আল্লাহর হুকুমে সময়ের গভীর রহস্যময় ভূমিকা | নোমান আলী খান | Noman Ali Khan Bangla | Islam Our Life — Transcript
Full transcript
- 0:00কখনো সময়কে অভিশাপ দিও না। কারণ স্বয়ং
- 0:02আল্লাহই হলেন আদাহার। তিনি নিজেই সময়।
- 0:05আল্লাহ নিজেকে সময়ের ঊর্ধে হিসেবে বর্ণনা
- 0:07করেছেন। অতএব সময়কে অভিশাপ দিবেন না। এটা
- 0:10আসলে একটা ঐশ্বরিক গুণ। সুতরাং আমাদের
- 0:12কখনো এমন বলা উচিত নয় ইয়ারে ভাই সেদিন
- 0:14একটা খারাপ দিন ছিল। কিংবা এটা একটা মাঝে
- 0:16বছর। সময়ের ব্যাপারে এরকম বিশেষণ ব্যবহার
- 0:19করা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম খুব
- 0:20পরিষ্কার ভাষায় এমন করতে নিষেধ করেছেন।
- 0:23অতএব একভাবে এটা বোঝা যায় এবং সেটা হলো
- 0:26আল আসরহার। আল্লাহ আসরের কসম করেছেন। আর
- 0:29এর প্রায় একই অর্থ হচ্ছে আদ্দাহার যা
- 0:32কোরআনে এসেছে। অতএব এটা তাৎপর্যপূর্ণ। এটা
- 0:35গুরুত্ববহ। এমন কিছু যা আলোচনার দাবি
- 0:37রাখে। অন্যভাবে বললে আল্লাহ মানবজাতির
- 0:39প্রতি সময়ের গুরুত্বের ব্যাপারে দৃষ্টি
- 0:41আকর্ষণ করেছেন। এটা একটা অর্থ। দ্বিতীয়
- 0:43অর্থ হলো আমরা শপথের উদ্দেশ্য বিধেয়
- 0:46নিয়ে আলোচনা করছি। আরবি পরিভাষায় এটা
- 0:48হলো মুখামবিহী মুসা আলাইহি। আমি এর দ্বারা
- 0:51যা বুঝেছি তা হলো খুব সংক্ষেপে বোঝানোর
- 0:54চেষ্টা করি। কেউ বলল আমি আল্লাহর নামে শপথ
- 0:56করছি যে আমি এই কাজটি করিনি। এটা একটা বড়
- 0:59বাক্য। আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি যে আমি
- 1:01এই কাজটি করিনি। এখানে শপথের বিধেয় হলো
- 1:03আল্লাহ শব্দটি। তাহলে উদ্দেশ্য কি? আমি
- 1:06কাজটি করিনি। তাহলে এখানে একটা উদ্দেশ্য
- 1:08অপরটি বিধেয়। এই সূরাত শপথের একটা বিধেয়
- 1:11রয়েছে। সেটা কি? তাহলে উদ্দেশ্য কি?
- 1:14ইন্নাল ইনসানালাফ।
- 1:16আল্লাহ বলেন তিনি সময়ের নামে শপথ করছেন
- 1:19কালের নামে শপথ করছেন তারপর তিনি ঘোষণা
- 1:22দিয়েছেন যে সকল মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে
- 1:24ডুবে আছে সুতরাং এখানে বিধেয় হলো সময় আর
- 1:27উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের চরম ক্ষতির মধ্যে
- 1:29থাকা কোরআনে বা প্রাচীন আরবি অলংকার
- 1:31শাস্ত্রে যখন এভাবে বলা হয় বিধেয়কে আসলে
- 1:34উদ্দেশ্যের প্রমাণস্বরূপ হিসেবে ধরা হয়
- 1:35একে এভাবেই দেখা হয় বিধে হলো উদ্দেশ্যের
- 1:38প্রমাণ এটা হলো উদ্দেশ্যের দলিল অন্যভাবে
- 1:41বললে আপনি যদি বলেন মানুষ ক্ষতির মধ্যে
- 1:43রয়েছে কেউ হয়তো বলল আপনার প্রমাণ
- 1:46এই সূরার আলোকে মানুষের ক্ষতির মধ্যে
- 1:48থাকার প্রমাণ কি? মানুষের দেউলিয়া হয়ে
- 1:50যাবার প্রথম প্রমাণ কি? সময় নিজেই এর
- 1:53প্রমাণ। মানুষ সবসময় কোন জিনিসটি
- 1:55হারাচ্ছে? সময়। রাইট? এটা এমন একটা সম্পদ
- 1:58যা আমরা কখনোই ধরে রাখতে পারি না। আমরা
- 2:00কখনোই এই ঘন্টা, এই সময়, এই সেকেন্ড
- 2:03এগুলো ধরে রাখতে পারি না। এটা চলে যাচ্ছে।
- 2:05আর এটা এভাবে চলে যেতেই থাকবে। এটা এমন
- 2:07কিছু নয় যে আপনি সঞ্চয় করে রাখবেন। পরে
- 2:10প্রয়োজন মত ব্যবহার করবেন। আর বলে রাখি
- 2:12আমরা কিন্তু অনেক সময় ইতিমধ্যেই হারিয়ে
- 2:14ফেলেছি। আপনি আপনার জীবনের পেছনের দিকে
- 2:16তাকালে দেখতে পাবেন আপনার জীবনে অনেক
- 2:18সুযোগ ছিল যা আপনি কাজে লাগাননি। আপনি
- 2:20আপনার সময়কে সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে
- 2:22পারতেন কিন্তু আপনি লাগান নি। আপনার এই
- 2:24সুযোগ ছিল সেই সুযোগ ছিল কিন্তু আপনি
- 2:27পুরোপুরিভাবে আপনার সময়কে কাজে লাগান নি।
- 2:29সুতরাং সময়ের আফসোস আপনি ইতিমধ্যেই
- 2:31করেছেন। কিন্তু আপনার এই আফসোস থেকে
- 2:33শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একে ভালোভাবে কাজে
- 2:34লাগানোর ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। কিন্তু
- 2:37এখানে আল্লাহ দুটো জিনিসকে একসাথে জুড়ে
- 2:38দিয়েছেন। মানবজাতির ক্ষতির ব্যাপারটি যার
- 2:41সাথে জুড়ে আছে সেটা হলো সময়। যা অপরটির
- 2:43প্রমাণস্বরূপ। সূরা আসরকে বোঝার আরেকটি
- 2:45উপায় হলো আমরা একটু পরে ইমাম শাফির
- 2:47মন্তব্য পড়বো। সূরা আসর দিয়ে বিভিন্ন
- 2:49জাতির প্রাণ বোঝানো হয়েছে। কোন জাতির
- 2:51পুরো সময়কালকে উল্লেখ করে এটা। কোন জাতির
- 2:54উত্থানপথন কিভাবে হয় আপনারা জানেন? কোন
- 2:56জাতির উত্থানপথন কিভাবে হয় আপনারা জানেন?
- 2:59অতএব যখন আল্লাহ ওয়াল আসর শব্দটি ব্যবহার
- 3:01করেন তিনি শুধু একটা দিনের সময় বোঝাননি।
- 3:04বা কোন একজন মানুষের জীবনকেই নয় বরং একটা
- 3:06জাতির পুরো সময়কে বুঝিয়েছেন। আর কোন
- 3:08জাতির এই উত্থানপত্তনী হলে প্রমাণ যে
- 3:10মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছে। ইতিহাস
- 3:13নিজেই মানুষের ক্ষতিতে ডুবে থাকার একটা
- 3:14প্রমাণ।
- 3:18এটা দিয়ে আল্লাহ এটি বুঝিয়েছেন। আরো
- 3:20সামনে আগালে আমরা মুসামবিহ মুসা আলাইহি এর
- 3:23আরো একটা উদাহরণ দেখতে পাই। এখানে শপথের
- 3:25বিধে হচ্ছে এর উদ্দেশ্যের একটা সাক্ষী।
- 3:27এটা কিছুটা ভিন্ন ব্যাপার। আমরা দুটি
- 3:29বিষয়ের কথা বলেছি। বিধে হল উদ্দেশ্যের
- 3:32প্রমাণ। এটা একটা ব্যাপার। দ্বিতীয় বিষয়
- 3:34হচ্ছে, বিধেয় হচ্ছে উদ্দেশ্যের একটা
- 3:36সাক্ষী। অন্যভাবে বলতে গেলে আল্লাহ
- 3:38উদ্দেশ্যের বিপরীতে একটা সাক্ষী নিয়ে
- 3:40আসলেন। সূরা আসরকে আমরা এভাবে বুঝতে পারি।
- 3:42আল্লাহ সময়কে কোন কিছুর সাক্ষী হিসেবে
- 3:44এনেছেন। কিসের সাক্ষী হিসেবে এনেছেন? এটাই
- 3:47যে কোন সন্দেহ ছাড়াই মানুষ ক্ষতির মধ্যে
- 3:49আছে। এর মানে কি? এর মানে সমগ্র মানবজাতি।
- 3:52মুফাসসিরদের সরাসরি মন্তব্য পড়লে এটা আরো
- 3:55পরিষ্কার হবে। কিন্তু এখন আমরা এটা
- 3:56সংক্ষেপে বুঝতে পারি। আমরা মানুষেরা
- 3:58বিভিন্ন বিষয়ের দিকে দৌড়াই। আমরা এমন
- 4:00বিষয়ের প্রতি দৌড়াই যাতে আমাদের জীবনের
- 4:02আসল উদ্দেশ্যই হারিয়ে যায়। এই সূরার
- 4:04আগের সূরাটিতে এই বিষয়ে আলোকপাত করা
- 4:06হয়েছে। আলহাকুম আত্তাকাফুর। এটা আপনাকে
- 4:09ভ্রষ্ট করে। মাত্রাতিরিক্ত চাওয়া।
- 4:12প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাইতে থাকা। এটা
- 4:14আপনাকে আপনার আসল উদ্দেশ্য থেকে ভ্রষ্ট
- 4:16করে। বেশিরভাগ মানুষই ভুল জিনিসের পেছনে
- 4:18দৌড়াতে গিয়ে আসল উদ্দেশ্যের প্রতি
- 4:20উদাসীন। তারা ভুল জিনিসের দিকে ছুটছে। এখন
- 4:23আমরাই কি প্রথম মানুষ যারা সম্পদের পিছনে
- 4:25ছোটে? বা সুন্দর বাড়ির প্রতি ছোটে? অথবা
- 4:28সুন্দরী কোন মেয়েকে বিয়ে করতে আগ্রহী
- 4:29ইত্যাদি ইত্যাদি যাই হোক আমরাই কি প্রথম
- 4:32মানুষ যারা এসবের পেছনে ছুটছে নাকি
- 4:34পূর্বের মানুষেরাও এসবের পেছনে ছুটেছে
- 4:36তারাও ছুটেছে তারা এগুলোকে সফলতা ভেবে
- 4:38এসবের পেছনে ছুটেছে যখন তারা এগুলো পাবে
- 4:41তারা সফল হবে আর আল্লাহ সময়কে সাক্ষী
