উপসংহারে তুমি ❤️ 🌿 One Shot | গ্রামীন প্লট 💗 #entertainment #oneshot #taekookff — Transcript
Full transcript
- 0:01পাখি [মিউজিক] ছেড়ে [গান গাওয়া] নয় তুমি
- 0:03আসবে বলে
- 0:08শুধুমাত্র নারীর শরীরের টানে আমি বিয়েটাকে
- 0:10গ্রহণ করে নিব ভাবলে তুমি ভুল ভাবছো আমি
- 0:13এমন পুরুষ হয়ে যাই কেবল শরীরের চাহিদা
- 0:15মেটাতেই তোমাকে ছোব আমার কাছে কারো শরীর
- 0:17ছোয়ার আগে তার মন ছোয়া ম্যাটার করে তুমি
- 0:20আমার মন ছুতে পারোনি তাই সংসদে খাটে বসে
- 0:22বাসরিক চিন্তা না করে নেমে দাড়াও ঘুমাবো
- 0:25আমি বিয়ের প্রথম রাত্রিতেই স্বামীর করা হজ
- 0:27শোনায় চোখ ছলছল করে উঠল মুখ তুলে দেখে
- 0:30তাকে অপমান করা চোখ ধারালো মুখের মানুষটির
- 0:34পানে। না মানলে বিয়েটা [মিউজিক] করেছেন
- 0:36কেন? আমি বিয়ে করতে চেয়েছি নাকি সব জেনে
- 0:38শুনেও তুমি লাফিয়ে লাফিয়ে আমার ঘাড়ে
- 0:40চেপে বসেছো। বিয়ের আগে তোমাকে বলিনি এ
- 0:42বিয়েটা আমার মত নেই। কি ভেবেছিলে? কোনমত
- 0:44বিয়েটা হয়ে গেলে শরীর দেখে আমাকে বশ
- 0:46করতে পারবে? তুমি ভুল ভেবেছো বাচ্চা
- 0:48মেয়ে। জীন জাগুক মেয়ে মানুষের শরীর দেখে
- 0:51বস মারার মত চরিত্রহীন পুরুষ না। জাগুকের
- 0:53উচ্চারিত একেকটি শব্দ তীর হয়ে বিধল তেল
- 0:57নরম মাংসপিন্ডে। কানের শিষা ঢেলে দেবার
- 0:59মতোই যন্ত্রণা হতে লাগলো। তুলোর মতো নরম
- 1:02নাজুক মনটা এর আগে কখনোই আঘাত প্রাপ্ত
- 1:05হয়নি। মনে পড়ল বিয়ের আগে রাতে জাঙ্কু
- 1:07ফোন করাচ্ছিল। হঠাৎ করেই তে ডুব দিল
- 1:10অতীতে।
- 1:11>> তোর সাথে জামাই কি যেন বলবেন এধর মোবাইলটা
- 1:14কানে ঢাকাতেই গভীরপূর্ণ একটি পুরুষালী
- 1:16স্বর ভেসে আসলো। তে বলছো? জি। তে শোন
- 1:20তোমার সাথে আমার খুব জরুরি একটা কথা আছে।
- 1:22বলুন বিয়েটা করো না তে। বিয়েটা আমার মত
- 1:25নেই। বিয়ে হয়ে গেলেও তোমাকে আমি মেনে
- 1:26নিতে পারবো না। বিয়েটা হয়ে গেলে আমার
- 1:28কোন ক্ষতি হবে না। তবে তোমার জীবন বরবাদ
- 1:30হয়ে যাবে। আশা করি তুমি আমার কথা বুঝবে।
- 1:33লাগছে নিমিষে ঈদের ফর্সা চেহারাটায় লাল
- 1:35আভাটুকু উড়ে গেল। কি হইলো আম্মা? জামাই
- 1:38কেন কল দিছিল? কি কইছে? আব্বা কই আম্মা
- 1:40ঘরেই আছে। কেন কি হইছে? মায়ের কথার উত্তর
- 1:43না দিয়ে দৌড়ে বাবার ঘরে ছোট লাগালো তে।
- 1:45বাবাকে জমায়ের মত ভয় পায় সে। মুখ ফুটে
- 1:48কিছু বলার সাহসও পায় না। তবে আজ অসীম
- 1:51সাহস জুগিয়ে ফেললো তে। আব্বা ওরে বিয়ে
- 1:54করতে চান না। আমারে বলল এই বিয়ে করলে
- 1:56আমাকে গ্রহণ করতে পারবে না। আপনি বিয়ে
- 1:58ভেঙে দেন।
- 1:59>> বিয়ের পর মেনে নিবে তোমারে। জাংকুকের বাপ
- 2:01আমার বাল্যকালের বন্ধু। তারে কথা দিছি
- 2:03আমি। কথার খেলাপ হইবো না। জাংকুকের
- 2:05বিয়েতে মত নাই আমি জানি। এসব কিচ্ছু না।
- 2:07জোয়ান পোলা জেদ বেশি। এখন বিয়েতে মত নাই
- 2:10কালকে মত হইবো। তুমি এসব নিয়ে ভাগব্য না
- 2:12আর আমার কথার অবদ্ধ হওয়ার চেষ্টাও করবা
- 2:14না
- 2:15>> ব্যাস তে তার বাবার মুখের উপর আর কিছুই
- 2:17বলতে পারলো না বাবার মান সম্মান রক্ষার্তে
- 2:20জাগুকে না করা সত্ত্বেও বিয়েটা করতে হয়
- 2:22তেকে অতীত থেকে ফিরে আসলো তে তে যে গলায়
- 2:25বলে উঠল বলছেন আপনার বিয়েতে মত নেই মত না
- 2:28থাকলে আপনি কেন বিয়ে করলেন মেয়ে মানুষের
- 2:30অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে কিন্তু পুরুষ
- 2:32মানুষের সেটা থাকে না আপনি চাইলেই বিয়েটা
- 2:34ভাঙতে পারছেন। বিয়ে ভাঙতে পারলে তোমাকে
- 2:36বলতাম ফাজিল মেয়ে আমার স্বপ্নের পথে বাধা
- 2:38হচ্ছিল বিয়েটা। সেই বাধা দূর করতেই
- 2:40বিয়েটা করতেই হয়েছে। কি বাধা? আমি
- 2:42বহুদিন ধরেই স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা
- 2:44করছিলাম বাহিরে মাস্টার্স করার জন্য। তেও
- 2:47যাই তবে সেটা হাফ ফান্ডেড স্কলারশিপ। বাকি
- 2:49টাকা কোথায় পাবো আমি? আব্বা বাদে এত টাকা
- 2:52আমাকে কে দিবে? আব্বার কাছে চাইলেই তিনি
- 2:54আমাকে শর্ত জুড়ে দিলেন তোমাকে বিয়ে করতে
- 2:56হবে। আমি আব্বাকে অনেক বুঝিয়েছি। লাভ
- 2:58হয়নি। তিনি তার কথায় অটল। তাই বিয়েটা
- 3:01আমাকে করতেই হলো। তুমি যেহেতু বিয়েটা
- 3:03ভাঙ্গনি সুতরাং তোমার জীবন নষ্ট হওয়ার
- 3:05জন্য তুমিই দায়ী। টাকার জন্য আমাকে বলির
- 3:07পাঠা বানিয়েছেন তোমাকে বলে পাঠা বানাতে
- 3:09চাইনি বলেই ফোন করে নিষেধাজ্ঞা করেছিলাম
- 3:11বিয়ে করতে বাইরের দেশে পড়ার স্বপ্নটাও
- 3:13আমার কলেজ জীবন থেকেই এতগুলো বছর ধরে মনের
- 3:16লালন পালন করা স্বপ্নটা আমি কিভাবে
- 3:18জলঞ্জলি দেই আব্বা আমাকে টাকা দিবে
- 3:20শুধুমাত্র তোমাকে বিয়ে করলে তাই বাধ্য
- 3:22হয়েছি নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য তোমাকে
- 3:24বিয়ে করতে তুমি হয়তো ভাবছো বিয়েটা করলে
- 3:26বাহিরে পড়া যাবে না হ্যাঁ যাবে কিন্তু
- 3:28আমি এক্ষুনি বিয়ে করার জন্য মন স্থির
- 3:30করতে পারি না আর এরেঞ্জ ম্যানেজে আমি
- 3:32বিশ্বাসীও নেই আর তুমিকে আমি ভালোবাসি না
- 3:34তাকে আমার মনেও ধরে নেই তার সাথে
- 3:36শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা মিটিয়ে আমি
- 3:38সংসার করবো। এটা আমার দ্বারা হবে না। আমি
- 3:40সংসার তার সাথেই করব যার প্রতি আমার
- 3:42হৃদয়ের ভালোবাসা জাগবে। আমি সোজা কথা বলার
- 3:45মানুষ। আমার মধ্যে কোন ধনীতা নেই। সত্য
- 3:47হলো তোমাকে আমি অনেকবার দেখেছি। কিন্তু
- 3:49কখনো তোমার প্রতি আমার মনে কিছু অনুভব
- 3:51হয়নি। তোমাকে চাইও নি। আমি বাহিরে পড়তে
- 3:54গিয়ে আমার মনে যদি কারো প্রতি ভালোবাসা
- 3:55জেগে ওঠে, আমি তাকেই বিয়ে করব। তখন তোমার
- 3:58কি হবে? এজন্যই আমি নিষেধ করেছিলাম
- 4:00তোমাকে। কিন্তু বাপের যোগ্য মেয়ে হতে গিয়ে
- 4:02তুমি নিজের জীবন নিজেই নষ্ট করলে। শুনবেন
- 4:04আমার কথা সামনে যা হবে তা একান্তই তুমি
- 4:07ভোগবে ডিভোর্সের তকমা লাগবে তোমার গায়ে
- 4:09তের সমস্ত দেহ ঝিনঝিন করে উঠলো চোখে ভিরলো
- 4:12নোনাচজন তির দম বন্ধ হয়ে আসছে চোখ দুটো
- 4:14ঝাপসা হয়ে টলতে বসল মেঝেতে জাগুক ছুটে
- 4:17আসলো তের বাহু ঝাকিয়ে অস্থিরভাবে ডাকতে
- 4:20লাগল তেকে কে কি হচ্ছে তোর শরীর খারাপ
- 4:23লাগছে জাগুক নিমিসেই কোলে তুলে নিল তেকে
- 4:26বিছানায় শুয়ে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে
- 4:28ছটফট সুরে জিজ্ঞাসা করল বেশি খারাপ লাগছে
- 4:30ডাক্তার ডাকবো না ওমাগো চোখ বন্ধ করলে তার
- 4:33চোখ মুখ খের কোনা দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে গেল
- 4:35কানের কাছে। জাংকুক বুঝল তে তার কথাগুলো
- 4:39কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু জাংকুক নিরপায়।
- 4:41জাংকুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তার মুখের উপর এক
- 4:43পলক স্থির করল। মেয়েটা ফর্সা মুখটি মলিন।
- 4:46গালে জলের ছাপ গায়ের উপর পাতলা কাথা টেনে
- 4:49নিয়ে উঠে দাঁড়ালো জাংকুক। খিরকি অভিমুখে
- 4:52দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরা। খোলা জ্বালানার
- 4:54গায়ে রাতের উত্তরে হাওয়া ঢুকছে ঘরে।
- 4:57ধানক্ষেতের ওদিক হতে ভেসে আসছে শেয়ালের
- 5:00ডাক। গ্রামে সন্ধ্যা নামলেই যেন শেয়াল
- 5:02ব্যাকুল হয়ে পড়ে গ্রামবাসীকে হারহীন করে
- 5:04ডাক শোনাতে।
- 5:06তের ঘুম ভাঙলো বেলা করে। বাহিরে তখন সূর্য
- 5:09তার প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃতিকে পুড়তে
- 5:11ব্যস্ত। মাথাটা ভার হয়ে আছে তে। কেউ যেন
- 5:14কয়েক মন ওজনের পাথর চাপিয়ে দিয়েছে তের
- 5:16মাথার উপরে। শরীরটা অবশ্য। গতকাল সকাল
- 5:19থেকে কিছুই খেতে পারেনি তে। বিয়ে নিয়ে
- 5:21চিন্তা রাতে জাঙ্গুকের বলা কথাগুলো
- 5:24বিষাক্ত হুলে ফুটেছিল তে সর্বাঙ্গে। উঠে
- 5:26গেছো? শরীর কেমন লাগছে এখন? জাংকুকের
- 5:29গলায় মুলায়ন ভাব যেন জগতের সকল কমলতা
- 5:32জাংকুকের কন্ঠে ধারণ করেছে। এক রাতেই এত
- 5:35পরিবর্তন। রাতে জামারের মত ব্যবহার করে
- 5:37এখন কেমন মানুষই ভাগ দেখাচ্ছে। তে কোন
- 5:40উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন করল
- 5:42কয়টা বাজে? 9:30টা। কি? আপনি ডাকলেন না
- 5:45কেন আমাকে? রিলাক্স দে শান্ত হও। আমাকে
- 5:48বলেছি তোমার শরীর খারাপ। কেউ মন্দ ভাববে
- 5:50না। তুমি ওঠো। উঠে ফ্রেশ হও তারপর নাস্তা
- 5:52করবে। আপনাদের গোসলখানাটা কোন দিকে? যাক
- 5:54বিছানার এক কোণে বসে ফোন চাচ্ছিল। আঙ্গুল
- 5:57দিয়ে তার ঘরের সাথে এটাচ বাথরুমটা
- 5:59দেখিয়ে দিল। প্লাজ থেকে সোনালী পাড়
- 6:01দেওয়া লাল রঙের শাড়িটা বের করে নিল।
- 6:03তেজবুক ফোন চাপা থামিয়ে কিংচিত ব্লু
- 6:06কুচকে দেখে প্রশ্ন করল, তুমি কি এখন গোসল
- 6:09করবে? সকালবেলা কেন গোসল করবে? সকালবেলা
- 6:12গোসল করার মত কি কিছু ঘটেছে? তুমি ব্রাশ
- 6:14করে এসে কিছু খেয়ে নাও। পরে গোসল দিও।
- 6:16সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। যেন জমে গেছে।
- 6:19নিঃশ্বাস আটকে গেল গলার কাজটা। কি সমস্যা?
