আপনি যা কিছুই লাভ করেছেন
  174. 9:14আপনি কি আদৌ সেটার যোগ্য কিনা। ঠিক
  175. 9:17সেইভাবেই এই সুখ, দুঃখ এবং শক্তি আপনার
  176. 9:21পরীক্ষা নিয়ে থাকে। যখন সুখ আসে তখন সে
  177. 9:25আপনার পরীক্ষা নেয় যে আপনার মধ্যে অহংবোধ
  178. 9:28জাগ্রত হয়নি। তো যদি অহংবোধ চলে আসে
  179. 9:32তাহলে সুখ সেখানেই সঙ্গ ত্যাগ করে। দুঃখ
  180. 9:36আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে থাকে। আর যদি
  181. 9:39আপনার মধ্যে ধৈর্য না থাকে তাহলে এটা
  182. 9:42আপনাকে আরো বেশি দুঃখের গভীর অন্ধকারে
  183. 9:44ঠেলে দেবে। সেখানে শক্তি পরীক্ষা নেয়
  184. 9:48আপনার বিনম্রতার। যদি আপনি বিনম্র না হন
  185. 9:51তাহলে হয় এই শক্তি আপনার সঙ্গ ত্যাগ
  186. 9:54করবে। নয় এই শক্তি বিনম্রতার অভাবে আপনার
  187. 9:58পতনের কারণ হতে পারে। এই সংসারে যে কোন
  188. 10:01ব্যক্তি যিনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে
  189. 10:04থাকেন এই জীবনে তিনি সাফল্য লাভ করেন।
  190. 10:08আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  191. 10:12কখনো কখনো অন্ধকারের সাথে লড়াই করার জন্য
  192. 10:14আমরা প্রদীপ জ্বালাই। এতে প্রথমে সলতে
  193. 10:17রাখি। তারপর তেল [মিউজিক] ঢালি। তারপর
  194. 10:19আগুন জ্েলে এটা প্রজ্জ্বলিত করি। তারপর
  195. 10:22একটা সময় আসে যখন এই প্রদীপ নিভে যায়।
  196. 10:25কারণটা কি? কারণ কি এটা? যে প্রদীপের
  197. 10:28প্রকাশমান হওয়ার ক্ষমতা সমাপ্ত হয়েছে?
  198. 10:30না। এই যে আগুন আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই
  199. 10:33আগুনের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তা
  200. 10:36আসে এই তেল থেকে। যদি এই তেল সমাপ্ত হয়ে
  201. 10:39যায় তাহলে এই প্রকাশও সমাপ্ত হয়ে যায়।
  202. 10:42আর আমাদের জীবনে এই তেল হলো আমাদের কর্ম।
  203. 10:45আর এই আগুন আর এর দ্বারা উৎপন্ন হওয়া
  204. 10:48প্রকাশ আমাদের ভাগ্য। যত আমাদের কর্মক্ষীণ
  205. 10:52হতে থাকবে আমাদের ভাগ্য সৌভাগ্য কোথাও না
  206. 10:55কোথাও লুপ্ত হয়ে যাবে। যে উজ্জ্বল
  207. 10:57ভবিষ্যৎ আমরা চাইছি তা কখনো লাভ করতে
  208. 11:00পারবো না। যদি কর্ম না করি। ঠিক যেমন তেল
  209. 11:04ছাড়া অগ্নি উৎপন্ন হয় না তেমনি কর্ম
  210. 11:06ছাড়া সৌভাগ্য হয় না। আর যেমন কর্ম তেমন
  211. 11:09ভাগ্য। তাই সবসময় কর্ম করতে থাকুন। কর্ম
  212. 11:13করা থামাবেন না। আর আমার সাথে ভালোবেসে
  213. 11:15বলুন রাধে রাধে। জীবনে তিনটি বিষয় আছে।
  214. 11:20তিনটি বস্তু আছে তারা যেন আপনাকে কখনো বশ
  215. 11:23করে নিতে না পারে। প্রথম হলো ধন। ধন
  216. 11:26যতক্ষণ আপনি ব্যবহার করতে থাকেন, যতক্ষণ
  217. 11:29তা আপনার কাজে আসছে ততক্ষণ ঠিক আছে। এই ধন
  218. 11:32আপনার অমৃত। কিন্তু যখন এই ধন আপনাকে
  219. 11:35ব্যবহার করতে শুরু করে বুঝে যাবেন যে
  220. 11:38আপনার পতনের সময় শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়
  221. 11:41বিষয় ফেলে আসা অতীত। যাই করুন আপনি অতীত
  222. 11:45পাল্টাতে পারবেন না। আর এই সত্যিটা আপনিও
  223. 11:47জানেন। কিন্তু তাও এর বশবর্তী আমরা হয়ে
  224. 11:50পড়ি। আর যখন তাই হয় তখন এই সংসারে আমরা
  225. 11:53যেখানেই যাই না কেন যত বড়ই সুখ লাভ করি
  226. 11:56না কেন সেই সব আমাদের কাছে তিক্ত বলে মনে
  227. 11:58হয়। তৃতীয় বিষয় আপনার আশেপাশের মানুষ।
  228. 12:02ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মানুষ হয় যাদের
  229. 12:04চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন
  230. 12:07প্রকারের। যদি এদের বশবর্তী আপনি হয়ে
  231. 12:09পড়েন তাহলে কেউ বলবে এটা করো এটা ভালো।
  232. 12:12কেউ বলবে এটা করো না ওটা করো ওটা ভালো
  233. 12:15কাজ। কেউ বলবে এই দুটোই করো না অন্য কিছু
  234. 12:18করো। এই কথাগুলিতে আপনি এতটাই জড়িয়ে
  235. 12:21পড়বেন যে আপনি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়বেন।
  236. 12:24তাই এই তিন বিষয় থেকে সাবধানে থাকবেন।
  237. 12:26যদি কোন কিছু বশ করতে হয় তাহলে আপনাকে বশ
  238. 12:30করতে হবে [মিউজিক] আপনার আজকে। নিজের
  239. 12:32বর্তমানকে। এটা খুব প্রয়োজনীয়। এটা
  240. 12:35ভাববেন যে এই সময়ের সৎব্যবহার আমি কিভাবে
  241. 12:38করব? সময়কে শাসন কিভাবে করব? ওই কর্ম
  242. 12:42কিভাবে করব? যাতে ভবিষ্যতে কখনো আমার
  243. 12:44আফসোস না হয়। বরং এই সংসার আমাকে নিয়ে
  244. 12:47গর্ব করবে। সেই কর্ম করুন। আর যখন আপনি
  245. 12:50এটা শিখে নেবেন তখন আপনি নিজেই নিজেকে
  246. 12:52প্রকৃত অর্থে ভাগ্যশালী করে তুলবেন। আসুন
  247. 12:56আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে ভোজন।
  248. 13:00এই সংসারে যেই হোক না কেন কোন মানুষ হোক,
  249. 13:03কোন প্রাণী হোক, কোন কীট হোক বা কোন
  250. 13:06বনস্পতি হোক প্রত্যেকের জন্য ভোজন অতি
  251. 13:09আবশ্যক। কারণ ভোজন থেকেই শক্তি পাওয়া
  252. 13:13যায়। আর সেই শক্তি দিয়েই সংসারের আমাদের
  253. 13:16জীবনের সমস্ত কার্য করা যায়। এবার এমন এক
  254. 13:20ধরনের শক্তি হয় যা শীতের ঋতুতে সূর্য
  255. 13:23থেকে আমরা পেয়ে থাকি। আর আরেক ধরনের
  256. 13:26উত্তাপ [মিউজিক] হয় যা দিয়ে ভোজন রান্না
  257. 13:28করা হয়। সুস্বাধু নানান ধরনের ভোজন। এবার
  258. 13:32অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো যে ব্যক্তি সেই
  259. 13:34ভোজন বানাচ্ছেন তার মানসিক পরিস্থিতি এবং
  260. 13:38সেই ব্যক্তি যিনি ভোজন গ্রহণ করছেন তার
  261. 13:41মানসিক অবস্থা। যখনই আপনি ভোজন বানাচ্ছেন
  262. 13:45তখন ভালোবাসার সাথে কাজটা করুন ধনাত্মক
  263. 13:48ভাব নিয়ে সৎভাবনার সাথে। কারণ আপনার এই
  264. 13:52মানসিক স্থিতি শক্তির আকারে সেই খাদ্যের
  265. 13:55সাথে মিলে মিশে যায়। আর যখনই আপনি ভোজন
  266. 13:58গ্রহণ করছেন তখন সৎভাবনার সাথে প্রসন্নতার
  267. 14:01সাথে গ্রহণ করুন। ধনাত্মক ভাব নিয়ে যদি
  268. 14:04আপনি প্রসন্নতার সাথে রান্না করেন,
  269. 14:06প্রসন্নতার সাথে খাদ্য গ্রহণ করেন তাহলে
  270. 14:09আপনি প্রসন্নই থাকবেন। আর মন সুপ্রসন্ন
  271. 14:12হয়েই বলবে রাধে রাধে। দীপাবলী আমাদের
  272. 14:16সবথেকে বড় উৎসব। রাম রাবণকে পরাস্ত করে
  273. 14:1914 বছরের বনবাস কাটিয়ে আবার অযোধ্যায়
  274. 14:22ফিরে এলেন অমাবস্যার রাত্রে। অযোধ্যায়
  275. 14:25সবাই খুব প্রসন্ন ছিলেন। খুবই উৎসাহিত
  276. 14:28ছিলেন। অযোধ্যায় সহস্র প্রদীপ
  277. 14:30প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল এই উৎসবে। একে
  278. 14:33আমরা দিওয়ালী বলে থাকি। [মিউজিক] এবার এই
  279. 14:35বিষয়ে আমরা সকলে জানি। আপনি কি এটা জানেন
  280. 14:38যে শ্রীরাম বাস্তবে অমাবস্যার এক রাত আগেই
  281. 14:42অযোধ্যায় পৌঁছে গেছিলেন। সবার সামনে
  282. 14:44অমাবস্যার রাতে এসেছিলেন। এর কারণ কি?