- 4:43হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যাতে আমরা দেখি
- 4:46পূর্ববর্তীরা এসবের পেছনে ছুটেছে আর
- 4:48ব্যর্থ হয়েছে অন্যরা এসেছে তারাও এসবের
- 4:50পিছনে ছুটেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে পরের
- 4:53লোকেরাও এসেছে এবং একই কাজ করেছে হাজার
- 4:55বছর ধরে শত শত শত প্রজন্মের লোকেরা একের
- 4:58পর এক এই একই কাহিনী চলে আসছে। আল্লাহর এক
- 5:01অসাধারণ সৃষ্টি এসব ঘটনা অবলকন করছে। এটা
- 5:03একের পর এক এসবের সাক্ষী হয়েছে। আর
- 5:05আমাদের বেলায়ও এমনটা ঘটেছে। অন্যভাবে
- 5:08বললে মানবজাতির করুণ পরিণতির সাক্ষী হচ্ছে
- 5:10সময়। পরিশেষে আল আসর শব্দটির ব্যাপারে
- 5:13বলব। আমরা এর ভাষাগত বিশ্লেষণে গেলে এটা
- 5:15আরো পরিষ্কার হবে। তবে আমরা এখনো এর
- 5:17সারাংশ পর্যালোচনা করছি। এর সারাংশের আরো
- 5:20একটি ব্যাখ্যা হলো আসরের অন্যতম অর্থ হলো
- 5:22এমন সময় যা শেষ হয়ে যায়। বা শেষের
- 5:25সময়। এমনকি আসরের নামাজও দিনের শেষাংশে
- 5:27পড়া হয়। তাই না? যখন সময় শেষ হয়ে যায়
- 5:30আর ঐতিহাসিকভাবে বললে প্রাচীনকালে বিশেষ
- 5:32করে আরব সমাজে আসরকে ধরা হতো এমন সময়
- 5:34হিসেবে যখন ব্যবসায়ী বা পর্যটকরা খুব
- 5:37তাড়াহুড়া করতো। যখন রাত নেমে আসতো তখন
- 5:40তারা অনেক বিপদের আশঙ্কা করতো। হয়তো তারা
- 5:42তাদের সম্পদ হারিয়ে ফেলতে পারে এমন ভয়
- 5:44পেত। সুতরাং বেশিরভাগ হাসল এবং বাসল হতো
- 5:48আসরের সময়। সেটা ছিল সবচেয়ে ব্যস্ত এবং
- 5:50তাড়াহুড়ার সময়। এমনকি এটাও শপথ হিসেবে
- 5:52নেয়া হয়েছে আল্লাহ দ্বীনের অন্যান্য
- 5:54সময় শপথ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি
- 5:56বলেন
- 6:01এগুলো দিনের বিভিন্ন সময়ের বর্ণনা।
- 6:03আল্লাহ দিনের ভিন্ন সময়ের বর্ণনা
- 6:05দিয়েছেন তিনি দিনের বিভিন্ন সময়ের কসম
- 6:07করেছেন এমনকি ওনাহারজাল্লা।
- 6:10রাইট? দিনের বেলার বর্ণনা। কিন্তু আসরের
- 6:13বর্ণনার বিশেষত্ব হচ্ছে এটা এমন সময় যা
- 6:15দিয়ে তাড়াহুড়া করা বোঝায়। অন্যভাবে
- 6:17বলতে গেলে এই সূরার সামনের দিকে আমরা
- 6:19পড়ব। আল্লাহ আমাদেরকে যা করতে বলেছেন; তা
- 6:21সম্পন্ন করার জন্য আমাদের অনেক সময় হাতে
- 6:23নেই। এটা একটা জরুরি অবস্থার মত। যা করার
- 6:26তাড়াতাড়ি করতে হবে। কারণ আমরা আমাদের
- 6:28জীবনের ভোর পার করে এসেছি। আমাদের জীবনের
- 6:30সূর্যাস্তের সময় ঘনিয়ে আসছে। সুতরাং
- 6:32আমাদের যা করার এখনই করতে হবে। আমাদের
- 6:34সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সময় ফুরিয়ে
- 6:36যাচ্ছে। এই ধারণাটি ছোট একটা শব্দ আল আসর
- 6:39দিয়ে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং, এই শপথের
- 6:41শেষ মাহত্ব হচ্ছে এতে তাড়াতাড়ি করার কথা
- 6:43বলা হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকজন আলেমের
- 6:45মধ্যে মুফতি মোহাম্মদ শফি অন্যতম। যিনি
- 6:47সূরা আসরের মানুষের যে ক্ষতির কথা চিত্রিত
- 6:49হয়েছে তা তুলনা করেছেন এমন একজনের সাথে
- 6:51যে বরফ বিক্রি করছে প্রাচীনকালে তো ফ্রিজ
- 6:54ছিল না তাই না সুতরাং বরফ বিক্রেতার তো
- 6:56খুব বেশি সময় নেই আর এটা দ্রুত গোলে শেষ
- 6:59হয়ে যাচ্ছে তাকে এই সময়ের মধ্যে ক্রেতার
- 7:01কাছে পৌঁছাতে হবে এবং এগুলো বিক্রি করতে
- 7:03হবে আর যদি সময় ফুরিয়ে যায় তাহলে সকল
- 7:06পরিশ্রম বৃথা যাবে অতএব তার যে কাজ
- 7:08তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করতে হবে এই সূরার
- 7:10মাঝের আয়াতের সারাংশ নিয়ে আমরা পরে
- 7:12আলোচনা করব শেষ আয়াতটি নিয়ে একটা কথা
- 7:14এখানে বলতে চাই মূলত সূরা আসরের শেষ
- 7:16আয়াতটিতে চারটি অংশ আছে এমনটি ভাবা হয়
- 7:19অবশ্যই সহজ করে দেখলে এমনই মনে হবে
- 7:21ইল্লাল্লাজিনা আমানু প্রথম অংশ আমি সহাত
- 7:25দ্বিতীয় অংশবিল
- 7:27তৃতীয় অংশ
- 7:29চতুর্থ অংশ তাহলে এখানে চারটি শর্ত রয়েছে
- 7:32প্রথম শর্ত হলো যারা ঈমান আনবে দ্বিতীয়
- 7:34হলো যারা সৎ কাজ করবে ভালো কাজ করবে তৃতীয়
- 7:37হলো তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে একে
- 7:40অপরকে সত্যের কথা বলবে চতুর্থ হলো ধৈর্যের
- 7:42ব্যাপারেও তারা একই কাজ করবে এগুলো হলো
- 7:44উল্লেখিত চারটি শর্ত কিন্তু এর সারাংশ
- 7:46বোঝার জন্য আমরা এখন যে বিষয়টি বুঝবো তা
- 7:48হলো এই চারটি বিষয় হচ্ছে আসলে একটা
- 7:50বিষয়। এদেরকে দেখতে চারটি আলাদা বিষয়
- 7:52মনে হলেও এগুলো আসলে একটা বিষয়। এগুলো
- 7:55হলো লাজেম ও মালজুম। এগুলো আবশ্যিকভাবে
- 7:58একটা অপরটির সাথে যুক্ত। এগুলোকে আসলে
- 8:00আলাদা করা যায় না। আর আসলে বাকি সবকিছুই
- 8:02প্রথমটির ফলাফল। সেটা হচ্ছে ঈমান। প্রথম
- 8:05যে বিষয়টি বলা হয়েছে তা হলো ঈমান। আর
- 8:07এরপর আরো তিনটি বিষয় বলা হয়েছে। আমরা
- 8:10এখানে শিখবো যে যার সত্যিকার অর্থে ঈমান
- 8:12আছে তার সাথে বাকি তিনটি বিষয়
- 8:14আবশ্যিকভাবে ঘটবে। অবশ্যই ঘটবে। আর যদি
- 8:17সেগুলো না হয় তাহলে ভাবুন কি পরিপূর্ণ
- 8:19হয়নি? ঈমান। অতএব কেউ যদি তার ঈমান আছে
- 8:22কিনা পরীক্ষা করতে চায় সে সূরা আসরে
- 8:24বর্ণিত ঈমানের নূন্যতম পরিমাণ যাচাই করে
- 8:26দেখতে পারে। ঈমানের ফলাফল কি? কেউ ঈমান
- 8:29আনলে এর পরে কি ঘটে? আমি সহাতবিল।
- 8:34যদি এই বিষয়গুলো না ঘটে তাহলে নিশ্চয়ই
- 8:36ঈমানের কোথাও ঘাটতি আছে। আর বলে রাখি এই
- 8:39সবগুলোই একটি অপরচুরির সাথে গভীরভাবে
- 8:41জড়িত। ধরা যাক আপনি যদি দ্বিতীয়
- 8:44পয়েন্টটি নেন আমি সলিহাত তারা সৎ কাজ
- 8:46করে। এরপরে কি আছে? তারা সত্যকে উপভোগ
- 8:48করে। তারা ভালো কাজ শুধু নিজেদের মধ্যে
- 8:50রাখে না। প্রচলিত অর্থে এই ভালো কাজ
- 8:53অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়। সত্যকে
- 8:55অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। অন্যভাবে
- 8:57বললে আপনি যদি সত্যিই ভালো কাজ করেন এটা
- 8:59শুধু আপনার নিজের কাছে রাখা আপনার জন্য
- 9:01অসম্ভব হবে। এটা সম্ভব নয়।
- 9:02অবসম্ভাবীভাবেই আপনি এটা অন্যদের কাছে
- 9:05ছড়িয়ে দিবেন। এটাই ভালো কাজের নমুনা। আর
- 9:07যখন আপনি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিবেন
- 9:08আপনি কিছু মানুষ পাবেন যারা আপনার এই
- 9:10কাজকে পছন্দ করবে। আবার কিছু মানুষ পাবেন
- 9:13যারা আপনার এই কাজকে ঘৃণা করবে। আর যখন
- 9:15আপনি এমন কিছু মানুষ পাবেন যারা আপনার
- 9:17কাজকে ঘৃণা করছে আপনি আবশ্যিকভাবেই নিজের
- 9:19মধ্যে কি তৈরি করবেন? সবর। আপনার অবশ্যই
- 9:22এটা থাকতে হবে। এগুলো প্রত্যেকটি
- 9:24সম্পর্কযুক্ত বিষয়। এগুলো একটা অপরটির
- 9:26সাথে যুক্ত। আর সামনে এগুলো নিয়ে আমরা
- 9:28আরো যাচাই করবো ইনশাল্লাহু তা'আলা। এজন্য
- 9:30এই সূরাটি ঈমানের বিভিন্ন ফলাফলকে সবচেয়ে
- 9:33সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলে যা কোরআনে দুই
- 9:35একবার এসেছে কখনো আল্লাহ বলছেন আল্লাজিনা
- 9:37আমানু আল্লাজিনা আমানু শেষ ব্যাস কারণ