- 6:22শুনুন মিস্টার সোজা সাপটা কথা বলা ভালো।
- 6:24তবে এত সোজা কথা বলা একদমই ভালো না। একদমই
- 6:27না। তের কথার মানে বুঝতে পেরে কিছুক্ষণ
- 6:29তাবদা মেরে রইলো জাঙ্কু। তারপর হোহু করে
- 6:32হেসে উঠলো। হাসির ঝংকারে তে মুখ ফুলিয়ে
- 6:34ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দিল। তের শ্বশুর
- 6:38কিম নামজুন গ্রামের মেম্বার। পৈত্যিক
- 6:40সূত্রে গ্রামের বৃত্তশালী লোক সে। জমি
- 6:42জমার অভাব নেই। তের বাবা আর তিনি বাল্যকাল
- 6:45থেকেই বন্ধু। সেই সুবাদে তের অচেনা নয় এই
- 6:48বাড়িটি। ঘরের ভেতরে কাউকে না পেয়ে বাহিরে
- 6:51আসল তে। এসে দেখতে পেল দাদি শাশুড়ির
- 6:53বাহিরে চৌকি পেতে বসে আছে। উঠছো না বো
- 6:56এদিকে আয়ো। তুই কাছে গিয়ে সালাম দিল। দাদি
- 6:59তের কানার কাছে ফিসফিস করে বলল, শাঙ্গু কি
- 7:01রাতে তোরে বেশি জ্বালাইছে? অসুস্থ হয়ে
- 7:03পড়লি যে না দাদি এরকম কিছু না। জ্বালাইলে
- 7:06শরীর কেমনে খারাপ হলে তো একটু শক্ত হ।
- 7:08স্বামী সোহাগে শরীর খারাপ হলে চলবো?
- 7:10সোহাগে অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরুষ মানুষ
- 7:12বিরক্ত হইবো। বুঝছ? স্ত্রীর কান গরম হয়ে
- 7:15গেল। ফোলা ফোলা গাল দুটো রক্তজবা টকটকের
- 7:18লাল পর্ণ ধারণ করেছে। জাংকুক কাজ দিয়ে
- 7:20বাহির থেকে ঘরে ঢুকছিল। শুভ্র গোলাপের মত
- 7:23মুখটাকে লাল হতে দেখে থমকে গেল জাঙ্কু।
- 7:25তোর কি হচ্ছে? মুখ কেমন লাল কেন? কি আর
- 7:28হইবো? গত রাতে তুই যে সোহাগ করলি তা নিয়ে
- 7:30ঘোষ গল্প করছিলাম বুবুর সাথে। দাদীর কথা
- 7:33কর্ণপাত হতেই কাশি আরম্ভ হয়ে গেল
- 7:35জাঙ্কুকে। বিকেলের দিকে তের বাড়িতে যেতে
- 7:37হল তের আর জাঙ্গুকে। এক রাত কাটিয়ে চলে
- 7:40আসবে তারা। তের মা বড় মাকে ডেকে তের কাছে
- 7:43পাঠালেন। মায়ের আদেশে বোনকে টেনে নিজের
- 7:45ঘরে নিয়ে যেতে লাগলো জিমেন। কিছুক্ষণ চেয়ে
- 7:47থাকলো নিষ্ফলক। জাঙ্গুকের কাছ থেকে আচঙ্কা
- 7:50টেনে নিয়ে আসায় বিস্মিত হলো তে। এমন করে
- 7:52কি দেখছিস আপা? মাসের রাতে জাঙ্গুক ছুইছে
- 7:55তোরে। এসব কি জিজ্ঞাসা করছিস আপা? বিয়েতে
- 7:57জাঙ্গুকের মত থাকলে আমি জিজ্ঞাসা করতাম
- 7:59না। আমার কাছে মিথ্যা বলবি না। বড় বোনের
- 8:01কাছে সে কভু মিথ্যা কথা বলতে পারে না।
- 8:04অত্যাধিক ভালোবাসে সে জিমিনকে। কন্ঠস্বর
- 8:07ফাদে নামিয়ে তে রাতের সব কথায় নির্বিধায়
- 8:09খুলে বলল জেমকে। চোখের সামনে নিজের বিয়ে
- 8:12করা বউরে দেখে কোন পুরুষ কি এমন
- 8:13নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে রে বোকা? সে শহরে
- 8:15পড়াশোনা করছে। আমার মনে হয় ওর কারো লগে
- 8:18প্রেম প্রেম আছে। আব্বা যে কেন নিজের মান
- 8:20সম্মান বাজাইতে এত অবিচার করল তোর সাথে?
- 8:23তে বুকের উপর পাথর অনুভব করল জিমের কথায়।
- 8:27বিছানার পাশাপাশি শুয়ে আছে তে আজান কর।
- 8:30মাঝে বিস্তর জায়গা। অনায়াসে এখানে আরেকজন
- 8:32শুতে পারবে। তোমার বোন তখন তোমাকে অমনভাবে
- 8:36টেনে নিয়ে গেল কেন? আমি ছুয়েছি কিনা তা
- 8:38জিজ্ঞাসা করতে? গত রাতের জন্য সরি। আমার
- 8:40ওভাবে রিএক্ট করা উচিত হয়নি। বিয়েটা
- 8:43তুমি বাধ্য হয়ে করেছ এটা তোমার কোন দোষই
- 8:45নেই। তাই তোমার সাথে খারাপ আচরণ করার
- 8:47মানেই হয় না। মেজাজ সামলাতে পারিনি বলে
- 8:50খারাপ আচরণ করে ফেলেছি। তবে যতদিন
- 8:52বাংলাদেশে আছি তোমার সাথে আর একটুও খারাপ
- 8:54ব্যবহার করব না। ঘুমিয়ে পড়। গুড নাইট।
- 8:56তেল লাজে রাঙা সুশ্রীর মুখে আসার মেঘ
- 8:59ঘনালো। অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পড়ল তে।
- 9:01রাগের দুঃখে তার চোখে পানি চলে এলো।
- 9:04বিড়বিড় করল নিচু গলায়। কি বিড়বিড় করছো তে?
- 9:07বিড়বিড় না করে ঘুমাও। ওয়ার্নিং দিচ্ছি।
- 9:09আমাকে কিন্তু একদম গালাগালি দিবা না। আমি
- 9:12কিন্তু তোমাকে জোর করে বিয়ে করিনি। তে আর
- 9:14ঘাড় ঘুরিয়ে মানুষটাকে দেখলো না। চোখ খিচেই
- 9:16পড়ে রইলো।
- 9:18পাকা সব ধান কাটা শেষ। শেষ হতে ধান আলাদা
- 9:21করে এবার রোদে শুকানোর পালা আরম্ভ হলো।
- 9:24ষষ্ঠ মাসের বার্তাবরণে মিশে আছে পাকা বারো
- 9:27ধানের ঘ্রাণ। পেট ব্যথা করছে সকাল থেকে।
- 9:29তার অনুধাবন হলেও মান্থলি শুরু হয়ে গেছে।
- 9:32পেট চেপে ধরেই বিয়ের সময় বাবার বাড়ি
- 9:34থেকে সঙ্গে আনা ব্যাগটা হাত চালিয়ে
- 9:37চিন্তায় পড়ে গেল প্যাট শেষ। এখন প্যাট
- 9:40কোথায় পাবে? গ্রামে বাজারে দোকান ছাড়া
- 9:42প্যাট কিনতে পাওয়া যায় না। কেউ মানুষ
- 9:44হয়ে সে বাজারে যেতেও পারবে না। উপায় না
- 9:46পেয়ে থ্রি পিসের সাথে নতুন একটা ওড়না
- 9:49বের করে কাচির সন্ধান চালালো। আপাতত ওড়না
- 9:52দিয়ে কাজ চালাতে হবে। বায়ার থেকে কাঁচি
- 9:54খুঁজে ওড়নাটা কাটার মুহূর্তে ঘরে প্রবেশ
- 9:56করল জাগর। গরমে তার কর্ণের হালকা রঙের নীল
- 9:59শার্টটা পিঠে লেপটে গেছে। কপালে চিকচিক
- 10:02করছে ঘাম বিন্দু। বিদেশে যাওয়ার সম্পূর্ণ
- 10:04প্রসেস শেষ হওয়ার আগ অব্দি কিছুদিন
- 10:06গ্রামেই কাটাবে সে বাবা-মায়ের সাথে। মাকে
- 10:09ওখানে ধান ছাড়িয়ে দিতে সাহায্য করছিল
- 10:11এতক্ষণ যাক। আবার ঘরগুলো কাজের লোকদের
- 10:14সাথে শুকানোর জন্য মেলে দিয়ে এসেছে
- 10:17জমিনে। কি করছো? নতুন কাজ কেন এভাবে? কাজ
- 10:20হচ্ছে। কি কাজ? আপনাকে বলা যাবে না। একটু
- 10:22অপেক্ষা করো। আসছেনি। বেশিক্ষণ লাগবে না।
- 10:25আরে কোথায় যাচ্ছেন এই গরমে চাকুক জবাব
- 10:27দেওয়ার প্রয়োজন ভোগ করলো না কেন? তড়িৎ
- 10:29গতিতে সাইকেল চেপে চোখের সীমানা অতিক্রম
- 10:32করে দূরে চলে গেল। আকাশটার কালো মেঘ তার
- 10:35দখলে নিয়ে নিয়েছে। থেকে থেকে ডাকছে গুমর
- 10:38ঘুমা। বাতাস উঠছে গাছের শুকনো পাতা পথের
- 10:41ধুনো ময়লায়। চোখ খুলে রাখা যাচ্ছে না
- 10:44বাতাসের ঝাপটা। শাশুড়ি ও বাড়ির কাজের
- 10:46মেয়েকে হর্ন হয়ে ও থানে দৌড়াতে দেখে পেট
- 10:48ব্যথা নিয়ে দৌড়ে বাহিরে আসলো। তে পেটের
- 10:51পীড়া শুয়েই সবার সাথে ধান গোছাতে লেগে
- 10:53গেল। আচমকা বাহুতে কারো শব্দ টানে ঘুরে
- 10:56তাকাতে বাধ্য হলো তে। তুমি অসুস্থ শরীরে
- 10:58এসব করতে এসেছো কেন? তে কিছু বলার জন্য
- 11:00মুখ খোলার আগেই কালো পলিথিনে মোরানো কিছু
- 11:03একটা। টের হাতে দিয়ে পুনরায় বলল, আম্মাকে
- 11:06আমি সাহায্য করছি। তুমি ভেতরে গিয়ে গোসল
- 11:08করে ড্রেস নাও। আপনি সকাল থেকে অনেক কাজ
- 11:10করেছেন। আমি এটুকু করতে পারবো। আপনি ঘরে
- 11:12গিয়ে রেস্ট নি? জাঙ্কুকের মুখ ছবি দেখে
- 11:14সাহস উড়ে গেল তে। আর কিছু বলার সাহসই পেল
- 11:17না। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাতের পলিথিন খুলে
- 11:20লজ্জায় আসর হয়ে পড়লো। এখানে লজ্জা পরী
- 11:22কি হলো? আমি প্যাডি কিনে দিয়েছি। অন্য
- 11:24কিছু তো দেইনি। যা দেখে লজ্জায় লাল নীল
- 11:26বেগুনি হয়ে যেতে হবে আপনাকে। এর চোখ বড়
- 11:28বড় হয়ে গেল। অন্য কিছু মানে কি বোঝাতে
- 11:31চাইলো লোকটা? অমনি মস্তিষ্কের জানান দিল
- 11:33অন্য কিছুর মানে। জাঙ্গুকের দিকে তাকানোর
- 11:36দুঃসাহস হলো না। কাপড় হাতে নিয়ে দৌড়ে
- 11:38চলে গেল বাথরুমে। ছুটে যাওয়া দেখে
- 11:40বিস্মিত হাসলো জাঙ্কু। মাথায় কাঁচা হলুদ
- 11:43রঙের ওন্না টেনে তিনি শাশুড়ির ঘরে এলেন।
- 11:46অতিশয় নমরা গলায় বললেন, আম্মা দেখেছিলেন
- 11:49খাবার খাইছো তুমি?
- 11:50>> জি খেয়েছি। আমার শরীরটা একটু খারাপ
- 11:52লাগতেছে। তুমি জাঙ্কুকে একটু ডাক দিয়ে আনো
- 11:54না জমিন থেকে। ওরে সাথে নিয়ে খাইয়া ফেলো।
- 11:56আমি একটু ঘুমাই। পারবা না? পারবো আম্মা।
- 11:58আপনার কি শরীর বেশি খারাপ?