  283. 14:47শ্রীরাম প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে যেকোনো
  284. 14:50সময় দিন হোক বা রাত শুভ বা অশুভ হয় না।
  285. 14:54শুভ অশুভ কিছু থাকলে তা হলো মানুষের
  286. 14:57চিন্তা, তার ভাবনা, তার নির্বাচন আর তার
  287. 15:00কর্ম। নিজেই দেখে নিন শ্রীরাম শুভ কাজ করে
  288. 15:03ফিরেছিলেন এবং অমাবস্যার মত গভীর এক
  289. 15:06রাত্রিকেও দীপাবলীতে পরিবর্তিত [মিউজিক]
  290. 15:08করেছিলেন। এমনটাই যদি আমরা করতে পারি
  291. 15:11তাহলে এমন কোন গৃহে যান যেখানে অসহায়
  292. 15:14ব্যক্তি রয়েছেন যা অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর
  293. 15:17সেখানে প্রকাশ প্রজ্জ্বলিত করুন। প্রকাশ
  294. 15:20সহায়তার প্রেরণার, আশার। যদি এমন কিছু
  295. 15:23আমরা করতে পারি তাহলে তাকে প্রকৃত অর্থে
  296. 15:26দীপাবলী বলা যেতে পারে। তাহলে নিজের
  297. 15:29পরিবারের সাথে দীপাবলী পালন করুন। আপনাদের
  298. 15:32শুভেচ্ছা জানাই। আসুন আর আমার সাথে
  299. 15:34ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। এই শুকন
  300. 15:38পাতাটিকে দেখুন। নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে।
  301. 15:41কোন একটা সময় এই পাতাটি একটা [মিউজিক]
  302. 15:43গাছের ডালে ছিল। সেই গাছ ওর লালনপালন করত।
  303. 15:47যখন যখন বাতাস বইতো এই পাতায় কম্পন দেখা
  304. 15:50দিত। মনকে প্রফুল্ল করে তুলতো। কোন একদিন
  305. 15:54এই পাতা গাছের ডাল থেকে ঝরে পড়ে গেল।
  306. 15:56নিঃসন্দেহে ও নিজের স্বাধীনতা পেল কিন্তু
  307. 15:59ও আস্তে আস্তে শুকিয়ে গেল। নিষ্প্রাণ হয়ে
  308. 16:02গেল। দেখুন আমি এই কথা বলছি না যে
  309. 16:04স্বাধীনতা অনুচিত। কখনোই না। কিন্তু যে
  310. 16:07কোন পরিস্থিতিতে স্বাধীন হতে চাওয়া এটা
  311. 16:10নিশ্চিত রূপে অনুচিত। আমরা যদি আমাদের
  312. 16:13জীবনে পরিবারের গুরুত্ব ভেবে দেখি তাহলে
  313. 16:15এই পরিবারে যতই মতভেদ থাকুক না কেন যতই
  314. 16:18মনোমালিন্য থাকুক না কেন যতই বিবাদ থাকুক
  315. 16:22না কেন এইসব মিটিয়ে নেওয়া অত্যন্ত
  316. 16:24প্রয়োজনীয় সেই সবকিছু সমাপ্ত করা
  317. 16:27অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কখনোই পরিবারকে ভাঙতে
  318. 16:30দেবেন না কখনোই পরিবার থেকে দূরে চলে
  319. 16:33যাবেন না এই পরিবার হলো আমাদের জীবনের
  320. 16:35একটা অমূল্য সম্পদ অমূল্য এক আশ্রয় যা এই
  321. 16:39সংসারে হয়তো কোথাও আপনি পাবেন না তাই তাই
  322. 16:41একে আগলে রাখুন। ভেবে নিন আপনি পাতা আর
  323. 16:45আপনার পরিবার সেই গাছ। আসুন আমার সাথে
  324. 16:48ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। এই সংসারে
  325. 16:52সবথেকে বড় ব্যক্তি কে? আপনি বলবেন এ কেমন
  326. 16:55ধরনের প্রশ্ন? কিন্তু এটা হলো সবথেকে উচিত
  327. 16:58প্রশ্ন। কেউ এর উত্তর দেবে যে সেই
  328. 17:01মহাপ্রতাপী রাজা তিনি হলেন সবথেকে বড়
  329. 17:04ব্যক্তি। সেই বড় রাজনীতিবিদ তিনিই সবথেকে
  330. 17:07বড় ব্যক্তি। আমি আপনাকে জানাই যে সংসারের
  331. 17:10সবথেকে বড় ব্যক্তি হলেন তিনি যার সাথে
  332. 17:13দেখা করলে আপনি নিজেকে ছোট মনে করবেন না।
  333. 17:16কোন ব্যক্তি যিনি সবথেকে বেশি শক্তিশালী
  334. 17:20আপনি যদি তার সামনে যান তাহলে উনি আপনার
  335. 17:22অন্তরের শক্তিকে বাইরে বের করে আনবেন।
  336. 17:25আপনার অন্তরের লুকিয়ে থাকা শক্তিকে
  337. 17:27জাগ্রত করতে প্রেরণা প্রদান করবেন। তিনিই
  338. 17:30হলেন বড় ব্যক্তি। তিনিই হলেন মহান
  339. 17:32ব্যক্তি। তিনি নন যিনি নিজের বল এবং
  340. 17:36ঐশ্বর্য দ্বারা আপনাকে তার সামনে ছোট
  341. 17:38প্রমাণ করবেন এবং সেই জন্য শিবা আমার
  342. 17:41আরাধ্য আমার খুব প্রিয় কারণ রাজা হোক বা
  343. 17:44ফকির কেউ যদি ওনার সামনে যান তাহলে সে
  344. 17:47নিজেকে ছোট মনে করেন না আপনিও যদি জীবনে
  345. 17:50অনেক বড় হতে চান তাহলে কাউকে কখনো নিজেকে
  346. 17:53ছোট মনে করতে দেবেন না তার অন্তরে বড়
  347. 17:56হয়ে ওঠার প্রেরণা প্রদান করুন আসুন আমার
  348. 17:59সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে
  349. 18:02সুচের শেষে একটি ছিদ্র থাকে যার দ্বারা
  350. 18:05আমরা এই সুতো পড়াতে পারি। আর তারপর সুচের
  351. 18:09সাহায্যে এই সুতো দিয়ে বস্ত্র সেলাই করা
  352. 18:11যায়। কিন্তু যদি সুতোটা সোজা করে ধরা না
  353. 18:14হয় তাহলে সুচে কখনোই সুতো পড়ানো সম্ভব
  354. 18:16নয়। যদি এতে কোন গিট পড়ে তখন তা কখনোই
  355. 18:20এই ছিদ্র দ্বারা প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
  356. 18:22ঠিক এইভাবেই যদি আপনি কারোর জীবনে প্রবেশ
  357. 18:25করতে চান, কারোর অন্তরে প্রবেশ করতে চান
  358. 18:28তাহলে আপনাকেও সহজ থাকতে হবে। এতে কোন গিট
  359. 18:31থাকলে চলবে না। অর্থাৎ মনে যাতে কোন
  360. 18:34মালিন্য না থাকে। যেন কোন কুচিন্তা না
  361. 18:37থাকে। যদি এসব থাকে তাহলে আপনি কখনো কারোর
  362. 18:40জীবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর যদি
  363. 18:42কোনভাবে আপনি প্রবেশ করেও যান তাহলে তার
  364. 18:44মনে ঘর করতে পারবেন না। নিজেকেই সুতোর মতন
  365. 18:48করে তুলুন। সহজ। মনে যেন কোন কুচিন্তা না
  366. 18:51থাকে। সবার প্রতি যেন সৎভাবনা থাকে। শুভ
  367. 18:54চিন্তা থাকে। এমনটা করতে থাকুন। এমন একটা
  368. 18:57দিন আসবে যেদিন এই সমস্ত সংসারের ব্যক্তির
  369. 19:00মনে আপনি বাস করবেন। আর তখন এই মন প্রসন্ন
  370. 19:04হয়ে বলবে রাধে রাধে। এই সংসারে আমরা
  371. 19:08প্রকাশ কোথা থেকে পাই? এর উত্তর বড়ই সরল।
  372. 19:11ভোরে যখন সূর্যোদয় হয় তখন প্রকাশের কিরণ
  373. 19:14আমাদের ঘরে এসে পৌঁছায়। এইভাবেই আমরা
  374. 19:17প্রকাশ লাভ করি। এবার এই প্রকাশের আলোতেই
  375. 19:20আমরা সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করি। সন্ধ্যা
  376. 19:23হয়ে যায়, সূর্যাস্ত হয়ে যায়। আর
  377. 19:25আমাদের ঘর যাতে অন্ধকার না হয় তার জন্য
  378. 19:28আমরা একটা প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করি। এটাই
  379. 19:30ঘটে আমাদের জীবনেও। এবার প্রবাহমান আয়ুর
  380. 19:33সাথে আমরা যদি আমাদের অন্তরে একটা প্রদীপ
  381. 19:36প্রজ্জ্বলিত করিনি তাহলে বিষয়টাই অন্যরকম
  382. 19:38হবে। এবার আপনি বলবেন কোন প্রকাশের কথা
  383. 19:41বলছি যা আমাদের অন্তরে জাগ্রত করা সম্ভব?