- 9:41বাকিটুকু কি ঈমানের ফলাফল সুতরাং আপনি যদি
- 9:44ঈমানকে ভালোভাবে বুঝতে পারেন তাহলে
- 9:46বাকিটুকু এমনিই বুঝে যাবেন কখনো আল্লাহ
- 9:48একটু বাড়িয়ে বলেছেন আল্লাজিনা আমানু
- 9:51সহাত দুটি বিষয় বলা হয়েছে কিন্তু এই
- 9:54সূরায় তিনি দুটি বিষয় বলেননি তিনি চারটি
- 9:56বিষয় বলেছেন আর আপনি যদি লক্ষ্য করেন
- 9:58এগুলোর মধ্যে শেষের দুইটি
- 10:00তাওবিল হাকবি সব এগুলো হল মূলত কাজের
- 10:04বর্ণনা এগুলো কাজ সুতরাং আমি সলিহাত একটা
- 10:08কাজবিল
- 10:10এই দুটি হল আমল আমলাইন এই দুটি কাজ
- 10:14অন্যভাবে বললে আমরা এখানে জানতে পারলাম যে
- 10:16আল্লাহ দুটি কাজের প্রতি আলোকপাত করেছেন।
- 10:18আমি গতকালও এটা নিয়ে বলেছি। আল্লাহ এখানে
- 10:20এমন দুটি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করেছেন যা
- 10:22সাধারণত মানুষ এরিয়ে যায়। যখন তারা ভালো
- 10:25কাজের চিন্তা করে যখন তারা ভালো কাজ করতে
- 10:27চায় এগুলো তারা সাধারণভাবে পাবে না তাই
- 10:29এখানে এই দুটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলে
- 10:31দেয়া হয়েছে যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে
- 10:32এগুলো হচ্ছে নূন্যতম
- 10:36সব এগুলো সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে এখন আমি
- 10:39আপনাদেরকে একটা দৃশ্য কল্পনা করতে বলব আমি
- 10:41নিজেও এটা থেকে উপকৃত হয়েছি যে আমার
- 10:44শিক্ষক ডক্টর আব্দুস সামী একটা দারসে
- 10:46বলেছিলেন ডক্টর ইসার এটা নিয়ে বিস্তারিত
- 10:48আলোচনা করেছেন আমার কাছে এটা খুবই উপকারী
- 10:50মনে হয়েছে আর সূরা আসরের তাফসীরে যাওয়ার
- 10:52আগে আমরা এ শিক্ষাগুলো নিয়ে নিয়ে আলোচনা
- 10:54করবো। এর সারাংশ বুঝবো। আমরা এই সূরার
- 10:57শিক্ষাগুলো একজন অমুসলিমের যৌক্তিক
- 10:58দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বোঝার চেষ্টা করব। যখন
- 11:01আপনি একটা সমস্যার সম্মুখীন হন হয়তো কারো
- 11:03সাথে বিবাদ, জীবনের কোন সমস্যা। যে কোন
- 11:05সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এই অবস্থায়
- 11:07সর্বপ্রথম কি করবে? সে সর্বপ্রথম যেটা
- 11:09করবে তা হলো তার সেই সমস্যাটির অবস্থাটি
- 11:12ভালোভাবে যাচাই করবে। প্রথম কাজ হলো এর
- 11:14আসল অবস্থা বোঝা। এর সত্যিকারের কারণ
- 11:16খুঁজে বের করা। আপনি নিশ্চয়ই মানুষ কি
- 11:18বলে তা দিয়ে এটা যাচাই করবেন না। আপনি
- 11:20নিজেই ঘেটে দেখবেন। আর এটা যত বড় সমস্যা
- 11:23আপনি তত ভালোভাবে এর সত্যতা যাচাই করবেন।
- 11:26আপনি নিজে এর প্রকৃত অবস্থা খুঁজে বের
- 11:28করবেন। এখানে মুসলিম হওয়ার সাথে কোন
- 11:30সম্পর্ক নেই। বরং এখানে সততার প্রশ্ন।
- 11:33একজন সৎ মানুষ একজন সৎ বিচারক অবশ্যই এটা
- 11:36করবেন। ধরুন আপনার পরিবারে কোন বিষয়ে
- 11:39ঝগড়া লেগেছে। আপনার পরিবারের কিছু সদস্য
- 11:41কোন বিষয়ে ঝগড়া করছে। আর তারা বিষয়টি
- 11:43আপনার সামনে উপস্থাপন করল। অসৎভাবে আপনি
- 11:46কি করলেন? আপনি হয়তো আপনার একজন কাজীনকে
- 11:48পছন্দ করেন না আপনি অন্যজনকে পছন্দ করেন|
- 11:50আপনি যাকে পছন্দ করেন না তার বিরুদ্ধে
- 11:53আপনার রায় দিয়ে দিলেন। ঠিক। কিন্তু
- 11:55সত্যিকারের সততা বা ন্যায়বিচার কি? সেটা
- 11:58হলো আপনি প্রথমে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা
- 12:00যাচাই করবেন। ওকে? এরপর আপনি যখন সত্যটি
- 12:03খুঁজে পেলেন তখন আর এটা খুঁজে পাওয়াই
- 12:05যথেষ্ট নয়। বরং আপনি অবশ্যই এর পক্ষে
- 12:07দাঁড়াবেন। আপনি এর পক্ষে রায় দিবেন।
- 12:09আপনাকে এই সত্যের পক্ষে কাজও করতে হবে।
- 12:11এটাও হতে পারে যে আপনি সত্যটি খুঁজে
- 12:13পেয়েছেন কিন্তু আপনি সেই সত্যটি পছন্দ
- 12:15করছেন না। আর যখন আপনি সেটা পছন্দ করছেন
- 12:18না আপনার মন সেই সত্যের পক্ষে কাজ করতে
- 12:20সাড়া দিচ্ছে না। সুতরাং আপনি যা সত্য
- 12:22হিসেবে বিশ্বাস করছেন তা আপনার কাজে
- 12:24পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আমরা এমন অবস্থাকে কি
- 12:27বলি? বিশ্বাসঘাতকতা। এটাই নিফাক। এটাই
- 12:30বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু আপনি যদি কোন
- 12:32কিছুকে সত্য হিসেবে খুঁজে পান তখন এটা
- 12:34নিয়ে বাঁচা, এতে লেগে থাকা, বাস্তবায়ন
- 12:37করা, কাজে লাগানো এটা আপনার সত্যতার মধ্যে
- 12:40পড়ে। আর এটাই আবশ্যিক ফলাফল। এখন আপনার
- 12:43নিজের মধ্যে এটা নিয়ে আসা একটা ব্যাপার
- 12:45যে এটা অন্যায়। আমি এটা আর করবো না। আমি
- 12:47খুঁজে পেয়েছি যে এটা একটা খারাপ কাজ। আমি
- 12:49আর কখনো এটা করবো না। আমি খুঁজে পেয়েছি
- 12:51এটাই আমার করা উচিত। অতএব আমি এটাই করব।
- 12:54এখন আপনি যখন দেখেন অন্যরা এটা করছে। আমরা
- 12:56এমন একটা সমাজে থাকি যেটা নিজের চরকায়
- 12:59তেল দেওয়া এই নীতিতে চলে। এটা নবীদের
- 13:01নীতি ছিল না। এটা মুসলিমদের নীতি নয়। আমি
- 13:03বলতে চাচ্ছি যদি নবীরা শুধু নিজেদের চরকায়
- 13:06তেল দিতেন তাহলে নামাজ ও আল্লাহর জিকির
- 13:08ব্যক্তিগত হতো। সূরা মুজাম্মিলে আমরা দেখি
- 13:11নবী করীম সাল্লাল্লাহুকে বলা হচ্ছেলা
- 13:20কোরআন পড় আল্লাহকে স্মরণ করো। এটা তার
- 13:22নিজের জন্য। কিন্তু অন্য সূরায় আমরা কি
- 13:24দেখতে পাই? মুজামিল ছাড়া অন্য সূরা কোনটি?
- 13:27মুদ্দাস। ইয়া আইুহাল মুদ্দাসির
- 13:32কাফাকবির ওঠো যাও সতর্ক করো কাকে সতর্ক
- 13:36করো অন্যদেরকে তাদের বল যে তারা যা করছে
- 13:40তা ভুল এখন আপনি যদি আপনার সামনে কোন
- 13:42কিছুকে ভুল হিসেবে জানেন আর আপনার সামনে
- 13:44তা হয়ে থাকে মানুষ হিসেবে আপনি এটা মানতে
- 13:47পারবেন না আপনি বলবেন তোমাদের তা করা উচিত
- 13:49নয় আপনাদেরকে একটা বাস্তব উদাহরণ দেই
- 13:51ধরুন আপনি জানেন অন্যদের মালসম্পদ নষ্ট
- 13:54করা ভালো নয় এগুলো মানুষের হক মানুষের
- 13:56মাল সম্পদের ক্ষতি করা উচিত। আপনি হয়তো
- 13:59রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন কিছু বাচ্চা
- 14:00রাস্তায় ক্রিকেট খেলছে। আপনি দেখছেন ওরা
- 14:02খুব জোরে বল করছে। আর এটা গিয়ে অন্যের
- 14:04গাড়িতে লাগলো। এখন আপনি নীতিটা জানেন।
- 14:07নীতিটা হলো তাদের এটা করা উচিত নয়। আপনি
- 14:10নিজে এটা করছেন না। সুতরাং আপনি নিজে কোন
- 14:12খারাপ কাজ করছেন না। আপনি অপরাধী নন। ঠিক
- 14:14আছে। কিন্তু সেটা কি যথেষ্ট? আপনি দেখে
- 14:17হেঁটে যাবেন। নাকি আপনার মাথায় আসবে যে
- 14:19আমার এদেরকে বলা উচিত যে এই কাজটি ঠিক
- 14:21নয়। আমি তাদেরকে বলি যে তাদের অন্যদের
- 14:24ক্ষতি করার কোন অধিকার নেই? আমার ন্যায়ের
- 14:26পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। যখন আপনি ন্যায়ের
- 14:28পক্ষে দাঁড়াতে চাইবেন তখন আপনার মাথায়
- 14:29অন্য চিন্তা আসবে যা আপনাকে ন্যায়ের
- 14:32পক্ষে দাঁড়াতে দিবে না। আপনার মাথায় কি
- 14:34আসবে? এরা সবাই মিলে আমাকে পেটাতে পারে।
- 14:36আমাকেই বলবা বানিয়ে খেলতে পারে। তাই না?