- 12:00>> না। একটু মাথা ধরছে। যাও আর দেরি কইরো না।
- 12:02তিনটা বাজে। মাথার উড়নাটা আরেকটু ভালো করে
- 12:05টেনে জমিনের কাছে আসলো। ধানহীন শুকনো
- 12:08জমিনে বৃষ্টিতে ভেজা খরগুলো মেলে দিচ্ছে।
- 12:11কেউ নেই আশেপাশে এতগুলো বছর শহরে পড়াশোনা
- 12:14করেও জাংকুকের পরিবর্তন হয়নি এলেই সে
- 12:17কাজের লোকদের পাশাপাশি নিজেও ধান তোলে
- 12:19জাংকুকের আশেপাশে কাজের লোকদের দেখতে না
- 12:22পেয়ে তেল মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপল
- 12:24কবুদ্ধি ফলানোর পূর্বে ভালো করে বিস্তৃত
- 12:27জমির চারপাশটা বড় করে নিল তেল টিপে টিপে
- 12:30পা ফেলে চুপি সারে জাকুকের পেছনে গিয়ে
- 12:32দাঁড়ালো তে জাকুক এখনো টের পায়নি তের
- 12:35অস্তিত্ব কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড়
- 12:37এদিক সেদিক করছিল সে ক্লান্ত ভূমিতে হাতে
- 12:40কয়েকটা খরচ তুলে আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু
- 12:42হয়ে জাঙ্কুকের চুলের উপর খরগুলো ছুড়ে
- 12:45দিয়ে হেসে দিল ফিক করে। চুলের উপর মুখের
- 12:47উপর কাঁচা খর পড়া জাঙ্কুক প্রথমে হতম্বিত
- 12:50হলেও তের ঝর্ণার মত কলকল হাসির শব্দে
- 12:53সচেতন হয়ে যায়। নীরব হাসি লুটিবুটি খায়
- 12:55তার বাদাম অধরে। পেছনে না ঘুরে অতি
- 12:58স্বর্ণপণ্যে হাতে অনেকগুলো ক্ষয় নিয়ে
- 13:00ছুড়ে মারতে লাগলো দিকে। বাঁচার জন্য তে
- 13:03ছুট লাগালো বাড়ির মুখে। কিন্তু ব্যর্থ
- 13:05হলো তে। জাংকুক তার হাত টেড়ে ধরলো।
- 13:07হ্যাচকা টানে উড়ে গিয়ে পড়লো তে
- 13:09জাঙ্গুকের শক্তভক্ত বক্ষে। তাল সামলাতে
- 13:12অসফল জাঙ্গুক ডেকে নিয়ে পড়লো ঘরের উপর।
- 13:14জাঙ্গুকের বুকের উপর পড়ল তের কোমল শরীর।
- 13:17গলায় টের পেল তের পল্লব ঠোঁটের
- 13:19অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ। দুজনেই চমকে উঠল।
- 13:22কানের পাতায় উষ্ণ নিঃশ্বাস শুয়ে শরীরে
- 13:25মিশে থাকা পুরুষটি। তার অস্তিত্ব ভাব
- 13:27কাটিয়ে বিচলিত কন্ঠে বলে উঠল, এই কাঁদছো
- 13:30কেন? পেয়েছো? না। খেতে লাগছে আম্মা। চলুন
- 13:33দাঁড়াতে গিয়ে তাই খেয়াল করল তার পায়ের
- 13:35রগ টানা খেয়ে আছে হাঁটতে পারছে না
- 13:38কিছুতেই কি আছে মনে হয় পায়ে রগ টানা
- 13:40খেয়েছে হাঁটতে পারছি না বলা নেই করা নেই
- 13:42আচমকায় কোমরে হাত রেখে কোলে তুলে নিল
- 13:45ডেকে হক চোকালো হতবাক হলো জাংকুকের বুকের
- 13:48কাছের শার্টটা খামসে ধরলো আজ তিন প্লেট
- 13:50ভাত খাবে কে এত পাতলা তুমি জীবনের
- 13:53প্রথমবার কোন মেয়েকে কোলে নিলাম পাতলা
- 13:54মুজনা আমার হাত ব্যথা হয়ে যাবে অথচ এখন
- 13:57দেখছি তোমাকে হাজার বার কোলে নিলেও আমার
- 13:59হাত ব্যথা হবে না আপনি কি আমাকে হাজার বার
- 14:01কোলে নিবেন তোমাকে ভালোবাসলে হাজার বার
- 14:03কেন লক্ষ বার নিতাম কিন্তু তুমি আমার
- 14:05ভালোবাসা নাওতে তাই মনে কোন প্রত্যাশা
- 14:07রেখো না এতে কষ্ট পাবে আমি চাই না তুমি
- 14:09কষ্ট পাও বাচ্চা মেয়ে জাকুকের অতি
- 14:11সত্যবাদী সত্তা তে হৃদয় জমিনে রক্তক্ষরণের
- 14:14শ্রবণধারা নামলো ঝমঝম করে তে মনে হলো
- 14:17জাংকুক অদৃশ্য ছুরি দিয়ে ফেলাফেলা করে
- 14:19দিয়েছে তেল বুকের ভেতরে
- 14:22সময়টি পরন্ত বিকেল তে বাহিরে থেকেই শুকিয়ে
- 14:25আনা কাপড় চোপড় ভাজ করে আল্লায় গুছিয়ে
- 14:27রাখছে মেসেজের টুংটং শব্দে তার ধ্যান
- 14:30ভেঙ্গে গেল বিছানার উপর জাহ তার মোটফোনটি
- 14:32রেখে ওয়াশরুমে গিয়েছে। উৎসব নিজেকে দমাতে
- 14:34না পেরে ফোনটি হাতে তুলে নিল। সরাসরি
- 14:37ইনবক্সে না গিয়ে ওপর থেকেই আইয়ু নামের
- 14:39একটি মেয়ের পাঠানো বার্তা পড়ে ফেলল কৌতুহল
- 14:42হয়ে। মিথ্যাবাদী লোক একটা। জাংকু খেয়াল
- 14:45করল গতকাল বিকাল থেকেই তে তার সাথে বাকি
- 14:47দিনগুলোর মত অস্বাভাবিক আচরণ করছে। চঞ্চল
- 14:50তিতনির মত মেয়েটা হুট করেই কি হলো ঠাওয়ার
- 14:53করতে পারছে না জাঙ্কু। একটু আগেই দুপুরে
- 14:55আইসক্রিমওয়ালার ঘন্টার টংটং আওয়াজে বাড়ির
- 14:58সামনেই কাঁচা পথে যায় জাংক। বাড়ির সকলের
- 15:00জন্য অনেকগুলো কুলফি কিনে নিয়ে আসলো
- 15:02জাঙ্কু। তা দিয়ে কাজের মেখে জাঙ্গু কুলফি
- 15:04দিয়ে রান্নাঘরে এলো কুলফি হাতে। তে তার
- 15:07উপস্থিতি টেল পেয়ে এক পলক তাকিয়ে মাথা
- 15:09নামিয়ে লাউ কাটায় মক্ত হয়ে পড়ল।
- 15:11মায়ের হাতে একটা কুলফি ধরিয়ে দিয়ে
- 15:13জাংকুক তের মুখের সামনে আরেকটা কুলফি
- 15:15ধরলো। নাও খাবো না। কেন? খাবা না কেন?
- 15:17>> খাইবা না কেন গো? খাও। গরমে ভালো লাগব।
- 15:20ভেতর ঠান্ডা হইব।
- 15:21>> আসলে আম্মা আমার জরজর লাগছে।
- 15:23>> কি কও? শরীর বেশি খারাপ লাগতাছে।
- 15:24ডাক্তারের কাছে লইয়া যামু।
- 15:26>> তৎক্ষণৎ হাত বাড়িয়ে কপালে ঠাক। আকস্মিক
- 15:29ছোঁয়ায় তে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো। আর
- 15:31একটুখানি উঁচু করতেই তে ভ্রমর কালো চক্ষু
- 15:33জোড়া বন্দি হলো আগুন ঝরা দৃষ্টি চোখে।
- 15:36নিমিষেই মনে হলো দৃষ্টি জোড়া এফর অফর করে
- 15:39দিচ্ছে। শুকনো একটা ঢোক দিলে চোখ নামিয়ে
- 15:42নিল তে। ড্রাগুকদের মিথ্যা বুঝতে পেরে
- 15:44রাগে বম হয়ে গেছে। আর সেটা বুঝতে বাকি
- 15:47নেই। এমন অল্প স্বল্প জ্বরে কিছু হয়না
- 15:49আম্মা। ঘরে নাপা এক্সট্রা থাকলে খাইয়ে
- 15:51দিল। যাওয়ার আগে পলিথিনের বাকি কুলফিগুলো
- 15:53উঠানে ছুড়ে ফেলল যার। ছেলের এমন কান্ডে
- 15:56ফুক চুকিয়ে উঠলেন জিং।
- 15:58>> এই জাঙ্কুক আব্বা কি হইছে তোর? আমার শান্ত
- 16:00পোলাটা হঠাৎ এমন রাগ করলো কেন বউ? কি হইলো
- 16:02ওর?
- 16:04>> জাংকুক ঘরে নেই। জাংকুক আসার আগে ঘুমানোর
- 16:07উদ্দেশ্যে বিছানায় গেল তে। দুপুরে যেতে
- 16:10ক্রোধ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে।
- 16:12এখনো বাড়িতে ফিরেনি জাঙ্কু। আজ লোকটার
- 16:14মুখোমুখি হলে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যাবে কে
- 16:17নিশ্চয়। বাহুতে হঠাৎ টান অনুভব করা
- 16:19আকস্মিক হয়ে পড়ল। চোখের সম্মুখে জাংকুকের
- 16:22রাগান্বিত চেহারাটা দেখে ভয়ে কুচকে গেল
- 16:25ভেতরে ভেতরে তেল থেকে টেনে হিচড়ে পুকুর
- 16:27পাড়ে নিয়ে আসলো জাগোকর বসো এখানে তে
- 16:30ধনুকের মত বাকানো শরীর জুড়ে তরঙ্গ খেলে
- 16:33গেল তরুশালীর আগন্ত শরীর গাই গুই করে পাকা
- 16:35করা ঘাটলার উপরে সিড়িতে বসে পড়ল মুখ
- 16:38ঘুরিয়ে ওদিকে ঘুরে বসেছো কেন আমার দিকে
- 16:40তাকাও জাঙ্কুকের কথা শুনলো না উল্টো
- 16:43শরীরটা আরেকটু ঘুরিয়ে বসল থেকে আপদমস্তক
- 16:45পর্যবেক্ষণ করে বিদ স্পন্দন থমকে গেল
- 16:48জাঙ্কুকের থেকে আলো আধারিতে একা ফেলেই
- 16:51ঘরের দিকে ছুটল হন্তদন্ত হয়ে ফিরে এল লাল
- 16:53রঙের দোপাট্টা সমেত অনত্র দৃষ্টি রেখেই
- 16:56এদিকে ওরনাটা বাড়িয়ে দিয়ে শান্ত অথচ
- 16:59রাসভারি গলায় বলে উঠলো ধরো ঠিক আপা কাপা
- 17:02হাতে ওরনাটা বুকের উপর মেরে ধরল অতঃপর
- 17:04ফিরে বসলো জাবুকের দিকে কি হয়েছে এখানে
- 17:07এনেছেন কেন তোমার কি হয়েছে আমার কি হবে
- 17:09কাল থেকে আমাকে ইগনোর করছো কেন আমি ইগনোর
- 17:12করলে আপনার কি অনেক সমস্যা শুধু তুমি না
- 17:14যে কেউ আমাকে ইগনোর করলে সেটা আমি নিতে
- 17:16পারি না রাগ হয় ইগনোর কেন করছো আপনি
- 17:19মিথ্যাবাদী মিস্টার জাঙ্কু আমি
- 17:20মিথ্যাবাদীর সাথে কথা বলি না আমি কি
- 17:22মিথ্যা বলেছি বিয়ের প্রথম প্রথম রাতে খুব
- 17:24বড় গলায় বলেছিলেন না কাউকে ভালোবাসেন না
- 17:26জীবনে যার প্রতি আপনার হৃদয় ভালোবাসা
- 17:28জাগবে তাকেই ভালোবাসবেন এসব মিথ্যা কথা
- 17:30কেন বললেন আমাকে সোজা বললেই হতো অন্য
- 17:32মেয়েদের ভালোবাসে তার সাথে বিদেশে যাবেন
- 17:34এজন্যই বিয়ে করতে চাননি আপনি একটা
- 17:36মিথ্যাবাদী এসব তোমাকে কে বলেছে তুমি আমার
- 17:38ফোন চেক করেছো সাহস কিভাবে হলো তোমার আমি
- 17:40ইচ্ছে করে করিনি কৌতুহল বসতো আপনার
- 17:42প্রেমিকার পাঠানো মেসেজটি দেখে ফেলি আইও
- 17:44আমার প্রেমিকা নয়তে প্রেমিকা না হলে কেউ
- 17:47কেন বলবে জাকুক আমাদের একসাথে ভিনদেশে
- 17:49বাড়ি জমানোর স্বপ্ন পূরণ হবে তো তোর
- 17:51আব্বা রাজি হয়েছে টাকা দিতে
- 17:53>> নিশ্চয় প্রেমিক প্রেমিকা বাদে কেউ এরকম
- 17:55প্ল্যান করে বিদেশে যাবে না আবার জানাও
- 17:57ডাকবে না পরপুরুষকে শোনো বাচ্চা মেয়েটিতে
- 17:59আই ইউ আমার ফ্রেন্ড সে তোমার মত সহজ সরল
- 18:01শান্ত ধাচের বেবি করে নয় ভার্সিটিতে
- 18:04দাপিয়ে বেড়ানো এক মেয়ে সে আমাদের
- 18:05ফ্রেন্ড সার্কেলে আমরা তাকে বলি চঞ্চলবী
- 18:07ব্লক যার দালাইটুকু তার মধ্যে ফ্রেন্ড
- 18:09সার্কেলের প্রতিটি ছেলে মেয়েদেরকেই সে
- 18:11জান বলে ডাকে বাকি থাকলো বিদেশে একসাথে
- 18:13যাওয়ার কথা সেটা আমরা পাঁচ বন্ধু মিলেই
- 18:15[মিউজিক] করেছি একসাথে এপ্লাই আমাদের
- 18:17সৌভাগ্য হলো আমরা তিন বন্ধু হাফ স্কলারশিপ
- 18:20পেয়েছি এবং বাকিরা পুরোটাই নিজ খরাজে
- 18:22যাবে বুঝলে বাচ্চা মেয়ে আপনি বলেছিলেন
- 18:24কারো প্রতি ভালোবাসা জাগলে আপনি তাকেই আপন
- 18:27করে নেবেন। আচ্ছা আপনি যদি দেশে কাউকে
- 18:29ভালোবেসে ফেলেন তাহলে বিদেশে চলে যাবেন?