  384. 19:44আমাদের আত্মার মাঝে প্রেমের প্রকাশ জাগ্রত
  385. 19:47করার কথা বলছি। কারণ আমাদের এই জীবনও হলো
  386. 19:50দিনের আলোর মত। আজ প্রকাশ আছে কিন্তু
  387. 19:53কোনদিন অবশ্যই অস্ত হবে। কিন্তু অস্ত হবার
  388. 19:56আগে যদি আমরা আমাদের আত্মার মাঝে প্রেমের
  389. 19:58এই প্রকাশ উজ্জ্বলিত করিনি তাহলে আমাদের
  390. 20:01সন্ধ্যাকালও আমরা আনন্দে এবং প্রেমে যাপন
  391. 20:04করব। তাহলে আসুন আর আমার সাথে ভালোবেসে
  392. 20:06বলুন রাধে রাধে। অনেক সময় আমরা জীবনে
  393. 20:10অনেক মানুষকে এমন বলতে শুনে থাকি যে আমি
  394. 20:13অসফল হয়েছি কারণ আমার সময় ভালো যাচ্ছিল
  395. 20:16না। আমি এই জিনিসটা লাভ করতে চাইছিলাম
  396. 20:18কিন্তু করতে পারলাম না। কারণ আমার সময়টা
  397. 20:20ভালো যাচ্ছিল না। আমি আমার জীবনে ওই মহান
  398. 20:24কাজটা করতে চাইছিলাম কিন্তু করতে পারলাম
  399. 20:26না। কেন? কারণ আমার সময়টা ভালো যাচ্ছিল
  400. 20:29না। কিন্তু যে মুহূর্তে ভালো সময় আমার
  401. 20:31জীবনে আসবে আমি সবকিছু প্রাপ্ত করব। এমন
  402. 20:34প্রায় প্রত্যেকেই বলেন। আসুন একটা কথা
  403. 20:37বোঝা যাক। একজন মালিকে দেখুন সে
  404. 20:40প্রত্যেকদিন গাছের সেবা করে তাকে জল দেয়
  405. 20:43তার যত্নাতী করে কেন প্রত্যেকদিন সেই গাছ
  406. 20:46ফল দেয় না সঠিক সময় এলে তবেই সেই গাছ ফল
  407. 20:50দেয় কিন্তু প্রত্যেকদিন মালি তার সেবা
  408. 20:52করে তাকে যত্ন করে শুধুমাত্র তখন করে না
  409. 20:55যখন সেই গাছ ফল দিতে সক্ষম। আর যদি মালি
  410. 20:58গাছের যত্ন প্রতিদিন না করে তাহলে হয়তো
  411. 21:01সেই গাছ ফল দিতেই পারবে না। এটাই হলো
  412. 21:04আমাদের জন্য একটা শিক্ষা। যখন সময় আমাদের
  413. 21:07জন্য অপেক্ষা করে না তখন আপনি সময়ের জন্য
  414. 21:09কেন অপেক্ষা করছেন? ভালো সময়ের জন্য
  415. 21:12অপেক্ষা করবেন না। ভালো এবং শুভ কর্ম
  416. 21:14দ্বারা ভালো সময়কে নিজের কাছে টেনে আনুন।
  417. 21:17নিরন্তর কর্ম করুন। পরিশ্রম করতে থাকুন।
  418. 21:20শুভ সময় আপনা থেকেই আপনার কাছে আসবে।
  419. 21:23আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  420. 21:28সংসারে সকলে উঁচুতে উঠতে চায়। কেউ নত হতে
  421. 21:31চায় না। সবাই এটা মনে করে যে নত হওয়ার
  422. 21:34অর্থ হলো তাদের আত্মসম্মান এবং অহংবোধের
  423. 21:36বিরুদ্ধাচরণ করা। তাদের মনে হয় যে যদি
  424. 21:39আমরা নত হই সংসার আমাদের দুর্বল মনে করবে।
  425. 21:42তাদের সূর্য এবং তাদের ব্যক্তিত্বের অপমান
  426. 21:44হবে। কিন্তু এটা কি সত্যি? প্রত্যেকবার নত
  427. 21:48হওয়ার অর্থ কি? সম্মানহানি হওয়া কষনোই
  428. 21:50নয়। আপনি নিজের জীবনকেই দেখে নিন। আপনার
  429. 21:53কোন অমূল্য জিনিস যদি নিচে পড়ে যায়
  430. 21:55তাহলে তাকে কিভাবে তোলেন? সেই বস্তুকে
  431. 21:58তোলার জন্য আপনাকে নত হতেই হবে। আপনি
  432. 22:01বড়দের আশীর্বাদ কিভাবে লাভ করেন? আপনি নত
  433. 22:03হয়ে তবেই তাদের আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।
  434. 22:05তাই না? ভেবে দেখুন আপনি একটা পথে
  435. 22:08হাঁটছেন। আপনি দেখতে চাইছেন যে আপনি সঠিক
  436. 22:11পথে হাঁটছেন কিনা। পায়ের নিচে কাঁটা পড়ে
  437. 22:13আছে কিনা। কিভাবে দেখবেন? আপনাকে সেই মাথা
  438. 22:16নত করেই দেখতে হবে। এর অর্থ কি? অর্থ খুব
  439. 22:19সহজ। প্রত্যেকবার নত হওয়া অনুচিত নয়।
  440. 22:22সেটা কোনভাবেই সম্মানহানি নয়। পরিস্থিতি
  441. 22:25অনুসারে এবং যেখানে প্রয়োজন আপনি নত হতে
  442. 22:28শিখে গেলে আপনি অনেক কিছুই লাভ করতে
  443. 22:30পারবেন। জ্ঞান, মান, গুণ, বিশ্বাস।
  444. 22:34সেইজন্য প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি অনুসারে
  445. 22:36নত হতে শিখুন। এতে অনুচিত কিছুই নেই।
  446. 22:39আত্মসম্মান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
  447. 22:41কিন্তু তা যেন কখনো অহংকারে পরিণত না হয়।
  448. 22:44এই বিষয়ে অবশ্যই নজর রাখবেন। আর আমার
  449. 22:46সাথে ভালোবেসে বলবেন রাধে রাধে।
  450. 22:50আমাদের জীবনে অনেক ধরনের ব্যক্তি এসে
  451. 22:52থাকেন। কেউ কেউ আমাদের সাথে থেকে যান, কেউ
  452. 22:55আমাদের থেকে দূরে চলে যান। কেউ ভালো মানুষ
  453. 22:57হন, কেউ খারাপ মানুষ। কিন্তু আমরা সবসময়
  454. 23:00সেই সময়টাকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করি যখন
  455. 23:02আমাদের জীবনে কোন খারাপ ব্যক্তি প্রবেশ
  456. 23:04করেন। তারা আমাদের খারাপ অনুভূতি দেন,
  457. 23:06দুঃখ দেন, কষ্ট দেন। আমরা সবাই তাকে
  458. 23:09ভালোমন্দ কথা বলি। কিন্তু কেন? এমন
  459. 23:12বিভিন্ন ধরনের মানুষ, খারাপ মানুষ, ভালো
  460. 23:14মানুষ সবার জীবনেই আসেন এবং সকলকেই একটা
  461. 23:17অমূল্য শিক্ষা দান করে যান। এবার আপনি
  462. 23:20নিজেই ভেবে দেখুন জীবনে প্রথমবার যখন আপনি
  463. 23:22আগুন স্পর্শ করেছিলেন তখন আপনি একটা
  464. 23:25শিক্ষা লাভ করেছিলেন যে আমাকে আগুনের থেকে
  465. 23:27একটু দূরে থাকতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে
  466. 23:30আপনি শিখলেন যে কিভাবে এই আগুনকে
  467. 23:32নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারপর আপনি শিখলেন
  468. 23:34যে কিভাবে নিজের জীবনে তাকে প্রয়োগ করতে
  469. 23:37হবে। তা সে অন্ধকারে প্রকাশ লাভ করার জন্য
  470. 23:39হোক বা খাবার বানানোর জন্য। সেইভাবেই কোন
  471. 23:42খারাপ ব্যক্তি যখন আপনার জীবনে আসে কোন
  472. 23:45শিক্ষা দিয়ে [মিউজিক] যান তার প্রতি
  473. 23:46কৃতজ্ঞ থাকুন। তার বিষয়ে খারাপ ভাবার বা
  474. 23:49খারাপ অনুভূতি নিয়ে থাকার কোন প্রয়োজন
  475. 23:52নেই। সেই শিক্ষা লাভ করুন। ইতিবাচক মনোভাব
  476. 23:55নিয়ে জীবনের সামনে এগিয়ে চলতে থাকুন।
  477. 23:57কেউ নেই যিনি আপনাকে বাধা দিতে পারেন।
  478. 23:59আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  479. 24:03জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে যা আমাদের
  480. 24:06কখনোই করা উচিত নয়। যেমন আশা করা। যদি
  481. 24:10আপনি আশা করেন আর আপনার আশা পূর্ণ না হয়
  482. 24:13আপনি খুবই কষ্ট পাবেন। এবার আপনি যদি
  483. 24:15প্রতীক্ষা করেন করতেই থাকেন আর সেই
  484. 24:18ব্যক্তি যদি না আসে তাহলেও খুব কষ্ট
  485. 24:20পাবেন। আর হলো তুলনা। আপনি যদি তুলনা করতে
  486. 24:24যান তাহলে এটাই ভাববেন যে হয় আমি বা অন্য