- 14:38গাড়ি ভাঙ্গার বদলে আমাকেই ভেঙে দিবে।
- 14:40অতএব আমার মুখ বন্ধ রাখা উচিত। আমি জানি
- 14:42যে এটা খারাপ। আমি নিজে এটা করবো না।
- 14:44কিন্তু আমার এই সাহস নেই যে আমি এদেরকে
- 14:47থামতে বলব। আমি জানি এটা আমার করা উচিত।
- 14:49আমি অবশ্যই করব। কিন্তু আমার এই সাহস নেই
- 14:52যে আমি অন্যকে বলব তোমারও এটা করা উচিত।
- 14:54অন্ততপক্ষে কাউকে বলুন। আপনি যদি কাউকে
- 14:57বাধ্য করতে না পারেন অন্তত তাকে বলুন। এখন
- 15:00ব্যাপার হচ্ছে একজন সৎ মানুষ একজন সাহসী
- 15:03মানুষ শুধু নিজে সেই কাজ থেকে বিরত থেকেই
- 15:05ক্ষান্ত হয় না। তারা কি করে? তারা এটা
- 15:08নিয়ে কথা বলে। আর কাফিরাও এটা করে।
- 15:10অমুসলিমরাও এটা করে। মুশরিকরাও এটা করে।
- 15:13এদের কেউ হয়তো বিশ্বাস করে যে প্রাণীদের
- 15:15হত্যা করা উচিত নয় ইত্যাদি। তারা শুধু
- 15:17নিরামিশী হয় না। তারা কি হয়? প্রাণী
- 15:20অধিকার সংরক্ষক। তারা জনসম্মুখে তাদের
- 15:23দাবি জানায়। কোন ব্যাপারে তারা প্রথমে
- 15:24নিজেরা বিশ্বাস করে| এরপর তারা নিজেরা
- 15:27সেটা মানে| এরপর কি করে ? তারা জনসম্মুখে
- 15:30এর দাবি জানায়। এমনকি এর জন্য তারা মার
- 15:32খায় কিংবা হয়তো নির্যাতনের শিকার হয়। এরা
- 15:34কিন্তু মুসলিম নয়। যারা এমন কিছু করার
- 15:36সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবার জন্য একই
- 15:38প্রক্রিয়া। এগুলো কোথা থেকে এসেছে? এগুলো
- 15:41সবই তাদের বিশ্বাস থেকে এসেছে। তাদের
- 15:43বিশ্বাস খুবই শক্তিশালী হয়ে থাকে। এতটাই
- 15:46যে তাদের আচরণ এতে বদলে যায়। শুধু আচরণই
- 15:48বদলে ক্ষান্ত হয় না। এমনকি তারা এটা নিয়ে
- 15:51কথাও বলে। আর যখন তারা এটা নিয়ে কথা বলে
- 15:53নানান সমস্যায় পড়ে তারা ধৈর্য ধরে মনে
- 15:56প্রাণে ধৈর্য ধরে তারা লেগে থাকে যাই হোক
- 15:59না কেন আমরা এটা আদায় করবই সুতরাং এই
- 16:02পুরো প্রক্রিয়াটা শুরু হয় বিশ্বাস থেকে
- 16:04এখানে বলে রাখি শুধু ইসলামেই এমন হয় না
- 16:07বরং যে কোন আদর্শের ক্ষেত্রেই এটা
- 16:08প্রযোজ্য কমিউনিস্টরা এমন করেছিল টিএনএম
- 16:11স্কয়ারের ছাত্ররা এমন করেছিল ইরানীরা এমন
- 16:14করেছিল যখন তারা সাহাদের বিপক্ষে জিতেছিল
- 16:17তারা প্রথমে বিশ্বাস করেছে তারা নিজেদের
- 16:19পরিবর্তন করেছে তারপর তারা এর পক্ষে
- 16:21দাঁড়িয়েছে এটা নিয়ে কথা বলেছে। যখন কোন
- 16:24সমস্যায় পড়েছে তারা ধৈর্য ধরেছে। এমনকি
- 16:27অমুসলিমদের ইতিহাসেও তাকালে গান্ধীর
- 16:30বিপ্লব সম্পর্কে দেখতে পারেন। একই ধারণা।
- 16:32একই যৌক্তিক মূলনীতি। বলে রাখি মুসলিমদের
- 16:35কথা বাদ দিলাম। অমুসলিমদের মধ্যেও যখন কেউ
- 16:37এমন প্রচেষ্টা করে যারাই এই নীতি অবলম্বন
- 16:40করেছে এর অনুসরণ করেছে তারাই ইতিহাসের
- 16:42নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যে এই নীতি
- 16:45মেনে নিয়েছে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে গণ্য
- 16:47হয়েছে। মার্টিন লুথার কিং বা যেই হোক
- 16:50তাদেরকে ইতিহাসের সেরা মানুষ হিসেবে দেখা
- 16:52হয়। কারণ তারা তাদের বিশ্বাসে লেগেছিল।
- 16:55আর তারা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। যে
- 16:57কোোন মূল্যেই হোক না কেন তাদের জন্ম
- 16:59মৃত্যুদিন পালিত হয়। তাদেরকে নিয়ে বই
- 17:01লেখা হয়েছে, ভাস্কর্য করা হয়েছে। এসবই
- 17:04করা হয়েছে। কারণ তারা যে দেশ বা সংস্কৃতি
- 17:07থেকে আসুক না কেন এটা হলো সততার প্রতি
- 17:09মানুষের সম্মান। কিন্তু ভাবুন আপনি কোন
- 17:12কিছুর জন্য লড়াই করছেন যা মূলত পরিপূর্ণ
- 17:14নয়। ইতিহাসের মহান মানুষেরা এর জন্য
- 17:16লড়াই করেছেন। তাদের চেষ্টা সংগ্রাম
- 17:18অনুসরণীয়। তারা এই লড়াই তাদের জীবন
- 17:20দিয়েছেন যা হয়তো সত্যের পক্ষে। কিন্তু
- 17:23এটা কেবল সত্যের একটা ক্ষুদ্র অংশ। এটা
- 17:26পরিপূর্ণ নয়। কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে
- 17:28সত্যের পুরোটাই দিয়েছেন| তাহলে তারা যদি
- 17:30সত্যের ক্ষুদ্র একটা অংশের জন্য এতটা
- 17:32ত্যাগ করতে পারেন| আপনি কি এই সকল
- 17:34মানবাধিকার কর্মীর সাথে একজন মুসলিমের
- 17:36তুলনা করতে পারেন একজন মুসলিমের কতটা
- 17:38ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত আর তারা
- 17:40যদি নিজেকে পরিবর্তনে এতটা সচেষ্ট হয়
- 17:43তাহলে একজন মুসলিমের নিজেকে পরিবর্তনে
- 17:45কতটা সচেষ্ট হওয়া উচিত তারা যদি কোন দাবি
- 17:47আদায়ে এতটা সচ্চার হয় তাহলে একজন
- 17:49মুসলিমের কতটা সোচ্চার হওয়া উচিত তারা
- 17:52যদি কোন একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এতটা
- 17:53প্রতিবাদ জানাতে পারে একই সাথে তাদের
- 17:55বিশ্বাসে একাগ্র থেকে সত্যের পক্ষে
- 17:58দাঁড়াতে পারে কথা বলতে পারে তা যে কোোন
- 18:00মূল্যেই হোক না কেন আল্লাহর জন্য একজন
- 18:02মুসলিমের তার চেয়ে কতটা বেশি সচ্চার
- 18:05হওয়া উচিত কাফিরদের মধ্যেও ঈমানের গুণ
- 18:07থাকতে পারে তারা সবরের ক্ষেত্রে এতটাই
- 18:09দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে পারে এমনকি একজন
- 18:10মুসলিমের চেয়েও এজন্য সূরা আল ইমরানের
- 18:13শেষে আল্লাহ বলছেন ইয়া আইুহাল্লাজনা
- 18:15আমানুসরুবিল্লাহ
- 18:20তোমরা যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছ যারা
- 18:22নিজেদেরকে ধৈর্যশীল বলে দাবি করো তোমরা
- 18:24ধৈর্য প্রতিযোগিতা অর্থাৎ আপনার শত্রুদের
- 18:27মধ্যেও সবর আছে। তাদের বিশ্বাস আছে। তারা
- 18:30সেই অনুযায়ী কাজ করে। আর এটা যত কঠিন হোক
- 18:32না কেন আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের
- 18:35সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আপনাকে তাদের সাথে
- 18:37সবরের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে এবং
- 18:39প্রতিনিয়ত এটা চালিয়ে যেতে হবে।
- 18:43আর আপনার এমন কিছু আছে যা তাদের নেই।
- 18:45আপনার তাকওয়া আপনাকে শক্তি দেবে। তাদের
- 18:48তাকওয়া নেই। এটা তাদের শক্তি যোগাবে না।
- 18:50আপনি সবরের এই প্রতিযোগিতায় তাদেরকে
- 18:52হারাতে পারবেন।
- 18:53>> সুবহানাল্লাহ। তাহলে তাফসীরে যাওয়ার আগে
- 18:55এটাই ছিল এই সূরার সার অংশ। এখন
- 18:57ইনশাআল্লাহ তাআলা শুরু করতে পারি। আমরা
- 18:59প্রথমে ওয়াল আসর আয়াতটি নিয়ে শুরু করব।
- 19:02আমরা ইতিমধ্যে শপথ ও তার মাহাত্ব নিয়ে
- 19:04আলোচনা করেছি। তাহলে আমরা কিছু সাহাবী এবং
- 19:06সালাফদের মন্তব্য পড়তে চাই। আমরা ইবনে
- 19:08আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর মন্তব্য
- 19:09দিয়ে শুরু করব। তিনি বলেন এটা যুগের
- 19:12প্রতি ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ বিভিন্ন জাতির
- 19:14সময়কালকে এবং বিভিন্ন যুগ ও শতাব্দীর
- 19:16প্রতি যা মানবজাতি পার করে এসেছে।
- 19:19অন্যভাবে বললে যখন আমরা বলি মানুষ ক্ষতির
- 19:21মধ্যে থাকার প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ
- 19:23মানবজাতির সমগ্র ইতিহাসকে দাঁড়
- 19:25করিয়েছেন। এমনকি আজ পর্যন্ত এটাই ইবনে
- 19:27আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এক
- 19:28কথায় বলেছেন। ইবনে কিসাইন বলেছেন, আসর
- 19:31বলতে দিন ও রাত্রিকে বোঝানো হয়েছে।
- 19:34অন্যভাবে বললে মানুষের রাত ও দিনের মধ্যে
- 19:36পার্থক্য অনুধাবন করে বোঝা উচিত যে সে
- 19:38ক্ষতির মধ্যে আছে। একজন মুসলিম যখন রাতের
- 19:41আধার দেখে এবং যখন সে দিনের আলো দেখে
- 19:43সুবহানাল্লাহ সুতরাং এটা বলা খুব সহজ যে
- 19:46দেখুন তারা কি বলছে কিন্তু যখন তারা এটা
- 19:48বলছে এর অর্থ আসলে কি কুরআন পড়ে আমরা কি
- 19:51বুঝলাম আর দিন বা রাতকে আমরা কিভাবে দেখি
- 19:54আর কিভাবে আমরা সময়কে দেখি এগুলো
- 19:56প্রবাহমানবান বিষয় মাঝে মাঝে আমরা
- 19:58সালাফদের বিভিন্ন তাফসীর দেখি এক শব্দ বা
- 20:00দুই শব্দ পুরো আয়াতের তাফসীর মাত্র একটা
- 20:03শব্দ কিন্তু আপনি যদি সেই শব্দটি নিয়ে
- 20:05চিন্তা করেন আপনি বুঝতে পারবেন এই
- 20:07মানুষগুলো কতটা গভীর জ্ঞানের অধিকারী
- 20:09ছিলেন। তারা খুব অল্প কথায় অনেক কিছু বলে
- 20:12গিয়েছেন। এটা আমরা বললে অনেক কথার
- 20:13প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা খুব অল্প কথায়
- 20:16অনেক কিছু বলেছেন। তাদের ভাষা ছিল
- 20:18অলংকারপূর্ণ। এরপর একইভাবে হাসান আর বাসরী
- 20:20বলেছেন, এটা দিনের শেষাংশ থেকে সূর্যাস্ত
- 20:23পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়েছে। এখানে
- 20:24আসরের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
- 20:26সময়কালকে বোঝানো হয়েছে। যা আমি
- 20:28আপনাদেরকে আগেই বলেছি যে প্রাচীনকালে এই
- 20:30সময় অনেক ব্যস্ততা এবং তাড়াহুড়া থাকতো।
- 20:32এটা দিয়ে একটা যুগের পরিসমাপ্তিও বোঝানো
- 20:34হয়। মানে হচ্ছে এ একটা দিন এক একটা যুগের
- 20:37মতো। অতএব একটা যুগের শেষ। এটা দিয়ে মূলত