- 18:31না আর যদি বিদেশে গিয়ে আপনার দেশে কারো
- 18:33প্রতি ভালোবাসা হয়ে যায় তাহলে কি করবেন?
- 18:35সমুদ্র নদী সব পার করে চলে আসবো। নিজের
- 18:38স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রেখে চলে আসবেন? হ্যাঁ।
- 18:40স্বপ্নকে আমি যে কোন মুহূর্তেই পূরণ করতে
- 18:42পারবো। কিন্তু যাকে ভালোবাসবো তাকে ছাড়া
- 18:45আমি অসম্পূর্ণ থেকে যাব। জীবনে আমি
- 18:47অসম্পূর্ণ থাকতে চাই না তে। তে জি। রাগ
- 18:50হলেই বলবে। কিন্তু আমাকে অবহেলা করবে না
- 18:52বাচ্চা মেয়ে। তোমার অবহেলা নিতে পারি না।
- 18:55ইনু মুখ কালো করে উঠালের মধ্যে রাখা
- 18:58প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে। তার সামনের
- 19:00চেয়ারে বসে আছে বোগাম। মাঝখানে থাকা ছোট
- 19:03টি টেবিলটার উপর দুই গ্লাস লেবু শরবত
- 19:06রাখা।
- 19:06>> তুমি কোনদিনও গুরুত্ব দিয়ে কও নাই যে তেরে
- 19:08পছন্দ করো। একবার কইছিলা বিয়া করতে চাও?
- 19:11তারপর প্রস্তাব দিছিলা? দাও নাই। সবাই মজা
- 19:13ভাবছে। আমি তের ভালো প্রস্তাব পাইছি তাই
- 19:15ওখানে মাইয়া বিবাহ দিছি। এখন তুমি বিদেশ
- 19:17থেকে আইয়া কইতাছো তেরে বিয়া করতে চাও। এটা
- 19:19কোন কথা?
- 19:20>> আমি তের লাইগা দেশে আইছি। আইয়া শুনলাম
- 19:22ঝাকুকের কাছে তেরে দিয়া দিছেন। আমি কি
- 19:24যোগ্য আছিলাম না চাচা?
- 19:25>> তুমি অবশ্যই যোগ্য আছিলা। তোমার বাপ মারে
- 19:28দিয়া প্রস্তাব দিলে আমি তেরে অন্য ঘরে
- 19:30দিতাম না। এখন যাওয়ার হইয়া গেছে। লেবু
- 19:32শরবতটা খাও।
- 19:33>> আমি শুনলাম তেরে বিয়া করতে রাজি আছিল না।
- 19:35জানক। আপনি জোর করেই বিয়া দিছেন। কামড়া
- 19:38ঠিক করেন নাই ফোফা। জোরের বিয়াতে সংসার হয়
- 19:40না। তের যদি সংসার ভেঙ্গে যায় আমারে স্মরণ
- 19:43করেন। আমি ওরে ভালোবাসি। আমি ওরে বউ করে
- 19:45ঘরে তুলতে আপত্তি নাই। আমার আসি।
- 19:49কে সংবাদ পাঠানো হলো তার মা অসুস্থ। শোনার
- 19:51পর থেকেই তেউ উন্মাদের মত ছটফট করছে
- 19:53বাড়িতে যাওয়ার জন্য। জাংকুক তাকে দিতে
- 19:55আসলো। যদিও সাথে যাওয়ার ইচ্ছাই ছিল না।
- 19:58করা আদেশেই জাঙ্কুকে আসতে হলো। অটো থেকে
- 20:01নেমে দাঁড়ালে পেছন থেকে পুরুষ আলী কন্ঠে
- 20:03চমকালো তে। আর ইনু ভাই কবে আসলাম বিদেশ
- 20:06থেকে?
- 20:06>> অটোকালি আসলাম। ভাড়া মিটাচ্ছিল জাঙ্কুক
- 20:09এর গলা শুনে সে ভাড়া মিটিয়ে কাছে চলে
- 20:11আসলো। তোর কি অবস্থা জাঙ্কুকুকু? জাংকুক ও
- 20:13ইন সমবায়সী। একই সাথে একই স্কুলে পড়েছে
- 20:16দুজন।
- 20:18এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো ইয়নোকে। শালা এত বছর
- 20:21পর গ্রামের কথা মনে পড়েছে তো? আমি ভাবলাম
- 20:23বিদেশে বিয়ে টিয়ে করে সংসার কেটে ফেলেছিস।
- 20:25বিদেশে কেমনে সংসার পামু ক? যার সাথে
- 20:27সংসার করমু তারে দেশে রাইখা গেছি। আপনারা
- 20:29কথা বলতে থাকেন আমি বাড়ির ভিতরে গেলাম।
- 20:31মেয়েটা কে?
- 20:32>> কোন মাইয়াডা? যার সাথে সংসার করতে চাস
- 20:34কইলে হজম করতে পারবি? হজম করতে পারবো না
- 20:36কেন? বলে ফেল শালা।
- 20:37>> তে কি? মাইয়াডা তে যারে লইয়া আমি সংসার
- 20:40করার স্বপ্ন দেখি। বুকের হাত অজান্তে
- 20:42মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। ঠাট্টা করতেছস?
- 20:44>> না। এই বিষয় নিয়ে কেউ ঠাট্টা করে? আমি
- 20:46শুনছি তুই ওরে বিয়া করতে চাস না। এটাও
- 20:49শুনলাম ছাইড়া দিবি। তাড়াতাড়ি ছাইড়া দে।
- 20:51আমার জন্যই ভালো হয়। নিজেকেও সংযত রাখতে
- 20:54অসফল হয় মস্তিষ্কে দাপিয়ে বেড়ানো ক্রোধ
- 20:56যেন আগুনের ফুলিঙ্গ হয়ে ঝলছে চক্ষু বগবল
- 21:00জোরে। মুষ্টিবদ্ধ হওয়া হাঁটা উঠিয়ে খুশি
- 21:02বসিয়ে দিল ইয়নো চোর বরাবর। আমাকে মারলি
- 21:04কেন? যা সত তাই তো কইলাম। তুই টেরে সংসার
- 21:07করবি? না করলে আমি ওরে ছাইলে তোরে
- 21:08জ্বলতাছে কেন? তুই টেরে ছাড়লে ওর জীবনের
- 21:10তালাকের তকমা লাগবে না? ওর কি সুখ পাওনের
- 21:12অধিকার নাই? আমি ওরে সুখ দিমু। যত্নেই
- 21:14রাখমু ভালোবাসমু। জোয়ালে আরেকটি ঘুষি পড়লো
- 21:17সর্বশক্তিতে। অসমস্ত থেকে গেল বাক্য
- 21:20খানিক। আরেকবার আমার বউয়ের নাম তুই মুখে
- 21:22দিলে। চিপেন না ছিড়া খালামো কুত্তার
- 21:24বাচ্চা। ওরে আমি তালাক দেই বা না দেই তোর
- 21:26কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হইবো? মেয়ের লগে
- 21:28তুই অপরাধ করতাছস। ইনোর কথা অসত্য নয়।
- 21:31জাকুক নিজেই এমন সব বসেছিল। মিশা হয়ে
- 21:34গেলেকে মিছি মিছি সম্পর্কের বেড়াল থেকে
- 21:36মুক্ত করে দিবে জাঙ্কু। তার আগে চোটে
- 21:38ইনোকে মুখে আরেকবার ঘুষি মারতে গিয়েও থমকে
- 21:41গেল তের আত্মচিৎকারে। ইউনুকে ছেড়ে উঠে
- 21:43দাঁড়ালো জাঙ্ক। চায়না সংঘর্ষ আর বার তোমরা
- 21:46মারামারি করছিলে কেন ইন ভাই কি হয়েছে যে
- 21:48উনি এত রেডি কেন
- 21:49>> আরে আমাদের স্কুল জীবন থেকে এমন ছোটখাট
- 21:51দ্বন্দ হয় এই লই এমন সিরিয়াস হবার কিছু
- 21:53নাই কথাটা তের বিশ্বাসই হলো না জাংকুক
- 21:55একজন ধৈর্যশীল পুরুষ হিসেবেই জানে তে বিনা
- 21:58কারণে খুব একটা রাগে না জাঙ্কুক বাড়িতে
- 22:00এসে হন্তদন্ত হয়ে তে তার মাকে জিজ্ঞাসা
- 22:03করল আব্বার ফোনটা কি ঘরেই আছে আম্মা
- 22:05টেবিলের উপর দেখতে তার বাবা মায়ের ঘরের
- 22:07একপাশে রাখা টেবিলটার উপর তার বাবার বাটন
- 22:09ফোনটি পেল নাকের নম্বর মুখস্ত আছে তা
- 22:12মোবাইলটা হাতে নিয়ে নিজের ঘর এসে কল দিল
- 22:15সে জাকুকে। তারপর পাঁচবার কল দেওয়ার পরও
- 22:17জাকুক ফোন না ধরে অস্থির হয়ে পড়ল কে।
- 22:20বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর হায় ছেড়ে
- 22:22দিল। এরই মাঝে ফোনের আওয়াজ ভেসে আসলো। তে
- 22:25তড়িৎ গতিতে ফোনটা রিসিভ করল। বলতে আপনি
- 22:28কিভাবে জানেন? আমি ফোনটা করেছি। তোমার
- 22:31বাবা আমাকে এত পাগল হয়ে ফোন কেন দিবে বল?
- 22:33তখন এত রেগে চলে গেলেন কেন? আমার ইচ্ছা
- 22:35হয়েছে তাই। রাগটা কি আপনার ইচ্ছাতেই
- 22:37হয়েছে? হ্যাঁ রাগটা আমার ইচ্ছাতেই
- 22:39হয়েছে। জি আজকে থাকবে এখানে? হ্যাঁ
- 22:42আম্মার শরীরটা ভালো না হওয়া পর্যন্ত
- 22:43থাকবো। বাড়িতে বলেছিলাম শোনেন নি থাকতেই
- 22:46হবে। আসলে আম্মাকে অবস্থা অবস্থায় রেখে
- 22:48কিভাবে যাই? আচ্ছা থাকো যতদিন মন
- 22:50চাড়াচ্ছি। ফোনটা রেখেও শান্তি পাচ্ছে না
- 22:52খাবার টেবিলে খেতে গিয়েও এক লঙ্কার বেশি
- 22:55ভাত গলা দিয়ে নামলো না। বুকের উপর যেন
- 22:57ভারী কিছু চেপা আছে। কথাগুলো এখনো কানে
- 23:00বেজেই যাচ্ছে জাঙ্কুকের। রাতে ঘুমাতে
- 23:02গিয়ে মেজাজ আরো খিচে গেল জাঙ্কুকের।
- 23:04আশেপাশে তে নেই বলে শোনো শোনো লাগছে
- 23:07বিছানাটা। খানিক্ষণ এপাশ ওপাশ করে উঠে বসল
- 23:10জাকু। একটা নিত্যদিন তার পাশে বিছানায়
- 23:12ঘুমাতে হলে আজ বিছানায় একলা ঘুমাতে গিয়েও
- 23:14অশান্তি লাগছে জানো। বালিশের পাশ থেকে
- 23:16শার্টটা নিয়ে পড়তে পড়তে উঠানে আসসালাম
- 23:18তারপর। আম্মা দরজাটা লাগিয়ে দিও। রাইতের
- 23:20বেলা কই যাস পাগলের মতো? এদের বাড়িতে যাই।
- 23:23চাঁদ লজ্জা পেয়ে তৃষ্ণ মেঘের আড়ালে ঢেকে
- 23:26রেখেছে নিজেকে। আধারে ডুবে আছে মেঝোপ। এই
- 23:29মুহূর্তে গাড়ি বা ভ্যান পাওয়া দুষ্কর।
- 23:31মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে পায়ে হেঁটে
- 23:33তেলের বাড়িতে পৌঁছালো জাহ। জানালায় কারো
- 23:35হাতের বাড়ির শব্দে আত্মরক্ষা খাঁচা থেকেই
- 23:38বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বিছানা থেকে লাফিয়ে
- 23:41উঠে বসলো তে। এগিয়ে গিয়ে শুকন গলায় বলল,
- 23:44কে? আমি প্রচন্ড মশা কামাছে। দরজাটা খুলো
- 23:46গিয়ে। তে তাড়াতাড়ি করে দরজাটা খুলে দিল।
- 23:48জাকুব ঘরে ঢুকে সোজা তে রুমে চলে গেল। পরে
- 23:52শান্ত দেহটি বিছানায় এলিয়ে দিয়ে শান্ত
- 23:54সুরের হুকুম করল। ঘুমাতে আসো। এত রাতে
- 23:57এলেন যে আম্মা বলেছে। সত্যি আম্মা
- 23:59পাঠিয়েছে আপনাকে? হ্যাঁ। নয়তো কি আমি
- 24:01আসতাম? বউয়ের জন্য পাগল পাগল হয়ে ছুটে
- 24:03আসার মত সম্পর্ক কি আমাদের মধ্যে আছে?