  487. 24:27কোন ব্যক্তি এই দুজনের মধ্যে কোন এক
  488. 24:29ব্যক্তি নিকৃষ্ট। আর এই ভাবনাটাই হলো
  489. 24:32অনুচিত। যদি আমরা কথা বলি সেই সব বিষয়ে
  490. 24:35যা আমাদের করা উচিত। যেমন পরীক্ষা এই
  491. 24:38পরীক্ষা সবসময় আমাদের আরো সফল করে তোলে।
  492. 24:41আরো শ্রেষ্ঠ করে তোলে। আরো উৎকৃষ্ট করে
  493. 24:43তোলে। আসন্ন মহাসংগ্রামের জন্য আমাদের
  494. 24:46প্রস্তুত করে তোলে এই পরীক্ষা। তাই এই
  495. 24:48পরীক্ষার থেকে কখনোই পালাবেন না। এর
  496. 24:50সম্মুখীন হন। আর হলো কর্ম। কর্ম করা কখনোই
  497. 24:54বন্ধ করবেন না। তুলনা করার বদলে কর্ম
  498. 24:57করুন। প্রতীক্ষা করার বদলে কর্ম করুন। আর
  499. 25:00আশা করার বদলে কর্মই করুন। জীবন সফল হয়ে
  500. 25:03যাবে। দেখুন সবার শেষে সত্যি বলতে এই কর্ম
  501. 25:06আর এই পরীক্ষা এই দুই আমাদের জীবনকে সুখী
  502. 25:09করে তুলতে পারে। আসুন আর আমার সাথে
  503. 25:12ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। আমি অনেক সংখ্যক
  504. 25:16মানুষকে দেখেছি। তাদের কাছে অত্যাধিক
  505. 25:18জ্ঞান আছে, শিল্প আছে, ধন আছে, কীর্তি
  506. 25:21আছে। কিন্তু তারা এই সবকিছু নিজেদের কাছেই
  507. 25:24রাখেন। এই সমাজে বিতরণ করেন না। কারণ হলো
  508. 25:28ভয়। ওনাদের মনে হয় যে যদি আমি এই সবকিছু
  509. 25:30সমাজে বিতরণ করি তাহলে সমাজ আমার শিল্প
  510. 25:33হোক, ধন হোক, জ্ঞান হোক, কীর্তি হোক
  511. 25:37সবকিছু চুরি করে নিয়ে যাবে। আর তার বদলে
  512. 25:39আমি কিছুই পাবো না। এটা কিন্তু সত্য নয়।
  513. 25:42সত্য হলো এটাই যে যদি আপনি নিজেকে এই
  514. 25:45সংসারের প্রতি সমর্পিত করেন তাহলে এই
  515. 25:47সংসার আপনার প্রতিও সমর্পিত থাকবে। আপনি
  516. 25:50শুধু ধন, জ্ঞান, কীর্তি, সম্মান পাবেন তাই
  517. 25:53নয়। বরং এই সমাজ আপনাকে নিজের চোখে
  518. 25:56হারাবে। মনের মধ্যে স্থান দেবে। তাই এই
  519. 25:59ভয়ের ত্যাগ করে দেখুন কিভাবে এই সমাজ
  520. 26:01আপনাকে প্রেম সমর্পণ করে। আসুন আর আমার
  521. 26:04সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। মানুষ তার
  522. 26:08জীবনে শিক্ষা এবং প্রেম এই দুই লাভ করে
  523. 26:11তার মাতা-পিতা এবং গুরুর কাছ থেকে। কিন্তু
  524. 26:14মানুষ সবথেকে বেশি ভালোবাসে নিজের মাতাকে।
  525. 26:17কারণ মাতা খুব নির্মল চিত্তে ভালোবাসে।
  526. 26:19শান্ত মনে আমাদের অন্তরের শক্তির সঞ্চার
  527. 26:22করে থাকেন। আমাদের উৎসাহ দেন, বলশালী করে
  528. 26:24তোলেন। ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয় যে আমরা
  529. 26:27নিজেদের বাবা বা গুরুকে ভালোবাসি না।
  530. 26:29তাদেরকেও আমরা অত্যন্ত ভালোবাসি। শুধু
  531. 26:32ওনাদের কঠোর ব্যবহার দেখলে আমরা একটু ভয়
  532. 26:34পেয়ে যাই। এবার ওনাদের এই কঠোর ব্যবহার
  533. 26:37আমাদের ভালো না লাগলেও অত্যন্ত আবশ্যক।
  534. 26:40কারণ মাতার থেকে আমরা যে শক্তি লাভ করি তা
  535. 26:42যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বংসী না হয়ে
  536. 26:44ওঠে। আমরা যেন কোন কুপথে না চলে যাই। আমরা
  537. 26:47কখনো যেন দোষ না করে ফেলি। শুধু সেই জন্য
  538. 26:51পিতা এবং গুরু একটু কঠোর হয়ে ওঠেন এবং
  539. 26:54ওনাদের এই কঠোর আচরণ ভবিষ্যতে গিয়ে আমরা
  540. 26:56অবশ্যই বুঝতে পারি। জীবনে কিছু বছর আমরা
  541. 26:59এগিয়ে যাই। আর তারপর আমরা বুঝতে পারি যে
  542. 27:02বাবা এবং গুরু আমাদের যথেষ্ট ভালোবাসতেন।
  543. 27:05কিন্তু ওনাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
  544. 27:07আলাদা। প্রয়োজনীয় হলো এটা দেখার এটা
  545. 27:09বোঝার যে শুরু থেকে আমাদের প্রতি ওনাদের
  546. 27:12আচরণ কেমন ছিল। উনাদের কঠোর হওয়ার পেছনে
  547. 27:15উনাদের ভালোবাসাটা বোঝার চেষ্টা করুন।
  548. 27:17উনাদের চিন্তাটা বোঝার চেষ্টা করুন।
  549. 27:19উনাদের পথপ্রদর্শনের আড়ালে আপনার
  550. 27:22ভবিষ্যতের জন্য যে পরিকল্পনা ওনারা করেছেন
  551. 27:24সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। তখন আপনারা বুঝতে
  552. 27:27পারবেন ওনাদের ভালোবাসাকে। আপনার মনের
  553. 27:30মধ্যে আপনা থেকেই ওনাদের প্রতি সম্মান
  554. 27:32জেগে উঠবে। নিজের পিতা এবং নিজের গুরু এই
  555. 27:35দুজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আর
  556. 27:38আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। মানুষ
  557. 27:41তার জীবনে দুই ধরনের পরিস্থিতিকে খুব ভয়
  558. 27:44পায়। এক, কোন কারণবসত কারো সামনে নত
  559. 27:47হওয়া? দুই, কোন কারণে নিজের চরিত্র থেকে
  560. 27:50নিজের মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়া। এবার
  561. 27:53কেন হয় এরকম? যে কথায় কথায় কারো সামনে
  562. 27:55নত হতে হয়? কেন বারংবার নিজের চরিত্র
  563. 27:57থেকে চ্যুত হতে হয়? এরকম কেন হয়? এটা
  564. 28:00তখনই হয় যখন আমাদের শিক্ষা এবং
  565. 28:02মূল্যবোধের অভাব থাকে। যদি মানুষের মধ্যে
  566. 28:05প্রকৃত শিক্ষা থাকে তাহলে এই সংসারে কোন
  567. 28:07সময় এবং কারো সামনেই নত হওয়ার কোন
  568. 28:10প্রয়োজন নেই। যদি মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ
  569. 28:12থাকে তাহলে তাকে নিজের মূল্যবোধ বা চরিত্র
  570. 28:15থেকে বিচ্যুত হতে হয় না। তা সে যাই হয়ে
  571. 28:17যাক না কেন। কোন বালককে যদি জন্ম থেকেই
  572. 28:19সুশিক্ষার অধিকারী করা হয়, শিক্ষিত করা
  573. 28:22হয়, মূল্যবোধের অধিকারী করা হয় তবে সেই
  574. 28:24সংসারে এমন কর্ম করবে যাতে সে নিজেকে,
  575. 28:27নিজের পরিবারকে, সমগ্র সমাজকে গর্বিত করতে
  576. 28:30পারে। শিক্ষা লাভ করুন, মূল্যবোধ লাভ করুন
  577. 28:33এবং আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  578. 28:36এই সংসারে কোন বস্তু হোক বা ব্যক্তি হোক
  579. 28:39তার একার গুরুত্ব কিন্তু খুব বেশি নয়।
  580. 28:41একটা উদাহরণ হিসেবে বৃষ্টির ফোঁটাকে ভেবে
  581. 28:43দেখুন। যদি একটি বৃষ্টির ফোঁটা হয় তাহলে
  582. 28:46তার খুব বেশি গুরুত্ব থাকে না। কিন্তু যখন
  583. 28:48সহস্র বৃষ্টির ফোঁটা মেঘের মধ্যে দিয়ে
  584. 28:50ঝরে পড়ে তখন সেটা বর্ষার রূপ ধারণ করে।
  585. 28:53সেই বর্ষা যাই প্রকৃতিকে শান্ত করে।
  586. 28:56সেইভাবেই পাথরের ছোট টুকরোর খুব বেশি
  587. 28:58গুরুত্ব থাকে না। কিন্তু যখন অসংখ্য
  588. 29:00পাথরের টুকরো একত্রিত হয় তখন তা পর্বতের