- 20:39বোঝানো হয় যে মানুষের জীবন মূলত মৃত্যুর
- 20:42কিনারায়। মানুষ তার জীবন শেষ হওয়ার
- 20:44কিনারায় দাঁড়িয়ে ঠিক যেভাবে সূর্যের
- 20:46আলো নিভে যায় আর অন্ধকার নেমে আসে। আপনার
- 20:48এই দুনিয়াবী জীবনটাও শেষ হওয়ার পথে। আর
- 20:51আপনি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
- 20:52বিষয়টিকে এভাবে ভাবুন। তাহলেই আপনি নিজের
- 20:55মধ্যে ব্যস্ততা নিয়ে আসতে পারবেন। কাতাদা
- 20:57রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু বলেন, এটা হল
- 20:58দিনের শেষ ভাগ। দুজনেই মন্তব্য করেছেন যে
- 21:01এটা হলো আসরের নামাজ। আসর সম্পর্কে তাদের
- 21:04অভিমত হলো এটা হচ্ছে সালাতুল আসর। আর এটা
- 21:07মূলত তাফসীর করার একটা পদ্ধতির আলোকে বলা
- 21:09হয় সেটা হলো যখন আল্লাহ কোন কিছু নিয়ে
- 21:11কসম করেন তার অর্থ এটা অবশ্যই কোন পবিত্র
- 21:13বিষয় কসম করার কয়েকটি অর্থের মধ্যে এটা
- 21:15অন্যতম এই পদ্ধতির আলোকে তারা বলেছেন
- 21:18আসরের নামাজ হল পবিত্র কিভাবে এটা পবিত্র
- 21:21আল্লাহ বলেন হাফিজ আলা সালাওয়াতলাসতা
- 21:25তোমরা নামাজকে সংরক্ষণ করো বিশেষ করে
- 21:27মাঝের নামাজকে আর মাঝের নামাজ কোনটা আসরের
- 21:31নামাজ অতএব আল্লাহ এখানে আসরের নামাজের
- 21:33জন্য বিশেষভাবে একটা পয়েন্ট বলেছেন আসরের
- 21:35নামাজের ব্যাপারে কে কেন তিনি বলেছেন কারণ
- 21:37সেই সমাজের সাথে মিলিয়ে বলেছেন সেই সমাজে
- 21:39কখন তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতো আসরের
- 21:42সময় তখনই মিটিং হতো আসল কাজটা তখনই করা
- 21:45হতো দোকানপাট তখনই সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতো
- 21:48যখন দোকানপাট সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে
- 21:50তখন সেটা বন্ধ করে নামাজে দাঁড়ানো
- 21:52সবচেয়ে কঠিন হয় তাই না যখন কোন
- 21:54গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয় ঠিক তখনই আসরের
- 21:56সময় যাতে তাদের দুনিয়াবী কাজ তারা বাদ
- 21:59দিয়ে নামাজে দাঁড়াতে পারে তাই আল্লাহ
- 22:00এখানে কসম করে বলছেন যে যদি তারা এটা না
- 22:03করতে পারে তারা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ে
- 22:05যাবে সুবহানাল্লাহ। তারপরে আইসারা তাফসীরে
- 22:08আমরা দেখি এখানে বলা হয়েছে
- 22:11আসর দিয়ে পুরো সময়কে বোঝানো হয়েছে। আর
- 22:14শাব্দিক বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাই এতে আছে
- 22:16আদহ ও আসর। সূরা ইনসানে আল্লাহ বলছেন হতা
- 22:20ইনসান মিনাহ। এখানে দাহ শব্দটি ব্যবহৃত
- 22:24হয়েছে। আর এই সূরায় আসর শব্দটি ব্যবহৃত
- 22:27হয়েছে। অতএব আমরা এই দুইটি শব্দের মধ্যে
- 22:29পার্থক্য বুঝতে পারলাম। যাই হোক আইসার
- 22:32তাফসীরে সময়কে বা সময়ের কিছু অংশকে
- 22:34বোঝানো হয়েছে। এখানে সময়ের অংশ বলার
- 22:36কারণে কিছু কিছু মুফাসসির বলছেন আসর বলতে
- 22:39এখানে নবীজি সাল্লাল্লাহু সাল্লামের
- 22:40জীবনকালকে বোঝানো হয়েছে তারা একে এভাবে
- 22:43ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ কোরআনের অন্যান্য
- 22:45জায়গায় আল্লাহ নবীজির জীবনের শপথ
- 22:46করেছেন।
- 22:48তিনি নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের জীবনকালে
- 22:50শপথ করেছেন। তাই তারা এখান থেকে অর্থ
- 22:52নিয়েছেন যে যখন আল্লাহ বলেন ওসর তার অর্থ
- 22:55এটা দিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু সাল্লামের
- 22:56জীবনকে বোঝানো হয়েছে। অন্যভাবে বললে শেষ
- 22:58নবীর জীবনকে পুরো মানবজাতির জন্য এমনভাবে
- 23:01পাঠানো হয়েছে যদি তারা তাকে অনুসরণ না
- 23:03করে| তবে তারা ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে| এ
- 23:06দুটোর মিল বুঝতে পারছেন কারণ এটা হচ্ছে এই
- 23:08পৃথিবীর সূর্যাস্তের সময়ের মত কারণ এটা
- 23:10হচ্ছে এই পৃথিবীর সূর্যাস্ত হওয়ার মত
- 23:12ঘটনা তিনি হচ্ছেন শেষ নবী শেষ নবীর আগমন
- 23:15এই পৃথিবীর শেষ হওয়ার জন্য অনেক বড় একটা
- 23:17নিদর্শন আর তার জীবনটাই মানুষের এই চরম
- 23:19ক্ষতির অনেক বড় একটা প্রমাণ সুতরাং এভাবে
- 23:22তারা আসর শব্দটি ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরে
- 23:24আল জুদাজি বলেন অর রব্বিল আসর যখন
- 23:27আল্লাহতালা কোন সৃষ্টি নিয়ে কসম করেন
- 23:29তারা ধরে নেন রব শব্দটি মাহজুফ এর আগে রব
- 23:33ধরে নিতে হবে সুতরাং তিনি বলেন আমি সময়ের
- 23:35স্রষ্টার নামে শপথ করছি যখন আল্লাহ বলেন
- 23:38ওয়ালফাজর এই মুফাসসিরগণ এর ব্যাখ্যা
- 23:40করেছেন রব্বিল ফাজরহাব্বিদহা
- 23:44এভাবে তার এগুলো ব্যাখ্যা করেছেন ইতিহাসে
- 23:46কিছু মুফাসসির এমনটি সবসময় করে গেছেন
- 23:48যদিও এই মতটি সংখ্যায় নগণ্য তবুও আমি এটা
- 23:51আপনাদের সাথে শেয়ার করা জরুরি মনে কারণ
- 23:53এটাও আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতেরই অংশ।
- 23:55এটা আমাদের ইতিহাসেরই অংশ। যাই হোক সবশেষে
- 23:58ইবনে কাসির রহমা্লাহ বলেন, এটা দিয়ে পুরো
- 24:00সময়কে বোঝানো হয়েছে। যাতে আদম আলাইহি
- 24:02সালামের সন্তানদের যে কোন কাজ সংঘটিত
- 24:04হয়েছে। তা হোক ভালো কাজ বা মন্দ কাজ। আর
- 24:07এই ভালোমন্দ উল্লেখ করে তিনি বলতে চাচ্ছেন
- 24:09যে মানুষ যাই করে তার বেশিরভাগই কি হয়?
- 24:11খারাপ না ভালো। যেহেতু তারা খারাপ কাজটাই
- 24:13বেশি করে তাই তারা ক্ষতির মধ্যে আছে। সময়
- 24:16দিয়ে বোঝানো হয়েছে তাদের দুটো করারই
- 24:18সামর্থ্য আছে। কিন্তু তারা যেহেতু বেশি
- 24:19খারাপ কাজ করে তাই তারা ক্ষতির মধ্যে আছে।
- 24:22এখন আমরা শুধু আসর শব্দটির শাব্দিক
- 24:24বিশ্লেষণ দেখব। আসর শব্দটি একটা
- 24:26ক্রিয়ামূল থেকে এসেছে যার মূল শব্দ হল
- 24:28আসারহু আতাসারাহু দুটি ব্যবহৃত হয়েছে
- 24:32ইফতিয়াল একই সাথে সুলাসি মুজারদ ব্যবহৃত
- 24:35হয়েছে যার শাব্দিক অর্থ হলো তিনি চাপ
- 24:37দিয়েছেন চিপে বের করেছেন নিংড়ে নিয়েছেন
- 24:41এমন কোন কাপড়ের কথা ভাবুন যা পানিতে
- 24:43চুবানো ছিল আপনি সেটাকে তুলে এমনভাবে
- 24:45নিংড়ে নিলেন যাতে সমস্ত পানি বের হয়ে
- 24:47আসলো এভাবে এটা ব্যবহৃত হয়েছে ফল দিয়ে
- 24:50ওটা বোঝা যেতে পারে আপনি এমনভাবে ফল চাপ
- 24:53দিলেন যাতে সমস্ত রস বের হয়ে আসল। আরবিতে
- 24:56রস বলা হয় আসিরকে। আর এর ক্রিয়ামূল
- 24:58হলারাহু।
- 25:00উদাহরণস্বরূপ।
- 25:02এর মানে হচ্ছে সে আপেলের রস বের করে ফেলল।
- 25:05কোন কিছু নিংড়ে বের করা। এটা হচ্ছে প্রথম
- 25:08অর্থ।
- 25:09সে কাপড় থেকে পানি বের করে ফেলল। এরপর
- 25:12কোরআনে আমরা পাই অফ এটা হল মুদারে। এভাবেও
- 25:16কোরআনে এসেছে।
- 25:18তারা এ থেকে জুস বের করে নিল। যেভাবে তারা
- 25:21আগেরকালে আঙ্গুর বা জলপাই জাতীয় ফল থেকে
- 25:23মদ বানাতো। এখানে সে চিপে বের করা বলতে
- 25:25এরকম বোঝানো হয়েছে। যেভাবে রস বের হয়ে
- 25:28আসে। একজন কবি বলেন আমাদের নেতাদের মধ্যে
- 25:30কেউ যদি আপনার মত এভাবে চিপে বের করে দিত।
- 25:33মানে হচ্ছে এক গোত্রের একজন অন্য গোত্রের
- 25:35নেতার কাছে গিয়ে কিছু টাকা পয়সার আশা
- 25:36করতো। সে টাকা পয়সা পাওয়ার আশায় তাকে
- 25:39গিয়ে বলতো আপনার এত টাকা আছে। আপনি যা
- 25:42খরচ করেন তা তো কেবলমাত্র কিছু বিন্দুক
- 25:44না। এই ধনভান্ডারের পুরোটাই আপনার আছে।
- 25:46আমার আশা আমাদের নেতারাও আপনার মত এভাবে
- 25:48টাকা খরচ করতো। যদি আমরা তার কিছু বিন্দুক
- 25:51উপভোগ করতে পারতাম। আসলে সে তাকে প্রশংসা
- 25:53করত যাতে সে কিছু টাকা পেতে পারে। এটাই
- 25:56কাব্যের বৈশিষ্ট্য। এই কবিতাগুলো পড়ার
- 25:58সুবিধা হচ্ছে এ থেকে আপনি তৎকালীন আরবের
- 26:00ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এতে
- 26:02আমরা বুঝতে পারবো আল্লাহ তৎকালীন আরবের
- 26:04মানুষের সাথে কি ভাষায় কথা বলেছেন। কারণ
- 26:06এটাই তাদের ভাষা। এই ভাষাতেই তারা কথা
- 26:09বলে। এরপরে আমরা দেখি আসারাত শব্দের
- 26:11ব্যবহার। প্রাচীন আরবের একটা চমৎকার শব্দ।
- 26:13এটা এমন নারীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে যে
- 26:16তার পূর্ণ যৌবনে পা দিয়েছে। কেউ তার
- 26:18যৌবনের শেষ অবস্থায় পড়েছে। তখনই আসারত
- 26:21স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা এমন
- 26:23মেয়ের ক্ষেত্রে যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে।
- 26:25তখন আসার শব্দের ব্যবহার হয়েছে। এখানে
- 26:28আমরা পাই মেঘেরা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে
- 26:30যাতে বাতাস এসে তাদের নিংড়ে দিয়ে যায়।
- 26:32এটা একটা ছবির মত ভাষা। মেঘগুলো কাপড়ের
- 26:35সাথে তুলনা করা হয়েছে যা এমনভাবে চিপ্রান
- 26:37হয় যাতে বৃষ্টি ঝরে পড়ে। কোরআনেও আমরা এ
- 26:40শব্দের ব্যবহার দেখতে পাই।
- 26:43একই শব্দ
- 26:46মাসাজজা একই মূল শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে আমরা
- 26:49মেঘমালা সৃষ্টি করেছি যা নিংড়ে বের করা
- 26:51হয় অর্থাৎ বাতাসে এরা একে অপরের সাথে