- 24:05মুখে অন্য কথা বলল জাঙ্কুক জানেই তে
- 24:08সান্নিধ্য ব্যতীত ঘুমাতে পারবে না জাঙ্ক।
- 24:10গভীর রজনীতে আকাশ পাতাল ঝাপিয়ে বৃষ্টি
- 24:13নামলো। বাহিরে বয়ে চলা ঝরালো বাতাসে ঘুম
- 24:16ভাঙলো জাঙ্গুকের। রাত্রি অবসান হওয়ায়
- 24:18কানে ভেসে আসে বোনের শব্দ। তে ছটফট করছে
- 24:21জ্বরের ঘরে। জাংকুক তার চোয়া হাটি অতি
- 24:24স্বর্ণপনির ছোয়ায় তের গলায়। যেন তে
- 24:27উঠলো জাংকুবকের হাটি। শার্টের খোলা বোতাম
- 24:29গুলো লাগিয়ে দরজা খুলে বসার ঘরে এলো
- 24:31দেখো। বসার ঘরে সবার মতো হারিকেন হাতে
- 24:34প্রবেশ করছিল তের মা। কে? মা আমি। কখন এলে
- 24:37বাবা? রাতে এসেছি। তের খুব জ্বর। এই সময়
- 24:40ডাক্তার পাবো না। আমাকে এক বালতি পানির
- 24:42ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না আম্মু?
- 24:43>> হায় হায় কি খাও? ও বেশিটা ভিজে নাই। এমন
- 24:45জ্বর এলো কেমনে? তুমি খাও। আমি পানি
- 24:47আনতাছি।
- 24:48>> ছোটবেলটিতে জল ভরে নিয়ে আসলেন টের মা।
- 24:50উনি কোথায় মা? তোর কাছেই। শরীর বেশি
- 24:53খারাপ লাগছে? আমার কাছে আসুন। এই ঘরের
- 24:56হারিকেনের টেরোসিন শেষ হয়ে যাইতেছে মনে
- 24:58হয়। লিভনের আগে আমি আরেকটা হারিকে নিয়ে
- 25:00আইতাছি। তুমি এখন খাও ওর লগে। শোনো
- 25:02মিস্টার জাঙ্কু বলো বেল খাবো এখন? হ্যাঁ
- 25:05এক্ষুনি নিয়ে আসুন না। এখন বেল কোথায়
- 25:07পাবো? সকালে নি? আমি এক্ষুনি খাবো। হুকারি
- 25:10ভাইদের কাছে বেল আছে। নিয়ে আসুন নিয়ে
- 25:12আসছি। মাইয়াডার লগে কি তোমার মাথাও খারাপ
- 25:15হয়ে গেছে। বাইরে ঠাডা পড়তাছে। বৃষ্টিও
- 25:17বাড়ছে। জ্বরের মধ্যে থাইকা কিনা কি কইছে?
- 25:19যাওয়া লাগবো না। তোমার
- 25:20>> কিচ্ছু হবে না মা। আমি যাব আর আসবো। আপনি
- 25:22ওরে দেখে রাখুন। এর মাকে কথা বলার সুযোগ
- 25:24না দিয়ে বেরিয়ে পড়ল জাকো। বাতাসের
- 25:27দাপটে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে আছে
- 25:29জায়গায় জায়গায়। আশেপাশে চোখগুলি লম্বা
- 25:31একটি বাঁশ হাতে তুলে নিল জাঙ্কু। বেলের
- 25:33উপর করা বাঁশের আঘাতে শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছে
- 25:36বর্ষণের তম আওয়াজের মাঝে। কিছু বেল ফেটে
- 25:39গেছে মাটিতে পড়ে। সেগুলো সব সাথে আনা
- 25:41পলিথিনে পড়ে বাড়ির দিকে রওনা হল
- 25:44জাঙ্কুক।
- 25:46প্রভাতের ঘুম ভেঙ্গে অর্ধ উধম দেহ দেখে এ
- 25:49লজ্জা আসল হয়ে পড়ে। চোখ সরিয়ে ফেলে
- 25:51কাটখোনা। জাঙ্কুকে নগ্ন বুকে ঘুমিয়ে
- 25:53গিয়েছিল তো। শার্ট কামড়ার ভিতরে তারটা
- 25:56মেলে দেওয়া। ভেজা হালকা। তের জ্বর ছেড়ে
- 26:00গেছে ঘন্টাখানিক আগে। তেকে দেখি তের মা
- 26:02কপালে হাত দিয়ে বলে উঠলেন, মায়ের সেবা
- 26:04করতে আইয়া তুই নিজেই জ্বর বাধা ফেলছস।
- 26:06হাত মুখ ধুইয়া খাইতে আয়। এত বেল কে
- 26:08দিয়ে গেছে আম্মা? রাইতে ঝরের ঘরে যে
- 26:10জুকাইড গাছের বেল খাবি কইয়া জামাইরে
- 26:12কইলি? এটা মনে নাই। সে তোর লাইগা ঠাডা ঝড়
- 26:15বৃষ্টির মধ্যে গিয়া বেল পাইরা আনলো।
- 26:17জিমিনের কাছে তুই কইলি পোলাডা বিয়াডা মানে
- 26:19না। আমার যে রাইতে তার হাত পাপ দেইখা মনে
- 26:21হইলো তোর লাইগা জানও দিবার পারবো। তোর
- 26:23আব্বার জীবনে আমারে এক গ্লাস পানি ঢেলে
- 26:25খাওয়ায় নাই। আর তোর জামাই তোর সেবা করলো
- 26:27সারারাইত। আবার বেলও আনলো। আমি কইলাম তুই
- 26:30বেল খাবি না জরে হুডই পাগলামি। তারপরও
- 26:32পাগলের মত ছুটা গেল। যখন আইতাছে তার পুরা
- 26:35শরীর ভেজা। চোখ মুখ সাদা হইয়া গেছে। মায়ের
- 26:37কথা শুনে তিভুদ্ধ হয়ে গেল। ততক্ষণ জাঙ্গুক
- 26:40বিছানায় উঠে বসেছে। তে তার অর্ধনগ্ন শরীরে
- 26:44চেয়ে থাকতে পারলো না বেশিক্ষণ। পাঁচ থেকে
- 26:46সাতটা দাও তো বাচ্চা নিতে। কে হুকুম মানলো
- 26:48না যে চাপলো তার মস্তিষ্কে। হঠাৎ এমন
- 26:51রাগলে কেন? আপনি রাতে পাগলামি কেন করলেন
- 26:53জাঙ্কু? কি পাগলামি করেছি? বজ্রপাতের মাঝে
- 26:55বেল পাড়তে গেলেন কেন? যদি কিছু হতো কি
- 26:58হতো? ঘরেই। আপনার বাপ গ্রামের মেম্বার।
- 27:00আপনার কিছু হলে আমাদের 14 গোষ্ঠীকে মামলা
- 27:02করে জেলে ফরতো। তুমি বড়ই জালিম। কষ্ট করে
- 27:06বেল আনলাম। না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে। এখন আমার
- 27:08ভয় পাচ্ছ। আমার কিছু হয়ে গেলে জেলে যেতে
- 27:11হবে। আমি জ্বরের ঘরে আবদার করেছি বলে বেল
- 27:13আনতে হবে। তখন আমার মনে হচ্ছে আমার জীবনে
- 27:15একমাত্র কাজ হলো তোমার জন্য বেল পেড়ে আনা।
- 27:18কাজটা না করলে আমি শান্তি পেতাম না। তোমার
- 27:20আম্মা কি সুস্থ হয়েছে? বাড়িতে যাবে না?
- 27:22হুম হয়েছে। যাও। শ্রাবণ মাস পরিদর্পণ
- 27:25করেছে প্রকৃতিতে। অমল ধান রোপণের কাজ চলছে
- 27:29তে শ্বশুরবাড়ির পেছনের বিস্তৃত জবতে। ঘাটে
- 27:32বসে পানিতে পা ডুবিয়ে রেখেছে তে। আজ তার
- 27:35আনন্দে উড়ে বেড়ানোর কথা ছিল। অথচ শরীরে
- 27:38ছড়িয়ে আছে অজস্র। বলতার ভুল ফোটানোর অসহ্য
- 27:42যন্ত্রণা। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের
- 27:44হয়েছে। এ প্লাস পেয়েছে তে। দিনটির জন্য
- 27:47চাতকের ন্যায় প্রতিক্ষিত ছিল। ফলাফল
- 27:49জানার পরও অনাবীর আনন্দ হারিয়ে গেল যখন
- 27:52জানলো জাগুকের ভিসা হয়ে গেছে। চলে যাবে
- 27:55জাগুক। কথাটি তাকে জানিয়েছে তার শ্বশুর।
- 27:57সেই মুহূর্ত থেকেই তে মরে যেতে ইচ্ছা
- 27:59করছে। একদম বন্ধ হয়ে আসছে তে। পাশে কারো
- 28:02ধপ করে আওয়াজ শুনে ভাবান্তর হলো না তে।
- 28:05আমার দিকে তাকাও। মুখ কালো কেন? কোথায়
- 28:07গিয়েছিলেন? আব্বা আমাকে দিয়ে মিষ্টি
- 28:09পাঠালো তোমাদের বাড়িতে। তার একমাত্র বৌমা
- 28:11এই কাজ পেয়েছে সেই খুশিতে। তিনি সারা
- 28:13গ্রামে মিষ্টি বিতরণ করছে। কোথায় ক্ষতি
- 28:15হবে? আব্বা পছন্দ করেন না মেয়ে মানুষের
- 28:18বেশি পড়া। তুমি এখন শুধু তোমার আব্বার
- 28:19মেয়ে নও। কিরম নাম জমির পুত্রবধুও হও।
- 28:22তিনি তোমাকে পড়াতে চান। সত্যি? হ্যাঁ।
- 28:24কোথায় ক্ষতি হবে বল? শহরের কলেজে অনার্স
- 28:27করব। দূরে কোথাও যেতে মনশায় দিচ্ছে না।
- 28:29কনগ্রাচুলেশন মিস্টার জিয়ন। আপনার স্বপ্ন
- 28:31পূরণ হয়েছে সেজন্য। তর হাসি মুখের কথাটা
- 28:34জাঙ্গুকের সহ্য হল না। মন পড়ছে জাঙ্গুকে।
- 28:36কেন বুঝছে তার হদিস পাচ্ছে না আকর্ষণের
- 28:39স্থায়িত্ব বেশিদিন হয় না জাগুকের মন
- 28:41বলছে সে চলে গেলেই এই মুহ কেটে যাবে একটা
- 28:44নামহীন ভালোবাসাহীন সম্পর্কের মাঝে আটকে
- 28:47যাও চরম অন্যায় বলে বিবেচিত হয় জাগকের
- 28:49কাছে এহ তুমি কি মুক্তি চাও মুক্তি আমি কি
- 28:52ডিভোর্স আবার পাঠিয়ে দিব তোমার কাবিরের
- 28:54টাকাও শোধ করে দিব সাথে মাসে মাসে তোমার
- 28:57পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবকিছুর খরচও দিব
- 28:59তবু তোমাকে ভালোবাসাহীন একটা সম্পর্কে
- 29:01আটকে রেখে আমার জীবন নষ্ট করার দায় নিয়ে
- 29:03শান্তিতে থাকতে পারবো না বাচ্চা মেয়ে
- 29:08বছরের পর বছর মানুষ অপর একটি মানুষের সাথে
- 29:10একই সুত বাধা থাকে কেবলমাত্র ভালোবাসার
- 29:13খাতিরে। ভালোবাসা বিহীন সম্পর্কে থাকা
- 29:16দুটি মানুষ হয়ে যায় নাটাই ছাড়া ঘড়ি।
- 29:18যে কোন মুহূর্তেই যে কোন পল্টে নাটাই
- 29:20ছাড়া ঘড়িটি পড়ে যায় দূর দূরান্তে। চলে
- 29:23যায় দৃষ্টি সীমার বাহিরে। ছোট্ট জীবনে
- 29:26তেমনি ঘটনা ঘটে গেল। যে মানুষটির জন্য তার
- 29:28নিযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ বেহাল ঘটে যেত মনের
- 29:31অনিন্দ হররোজ অনুভূতিরা হুটুটি করতো সেই
- 29:34মানুষটি তাকে ভালোবাসেনি বলে ছেড়ে বাড়ি
- 29:36জমিয়েছে বহুদূর জাঙ্গুক অস্ট্রেলিয়া
- 29:39যাওয়ার চতুর্থ দিবস চলছে আজ গ্রামেগঞ্জে
- 29:42কার বাড়িতে কি ঘটেছে কি কি পড়েছে কি কি
- 29:44খেয়েছে তার গুঞ্জন হতে সময় লাগে না তেও
- 29:47জাঙ্গুকের বিষয়টি ভাইরাসের মত ছড়িয়ে
- 29:49পড়লো পাড়ায় হাটবাজারে সম্পর্কে
- 29:51জাঙ্গুকের চাচাতো ভাবী ও মন হয় পানি বুতি
- 29:54বালতিটি একপাশে সরিয়ে তাদের সুযোগ করে
- 29:56দিল পানি নেওয়ার জন্য জাগের চাচাতো বোন
- 29:59কল চেপে কলসিতে পানিছে ভাবি দিকে তাকিয়ে
- 30:02চাপা সরে বলে উঠল এ শোনো জি ভাবি দেখতে তো
- 30:05চান্দের লাহান তুমি শরীলে ধরলেই মনে হইব
- 30:07রক্ত বাইর হইব এমন বউ চায় বেডারা তাইলে
- 30:10জাকু ছাইড়া গেল কেন তোমারে তোমার মধ্যে
- 30:12এমন কি সমস্যা আছে যার কারণে আমার দেব
- 30:14তৃপ্তি পায় নাই বলছেন কিসব ভাবি ম কি
- 30:17কইলাম মানুষ বউরে তালাক তখনই দেয় যখন
- 30:20বউয়ের মধ্যে তৃপ্তি পায় না চাচা জোর করে
- 30:22ওরে তোমার লগে বানছিল আমরা আগেই জানতাম
- 30:24এমন কিছু হইব বিদেশে গিয়া পব অন্য বেডি
- 30:26লগে থাকবো তোমার মত মাইয়া দিয়ে ওর কি কাজ
- 30:29করিয়ে আমার কথায় দুঃখ পাইতেছো কিন্তু এটাই
- 30:31সত্যি মনে হচ্ছে কেউ সকাটে চাবুক মারছে
- 30:34শরীরে তীব্র ব্যথা চিনচিন করছে শরীরটা
- 30:37কাপড়গুলো কোনরকম ধুয়ে উঠনের তারে দ্রুত
- 30:40হাতে ছড়িয়ে ঘরে চলে এল হনহনি বিছানার
- 30:43চাবুক খামছে কেদে উঠল ধুপে জাদুকের প্রতি
- 30:45এক রাস অভিমান রাগচাড়া হয়ে জন্ম নিল টের
- 30:48মনে সূর্যের উৎপা কমে এসেছে বিষন্ন এক
- 30:51অপরাহ নেমেছে মেহেদিনতে মৃদু হাওয়ায় কেপে
- 30:55উঠেছে গাছের পাতা বাহ এই অবেলায় নিজের
- 30:57জন্মদাতাকে শ্বশুরের বিদায় দেখে অবাকী হয়
- 31:00তে। তার শ্বশুর তাকে তলব করা মাহফিলে
- 31:03চপ্পল পায়ে ছুটে এসেছে তে।
- 31:06>> তে কাপড় চোপড় গুছিয়ে নে। বৌমা কোথাও যাইবো
- 31:08না। ওর শ্বশুর বাড়িতে থাকবো কোন কারণে?