  589. 29:03আকার ধারণ করে। সেইভাবেই কিছু মানুষ যখন
  590. 29:06একত্রিত হন তখন তৈরি হয় পরিবার। কিছু
  591. 29:09পরিবার যখন একত্রিত হন তখন তৈরি হয় সমাজ।
  592. 29:12যখন অনেক সংখ্যক সমাজ একত্রিত হন তখন তৈরি
  593. 29:15হয় রাজ্য। এবার এই রাজ্যের সবথেকে
  594. 29:17গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে পারেন রাজা।
  595. 29:19কিন্তু তাও সেই রাজা একা কিছু করতে পারেন
  596. 29:22না। যুদ্ধ লড়ার সময় তারও নিজের
  597. 29:24সৈন্যদলকে প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এই
  598. 29:26সংসারে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি একাই
  599. 29:28সব কাজ করতে থাকেন এবং সেই ব্যক্তি হলেন
  600. 29:31মা। আমাদের জীবনে একজন পিতার ভূমিকা
  601. 29:33কিন্তু নিঃসন্দেহে অমূল্য। কিন্তু আমাদের
  602. 29:36সকলের জীবনে যে ভূমিকা একজন মায়ের তা
  603. 29:38অন্য কারোর থাকে না। [মিউজিক] একজন মা
  604. 29:40একাই সন্তানকে বড় করতে পারেন। সংস্কারই
  605. 29:42করে তুলতে পারেন। তার জন্য পরিশ্রম করেন।
  606. 29:45আর এত কিছু কাজ করার পরেও তার কাজের জন্য
  607. 29:47তিনি প্রশংসা অবশ্যই পান না। উল্টে যদি
  608. 29:50সেই সন্তান অনুচিত পথে চালিত হয়, অনুচিত
  609. 29:52কর্ম করে তখন সেই মাকেই অপবাদের পাত্র
  610. 29:55হয়ে উঠতে [মিউজিক] হয়। আমাদের জীবনে
  611. 29:57মায়ের যোগদান কতটা সেটা বুঝুন। আপনাকে
  612. 29:59বড় করে তোলার জন্য উনি কতটা পরিশ্রম
  613. 30:01করেছেন সেটা বুঝুন। আজ থেকে এখন থেকে এই
  614. 30:04মুহূর্ত থেকে মাকে সম্মান করতে শিখুন। যখন
  615. 30:08সময় পাবেন যখন সুযোগ হবে তখন তার প্রশংসা
  616. 30:10করুন। উনারও ভালো লাগবে। আর মায়ের এই
  617. 30:13মমতার জন্য তার এই ভূমিকার জন্য আসুন সবাই
  618. 30:16মিলে আমরা তাকে প্রণাম করি। আর সকলে মিলে
  619. 30:18ভালোবেসে বলি রাধে রাধে। কথায় আছে যে এমন
  620. 30:23কোন অক্ষর নেই যার দ্বারা কোন মন্ত্র হয়
  621. 30:25না। এমন কোন বনস্পতি নেই যা নিজেই একটা
  622. 30:29ঔষধী নয়। পৃথিবীর এমন কোন ব্যক্তি নেই
  623. 30:32যার মধ্যে কোন যোগ্যতা থাকে না। শুধু
  624. 30:35প্রয়োজন হলো যে ব্যক্তিকে আমরা খুঁজে
  625. 30:37চলেছি তাকে সঠিকভাবে চিনে নেওয়া। যদি তার
  626. 30:40যোগ্যতা তার বিশেষত্ব আমরা বুঝতেই না পারি
  627. 30:43তাহলে আর লাভ কি রইলো? এই সংসারে এমন অনেক
  628. 30:47ব্যক্তি রয়েছেন যারা ছোট ছোট অসফলতার
  629. 30:49কারণে আপনাকে এটা বলে দেবে যে আপনি কোন
  630. 30:52কাজের নন। আপনি মূর্খ। আপনি কিছুই করতে
  631. 30:55পারবেন না। এইসব কথায় কখনোই বিশ্বাস করবেন
  632. 30:58না। কারণ আপনি এবং প্রত্যেকটি জীব এই
  633. 31:01পরমাত্মা এবং এই প্রকৃতির সৃষ্টি যা
  634. 31:04অত্যন্ত বিশেষ। যদি আপনাকে উদাহরণ দিই
  635. 31:07তাহলে একদিকে আছে তরোয়াল। একটা বড় লম্বা
  636. 31:10তরোয়াল যার দ্বারা যুদ্ধ করা যায়, জয় লাভ
  637. 31:13করা যায়। আর অন্যদিকে রয়েছে একটা ছোট্ট
  638. 31:16সুচ। কিন্তু যে কাজ একটা ছোট্ট সুচ করতে
  639. 31:19পারে তা একটা তরোয়াল দ্বারা সম্ভব নয়। এর
  640. 31:22অর্থ হলো এটাই যে প্রত্যেকটা রচনা অত্যন্ত
  641. 31:25অমূল্য এবং অত্যন্ত বিশেষ হয়। তাহলে
  642. 31:28বিশ্বাস রাখুন যে আপনি অত্যন্ত বিশেষ
  643. 31:31একজন। আর প্রেমের সাথে বলুন রাধে রাধে।
  644. 31:35এটা হলো ধান গাছ। এর থেকে যে চাল উৎপন্ন
  645. 31:38হয় তা মানুষ গ্রহণ করেন। আর এটা কি? এ
  646. 31:41হলো জংলি ঘাস। একবার ভেবে দেখুন যদি জংলি
  647. 31:44ঘাস ধান গাছের আশেপাশে থাকে তাহলে কি হবে?
  648. 31:47ধান উৎপন্ন হতে পারবে? তা উৎকৃষ্ট হতে
  649. 31:50পারবে? আমরা কি তা গ্রহণ করতে পারবো?
  650. 31:52কষনোই নয়। এই জংলি ঘাস ধানকে নষ্ট করে
  651. 31:56দেবে কিন্তু নিজে জীবিত থাকবে। এটাই হলো
  652. 31:59আজকের শিক্ষা। এই সংসারে যদি আপনি নীতির
  653. 32:01পথে চলতে চান, উচিত কর্ম করতে চান,
  654. 32:04সংসারকে সেবা করতে চান তাহলে জংলি ঘাসের
  655. 32:07মত ব্যক্তিদের থেকে সবসময় দূরে থাকতে
  656. 32:10হবে। সেই ব্যক্তি যারা দুর্নীতি এবং
  657. 32:12মিথ্যা দ্বারা পরিপূর্ণ। যাদের ব্যবহার
  658. 32:15অশুভ। যাদের অনেক অশুভ গুণ রয়েছে তারা
  659. 32:18সঠিক নয়। সেই সকল ব্যক্তি যাদের চরিত্র
  660. 32:21অত্যন্ত দুষ্ট তারা হয় শুভ চরিত্রের
  661. 32:23ব্যক্তিকে একদম নষ্ট করে দেয় নয় নিজের
  662. 32:26মত বানিয়ে তোলে। তাই যদি আপনি নীতির পথে
  663. 32:28চলতে চান এই সংসারের জন্য শুভ কর্ম করতে
  664. 32:31চান তাহলে সেই সঙ্গ লাভ করুন যে সঙ্গ
  665. 32:34জ্ঞানে পরিপূর্ণ। যাদের মধ্যে অনেক গুণ
  666. 32:37আছে যাদের থেকে প্রতিদিন কিছু শিখতে
  667. 32:39পারবেন। এমন ব্যক্তির সাথে জীবন অতিবাহিত
  668. 32:42করুন। দুরাচারীদের থেকে দূরে থাকুন। তবেই
  669. 32:45এই মন প্রসন্ন হয়ে বলবে রাধে রাধে।
  670. 32:48পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে দ্বিতীয় তত্ত্ব হলো
  671. 32:50ধরণী ভূমি যাকে আমরা ধরণী মাতা বলি এই
  672. 32:54ধরণী ধৈর্য ধারণ করে আর এর ওপরেই আমাদের
  673. 32:57সমগ্র সংসার নির্ভরশীল কারণ এই ভূমি সহ্য
  674. 33:00ক্ষমতা রাখে এর সহ্য ক্ষমতা হলো অপরিসীম
  675. 33:04সন্তান যতই আঘাত প্রদান করুক না কেন
  676. 33:06প্রেমপূর্বক সহ্য করে আর তার বদলে অমূল্য
  677. 33:10রত্ন প্রদান করে সন্তান যদি হাল চালায়
  678. 33:13তাহলে তার বদলে তাকে অন্ন প্রদান করে এটাই
  679. 33:16হলো ধরণী এবার এর থেকে আমরা কি শিক্ষা
  680. 33:18পেতে পারি? এটাই কারোর জন্য কিছু করা বা
  681. 33:21কাউকে কিছু দেওয়া মনে কোন কামনা ছাড়াই।
  682. 33:24আর এই কথাটা বুঝে যান যদি কারোর জন্য
  683. 33:26কামনা না রেখে বা কোন পাওয়ার আশা না রেখে
  684. 33:29কারোর জন্য কিছু করেন বা কারোকে কিছু দেন।
  685. 33:32যদি এটা আপনি শিখে যেতে পারেন তবেই আপনি
  686. 33:34ভালোবাসতে শিখে গেছেন। আর সেই জন্যই এই
  687. 33:37ধরিত্রীকে মাতা বলা হয়। কারণ মাতা তো উনি
  688. 33:40নন যিনি গর্ভে সন্তানকে ধারণ করেন। মাতা
  689. 33:43তো উনিও যিনি জীবন বাঁচতে শেখান। যিনি
  690. 33:46জীবন বাঁচার উদাহরণ প্রদান করেন। তাহলে এই
  691. 33:49ধরণীর থেকেই নিঃস্বার্থ ভাব শিখুন।
  692. 33:51নিঃস্বার্থ ভালোবাসা শিখুন। আর এই
  693. 33:53ভালোবাসার সাথেই বলুন রাধে রাধে। ভয়ের
  694. 33:57সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কষ্ট আমরা সবাই