- 26:54ধাক্কা খায় এভাবে এগুলো চাপ খায় এবং
- 26:56বৃষ্টি পড়ে এই আয়াতে এরকম চিত্র আমরা
- 26:58দেখতে পাই আমি আপনাদের আগেও বলেছি আমি এখন
- 27:00বলছি এটা কোথা থেকে এসেছে শাফিতে শিহাব
- 27:04লিখেছেন আসর হচ্ছে এমন একটা সময়কাল যখন
- 27:06কেউ মারা যায় অথবা এমন সময়কাল যা
- 27:09ইতিহাসে দেখা যায় যখন কোন জাতি বিলুপ্ত
- 27:11যখন কোন জাতি ধ্বংস হয় এটা আমি আপনাদেরকে
- 27:14শুরুতে বলেছিলাম। এমন সময় যখন তাড়াহুড়া
- 27:17করা হয় কিংবা এমন সময় যাতে মানবজাতির
- 27:19করুণ পরিণতি ঘটে। আসরের সাথে এই দুটি
- 27:22অর্থই সম্পৃক্ত। পরিশেষে আমরা আরো কিছু
- 27:24দেখি। যেমন মাফরান
- 27:26এটা বলতে বোঝানো হয় আমার কাজটি যখন করা
- 27:29উচিত ছিল আমি তখন করিনি। সুতরাং আসর হচ্ছে
- 27:32এমন সময় যাতে আপনার কোন কিছু করা উচিত।
- 27:35সূরা আসরে এটা যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে
- 27:37সেটা আমরা এভাবে বুঝতে পারি।
- 27:41মানুষ নিঃসন্দেহে ক্ষতির মধ্যে আছে। আর এর
- 27:44পরিবর্তনের সময়টি হচ্ছে এখন এই মুহূর্তে
- 27:46এটা পরিবর্তন করা উচিত। আসর শব্দের এটা
- 27:48একটা মাহত্ব। একইভাবে এমন সময় এসেছে যখন
- 27:52তার আসার কথা নয়। যখন তার আসার কথা নয়।
- 27:55এমন সময় যখন তার আসার কথা নয়। এগুলো
- 27:58হচ্ছে শুধুমাত্র আসর শব্দের অর্থ।
- 28:00আমাদেরকে সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথা
- 28:02বলা হয়েছে। যা প্রতি মুহূর্তে আমাদের কাছ
- 28:04থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। মুফাসসিরদের বিভিন্ন
- 28:06মন্তব্য সূক্ষ ব্যবহার বা ব্যাকরণগত
- 28:08পর্যালোচনা আমাদের কাছে কিছুটা কঠিন লাগতে
- 28:10পারে কিন্তু আসুন আমরা ভেবে দেখি এটা
- 28:12কিভাবে আমাদের কাজে লাগতে পারে আমাদের
- 28:14দিনে 24 ঘন্টা সময় আছে এর মধ্যে কয়
- 28:16ঘন্টা আমরা ঘুমিয়ে কাটাই কয় ঘন্টা আমরা
- 28:18কাজ করি কয় ঘন্টা আমরা দুনিয়ায়
- 28:20সঞ্চয়ের কাজে ব্যবহার করি হয়তো দুনিয়ার
- 28:22বিল পরিশোধ করার কাজে কিন্তু কয় ঘন্টা
- 28:24আমরা আখিরাতের বিল পরিশোধ করার কাজে
- 28:26ব্যবহার করি কয় ঘন্টা আমরা আল্লাহর হিসাব
- 28:28নিকাশের সামনে দাঁড়ানোর জন্য নিজেদের
- 28:30প্রস্তুত করি এখানে বাৎসরিক একটা হিসাব
- 28:32আপনাকে দিতে হবে কিন্তু আসল হিসাব সামনে
- 28:34আসছে যেখানে আমাদের প্রত্যেকটি কাজের
- 28:36হিসাব আমাদের দিতে হবে। আমি এটা সবসময়
- 28:38বলে থাকি। এই সূরা আসর শব্দটির ব্যবহারে
- 28:41তাৎপর্য হলো এখানে একটা দিনের অংশ বোঝানো
- 28:43হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের পুরো
- 28:45জীবনকে তুলে ধরেছেন। যদিও এটা কেবলমাত্র
- 28:48একটা দিন। মাত্র একদিন। আপনি যদি একদিনের
- 28:50জন্য আপনার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারেন
- 28:52তাহলে আপনি আপনার জীবনকেই পরিবর্তন করলেন।
- 28:55কারণ অনেকেই জানেন অনেকে এখানে ফুলটাইম
- 28:57চাকরি করেন। অনেকে ফুলটাইম ছাত্র। অনেকে
- 28:59সবসময় বাসায় থাকেন। এই দিনগুলো প্রায়
- 29:02একই রকম হয়ে থাকে। একই কাজ একই রুটিন একই
- 29:05কাজ বারবার করতে হয় তাহলে আপনি যদি আপনার
- 29:08দিনের একটা অংশকে পরিবর্তন করতে পারেন
- 29:10আপনি আসলে আপনার জীবনের একটা অংশকে
- 29:12পরিবর্তন করলেন আপনি আপনার জীবনের অংশই
- 29:14পরিবর্তন করলেন আর এই পরিবর্তন করার
- 29:16সময়টা চলে যাচ্ছে আমি আপনাদের একটা
- 29:18পরামর্শ দেব এটা তাফসীর নয় বরং আমার
- 29:21নিজের পরামর্শ তা হলো রমজানে আমরা আমাদের
- 29:24পরিবর্তন করি আমরা পরিবর্তন করি আমরা ঈদের
- 29:26সময় বিভিন্ন পরিবর্তন আনি আমরা বিশেষ কোন
- 29:29অনুষ্ঠানে আমরা আমাদের নিত্যকার রুটিনের
- 29:30পরিবর্তন আনি হয়তো পরিবারের কোন সদস্য
- 29:33দের মৃত্যুতে হয়তো সন্তান জন্মের উপলক্ষে
- 29:35ইত্যাদি কারণে আমরা এই পরিবর্তনগুলো আনি।
- 29:37এরপরে আমরা আবার আমাদের রুটিনে ফিরে যাই।
- 29:40কারণ আমাদের কোন তাড়াহুড়া কাজ করে না।
- 29:41আপনি দেখবেন আপনি কখনো বলবেন না আমি আগে
- 29:44ঠিক নয়টায় কাজে যেতাম। আমি এভাবে
- 29:46কিছুদিন গিয়েছি। কিন্তু এখন আমি কিছুটা
- 29:48অলস হয়ে পড়েছি। এখন আমি 10 টায় বা 11
- 29:50টায় যাই। আপনি এমন বলবেন না। কারণ আপনি
- 29:53জানেন যে আপনি তাহলে বরখাস্ত হবেন। আপনি
- 29:55জানেন যে আপনাকে সেখানে সময়মতো থাকতেই
- 29:57হবে। আসলে আপনি নিজেকে এমনভাবে তৈরি
- 29:59করেছেন যেখানে আপনাকে সময়মতো থাকতেই হবে।
- 30:01আপনার প্রতিদিন সেখানে সময়মতো উপস্থিত
- 30:03হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এছাড়া আপনার
- 30:05কোন পথ নেই। এভাবে ভাবার কারণে আপনার
- 30:08ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সহজ হয়েছে। এখন আর
- 30:10এটা তেমন কোন কঠিন বিষয় নয়। আপনাকে এটা
- 30:13করতেই হবে। এই নিয়ে দুইবার ভাবার
- 30:14প্রয়োজনও নেই। কেউ আপনাকে হয়তো বলল ভাই
- 30:16তুমি এটা কিভাবে পারো? আমাকে এটা করতেই
- 30:19হবে। কিভাবে পারি জানিনা। আমাকে শুধু এটা
- 30:21এভাবেই করতে হয়। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে
- 30:23বিশ্বাস করি যেভাবে আমরা বিশ্বাস করি যে
- 30:25আমরা যদি সময়মতো উপস্থিত হতে না পারি
- 30:27তাহলে আমরা চাকরি হারাবো। আমরা যদি সত্যি
- 30:30সত্যি বিশ্বাস করি আমরা একটা ক্ষতির দিকে
- 30:31এগিয়ে যাচ্ছি আর এখানে এমন কিছু আচরণ আছে
- 30:34যা আমাদের মধ্যে আনতে হবে যেমন নামাজে
- 30:36নিয়মিত হওয়া উদাহরণস্বরূপ খারাপ কাজ
- 30:38থেকে বিরত থাকা যদি আমরা সত্যিই বিশ্বাস
- 30:41করি যে আমাদের আচরণের পরিবর্তন না হয়
- 30:43তাহলে আমরা ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাব যেভাবে
- 30:45আমরা তাকিয়ে হারাই আপনি দেখবেন কোন
- 30:47ইমিগ্রেশন এপয়েন্টমেন্টের জন্য মানুষ
- 30:49দেরি করে না সেখানে মানুষ দুই ঘন্টা আগে
- 30:51গিয়ে বসে থাকে তারা হয়তো আগের রাত থেকে
- 30:52প্রস্তুতি নিয়ে বসে থাকে কারণ হয়তো
- 30:54সেখানে ভোরে ছয়টায় যেতে হবে তাই হয়তো
- 30:57সে রাতে ঘুমাবেও না সে আগে আগে আগে যাবে।
- 30:59কারণ সে নিজেকে জানে সে যদি দেরি করে
- 31:02তাহলে সে ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবে। আমরা
- 31:04যদি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করি যে এমন
- 31:06আচরণ আমাদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিয়ে যাবে
- 31:08তাহলে একটা দিন পরিবর্তন করা আসলে পুরো
- 31:10জীবনকে পরিবর্তন করাই খুব সহজ হয়ে যায়।
- 31:13কিন্তু কখন এটা সহজ হয়? যখন সেখানে
- 31:15বিশ্বাস থাকে। এজন্যই যখন আল্লাহ খুসুর
- 31:17নিয়ে বলছেন সর্বপ্রথম কোন ব্যতিক্রম
- 31:19নিয়ে তিনি বলছেন কারা? যারা বিশ্বাস করে।
- 31:22এটা কিন্তু সাধারণভাবে বলা নয়। আচ্ছা
- 31:24যারা বিশ্বাস করল তারা বেঁচে গেল। না।
- 31:26আমরা এখানে এমন সাধারণ বিশ্বাসের কথা বলছি
- 31:28না, এটা হচ্ছে সত্যিকার গভীর আস্থা। আমি
- 31:31যা করছি তা সরাসরি আমার সফলতার সাথে
- 31:33যুক্ত। সরাসরি আমার ব্যর্থতার সাথে যুক্ত।
- 31:36তার চেয়ে ভালো আমি আমাকে পরিবর্তন করি।
- 31:38তার চেয়ে ভালো আমি তাই করি যা আমার করা
- 31:40উচিত। এটা শুধুমাত্র আতর শব্দে এমন বোধ
- 31:42আসা উচিত। এটা যেভাবে চিপে বের করে দেয়,
- 31:44নিঃশেষ করে দেয়, আর আমার এত সময় নেই।
- 31:47এখানে যারা ছাত্র আছেন, আপনার হয়তো কোন
- 31:49অ্যাসাইনমেন্ট আছে। আর আপনি সেটা ভুলে
- 31:50গিয়েছেন। আর সময় চলে যাচ্ছে। একজন ছাত্রের
- 31:53মধ্যে তখন যে ধরনের তাড়াহুড়া দেখা যায়
- 31:55ফাইনাল পরীক্ষার আগে যে ধরনের ব্যস্ততা
- 31:57দেখা যায় ট্যাক্সের সময় একজন
- 31:58একাউন্টেন্ট এর মধ্যে যে ধরনের ব্যস্ততা
- 32:00দেখা যায় যে ব্যস্ততা আপনি দেখবেন
- 32:02উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি কাজে দেরি করেন
- 32:04আপনি বাসায় যে ধরনের আচরণ করবেন আপনার
- 32:06আচরণ পুরো পাল্টে যাবে আপনি কোনভাবেই দেরি
- 32:09করতে চাইবেন না আপনি সবার সাথে এমন আচরণ
- 32:11করবেন যেন কাউকে আপনি পাত্তা দেন না আপনি
- 32:13সকালের খাবার কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না
- 32:16আপনি চলে যান কারণ আপনার ব্যস্ততা আছে
- 32:18আপনি জানেন যে আপনি যদি না যান তাহলে আপনি
- 32:20সমস্যায় পড়বেন আপনি পুরো পুরোপুরি জানেন
- 32:23আমাদেরকে এই আস্থা নিজের দ্বীনের
- 32:24ব্যাপারেও আনতে হবে। আপনার বস যদি আপনাকে
- 32:26বলে আমি কসম করে বলছি তোমার সমস্যা হবে।
- 32:29যদি আপনার বস এটা বলে সে যদি বলে আমি কসম
- 32:32করছি। সে হয়তো অফিসে আসলো সে আপনাকে
- 32:34নির্দিষ্ট করে বলল না। সে বলল প্রত্যেক
- 32:37কর্মচারীর বিশাল ক্ষতি হবে। আমি কসম করছি।
- 32:40তোমাদের প্রত্যেকেরই ক্ষতি হবে। এবার অনেক
- 32:42বড় লোকসান হবে। আপনি কি মনে করেন? সে যখন
- 32:44চলে যাবে আপনাদের মধ্যে কি কেউ বলবে?