- 31:10তোমার পোলা ওরে তালাক দিব কিছুদিন পর।
- 31:12আমার বন্ধুত্বের মান রাখতে গিয়া মাইয়ার
- 31:14জীবনটা বরবাদ করছি আমি। তোমার কথা বিশ্বাস
- 31:16করছি বিয়ার পর সব ঠিক হইয়া যাইবো
- 31:18ভাবছিলাম। কিন্তু তোমার ওই বজ্জাত পোলা
- 31:20আমার মাইয়ারডারে ফালাইয়া চইলা গেল। আবার
- 31:22কয় তালাকও দিব। আমার মাইয়া কি জলে ভাইসা
- 31:24আসছে? তোমার পোলার কাছে আকুতি মুমতি কইরা
- 31:27থাকতে হইবো ওরে নিয়া যামু আমি। তোমার
- 31:28পোলারে কইবা জলদি তালাক নামা পাঠাইতে।
- 31:30আমার মাইয়ারে আমি ওর চেয়ে ভালো পোলার কাছে
- 31:32বিয়া দিমু। তুমি কি তোমার বাপের লগে যাইতে
- 31:34চাও বৌমা?
- 31:35>> কিছুক্ষণ চুপ কর।
- 31:36>> কত পরবকের উপর হওয়া অভিমানে মাথা উপর নিচ
- 31:40করে জানাল দিল চলে যেতে চায় সে।
- 31:42>> তোমারে আটকানোর কোন উপায় নেই। তোমারে
- 31:44আটকাইয়া রাখলে অন্যায় হইবো। আমার পোলা
- 31:46[মিউজিক] নিজের জীবন ঠিকই গুছাইয়া নিতাছে।
- 31:47তুমি কেন এক জায়গায় আটকে থাকবা? যাও চইলে
- 31:50যাও তোমার বাপের লগে। মাঝেমধ্যে মন চাইলে
- 31:52আইও ওই বুড়া বুড়ি দুইটারে দেখতে।
- 31:54>> জিন হাতে হাতে সব গোজগাছ করে দিল কেটে।
- 31:57গোজগাছের ফাঁকি দিয়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ
- 31:59মুচছিল বারংবার। যাওয়ার সাথে সাথেই
- 32:01মেম্বার বাড়িটা গ্রাস করে নেয় অপরিসীম
- 32:04শূন্যতা। তিন নামজন হাঁটতে গেলেন বাহিরে।
- 32:06জিন দুপুরে শুকানো কাপড়গুলো ভাজ করছিলেন।
- 32:09ঠিক তখনই জিনের বাটন ফোনটি করক শব্দে
- 32:11বেঁচে উঠলেন। তিনি ঠাওয়ার করতে পারলেই
- 32:13জাংকুক তাকে ফোন দিয়েছে। এদিক ওদিক চেয়ে
- 32:16ফোনটা রিসিভ করলেন তিনি। রমজুনের সাফ
- 32:18নিষেধাজ্ঞা আছে জাগকের সাথে যোগাযোগ করতে।
- 32:21কিন্তু তার মমতা ভরা হৃদয় ছেলেকে
- 32:23অগ্রাহ্য করতে পারলো না মোটেও। কেমন আছো
- 32:25আম্মা? তোর কি শরীর খারাপ? গোল এমন
- 32:28লাগতাছে কেন আব্বা? কেন তো একটু বাড়ির
- 32:30সবাই ভালো আছে? আর ভালো থাকা। কেন? কি
- 32:32হয়েছে? তেরে নিয়ে গেছে ওর আব্বা। নিয়ে
- 32:34গেছে মানে? একেবারে নিয়ে গেছে। না নিয়ে
- 32:36কি করবো? তুই তো ওর লগে সংসার করবি না।
- 32:38তোরে কইছে জলদি তালাক দিতে। ওর অন্য
- 32:40জায়গায় বিয়া দিয়ে দিব ওর বাপে।
- 32:43>> চোখের উপর হাত দিয়ে শুয়েছিল তে নিজ
- 32:45কামড়ায়। ঘুমাইতাছস তে
- 32:47>> না আম্মা কিছু বলবা তোর আব্বা ডাকে তোরে
- 32:50>> ডাকছিলেন আব্বা
- 32:51>> এদিকে আইও আম্মা বহানে এইডা নাও আব্বা
- 32:53কিনে আনছি তোমার লাইগা ঘরে একা একা থাও
- 32:55সারাক্ষণ ফোন দিয়া বান্ধবী বোনগো লগে কথা
- 32:57কইবা আমারে তুমি ক্ষমা কইরা দিও আম্মা
- 32:59বন্ধুর আবদার আমি ফালাইতে পারি নাই ঠিক
- 33:01হইয়া যাওয়া বিয়া ভাঙলে মান সম্মানের টান
- 33:03পড়তো আমাদের যুগে বাপ মা যার লগে বিয়া দিত
- 33:06মাইন্না সংসার করতাম আমরা জানকুক যে বিয়ার
- 33:08পরও ঠিক হইবো না বুঝতে পারিনি ভাবছিলাম
- 33:10সময়ের লগে মাইন্না নিব তোমারে যেই মান
- 33:12সম্মানের চিন্তা করতাছিলাম ওইডাই হইয়া গেল
- 33:14নিজের মাইয়ার জীবন নিজের হাতে বরবাদ করছি।
- 33:16>> আপনার কোন দোষ নেই আব্বা। এগুলো বোধয় আমার
- 33:18ভাগ্যে ছিল। ভাগ্য সাথে কেউই লড়াই করে
- 33:20জিততে পারে না। দয়া করে আপনি নিজেকে দোষ
- 33:22দিবেন না। আমি একদম ঠিক আছি।
- 33:24>> যাকুক তালাকনামা পাঠায় দিলে আমি তোমারে
- 33:26ভালো করে বিয়া দিমু। ভালো মতো ছেলের খোঁজ
- 33:28নিয়া তারপরে বিয়া দিমু।
- 33:30>> একটা কথা বলতাম আব্বা।
- 33:31>> কও আম্মা।
- 33:32>> নতুন করে বিয়ের কথা বাদ দেন। আপাতত আমি
- 33:34সামনে পড়তে চাই। অনার্স করতে চাই।
- 33:36>> কইবা অনার্স?
- 33:37>> শহরের কলেজে।
- 33:38>> আচ্ছা। তুমি যা কইবা তাই হইব। পড়তে হইতে
- 33:40কত টাকা লাগব আব্বারে জানাইও।
- 33:42>> বাবার সম্বোধনে নির্মম ভালো লাগায় ছেয়ে
- 33:44গেল। তৃম বিদ্যুৎ চলে গেছে কিছুক্ষণ
- 33:48পূর্বে গরম ঘরের ভেতরে ঠেকা মুশকিল ইদানিং
- 33:51ঘন ঘন রোড শেডিং হচ্ছে গ্রামে মা গিয়েছে
- 33:54বোনের বাড়িতে আজকে রাতটা কাটিয়ে
- 33:56আগামীকাল দুপুর নাগাত চলে আসবে এর বাবা
- 33:58এখনো বাজারেই আছে ঘরের দরজা লাগিয়ে
- 34:00হারিকেন নিয়ে বাড়ির পেছনে আসলো তে ধানের
- 34:03জমিন পার করে পুকুরের জল ছুঁয়েই সই সই
- 34:05করে কমল হাওয়ায় ছুয়ে দিচ্ছে তেতলকে
- 34:08আধারের মাঝে হারিকেনের স্বল্প আলোতে পুকুর
- 34:11পাড়ে বিদ্যুতে থাকা তাল গাছগুলোর দিকে
- 34:13তাকিয়ে গাছ ছমছম করে উঠল
- 34:15ঘাড় ঘুরিয়ে চাইতে কন্ঠনালী ছিটকে বেরিয়ে
- 34:17এল একটি নাম চাখুক সামনের পুরুষটিকে নিজের
- 34:21দিকে অগ্রসর হতে দেখে ধীরে ধীরে পেচাতে
- 34:23লাগল থেকল মোটা তাজা করুই গাছটিরের গতিতে
- 34:27এগিয়ে এসে ডানদিকে গাছের উপর বলিষ্ঠ হাতে
- 34:30থাবা বসালোক অন্য হাতে সুগধিত লতার মত
- 34:33বাকানো কোমরটি জড়িয়ে ধরে আজকা টানে নাজুক
- 34:36শরীলটিকে মিশিয়ে নিল প্রশস্ত বক্ষে আপনি
- 34:39সুস্থ স্বামী তালাক না দিতে জনর কাছে বিয়ে
- 34:42বসার জন্য বাপের হাত ধরে নাচতে নাচতে চলে
- 34:44এসেছো? ব্যথা করছে? চলে এলা কেন? চলে আসো
- 34:47না তাহলে কি করবো? আপনার ডিভোর্স পাঠানোর
- 34:50জন্য অপেক্ষা করতাম এই বাড়িতে। ডিভোর্স
- 34:51কে দিচ্ছে তোমাকে? মানে মানেটা খুব সোজা।
- 34:54আমি তোমাকে ছাড়ছি না। ছাড়বো না। কেউ
- 34:56তোমাকে আমার থেকে ছাড়াতেও পারবে না। কেন?