  695. 34:00পেয়েছি। কখনো কখনো আমরা অসুস্থ হয়ে
  696. 34:02পড়ি। আর এমন সময় হলে মাতার মমতা। কখনো
  697. 34:05বাবার স্নেহ, কখনো বন্ধুদের পাশে থাকা
  698. 34:08অনুভূতি আমাদের রোগ নিরাময় সাহায্য করে।
  699. 34:11কখনো যদি আমরা নিরাশ হয়ে পড়ি। তখন যদি
  700. 34:13আমাদের কোন আপনজন আমাদের দুটো ভালো কথা
  701. 34:16বলে তখন আমাদের মনোবল বেড়ে যায়। ঠিক
  702. 34:18তেমন সংসারের এই রঙ্গমঞ্চে যদি আপনি
  703. 34:20পীড়িত অনুভব করেন কিছু শুভ কথা আলোচনা
  704. 34:23করুন। কিছু স্তুতি গান করুন। কিছু
  705. 34:26মুহূর্তের জন্য হলেও নিজের ইষ্টদেবের কথা
  706. 34:28স্মরণ করুন আর প্রার্থনা করুন। সাহস
  707. 34:31বাড়বে। শক্তিও বৃদ্ধি পাবে এবং সামনে
  708. 34:34এগিয়ে চলার পথও দেখতে পাবেন। তখনই মন
  709. 34:36প্রসন্ন হয়ে বলবে রাধে রাধে। জীবন কিসের
  710. 34:40উপর নির্ভরশীল? ধনের উপর, বৈভবের উপর,
  711. 34:44নিঃশ্বাসের উপর। না এই জীবন নির্ভরশীল
  712. 34:47বিশ্বাসের উপর। বিশ্বাস নিজের উপর,
  713. 34:50বিশ্বাস আমাদের আপনজনের উপর। কিন্তু যখনই
  714. 34:53বিশ্বাস ভেঙে যায় তখন মানুষের মনও ভেঙে
  715. 34:55যায়। আর তারপর সে অন্য কিছু করতেই পারে
  716. 34:58না। তখন কি করা যেতে পারে? তিনটে কাজ আছে
  717. 35:01যা আপনি করতে পারেন। প্রথম ভালোবাসা। যাকে
  718. 35:05আপনি ভালোবাসেন যারা আপনাকে ভালোবাসেন ভুল
  719. 35:08যারই হোক না কেন তার কাছে ক্ষমা চাইতে
  720. 35:10কখনোই সংকোচ বোধ করবেন না দ্বিতীয় হলো
  721. 35:13বিশ্বাস যারা আপনাকে ভালোবাসেন আপনাকে
  722. 35:16বিশ্বাস করেন তাদের বিশ্বাস কখনো ভাঙবেন
  723. 35:19না তৃতীয় হলো আশা যারা আপনাকে ভালোবাসেন
  724. 35:22আপনাকে বিশ্বাস করেন তাদের আশা আপনার সাথে
  725. 35:24জড়িত [মিউজিক] তাদের থেকে কখনো কিচ্ছু
  726. 35:27লুকাবেন না এই তিনটে কাজ করুন আর এই জীবন
  727. 35:30প্রসন্ন হয়ে বলবে রাধে রাধে মানুষের
  728. 35:33জীবনে দুই ধরনের আবেগ থাকে যা চিরকাল তার
  729. 35:36সাথে বসবাস করে। প্রথম স্বপ্ন দ্বিতীয়
  730. 35:39অজুহাত। মানুষ হাজার হাজার স্বপ্ন দেখতে
  731. 35:42পারে। আমাকেই কাজ করতে হবে। আমাকে ওখানে
  732. 35:44ঘুরতে যেতে হবে। আমায় জীবনে এই অসম্ভব
  733. 35:47কাজ বাস্তবায়িত করে দেখাতে হবে। আদি
  734. 35:49ইত্যাদি। এবার ঠিক যেমন স্বপ্ন দেখেন
  735. 35:52সেইভাবে অজুহাতও খুঁজে নিয়ে আসেন। আমি এই
  736. 35:55স্বপ্ন পূরণ করতে পারলাম না। কারণ আমাকে
  737. 35:57কেউ সাহায্যই করলো না। কারণ আমি দুর্বল
  738. 35:59হয়ে পড়েছিলাম। কারণ আমার কাছে সময়ই ছিল
  739. 36:02না। আদি ইত্যাদি। এবার সাফল্য এবং অসফলতার
  740. 36:05মাঝখানে এই ধরনের সংঘর্ষ হতে থাকে। সাফল্য
  741. 36:08তখন লাভ করা সম্ভব যখন আপনার স্বপ্ন আপনার
  742. 36:11অজুহাতের থেকে অনেক বড় হয়। আর অসফলতা
  743. 36:14তখন পাবেন যখন আপনার অজুহাত আপনার
  744. 36:16স্বপ্নের থেকে অনেক বড় হয়। আপনি যদি
  745. 36:19সাফল্য লাভ করতে চান তাহলে চেষ্টা করতে
  746. 36:21থাকুন। পরিশ্রম করুন। যদি অসফল হন তাহলে
  747. 36:24ভয়ভীত হবার কোন প্রয়োজন নেই। নিজের ভুল
  748. 36:27বুঝুন। তাকে শুধরে নিন। আবার চেষ্টা করুন।
  749. 36:30কিন্তু যদি নিজের জীবনে অজুহাত নিয়ে আসেন
  750. 36:32তখন স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না। আসুন আমার
  751. 36:36সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। সংসারে
  752. 36:39আমাদের জীবনে যখন কোন সুখ বা দুঃখ আসে তার
  753. 36:42জন্য আমরা কাউকে না কাউকে অবশ্যই দায়ী
  754. 36:45করে থাকি। তাই না? এই ব্যক্তি আমাদের সাথে
  755. 36:47এরকম কাজ করেছেন তাই আমার সাথে এমন হলো।
  756. 36:50ওই ব্যক্তি যদি এমনটা না করতেন তাহলে আজ
  757. 36:53আমি ওই স্থানে পৌঁছাতে পারতাম। সবই আপনার
  758. 36:56দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল। আর যদি আপনার
  759. 37:00দৃষ্টিভঙ্গি এমন হয় তাহলে তা অনুচিত।
  760. 37:03সত্যি কথা বলতে এই সংসারে ভিন্ন ভিন্ন
  761. 37:06ধরনের মানুষ আছে। এটা আপনার উপর নির্ভর
  762. 37:09করছে কিভাবে তাদের স্বাগত জানাবেন। একবার
  763. 37:12ভাবুন আমি আমার দুটো হাত সামনে নিয়ে
  764. 37:14এলাম। দুটো মুঠো খুলে দিলাম। দুই প্রকারের
  765. 37:17মানুষ আসবেন। কিছু না কিছু দিয়ে যাবেন।
  766. 37:20এই মুঠো যদি আমি বন্ধ করে [মিউজিক] দিই
  767. 37:22তাহলে না কেউ আমাকে কিছু দিতে পারবে না
  768. 37:25আমার কিছু যাবে আসবে। নিশ্চয়ই বুঝতে
  769. 37:27পারছেন এই দুই ধরনের ব্যক্তি কারা এবং
  770. 37:30তারা কি দিয়ে যান। আমি যদি নিজের মুঠো
  771. 37:33খুলে দিই তাহলে কিছু ভালো মানুষ আসবেন
  772. 37:35আমাকে আনন্দ সন্তুষ্টি জ্ঞান প্রদান করে
  773. 37:38যাবেন ভালো অভিজ্ঞতা দিয়ে যাবেন। কোন
  774. 37:41খারাপ ব্যক্তি যদি আসেন তাহলে তিনিও খারাপ
  775. 37:43অভিজ্ঞতা দেবেন যার থেকে আমি শিক্ষা লাভ
  776. 37:46করব। এই সবকিছু আমি লাভ করতে পারি। মুঠো
  777. 37:49যদি বন্ধ করে রাখি তাহলে আমি কিছুই পাবো
  778. 37:52না। দেখুন এই সংসারে প্রত্যেকের জীবনেই
  779. 37:55এইরকম। প্রত্যেকের জীবনে সবকিছুই আছে।
  780. 37:58ভালো খারাপ দুই মানুষই আছে। ভালো অভিজ্ঞতা
  781. 38:02আছে, খারাপ অভিজ্ঞতা আছে। নির্ভর করছে
  782. 38:05আপনার উপর যে আপনি কি করবেন, এনাদের
  783. 38:08স্বাগত কিভাবে জানাবেন, কার থেকে কি
  784. 38:10বুঝবেন, কি শিখতে পারবেন, আর কোন
  785. 38:13দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হবেন, এটাই
  786. 38:15নির্ধারণ করবে যে আপনার জীবন কেমন হবে।
  787. 38:18আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  788. 38:22জীবনে যখন কোন ব্যক্তি নিজের [মিউজিক]
  789. 38:24লক্ষ্য প্রাপ্তির জন্য নিরন্তর পরিশ্রম
  790. 38:27করতে থাকেন, চেষ্টা করতে থাকেন তখন তখন
  791. 38:30তিনি কষ্ট অনুভব করেন। কখনো শারীরিক কষ্ট,
  792. 38:33কখনো মানসিক কষ্ট। এবার উনি এটা ভাবতে
  793. 38:36থাকেন যে আমি কি উচিত করছি নাকি অনুচিত
  794. 38:39করছি। কারণ অন্যদিকে এমন একজন ব্যক্তিও
  795. 38:42আছেন যিনি একদমই পরিশ্রম চেষ্টা করছেন না।
  796. 38:45তিনি মদিরা পান করেন। বিলাসিতায় জীবন
  797. 38:47কাটান। অলস প্রকৃতির হয়ে ওঠেন। নিদ্রাতে
  798. 38:50বিলীন হয়ে থাকেন। আর ভাবেন [মিউজিক] যে
  799. 38:53তিনি সুখ লাভ করছেন। কিন্তু এরকম কেন হয়?