- 32:47হ্যাঁ হ্যা আমার কিছু হবে না। আমি ঠিক
- 32:49আছি। না সে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি। সে
- 32:53বলেনি কিছু কর্মচারীর ক্ষতি হবে। সে বলেনি
- 32:55ওই যে তার ক্ষতি হবে। তিনি বলেছেন
- 32:57প্রত্যেকেরই ক্ষতি হবে। আপনাদের সবার
- 32:59ক্ষতি হবে। আর আপনারা অচিরে লক্ষ্য করবেন
- 33:02যে সময় চলে যাচ্ছে। ক্ষতির সময় এগিয়ে
- 33:04আসছে। আপনারা খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন যে
- 33:06আপনারা কতটা ক্ষতির মধ্যে আছেন। এখন যখন
- 33:09আপনি এটা শুনবেন এই দুনিয়ায় আপনার জন্য
- 33:11একটা ব্যস্ততা কাজ করবে। আপনার মনে হবে ও
- 33:14আল্লাহ আমার এখন কি করা উচিত? তিনি কি
- 33:16করতে চান? তিনি কেন রেগে আছেন? এমন কিছু
- 33:18কি আছে যা আমরা করছি না? এখন চিন্তা করুন
- 33:20যখন আপনার একটা চাকরি থাকে বলে রাখি আমি
- 33:23আপনাদের এই উদাহরণগুলো দিচ্ছি যাতে আপনারা
- 33:25এই সূরাটি আরো ভালোভাবে বুঝতে পারেন
- 33:27ইনশাআল্লাহ। মুসলিমের জীবনে এটা একটা
- 33:29গুরুত্বহ সূরা। এটা একজন মুসলিমের জন্য
- 33:31এমন একটা উপহার যা আল্লাহ মাত্র তিনটি
- 33:33আয়াতের মাধ্যমে দিয়েছেন যা আমাদের
- 33:35জীবনকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। তিনি
- 33:37আমাদেরকে পুরো কোরআন মুখস্ত করতে বলেননি।
- 33:39শুধু সূরা আসরটা মনে রাখবেন।
- 33:41সুবহানাল্লাহ। দেখবেন এটা কিভাবে আপনার
- 33:43জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়। এখন চিন্তা
- 33:45করুন আপনি একটা চাকরি পেলেন আপনার বস
- 33:48আপনাকে বলল তোমার কাজ চারটি। প্রতিদিন
- 33:50আপনার কয়টি কাজ আছে? চারটি। মাঝেমধ্যে
- 33:53আপনার বস আপনাকে এমন কাজ দিবে যা আপনি খুব
- 33:55সহজেই পারবেন। আবার মাঝেমধ্যে আপনার এমন
- 33:57কাজ থাকবে যা আপনার করতে ভালো লাগবে না।
- 33:59কিন্তু যেহেতু আপনি এই চাকরিটি করছেন
- 34:01আপনার কয়টি কাজ করতে হবে? সবগুলোই। আপনার
- 34:04হয়তো দুইটি করতে ভালো লাগে কিন্তু আপনাকে
- 34:06চারটিই করতে হবে। দুইটি আপনার ভালো লাগে।
- 34:08দুইটি আপনার ভালো লাগে না। কিন্তু চারটি
- 34:10কাজই আপনি করেন। এখন যদি কেউ মনে করে বা
- 34:13আমি যদি মনে করি আমি শুধু দুইটি কাজ করব।
- 34:15কারণ আমি এই দুইটি খুবই ভালো পারি। আমি
- 34:17বাকি দুইটি নিয়ে চিন্তা করবো না। আমি
- 34:19এমনকি এগুলো ছুয়েও দেখবো না। বস যখন
- 34:21দেখবে আমি এই দুইটি কতটা ভালোভাবে করেছি?
- 34:23সে কি বাকি দুইটির কথা ভুলে যাবে? এগুলো
- 34:25নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তাহলে আপনি বাকি
- 34:27দুটি কাজ করলেন না। আপনার বস এক সপ্তাহ পর
- 34:29আসলো। কতদূর করেছ? কাজের অগ্রগতি কি? আমি
- 34:32প্রথম কাজ দুটি শতভাগ করেছি। ও আচ্ছা।
- 34:35বাকি দুটির কি অবস্থা? আসলে আমি দুইটি
- 34:37করবো না। কিন্তু দেখুন আমি এই প্রথম দুইটি
- 34:40কত ভালোভাবে করেছি। এই লোকের কি অবস্থা
- 34:42হবে? আপনাদের কি মনে হয়? সে কি তার
- 34:44চাকরিটা ধরে রাখতে পারবে? আপনি যদি
- 34:45সম্পূর্ণভাবে সেগুলো নাও করেন আপনাকে যে
- 34:48চারটি কাজ দেয়া হয়েছে সে চারটি কাজ
- 34:50আপনাকে করতেই হবে। আপনি হয়তো শতভাগ করতে
- 34:52পারেননি। কিন্তু আপনাকে প্রত্যেকটির অন্তত
- 34:5570 ভাগ কাজ হলেও করতে হবে। এটা কোন একটা
- 34:57কাজের 100% করার চেয়েও ভালো। বুঝতে
- 34:59পারছেন? তাহলে যখন আল্লাহ চারটি কাজের কথা
- 35:02বলছেন ইল্লাল্লাজিনা আমানুহাত
- 35:08তখন আমরা বলি ঈমান আমাদের ঈমান নিয়ে কাজ
- 35:12করতে হবে কিছু ভালো কাজ আর বাকিগুলো ওগুলো
- 35:17তো আলেমদের জন্য ওগুলো শায়েখদের কাজ
- 35:19ওগুলো দায়ীদের কাজ ওগুলো অন্যরা করবে
- 35:21এগুলো আমার কাজ নয় তাহলে আপনি এখানে কি
- 35:23করছেন আল্লাহ বলেন এই চারটি কাজ যারা করবে
- 35:26না তাদের প্রত্যেকেই বিশাল ক্ষতির মধ্যে
- 35:28আছে কিন্তু আপনি শুধু দুইটা করছেন বা একটা
- 35:31বা তিনটা ব্যাপারটা এমনই আপনি এর মধ্যে
- 35:34থেকে বাছাই করছেন যে আপনাকে ক্ষতির নিয়ে
- 35:36যাবে। এর কোন ফলাফল পাবেন না। এই সূরার
- 35:39মাধ্যমে এমন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের তৈরি করতে
- 35:41হবে। আমি আজকে আরো 10 মিনিট নেব। সম্ভবত
- 35:43আমাদের তৃতীয় একটা সেশনের প্রয়োজন হবে
- 35:45ইনশাআল্লাহ তাআলা। আমি ভেবেছিলাম হয়তো
- 35:47আমাদের তিনটা সেশন লাগতে পারে। ওলিল্লাহিল
- 35:50হামদ। আচ্ছা। এখন একটু ইন্নাল ইনসানালাফিস
- 35:54এটা নিয়ে কথা বলা যাক। প্রথমত ইন্না
- 35:56শব্দটি আরবি ভাষায় ইন্না দিয়ে কেবলমাত্র
- 35:59নির্দিষ্টতা বোঝায় না। বরং এমন লোকদের
- 36:01প্রতি ইঙ্গিত করে যারা আপনার কথায়
- 36:03সন্ধিহান। ইন্না শব্দটির মাধ্যমে এখানে
- 36:05ইন্নাল ইনসানাল্লাস এই আয়াতের মাধ্যমে
- 36:08আমরা বুঝতে পারি যে বেশিরভাগ মানুষ যখন
- 36:11এটা শুনে কি করে তারা অবিশ্বাস করে তারা
- 36:14ভাবতে পারে না যে এত এতটা খারাপ হতে পারে
- 36:16এটা আসলে এত খারাপ হতে পারে না আপনি খুবই
- 36:19হতাশাজনক কথা বলছেন এটা এত খারাপ নয় ভাই
- 36:21তাই আল্লাহ আপনাকে সুনিশ্চিত করে বলছেন
- 36:24অবশ্যই এটা এমনই ইন্না ভাষাগতভাবে এটা
- 36:27ইজালাতশাক এটা সন্দেহ দূর করার জন্য
- 36:29ব্যবহৃত হয়েছে তার মানে এই সন্দেহ আগে
- 36:32থেকেই ছিল আপনি হয়তো ভাবছেন এটা
- 36:34কাফিরদেরকে বলা হচ্ছে। কিছু কিছু মুফাসসির
- 36:36বলছেন আল ইনসান আই আল কাফির। কিন্তু কিছু
- 36:39কিছু মুফাসসির আবার এর বিপক্ষে শক্ত
- 36:41প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। কিভাবে? কারণ এর
- 36:44শেষের ইল্লা এর শেষের ইল্লা দিয়ে
- 36:46ব্যতিক্রম বুঝিয়েছে। কারণ আল্লাহ এখানে
- 36:48পুরো মানবজাতির ব্যতিক্রম উল্লেখ করেছেন।
- 36:50যদি তিনি এখানে কাফেরদেরকে বুঝাতেন, তাহলে
- 36:52ব্যতিক্রম উল্লেখ করার প্রয়োজন হতো না।
- 36:54কাকা কাফির তো কাফিরই। কিন্তু যেহেতু
- 36:56এখানে ইল্লা দিয়ে ব্যতিক্রম বোঝানো
- 36:57হয়েছে সেহেতু এখানে প্রত্যেকটি মানুষকে
- 36:59আলাদাভাবে বোঝানো হয়েছে। এখন আমরা ইনসান
- 37:02শব্দটি সংক্ষেপে বুঝতে চাই। ইনসান শব্দটি
- 37:04আমরা আগেও পড়েছি। কারণ এই শব্দটি আগেও
- 37:07বহু সূরায় এসেছে। ইনসান শব্দটির কয়েকটি
- 37:09মূল আছে। এর মধ্যে একটা হলো মিসিয়ান।
- 37:12মানে হলো ভুলে যাওয়া। অর্থাৎ মানুষকে মনে
- 37:14করানো প্রয়োজন যে সে খুব ভয়াবহ ক্ষতির
- 37:16মধ্যে আছে। কিন্তু পরক্ষণেই কি ঘটে? সে
- 37:19ভুলে যায়। আপনি খুতবা শুনেন। আপনাকে
- 37:21স্মরণ করানো হয়। আপনার চিন্তা আসে আর
- 37:23আপনি ভাবেন ভাই আমার কাজের ব্যাপারে সচেতন
- 37:26হওয়া প্রয়োজন আর যখন আপনি মসজিদের
- 37:27পার্কিং এ হয়তো কোন গাড়ি দেখলেন আপনি সব
- 37:29ভুলে গেলেন ইনসান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে
- 37:32পাঠানোর আগেই মানুষের ব্যাপারে এটা বলে
- 37:34দিয়েছেন আলাবিরকুমবালাশাহিদনা
- 37:38সূরা আরাফে তিনি বলেন আমি কি তোমাদের
- 37:40প্রভু নই আমরা বলেছিলাম হ্যাঁ অবশ্যই আপনি
- 37:43আমাদের প্রভু আমরাই এর সাক্ষী আমরা
- 37:45পৃথিবীতে আসার আগেই আল্লাহকে সাক্ষী দিয়ে
- 37:47এসেছি যে তিনি আমাদের প্রভু আর এখন আমরা
- 37:49ভুলে গিয়েছি আমাদের মনে নেই আমরা লা
- 37:52ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার গুরুত্ব হারিয়ে
- 37:53ফেলেছি। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
- 37:55সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এই বলার
- 37:56শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ভুলেই গেছি।
- 37:59সুতরাং ইনসান শব্দটি এখানে ফারদদের সমর্থক
- 38:02হিসেবে এসেছে। আলাদা ব্যক্তি আল নাফস
- 38:04লোকটি। কিছু শব্দ আছে যেগুলো সমর্থক। আল
- 38:07বাশার মানুষ। আন নাস। কিন্তু এখানে এসেছে
- 38:11ইনসান। এর দুইটা তাৎপর্য আছে। একটা হলো
- 38:13আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত। আর
- 38:15দ্বিতীয় হলো ইনসান শব্দটি দিয়ে আলাদা
- 38:17ব্যক্তি বোঝায়। যা হলো ইসমে জিনস। এর
- 38:20মাহত্ব হলো এই শব্দটি দিয়ে দুটি বিষয়
- 38:22বোঝানো হচ্ছে। এটা সমগ্র মানবজাতিকে
- 38:24সম্পৃক্ত করে। আবার একই সাথে এটা একক
- 38:27বোঝায়। এখানে শিখনী একটা বিষয় আছে।
- 38:29ইনসান শব্দটির ব্যাপারে ছোট একটা বিষয়
- 38:31বলে আজকে শেষ করবো ইনশাল্লাহ। তা হচ্ছে
- 38:33দায়িত্বের ব্যাপ্তি নিয়ে। মনোবিজ্ঞানের
- 38:35দায়িত্বের ব্যাপ্তি বলে একটা কথা আছে।
- 38:36এখানে যারা আছেন আমি আপনাদের সহজ করে
- 38:38বাড়ির উদাহরণ বা একটা ক্লাসরুমের উদাহরণ
- 38:40দিব। আমার বাসায় আমার বাচ্চারা আছে।
- 38:42আলহামদুলিল্লাহ আমার পাঁচজন সন্তান আছে।
- 38:44তারা সারা বাড়ি ছুটাছুটি করে। আমি যখন
- 38:46বাসা থেকে বের হয়ে যাই তখন যদি বলি
- 38:49দুষ্টুমি করো না এটা বলে যদি দরজা বন্ধ
- 38:51করে দেই আমি শুধু বললাম দুষ্টুমি করো না
- 38:53তারা কি দুষ্টুমি করবে না করবে এটাই হচ্ছে
- 38:55দায়িত্বের ব্যাপ্তি কিন্তু আমি দরজা খুলে
- 38:57যদি বলি হুসনা তোমার বোনকে জ্বালাবে না
- 39:00ওয়ালিয়া দেয়ালে আকবে না হুদা চিৎকার
- 39:03করবে না আহমদ ঘুমাতে যাও আমি যদি
- 39:05নির্দিষ্ট করে বলি তাহলে কি তারা তাদের
- 39:07দায়িত্বের ব্যাপারে বেশি সচেতন হবে না
- 39:09অবশ্যই যদি আমি সাধারণভাবে বলি তাহলে কি
- 39:12হবে এটা নিশ্চয়ই অন্য কারো ব্যাপারে বলছে
- 39:14তাহলে আমি ঠিক আছি বুঝতে পারছেন শিক্ষক
- 39:16ক্লাসে বললেন, ছাত্ররা হয়তো অনেক
- 39:17চেঁচামেচি করছে। শিক্ষক বললেন, সবাই চুপ
- 39:20করো। সবাই কি চুপ করবে? কিন্তু শিক্ষক যদি
- 39:22একজনকে নির্দিষ্ট করে বলেন বাকিদের জন্য
- 39:24উদাহরণ তৈরি করেন। সবার চিৎকার বন্ধ। বলে
- 39:28রাখি শিক্ষকদের জন্য এটা একটা ভালো
- 39:29পরামর্শ। আপনি একজনকে বলবেন, কারিম তুমি
- 39:32কি এভাবে কথা বলতেই থাকবে? একজনকে বলেন।
- 39:34সবার তখন কি হবে বলুন তো? সবাই চুপ। কেন?