- 34:58ভালোবাসাটা যে হয়েই গেল। জাংকুক
- 35:00ভালোবাসার জন্য পৃথিবীর সবকিছু ছেড়ে দিতে
- 35:03পারবে। আর ভালোবাসা কেন? জাংকুক ঘায়ের
- 35:05পেছনে হাতগুলি দূরত্ব বুঝাতে মইরা হ।
- 35:08নাকের রাক্ষসে তৃষ্ণাত শুনে বলে উঠলো।
- 35:11উপলব্ধি শব্দটা কারো জীবনে জলদি চলে আসে।
- 35:13আর কারো জীবনের দেরিতে আমি তোমাকে
- 35:15ভালোবাসি তা বড্ড দেরিতে উপলব্ধি করেছি।
- 35:18বিদেশে যাওয়ার আগেই যে অনুভূতিগুলো আমার
- 35:20ভিতরে তচনমচ করে দিচ্ছিল সেগুলো তোমার
- 35:22সামনে তৈরি হওয়া মোহ ভেবে অবহেলা করেছি।
- 35:25ভেবেছি দূরে চলে গেলে কেটে যাবে মোহ।
- 35:27কিন্তু ভুল ছিলাম আমি। সেগুলো কোন মোহ ছিল
- 35:29না। নরম অনুভূতিগুলো ছিল ভালোবাসার সুক্ত
- 35:32বীজ। যা চারায় পরিণত হতে ভীষণ দেরি করে
- 35:35ফেলল। লোকে বলবে আমি পাগল। বউয়ের জন্য
- 35:37নিজের স্বপ্ন ছেড়ে ছুড়ে চলে এসেছে।
- 35:39হ্যাঁ আমি সত্যি পাগল। দূর দেশে তোমার
- 35:41বিরহে পাগল হয়ে মরাচ্ছে তোমার কাছে এসে
- 35:43মরতে রাজিয়ান ভালোবাসি তোমাকে আমার বউ
- 35:46তেজ শ্বাস-প্রশ্বাস উঠানামা করছে দ্রুত
- 35:48গতিতে বিরহ লেগে গেছে শরীরের কষেক কষে
- 35:51পরমন্তি ঘুমন্ত অভিমান জেদ কষ্টগুলো সজাগ
- 35:54হয়ে হানা দিল মস্তিষ্কে হৃদয়ে জাঙ্কুকে
- 35:57ঠেলে উঠে পড়ল টেহা আচানক ধাক্কায় তাল
- 35:59হারাতে গিয়ে নিজেকে সংযত করল জাঙ্কুক আমি
- 36:02আপনাকে ভালোবাসি না জেমস জাঙ্কু বাবার
- 36:04ভয়ে বিয়েটা করেছি বলে সংসারটাও করতে
- 36:06চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে ফেলে
- 36:08যাওয়ার পর আমি মুক্তি পেয়েছি আপনার কাছ
- 36:10একদিন আপনি বলেছিলেন ভালোবাসা ছাড়া সংসার
- 36:12হয় না আজ আমি বলছি সত্যি ভালোবাসা ছাড়া
- 36:15দুটো মানুষের সাথে একসাথে থাকা সম্ভব না
- 36:17দয়া করে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবেন
- 36:19মিথ্যা বলছো তো ভালোবাসি না বলায় আপনার
- 36:21ইগতি লেগেছে একদিন বলেছেন আমার প্রতি
- 36:23আপনার ভালোবাসা নেই আজ বলছেন ভালোবাসেন
- 36:25আমাকে সবই আপনার মর্জি তাই না আমি আপনার
- 36:28খেলনা নই যে মন চাইলেই আমাকে নিয়ে খেলবেন
- 36:30মন চাইলেই ছুড়ে ফেলবেন কান খুলে শুনে
- 36:32রাখুন জম জাকু আমি আপনাকে ভালোবাসি না
- 36:35ভালোবাসি না ভালোবাসি না কথাগুলো বলতে
- 36:37গিয়েও গলা কেপে ওঠে এক মুহূর্ত মাদারে
- 36:40স্তব্ধ পায়ে দৌড়ে বাড়ির অভ্যন্তরে চলে যায়
- 36:42তে।
- 36:42>> না খাট মুঠো করে তের পানে তাকিয়েই থাকে
- 36:45অপলক।
- 36:46>> এত উত্তেজিত হইলে শরীর খারাপ হইবো আপনার।
- 36:49>> কেমনে শান্ত হমু? হ্যাঁ? কেমনে? তোমার
- 36:50পোলা বজ্জাতটা আমার লাখ লাখ টাকা নষ্ট
- 36:52কইরা নিজের মনের আয়েশ মিঠাইয়া পড়তে
- 36:54গিয়েছিল। বউ কি দুনিয়ায় আর কারো নাই? ওরই
- 36:56আছে।
- 36:57>> আপনার বন্ধু আমার বউ বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে
- 36:59পড়ে গেছে। আমি কি বিদেশে বসে নিজের বউয়ের
- 37:01বিয়ে উপভোগ করতাম?
- 37:02>> কেন? উপভোগ করতে সমস্যা কই আছিল? বউ ছাইড়া
- 37:04বিদেশে পড়তে যাওয়ার বেলায় বউয়ের কথা মনে
- 37:06আছিল না।
- 37:07>> ছিল। কিন্তু ওকে যে এত ভালোবাসি সেটা
- 37:09বুঝতে পারিনি। এখন বুঝেছি এখন আমার বউকে
- 37:12লাগবে।
- 37:12>> মগের মূলক পাইছো আব্বাজান টের আব্বা দিব
- 37:14না টেরে।
- 37:15>> সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল আমি বাঁকা
- 37:17করতে পারি। সেটা করতে চাইছি না। ভদ্রভাবে
- 37:19শ্বশুরের কাছ থেকে বউকে আনতে চাচ্ছি। আপনি
- 37:21সহ চলেন আমার সাথে।
- 37:22>> জিনে পাইছো তো আমারে। লাখ টাকা খরচ করে
- 37:25তুমি পানিতে ভাসায়ে দিয়ে আমারে হুকুম
- 37:27করবা। বউ আইনা দিতে তোমারে আমি বউ আইনা
- 37:29দিমু?
- 37:29>> হ্যাঁ দিবেন। এত টাকা করেছেন কেন? বাপ
- 37:32দাদার কালি জমি জমা চালের আরত মাছের চাষ।
- 37:35কাপড়ের ব্যবসা আপনার। কে খাবে এত টাকা?
- 37:37আমি না? আমি ছাড়া আপনার কি আরো ছেলে মেয়ে
- 37:39আছে? আম্মা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখো।
- 37:41আব্বার কোন লোকায় ছেলে মেয়ে আছে কিনা।
- 37:43সত্যি কইরা কও জাঙ্কুকের বাপ। তুমি অন্য
- 37:45জায়গায় বিয়া করছো?
- 37:47>> তুমিও তোমার পোলার কথা বিশ্বাস করছো জিম।
- 37:49ও একটা বদের হাড্ডি। ভালা মানুষের মুখোশ
- 37:52পইড়া থাকে। ভিতরে ভিতরে শয়তান। তোমার পোলা
- 37:54এমন ফাজিল হব আমি জীবনেও কল্পনা করি নাই।
- 37:56>> অন্য কোন ছেলেমেয়ে না থাকলে ভালো। আমি
- 37:58জানি আব্বা আপনি সৎ চরিত্রের মানুষ।
- 38:00প্রাণপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসা। যেহেতু অন্য
- 38:02কোন ছেলেমেয়ে নাই। আপনার ছবি তো আমারই।
- 38:05ধরে নিন আমার টাকাই নষ্ট করছে। তবুও আপনার
- 38:07মন না চাইলে আমি ইনকাম করে ভবিষ্যতে আপনার
- 38:09টাকা দিয়ে দেবো। এখন তোদের বাড়িতে চলেন
- 38:11আমার সাথে।
- 38:12>> চলো বজ্জাত পোলা। মানি ইজ্জত আর কিচ্ছু
- 38:14রাখলা না। খাওন পরে যাইবো। আমার বৌমারে
- 38:17ডাকো আগে। কথা কই একটু ওর লগে।
- 38:19>> মা মেয়েকে সবটা বুঝেই বলেছিলেন। মায়ের
- 38:21কথায় শ্রবণ হয় অবলনীয়। বাহির থেকে ডাক
- 38:24করতে সিদুর রঙের ওনাটা দিয়ে চুল ডেকে বসার
- 38:27ঘরে আসলো। নজর মেজেতে রেখেই সালাম দেয়
- 38:29সবাইকে। তোমার লাইগা আমার পাগল পোলাডা
- 38:32বিদেশ ছিকাইয়া পড়ছে। বাড়ি লগ বৌমা। তুই কি
- 38:34সিদ্ধান্ত নিছোস আম্মা? তুই যা কবি তাই
- 38:36হইবো। কোন জোর জবরদস্তি নাই। তুই কি সংসার
- 38:38করবি জাকুকের লগে?
- 38:39>> আমাকে ক্ষমা করবেন আব্বা। আপনাদের সাথে
- 38:41ফিরছি না আমি। বিয়েটা আপনাদের বড়দের
- 38:44সিদ্ধান্তেই হয়েছিল। আমাদের দুজনের
- 38:45সম্মানিত নয়। আমি জোর করেই বিয়েটা মানতে
- 38:48পারছি না। মুক্তি চাই আমি এটা থেকে। ক্ষমা
- 38:50করবেন আমাকে। কথা সমাপ্ত করে চোখের কোনা
- 38:52দিয়ে জাঙ্কুককে দেখেই গলাটা শুকিয়ে গেল
- 38:55তে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছে জাঙ্কুক।
- 38:57চোখ দুটো যেন গুলির শক্ত রং ধারণ করেছে।
- 39:00আমি তার সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাই।
- 39:02আমার কারো সাথে কোন কথা নাই। এক ছুটে ঘরে
- 39:04গিয়ে দোয়ার আটকে দিল তে। জাংকুক তার
- 39:07বন্ধ দরজার দিকে চেয়ে রইল নির্মমভাবে।
- 39:09রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে
- 39:11গেল জাঙ্কুক।
- 39:12>> আজ আসি। মাইয়ারডারে কিছু কইও না। বাচ্চা
- 39:14মাইয়া। কলটা স্বামী পালাইয়া গেছে গা।
- 39:16এজন্য অভিমানটা বেশি। রাগ কমলে সব ঠিক
- 39:19হইয়া যাইবো।
- 39:19>> রাতের খাবারের পর তির বাবা মা শুয়ে
- 39:22পড়লেন। বিদ্যুৎ পালিয়েছে কিছু সময়
- 39:24পড়বে। হাড়ি কেনে সতেলটা বাড়িয়ে
- 39:26টেবিলের উপর রাখলো তিন। সোলার ঝাড়ু দিয়ে
- 39:28বিছানাটা ঝেড়ে নিল আরেক দফা। তুম করে
- 39:30মোবাইল ফোনে একটা মেসেজ আসলো। ঝাড়ুটা
- 39:32বিছানার মাঝামাঝি রেখে ফোনটা হাতে নিয়ে
- 39:35দেখল নাম্বারে একটা বার্তা এসেছে। বার্তা
- 39:37পাঠানোর মানুষটি আর কেউ নাই। বরং জাংকুক
- 39:40তাড়াতাড়ি বাড়ির পেছনে আসো। না হলে আমি
- 39:42বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাব। তোমার বাবা মা
- 39:44কেন? তোমার 14 গুষ্টি আমাকে আটকাতে পারবে
- 39:45না তখন তে বিছানায় বসে রইল। ছাই বাঘের
- 39:48মুখে কে যেতে চায়। জাংকুক তার কাছে এখন
- 39:51বাঘ সমতল। মেসেজের কোন রিপ্লাই না পেয়ে
- 39:53রাঙ্গুকের মেজাজ তরাফ করে বেড়ে গেল। আসবা
- 39:56না তাহলে আমি আসছি। ব্যাস হুমকি ধুমকিয়ে
- 39:58জাতাকলে পিছে গিয়ে তে বাধ্য হয়ে বেরিয়ে
- 40:01আসলো। আধারের পা টিপে টিপে বাড়ির
- 40:03পেছনটায় আসে তে। আসা মাত্র অন্ধকারে একটি
- 40:05হাতটাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেল। শরীর থেকে
- 40:08ওড়না ছাড়িয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলল ফটাফট।
- 40:10দু হাত পেছনে মুড়ে ধরে শরীরটাকে তুলে নিল
- 40:13কাঁধে। ভালোভাবে নিতে এসেছিলাম চাওনাই।
- 40:15উল্টো তেজ দেখিয়ে বলো আমার সাথে সংসার
- 40:17করবে না। ভদ্রতার মায়ের বাপ। তুমি বাধ্য
- 40:19করলে আমাকে অভদ্র হইতে। জাংকুকের সাদা
- 40:22শার্টটা সবকটা বোদাম ছাড়িয়ে একটু কাঠ
- 40:24থেকে নামালো ছুড়ে ফেলল নেচাতে আইপিএস
- 40:27সংযোগ আছে জাকুকদের বাড়িতে হলুদ বাতির
- 40:29উজ্জ্বল আলোতে টি স্পষ্ট দেখল জাকুকের
- 40:32খপাটে দৃষ্টিতে উদম গায়ে আগাচ্ছে তার
- 40:35দিকে উদ্দেশ্য অনুধাবন করে তে বিছানা
- 40:37ছাড়তে চাইল বাঘ সাদলো অর্ধ উদম পুরুষটি
- 40:41টানা হেচা করে বিছানা এনে শটান করে শুয়ে
- 40:43দিল তেকে নিজের অর্ধেক অনাবৃত শরীরের ভার
- 40:47ছেড়ে দিল তের উপর হাত দ্রুত উপরে উঠে
- 40:50টেনে ধরল আঙ্গুলের ভাজে দাড়ি সমেত গলা নরম
- 40:53গলায় আলত করে ঘসে ঘসে ঠোট ডুবিয়ে দিল টির
- 40:56গলায় আমাকে বারবার প্রত্যাখান করার মজা
- 41:00তোমাকে বোঝাব
- 41:02এভাবে ঘামছো কেন রিলাক্স হও বাচ্চা আমি কি
- 41:05এতটাই খারাপ যে তোমার অনুমতি ছাড়াই কিছু
- 41:07করব আজ কিছুই করবো না শুধু তোমার উপর
- 41:09থেকেই নড়বো না তোমার উপরেই ঘুমাবো এটাই
- 41:12তোমার শাস্তি আমি নড়তে পারছি না নড়তে দিব
- 41:14না একটু ছাড়ুন প্লিজ পালাবো না বিশ্বাস
- 41:17করছি না ছেড়েই দেখুন না ছাড়তে যে ইচ্ছে
- 41:19করছে আজ তোমাকেই বিছানা বানিয়ে পরম
- 41:22তৃপ্তিতে ঘুমাতে ইচ্ছা করছে। তাহলে হাতটা
- 41:24অন্তত ছাড়ো খান ছাবা এখন ছাড়ার জন্য এমন
- 41:27করেছিলাম। এখন যদি ছাড়া পাওয়ার জন্য অমন
- 41:29করো। যদি করি তাহলে হাত দুটো বেঁধে দিয়ে
- 41:32যদি করো তাহলে আমি তোমার পদ্যের মত
- 41:34গোলাপির ঠোট দুটোকে আমার ঠোটে দিয়ে
- 41:36গভীরভাবে ছেড়ে দেব। আপনি এমন ছিলেন না।
- 41:38এত অসভ্য ছিলেন না আগে। ভালোবাসা তো আগেই
- 41:41হয়নি তাই ভদ্র ছিলাম। ভালোবাসা হওয়ার
- 41:43সাথে সাথে অভদ্র হয়েছি। কেন? ভালোবাসায়
- 41:46প্রিয়তম নিকট অভদ্র হতে হয়। না হলে ভালো
- 41:48প্রেমিক হওয়া যায় না। আমি যে শুধু তোমার
- 41:50স্বামী নই, প্রেমিক হতে চাই। আমার বউয়ের
- 41:52অদ্ভুত প্রেমিক।
- 41:55বোকাম সকাল সকালেই মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে
- 41:57এলেন। মুখমন্ডলটা গম্ভীর।
- 42:00>> নামজন বেজায় বিরক্ত ছেলের উপর।
- 42:02>> শুনুন না সবাই খারাপ ভাবে। আমি আব্বার
- 42:04সাথে একবার দেখা করে আসি। দেখা করার নাম
- 42:06করে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার ধান্দা। তাই
- 42:08না? আপনি ভুল ভাবছেন? যাব না আমি। শুধু
- 42:10একবার দেখা করি। যদি বাপের সামনে তোমার
- 42:12সাহস বেড়ে যায়। বাড়বে না। ওকে চল। গিয়ে
- 42:15বাপকে সুন্দর করে বলব। তুমি আমার সাথে
- 42:17সংসার করতে চাও ঠিক আছে ঠিক আছে জাংকুকের
- 42:20কথা অক্ষয়ে অক্ষয়ে পালন করে বাবাকে পাঠিয়ে
- 42:22দিল তে জিন থেকে কাছের আলমারি থেকে নতুন
- 42:25তিনখানা শাড়ি দিল টেকে দুপুরের গোসল সারার
- 42:27জন্য তে গোসল সেরে কলাপাতা রঙের একটি শাড়ি
- 42:30পড়ে নেয় ভেজা কাপড়গুলো বালতিতে ভরে বাহিরে
- 42:33আসলে তার হাত থেকে বালতিটি খপ করে টেনে
- 42:35নেয় কাকুক অন্য হাতে ওষুধের পাতা ধরিয়ে
- 42:38দিয়ে বলে আমি মেলে দিচ্ছি তোমার ওষুধটা
- 42:39খেয়ে নিও কিসের ওষুধ সারারাত যে তোমার উপর
- 42:42ঘুমিয়ে তোমাকে ব্যথা দিয়েছি সেটার ওষুধের
- 42:44বাকশক্তি হারিয়ে বোবা বনে গেল চালচাল নয়নে
- 42:47চেয়ে রইলো জাকুপের চলে যাওয়া দিকে। চোখে
- 42:49পড়লো জাকুপের চাচাতো ভাইয়ের বউকে। পানি
- 42:51নিতে এসেছিল কলসি হাতে। ভালো আছেন ভাবি?