  800. 38:56কারণ যখন আমরা সৎপথে থাকি, উচিত পথে চলি,
  801. 39:00লক্ষ্য প্রাপ্ত করার জন্য চেষ্টা করতে
  802. 39:02থাকি তখন আমাদের ভেতরে থাকা নেতিবাচক
  803. 39:05শক্তি এবং পাপ এই দেহকে ত্যাগ করে দেয়।
  804. 39:08আর এই অনুভূতিটাই আমাদের দুঃখের অনুভূতি
  805. 39:11দেয়, কষ্ট দেয়। এবার সেখানে যদি আমরা
  806. 39:14কুপথে চলি অনুচিত পথে চলতে থাকি তাহলে
  807. 39:17আমাদের ভেতরে থাকা পূণ্য এবং ধনাত্মক
  808. 39:19শক্তি আমাদের দেহ ত্যাগ করে দেয়। আর এই
  809. 39:22অনুভূতির কারণেই আমরা সুখ অনুভব করি।
  810. 39:25কিন্তু কখনো ভাববেন যে এই সুখ বেশি সময়
  811. 39:28পর্যন্ত থাকে না। সেইজন্য সবসময় মনে
  812. 39:31রাখবেন যদি আপনি জানেন যে এটাই আপনার
  813. 39:34লক্ষ্য এটাই উচিত পথ। শুভ পথ তাতে
  814. 39:37নিরন্তরভাবে এগিয়ে যেতে চেষ্টা করতে
  815. 39:40থাকুন। এই কষ্ট আপনাকে সুখের পরাকাষ্ঠায়
  816. 39:43কখন পৌঁছে দেবে তা আপনি জানতেই পারবেন না।
  817. 39:46আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  818. 39:50প্রত্যেক মানুষ নিজের জীবনে হীরক তথা হীরে
  819. 39:54এবং দর্পণ এই দুই দেখেছেন। এরা দুজনেই
  820. 39:57সাদা এবং এরা দুজনেই আলোর প্রতিফলন ঘটায়
  821. 40:00এবং এরা দুজনেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আপনি
  822. 40:03হয়তো মনে মনে ভাবছেন যে এটা কি ধরনের
  823. 40:06তুলনা করছি। একটা হিরে তো রত্ন তার মূল্য
  824. 40:09দর্পণের থেকে অনেক গুণ বেশি। কিন্তু হীরে
  825. 40:12থাকাতে দর্পণের মূল্য কিন্তু কোন অংশে কমে
  826. 40:15যায় না। তাই না? মানুষ যখন হিরে নিজের
  827. 40:18হাতে নেয় তখন সবার আগে কি খোঁজে? দর্পণ।
  828. 40:21যাতে তার মধ্যে দিয়ে দেখে সে বুঝতে পারে
  829. 40:24যে সেই হীরে আদৌ তার শোভা বর্ধন করছে
  830. 40:27কিনা। তাকে ভালো দেখাচ্ছে কিনা। প্রসাধনের
  831. 40:30জন্য সেটা ব্যবহার করা ঠিক হবে কিনা।
  832. 40:33অর্থাৎ হীরের উপস্থিতিতে দর্পণের গুরুত্ব
  833. 40:36কম হলো না। দর্পণের কারণে হীরের মূল্য
  834. 40:38বোঝা গেল। আমাদের জীবনেও ঠিক এই রকমই ঘটে।
  835. 40:42আপনারা যদি সংসারে নিজের আশেপাশে দেখেন
  836. 40:45এমন অনেক মানুষ দেখতে পাবেন যারা নিজেদের
  837. 40:47ক্ষেত্রে মহান স্থানে পৌঁছেছেন। নিপুণ এবং
  838. 40:50শ্রেষ্ঠ হয়েছেন। আর তাদের মধ্যে আপনার
  839. 40:53নিজের মনে হয় যেন আপনি হলেন দর্পণ।
  840. 40:56নিজেকে ছোট মনে করবেন না। আপনার মূল্য কম
  841. 40:59হচ্ছে না। আপনার নিজস্ব মূল্য আছে। আর যদি
  842. 41:02আপনার অস্তিত্ব না থাকে তাহলে ওনাদের
  843. 41:05অস্তিত্বের মূল্য সংসার ভিজতেই পারবে না।
  844. 41:08জীবনে সবসময় চেষ্টা করবেন যাতে আপনি আরো
  845. 41:11বেশি শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেন। আপনি নিজে
  846. 41:13যে স্থানে আছেন সেটাকে ছোট মনে করবেন না।
  847. 41:16তারও নিজস্ব একটা মূল্য আছে। যদি আপনি
  848. 41:19হীরে হয়ে থাকেন তাহলে অহংকার করবেন না।
  849. 41:22যদি আপনি দর্পণ হয়ে থাকেন তাহলে নিজেকে
  850. 41:25ছোট মনে করবেন না। আসুন আর আমার সাথে
  851. 41:28ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। কখনো কোন চাতক
  852. 41:31পাখিকে দেখেছেন? কথাই আছে যে বছরে মাত্র
  853. 41:34একবার সে তার তৃষ্ণা মিটিয়ে থাকে। আর তাও
  854. 41:37আকাশে ভেসে থাকা মেঘের দ্বারা ঘটানো
  855. 41:39বৃষ্টির জলের ফোঁটা থেকে। আর কোথাও থেকে
  856. 41:42সে তার তৃষ্ণা পূরণ করে না। সারা বছর সে
  857. 41:44নিদারুণ গরম সহ্য করে। তীব্র শীতও সহ্য
  858. 41:47করে। শুধু এই আশা নিয়ে যে বছরে একবার
  859. 41:50অন্তত সেই মেঘের ঘনঘটা হবে, বৃষ্টি হবে আর
  860. 41:53সে তার তৃষ্ণা নিবারণ করবে। এটা আসলে কি?
  861. 41:57এটা আসলে বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস যে বছরে
  862. 42:00একবার সেই মেঘ আসবে তৃষ্ণা নিবারণ করতে।
  863. 42:03যেমন দেখুন একটা সূর্যমুখী ফুল। সারারাত
  864. 42:05অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ করে। কারণ তার
  865. 42:08বিশ্বাস যে ভোরবেলায় সূর্য তাকে অবশ্যই
  866. 42:10দর্শন দেবেন। সেটাও বিশ্বাস ছিল। যার উপর
  867. 42:13ভরসা করে মানু একটা নৌকা নিয়ে বেরিয়ে
  868. 42:15পড়েছিলেন এবং সমস্ত সৃষ্টিকে প্রলয়ের
  869. 42:17হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। সেটাও ছিল
  870. 42:20ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস। যার উপর ভরসা
  871. 42:22করে বানর এবং ভাল্লুক সেনা নিয়ে রামা
  872. 42:24আক্রমণ করেছিলেন সমস্ত বড়দান প্রাপ্ত
  873. 42:26অসুরগণ এবং রাক্ষসগণের লঙ্কায় এবং জয়
  874. 42:29লাভ করেছিলেন। এই বিশ্বাসই হলো এই বিশ্বে
  875. 42:32আশা। বিশ্বাস রাখুন যে আপনি হলেন
  876. 42:34সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শুধুই নিজের কর্ম করতে
  877. 42:37থাকুন। এই বিশ্বাসের আশাই আপনাকে প্রতি
  878. 42:40মুহূর্তে বল প্রদান করবে। এ হলো আমার
  879. 42:42বিশ্বাস। আসুন আর আমার সাথে ভালোবেসে বলুন
  880. 42:45রাধে রাধে। যোগাসন। যোগাসনে আসন অত্যন্ত
  881. 42:50গুরুত্বপূর্ণ। এবার আমি বলবো সবথেকে
  882. 42:53শ্রেষ্ঠ আসন কোনটি? আশ্বাস। নিজেকে
  883. 42:56আশ্বস্ত করতে থাকুন যে আমি আছি সব ঠিক
  884. 42:59হবে। যা হচ্ছে ভালোর জন্য হচ্ছে। [মিউজিক]
  885. 43:02এই আশ্বাস আপনাকে জীবনে এমন ধনাত্মক
  886. 43:04বিশ্বাস দেবে যে আপনি বড় বড় সমস্যার
  887. 43:07সমাধান করতে পারবেন। এবার যদি কথা বলি
  888. 43:09সবথেকে কঠিন সময়ের তাহলে সেটা হলো
  889. 43:11বিচ্ছেদের। যা সীতাকে সহ্য করতে হয়েছে
  890. 43:14শ্রী রামের জন্য রাধাকৃষ্ণকেও সহ্য করতে
  891. 43:17হয়েছে। যে ব্যক্তি বিচ্ছেদের সময় সঠিক
  892. 43:19পথে চলে এসেছে সে জীবনে অনেক শ্রেষ্ঠ
  893. 43:22স্থানে অবশ্যই পৌঁছাতে পারবে। এবার যদি
  894. 43:24কথা বলি সবথেকে জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ
  895. 43:26সময়ের তাহলে সেটা হলো সংযোগ। সকলকে
  896. 43:29সাহায্য করতে থাকুন। আপনি অন্যদের সাহায্য
  897. 43:32করে তাদের যত আনন্দ দিতে পারবেন ততটাই
  898. 43:34আনন্দ আপনারও জীবনে অবশ্যই আসবে। আসুন আর
  899. 43:37আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  900. 43:40মানুষের মানসিকতা এমন হয় যে সে যতটা করে
  901. 43:44আশা করে তার থেকে অনেক বেশি সে বদলে পাবে।
  902. 43:47দেখুন সবকিছুই আপনার ভাবনা চিন্তার উপর
  903. 43:50নির্ভর করছে। আপনি যদি ফলের বিষয়ে ভেবে
  904. 43:52কর্ম করতে থাকেন তাহলে সেটা অনুচিত।
  905. 43:55জীবনের আসল আনন্দ হলো নিজের কর্ম করতে
  906. 43:58থাকা। ফলের চিন্তা করা উচিত নয়। যদি আপনি
  907. 44:01এরকম ভাবেন যে আমি এতটা করছি আমার এতটা
  908. 44:04পাওয়া উচিত সেই ভাবনা অনুচিত। যদি আপনি
  909. 44:07সেবার মানসিকতা নিয়ে কর্ম করতে থাকেন,
  910. 44:10কর্মচক্রে প্রবাহিত হন, যদি আপনি এমন
  911. 44:12ভাবনা রাখেন যে আমি এতটা পাচ্ছি, তাই এর
  912. 44:15থেকে অনেক বেশি আমি কর্ম করব, তাহলে
  913. 44:18নিশ্চিত রূপে আপনি যতটা করছেন তার থেকে
  914. 44:21অনেক বেশি আপনি পাবেন। আপনার আশার থেকে
  915. 44:23অনেক বেশি আপনি পাবেন। শুধু জীবনে অনেক
  916. 44:26বেশি কাজ করতে থাকুন। ফলের চিন্তা করবেন
  917. 44:28না। আর মনে রাখবেন এই ভাবনাই সবথেকে বড়