- 42:54হ্যাঁ। তুমি কেমন আছো? ভালো ভাবি। আপনার
- 42:56দেবর চলে এসেছে। শুনেছেন? হ্যাঁ। এমন
- 42:58পাগলামিটা কেন করতে যেয়ে গেল? আপনার দেবর
- 43:01আমার মধ্যে এতটাই তৃপ্ত যে এমন পাগলামি
- 43:04করতে বাধ্য হইলো ভাবি। হাটতে পারতেছিল না
- 43:06আমাকে ছাড়াই তো ছুটে এসেছে পাগলের মত।
- 43:08মহিলাটার মুখে আকাশের ন্যায় কালো হয়ে গেল।
- 43:10অপমানের সুজ বিধলো গায়ে। তে ঠোট টিপে
- 43:13হাসলো তার আধার মুখখানা দেখে। রাতে
- 43:15খাওয়ার পর সে পরিকল্পিত ভাবেই দাদীর ঘরে
- 43:18চলে গেল।
- 43:18>> তুই এখানে আইছস কেন না আব্বু? যা ঘরে যা।
- 43:20আমি আজ তোমার সাথেই ঘুমাবো।
- 43:22>> কেন? তুই আমার লগে ঘুমাবি কেন? আমার
- 43:24নাতিরে দুঃখ দেওনের লাইগা। আমি বুঝি না
- 43:26ভাবছস? নাতির দুঃখ বুঝো। আমার দুঃখ বোঝো
- 43:28না। তোর দুঃখ জায়েজ। আমার নাতির দুঃখও
- 43:31জায়েজ। তার থেকে বড় কথা দুইটা দুইটারে
- 43:33বহুত ভালোবাস। মিল্লাজা দুইজনে। তে নাড়র
- 43:36ঘর থেকে বেরিয়ে আসো। তে সাড়া দিল না।
- 43:37চোখ মুখ খিচে শুয়ে রইল। নাদির কথাগুলো
- 43:40প্রজাপতির মত উড়েছে তের মন কাননে। রাতের
- 43:43মধ্যভাগে দরজা খুলল তে। শব্দ হলো ক্যাচ
- 43:45ক্যাচ। তে দরজা ঘিরে বাহিরে পা রাখতেই
- 43:48বিদ্যুৎ স্পষ্ট হলো। শাড়ির নিচে হাত গলিয়ে
- 43:51অনাবৃত কোমর টেনে সামনে দুটো নিয়ে গেল
- 43:54কেউ। ভয়ে যত্ন ফুচকে উঠে কে? সেভাবে
- 43:57[নাক ডাকা] না। আপনি ঘুমাতে যাননি? তোমাকে
- 43:59ছাড়া ঘুমাবো কিভাবে? আমি আপনার ঘুমে বাধা
- 44:02দিয়েছি?
- 44:02>> হ্যাঁ। আমি যে অস্থিরতায় ঘুমাতে পারিনি।
- 44:04সে কারণেই তুমি বুদ্ধি করে দাদীর ঘরে গিয়ে
- 44:06ঘুমিয়েছো। তোমাকে আমি শান্তশিষ্ট
- 44:08ভেবেছিলাম। তুমি মিচক শয়তান। আপনাকেও আমি
- 44:11ভদ্র ভেবেছিলাম। আপনি গুন্ডা বের হলেন।
- 44:13তুমি যা বলবে তাই সই। আমার বাচ্চা বউ
- 44:15সত্যি করে বলো। আপনার না ঘুমানোর কারণ কি?
- 44:18তুমি তোমার ঘ্রাণ। ঘ্রাণ। তোমার শরীরের
- 44:20ঘ্রাণে আমার ঘুমের মেডিসিন আছে। বাসর রাত
- 44:23থেকে শুরু করে তোমার শরীরে যে ঘ্রাণে আমি
- 44:25মাতাল হয়েছি সেই ঘ্রাণ ব্যতীত আমার ঘুম
- 44:27আসে না। বিদেশে কিভাবে ঘুমিয়েছেন তাহলে?
- 44:29বলতে পারিনি বলেই তো চলে এসেছিল। প্রতিটি
- 44:31রাত নিশাচর হয়েছিলাম আমি। তুমি বিহনে।
- 44:33তুমি রাগ করো, অভিমান করো, ইগনোর করো। যাই
- 44:36করো সব আমার ঘরে থেকে আমার সামনে থেকে
- 44:39করবে। দূরে গিয়ে নয়। খাটের এক প্রান্তে
- 44:41শুয়ে পড়ুক শুনলো অন্য প্রান্তে মাঝের রুল
- 44:44তফা ব্যবধানকে ছুটি দিয়ে কেউ কারো কাছে
- 44:46এগিয়ে আসে না তোমার হার্টবিট এত ফাস্ট
- 44:49হচ্ছে কেন কি চিন্তা করছো কি কিছু লোক
- 44:52লাগছো কেন বলতে বলতে মাঝের দূরত্বকে অনাশে
- 44:55সমাপ্ত করে দিল জাগ কাছে এগিয়ে এসে মুখ
- 44:58রাখলো তের মুখের উপর সুস্পষ্ট হাত রাখলো
- 45:01গালে একদম ছুবেন না হাজার পা ছোব কেন
- 45:04ছুবেন কারণ ভালোবাসি আমি আপনাকে ভালোবাসি
- 45:06না তোমার বুকের টিপটিপ শব্দ তোমার স্পন্দন
- 45:09এই মিলঝুমপুরিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে
- 45:12চিৎকার করে বলছে তোমার আমার ভালোবাসাটা যে
- 45:14হয়ে গেছে মিথ্যা কথা আহ তোমারই দুস্পন্দন
- 45:18মিথ্যা বলছে না আকুল হয়ে ডাকছে আমায় মুখ
- 45:20খুলে একবার অনুমতি দাও তে একটাবার এত কাছে
- 45:23থেকে ফিরিয়ে দিলে অনুভূতির বেড়াচালে
- 45:25মৃত্যু হবে আমার ভালোবাসা কেন আগে আমার
- 45:28হৃদয়ের দুয়ারে এলো না তে কতগুলো দিন
- 45:30নিজেকে বঞ্চিত করলাম তোমার ভালোবাসা থেকে
- 45:32আমি তোমাকে এক্ষুনি এই মুহূর্তে প্রচন্ড
- 45:35ভালোবাসলে তুমি কি আমার ভালোবাসাকে গ্রহণ
- 45:37করবে চোখ দুত বুঝে রেখে সাইয় দিল তেশায়
- 45:40পেয়েই গাঙ্গুকের সমস্ত ধৈর্যের বাদ
- 45:42সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার মত ভেসে গেল ঠোট
- 45:44নামিয়ে আনলো তে ঠোটে ছুলো আলত করে পরক্ষণই
- 45:47বাউতের নোখ দাবানো জলনীতে আলত স্পর্শে
- 45:50থেমে থাকতে পারলো না উত্তাল হলো বুকের
- 45:52ভেতর নরম তেল অধৈর্য টেনে নিল রুক্ষ শুষ্ক
- 45:56ঠোটের মাঝে গাড়ো থেকে গাড়োভাবে চলতে থাকে
- 45:58ঠোট দুটোকে যেন তৃপ্তি সহকারে শুষে নিচ্ছে
- 46:01অমৃত সুধা গোসল সড়ে বের হয়ে আসল তে ভেজা
- 46:06চুলে গামছা বেচে নিয়েছে তে নৌকা নৌকা চড়বে
- 46:08এই রাতের বেলা হ্যাঁ রাতের বেলা নৌকার
- 46:11মাঝে তোমার আমার ভালোবাসায় কেউ বাধা হতে
- 46:13পারবে না নদী তো বহু দর করে নৌকা ভাসাবো
- 46:16তে কথা না বলে পা বাড়াতে নিলে জাংকুক টেনে
- 46:19তাকে কোলে তুলে নিল না মান আমি হেটে যেতে
- 46:21পারবো আমি কি মুখে ভালোবাসি বলার জন্য
- 46:23তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসা আমি প্রকাশ করব
- 46:25আমার কর্মে জেন জাকুক তার ছোট বউয়ের প্রতি
- 46:27ভালোবাসা প্রকাশের বেলায় একদম কৃপণতা করবে
- 46:30না তার দু হাত দুটো দিয়ে গলা জড়িয়ে ধরল
- 46:32জাঙ্কুকে যখন প্রকৃতির রূপ দেখার পাশাপাশি
- 46:35জাংকুক তার জন্য সবকিছু ছেড়ে ছেড়ে চলে
- 46:37এসেছে বিষয়টিতে নির্মল তখনই বইটা রেখে
- 46:40নৌকার মাঝে মাঝে এসে বসলো জাঙ্কু কি
- 46:42চিন্তা করছিলে চিন্তা করছিলাম আপনার কথা
- 46:45জাঙ্কু আপনি কি জানেন আপনি কত বড় বোকামি
- 46:48করেছেন জানি কে বলেছে অন্ধ বোকামি করতে
- 46:50ভালোবাসা বলেছে ভালোবাসা বলেছে ভালোবাসা
- 46:53বলেছে জাঙ্কু তুমি বোকা হও তুমি বোকা হলে
- 46:56তোমার হবে
- 46:58আমার বুকে মাথা রাখো আমার এই স্পন্দন শোনো
- 47:01জেনে নাও তোমাকে কতটা ভালোবেসে জিয়ন জাকু
- 47:03বোকা আমি সর্বোচ্চ সীমানা পার করেছে রাজু
- 47:06হেসে কান পাতে জাংকুকের বুকে জাংকুক তের
- 47:08পিঠে এক হাত জড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে
- 47:11ভাবে স্বপ্নের বিসর্জন টাকাগুলো নষ্ট করার
- 47:14মত বোকামি সবকিছুই তের কাছে শিখে এই এক
- 47:17নারীকে পাওয়ার জন্য হাজারো বোকামি সে
- 47:19মাথাপিতে গ্রহণ করবে তবুও যে উপসংহারে
- 47:21জাংকুকের ছোট্ট বউ একেই লাগবে
About this transcript
This page contains the full transcript of উপসংহারে তুমি ❤️ 🌿 One Shot | গ্রামীন প্লট 💗 #entertainment #oneshot #taekookff by Taekook Story Land, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 8,113 words across 1,202 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.