  918. 44:31বীজ। কর্মের উপর বিশ্বাস রাখুন। জীবনে যা
  919. 44:34যা আপনি চান সবই সুখময় হবে। আসুন আর আমার
  920. 44:38সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। আপনি কখনো
  921. 44:41পর্বতের শিখারে উঠেছেন? আপনি দেখতে পাবেন
  922. 44:44পর্বতের পদতলে প্রচুর সুন্দর ফুল রয়েছে।
  923. 44:47সবুজ বনানী রয়েছে। যত আপনি উপরে উঠতে
  924. 44:50থাকবেন তত ফুল কমতে থাকবে। সবুজ বনানী
  925. 44:53কমতে থাকবে। আরো কিছুটা উপরে উঠলে কাঁটা
  926. 44:56জাতীয় গাছ দেখতে পাবেন, শুকনো গাছ দেখতে
  927. 44:59পাবেন। আরো যদি উপরে উঠেন তাহলে পাষান
  928. 45:01দেখতে পাবেন। আরো উপরে উঠলে হিমখন্ড দেখতে
  929. 45:05পাবেন। এই যে পর্বত তা মনুষ্য জীবনের
  930. 45:08সবথেকে উত্তম উদাহরণ। মানুষ যখন সাফল্যের
  931. 45:11শিখরে পৌঁছাতে চান মহানুভবতার শিখরে
  932. 45:13পৌঁছাতে চান পথে যত আস্তে আস্তে উপরে উঠতে
  933. 45:16থাকেন ততই ভৌতিক বস্তু তার থেকে বিচ্ছিন্ন
  934. 45:19হতে থাকে। যদি তিনি সেই ভৌতিক বস্তুগুলি
  935. 45:22ত্যাগ না করতে পারেন তাহলে কখনোই সেই
  936. 45:24স্থানে পৌঁছাতে পারবেন না। আর মানুষ যদি
  937. 45:27উচিত ত্যাগ করতে পারেন, [মিউজিক] পথে
  938. 45:29অগ্রসর হতে থাকেন, এগোতে থাকেন তাহলে
  939. 45:32একদিন না একদিন তিনি মহানুভবতার জ্ঞানের
  940. 45:35সাফল্যের হিমের স্বাদ অবশ্যই লাভ করবেন।
  941. 45:38মনে রাখবেন মানব জীবনের ত্যাগ হলো অত্যন্ত
  942. 45:41গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আসুন আমার সাথে
  943. 45:43ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। আপনি কখনো কোন
  944. 45:46বাজকে নিজের বাসা বানাতে দেখেছেন? এই বাজ
  945. 45:50যখনই কোন বাসা বানায় তখন উঁচু গাছের ডালে
  946. 45:53বা কোন পর্বতের শিখরে বাসা বানায় অনেক
  947. 45:55উচ্চতায়। আর সেখানে তার সন্তানও
  948. 45:58জন্মগ্রহণ করে। যখনই সন্তানেরা জন্মায়
  949. 46:01তখনই বাজ খুবই ভালোবেসে এবং খুব সাবধানে
  950. 46:04এদের পালনপোষণ করে। নিজের ঠোঁট দিয়ে
  951. 46:06তাদের ঠোঁটে খাবার পরিবেশন করে। কিন্তু
  952. 46:09যেই সেই সন্তানেরা খ্রিষ্টপুষ্ট হয়ে যায়
  953. 46:11এবং সেই কথা বাজ নিজে বুঝতে পেরে যায় সেই
  954. 46:14বাজ নিজেই সেই বাসা ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়।
  955. 46:17সেই সন্তান যাদের সবেমাত্র ডানা গজিয়েছে,
  956. 46:20কিভাবে উড়তে হয় তারা জানে না। সেই
  957. 46:22সন্তানগুলিকে উচ্চতা থেকে ঠেলে দেয়। সেই
  958. 46:24সন্তান প্রথমে ভয়ভীত হয়ে যায়। তারা
  959. 46:27সামনে মৃত্যুকে দেখতে পেয়ে ভয়ের কারণে
  960. 46:29তাদের ডানা ঝাপটাতে থাকে। আর সেই
  961. 46:32প্রক্রিয়াতেই সেই সন্তানগুলি উড়তে শুরু
  962. 46:34করে দেয়। এবার এই ঘটনায় আমরা কি শিক্ষা
  963. 46:37পেতে পারি? এটাই যদি আপনি মাতা-পিতা হন
  964. 46:40তাহলে নিজের সন্তানকে অবশ্যই স্নেহ করুন।
  965. 46:43কিন্তু তাদেরকে নিজের আঁচলের তলায় বেঁধে
  966. 46:45রাখবেন না। যদি আপনি চান আপনার সন্তান
  967. 46:48জীবনে উন্নতি করুক তাহলে নিজের মুঠো থেকে
  968. 46:50তাদের স্বতন্ত্র করে দিন। এই সংসারে
  969. 46:53সংঘর্ষ করতে দিন। সেই সন্তান নিজেই বুঝতে
  970. 46:56পারবে যে জন্মের সময় পাওয়া ডানা কি করে
  971. 46:58ব্যবহার করতে হয়। আর আপনার চোখের সামনে
  972. 47:01আপনার সন্তান এই আকাশে উড়তে থাকবে। তাহলে
  973. 47:04আসুন আমার সাথে ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে।
  974. 47:07একবার একটা শেয়াল বনে বিচরণ করছিল। ও
  975. 47:11একটা ছোট্ট সাবক দেখতে পেল। ও ভাবল আজ
  976. 47:14একেই আমি খাবার হিসেবে গ্রহণ করব। আশেপাশে
  977. 47:18দেখলো কেউ দেখছে না তো কেউ ছিল না। আর সেই
  978. 47:21সাবকের উপর আক্রমণ করল যা হলো একটা ঘোর
  979. 47:25অপরাধ। বোনের নিয়ম অনুসারে আপনি কখনোই
  980. 47:28সাবকের উপর আক্রমণ করতে পারেন না। তারপর
  981. 47:31এই খবরটা যখন রাজা সিংহ জানতে পারলেন সভার
  982. 47:34আয়োজন করলেন। কিন্তু সেখানে শেয়াল বলল,
  983. 47:38আমি তো এরকম কিছু করিনি। কিন্তু যদি আপনি
  984. 47:40এরকম বলেন কোন প্রমাণ দিন এর কোন সাক্ষী
  985. 47:43আছে? তখন রাজা সিংহ প্যাঁচাকে ডেকে
  986. 47:46পাঠালেন যে সেই মুহূর্তে বৃক্ষের শাখার
  987. 47:49উপর বসেছিল। সে সবকিছু দেখেছিল। প্যাঁচা
  988. 47:52সব সত্যি কথা বলল আর শেয়ালকে মৃত্যুদন্ড
  989. 47:55দেয়া হলো। এবার এই কাহিনী আমি আপনাকে কেন
  990. 47:58শোনালাম? কারণ মানুষও কখনো কখনো এরকম কর্ম
  991. 48:01করেন যা শেয়াল করেছে। এটা ভাবেন কেউ
  992. 48:04দেখছে না। যখন আমি অনুচিত কর্ম করতেই
  993. 48:07পারি। কিন্তু না আপনি যাই করুন না কেন কেউ
  994. 48:10না কেউ অবশ্যই তা দেখছেন। কোন ব্যক্তি না
  995. 48:13হলেও কোন প্রাণী না হলেও কোন যক্ষ
  996. 48:15[মিউজিক] বা দেব বা প্রেত যদি এনারা কেউ
  997. 48:18না দেখেন তাহলে ধরিত্রী মাতা দেখেন যেখানে
  998. 48:21দাঁড়িয়ে আপনি সেই কর্ম করছেন। তাই না?
  999. 48:24তাই একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন। কে
  1000. 48:26দেখছেন কে দেখছেন না সেই বিষয়ে ভাবা
  1001. 48:29ছেড়ে দিন। এটা খুব সহজ কথা। আপনি যদি
  1002. 48:32উচিত কর্ম করেন উচিত ফল পাবেন। যদি অনুচিত
  1003. 48:35কর্ম করেন তাহলে আপনি অনুচিত ফল অবশ্যই
  1004. 48:38পাবেন। সেই জন্য উচিত পথে চলতে থাকুন।
  1005. 48:41উচিত কর্ম করতে থাকুন। আর আমার সাথে
  1006. 48:44ভালোবেসে বলুন রাধে রাধে। উপসংহারে শুধু
  1007. 48:47এটুকুই বলব। জীবনে কখনো ব্যর্থতা দেখে
  1008. 48:50থেমে যাবেন না। মনে রাখবেন প্রতিটি মহান
  1009. 48:53সফলতার পেছনে থাকে অসংখ্য পরিশ্রম, ধৈর্য
  1010. 48:57[মিউজিক] এবং অবিচল কর্ম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  1011. 49:00আমাদের শিখিয়েছেন আমাদের অধিকার শুধু
  1012. 49:03কর্ম করার উপর ফলের উপর নয় তাই হতাশা ভয়
  1013. 49:07এবং অলসতাকে দূরে সরিয়ে নিজের কর্তব্য
  1014. 49:10পালন করে যান আজ হয়তো ফল দেখতে পাচ্ছেন
  1015. 49:13না কিন্তু আপনার প্রতিটি সৎ প্রচেষ্টা
  1016. 49:15ভবিষ্যতের সফলতার বীজ বপন করছে সঠিক সময়ে
  1017. 49:19সেই বীজই মহিরুহ হয়ে আপনাকে ছায়া দেবে
  1018. 49:23ভগবানের উপর বিশ্বাস রাখুন নিজের কর্মের
  1019. 49:26উপর আস্থা রাখুন এবং সামনে এগিয়ে চলুন
  1020. 49:28কারণ যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সঙ্গে কর্ম করে
  1021. 49:31যায় ভগবান তার পথ একদিন অবশ্যই আলোকিত
  1022. 49:34করেন। ভিডিওটি শ্রবণ করে মন শান্ত হয়ে
  1023. 49:37গেলে লাইক দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে
  1024. 49:39ভুলবেন না আমাদের। জয় গীতা জয়
  1025. 49:42শ্রীকৃষ্ণ। রাধে রাধে।

About this transcript

This page contains the full transcript of কর্ম করে যান সফলতা আসবেই | Shri Krishna Bani in Bengali | Bhagavad Gita Bani | Shri Krishna Updesh by মন মন্দির, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 7,029 words across 1,025 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.

What you can do with it

Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.

Free YouTube transcript tool

YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.