- 39:37আপনি নির্দিষ্ট করে বলেছেন। এখানে
- 39:39দায়িত্বের কোন প্রসারণ নেই। এখানে কোন
- 39:41ভাগ নেই। আর বেশিরভাগ সময় যখন কাউকে
- 39:43দায়িত্ব দেয়া হয় সে ভাবে এটা
- 39:45গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবশ্যই অন্য কেউ আছে
- 39:47যে এটা করতে পারে হ্যাঁ এখানে সমস্যা আছে
- 39:50ধরুন শিক্ষক ক্লাসে প্রবেশ করলেন এসে
- 39:52বললেন তোমরা বিশাল সমস্যায় পড়তে যাচ্ছ
- 39:55এটা কিছুটা ভয়ের কিন্তু আমি যদি করিমকে
- 39:57বলি করিম তুমি জানো না তুমি কতটা সমস্যায়
- 39:59পড়তে যাচ্ছ এটা কি করিমের জন্য অনেক বেশি
- 40:01ভয়ের না অবশ্যই তাই না তাহলে এখানে যদি
- 40:04বলা হতো ইন্নাসালাফু
- 40:07মানুষ ক্ষতির মধ্যে আছে এটা একরকম কিন্তু
- 40:09এখানে এসেছে
- 40:12প্রত্যেক এক এবং একক আলাদা ব্যক্তি ক্ষতির
- 40:15মধ্যে নিমজ্জিত আছে। তাহলে যখন কেউ এই
- 40:18আয়াতটি শুনবে তার কার ব্যাপারে ভাবা
- 40:20উচিত? তার নিজের ব্যাপারেই অন্যদের কথা
- 40:22বাদ। অন্যরা এখানে আসবে না। আমি নিজেই
- 40:24বিশাল ক্ষতির মধ্যে আছি। আমার এই মুহূর্তে
- 40:26অন্য কারো ব্যাপারে ভাবা উচিত না। আমার
- 40:28শুধু নিজের কথাই ভাবা উচিত। যখন নিজেদের
- 40:30আমল প্রসঙ্গে আসে। যা বিচারের দিনে
- 40:32আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। এখানে কোন
- 40:34ছাড় দেয়া যাবে না। সেদিন মা তার সন্তানকে
- 40:36চিনবে না। মা তার সন্তানকে চিনবে না।
- 40:39রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বাদে অন্য সব
- 40:41নবী বলবেন আমি তোমাদের জন্য সুপারিশ করতে
- 40:43পারবো না। অন্য কোথাও যাও। তোমাদের দেয়ার
- 40:46মতো আমার কাছে কিছুই নেই। এটা এমন একটা
- 40:48দিন যেদিন ভাই ভাইয়ের কাছ থেকে দূরে সরে
- 40:50যাবে। সবচেয়ে ভালো বন্ধু আর সেদিন বন্ধু
- 40:53থাকবে না।
- 40:59সবচেয়ে ভালো বন্ধু আর সেদিন বন্ধু থাকবে
- 41:01না।
- 41:07আপনি আপনার পরিবারকে এতটাই ভালোবাসেন
- 41:09এখানে বলে রাখি মাঝেমধ্যে মানুষের
- 41:11ভালোবাসার কারণে আমরা খুবই খারাপ কাজ করে
- 41:12ফেলি আমরা সত্যিকারই খুব খারাপ কিছু করে
- 41:14ফেলি আর সেদিন যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
- 41:16করা হবে সে বলবে
- 41:21সে আল্লাহকে বলবে আমি কি আমার সন্তানের
- 41:23বদলে এ আজাব থেকে মুক্তি পেতে পারি আপনি
- 41:25কি আমার ছেলেকে আমার সন্তানকে আমার বদলে
- 41:28জাহান্নামের আগুনে দিতে পারেন সেইভাবেই
- 41:30বলবে বা আমার স্ত্রীকে বা আমার ভাইকে বা
- 41:33আমার মাকে উম্মিহবাহ
- 41:37পরিবারের সবাইকে
- 41:40সে সকল মানুষের দিকে তাকাবে এবং বলবে ও
- 41:43আল্লাহ আপনি আমাকে জাহান্নামে দিচ্ছেন
- 41:45আপনি আমার বদলে এদেরকে জাহান্নামে দিন
- 41:47এদের সবাইকে কিন্তু আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে
- 41:50যেন মুক্তি পায় সুবহানাল্লাহ এই হল
- 41:53সেদিনের সম্পর্কের ধরণ এখন চিন্তা করুন
- 41:55সেদিন আপনি সবাইকে ভুলে যাবেন তাহলে আমরা
- 41:58এখানে বুঝতে পারছি আগে আমাদের এই
- 42:00দুনিয়ায় সবাইকে ভোলা উচিত আপনি তাদের
- 42:02ব্যাপারে পরে ভাববেন। আপনি আগে কার
- 42:04ব্যাপারে ভাববেন? নিজের ব্যাপারেই। আমি
- 42:06বাচ্চাদের অভিভাবকদের আন্তরিকভাবে অনুরোধ
- 42:08করছি। আমি আশা করছি আমরা আমাদের বাচ্চাদের
- 42:10ব্যাপারে অনেক বেশি দুশ্চিন্তায় থাকি।
- 42:12আমরা নিজেদের ব্যাপারে ততটা দুশ্চিন্তায়
- 42:14থাকি না। ও আমার ছেলেকে ইসলামিক স্কুলে
- 42:16ভর্তি করতে হবে। তাদেরকে একটা ভালো পরিবেশ
- 42:18দিতেই হবে। আপনি নিজে কি ভালো পরিবেশে
- 42:20আছেন? আপনি নিজে কেন অশ্লীল কিছু দেখেন?
- 42:22আপনি কেন অন্যকে গালি দেন? আপনি কেন
- 42:25ব্যবসায় প্রতারণা করেন? আপনি নিজেই কেন
- 42:27সময় মত নামাজে দাঁড়াতে পারেন না? আমরা
- 42:28যাদেরকে ভালবাসি তাদের ব্যাপারে এতটাই
- 42:30আন্তরিক যে আমরা আমাদের নিজেদের কথাই ভুলে
- 42:33যাই।
- 42:33>> সুবহানাল্লাহ। আপনি কি তাকে এটা বলতে
- 42:35পারেন? সেটা বলতে পারেন? তারা ইমামদের
- 42:37কাছে আসেন আলেমদের কাছে আসেন। আপনি কি
- 42:40আমার সন্তানকে উপদেশ দিবেন? কেন? আপনার
- 42:42নিজের কি কোন উপদেশ প্রয়োজন নেই? ও
- 42:44রিয়েলি। কারণ আমার মনে হয় আপনি যদি
- 42:46আপনার সন্তানকে বড় করেন সবার প্রথমে
- 42:48আপনার উপদেশের প্রয়োজন। সবার প্রথমে
- 42:50আপনার উপদেশের প্রয়োজন। এতদিন আপনি কি
- 42:53করেছেন? আপনি কোথায় ছিলেন? কোথায় ছিলেন
- 42:55আপনি? যখন আপনার নিজেরই বাচ্চাদের জন্য
- 42:57এগুলো করা প্রয়োজন ছিল সুবহানাল্লাহ
- 42:59ইন্নাল ইনসানা লাফি এই আয়াতের মধ্য দিয়ে
- 43:03আমাদের নিজেদের উপরে সেই দায়িত্ববোধ
- 43:05ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে আমাদেরকে তাড়াতাড়ি
- 43:07করতে হবে আসল ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা কেউই
- 43:09সেই ক্ষতি থেকে নিরাপদ নই আমরা এখনো ক্ষতি
- 43:11নিয়ে আলোচনা করছি না এটা পরবর্তীতে
- 43:13আলোচনা করব আমরা এখনো শুধুমাত্র ইন্নাল
- 43:15ইনসান এখানে আছি আমার মনে হয় আজকের মত
- 43:18এতটুকুই যথেষ্ট ইনশাআল্লাহ আগামী মঙ্গলবার
- 43:20ইনশআল্লাহ আমরা বাকিটুকু পড়ে সূরা আসরের
- 43:22দারস শেষ করব ইন্নাল ইনসানালাফি
- 43:25সন্দেহাতিত ভাবেই আলাদাভাবে প্রত্যেক
- 43:28ব্যক্তি যে বারবার ভুলে যায় সবাই
- 43:30মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে ডুবে আছে। তারা যখন
- 43:32এটা বুঝতে পারে তাদের এটাও বোঝা উচিত যে
- 43:34আল্লাহ শপথ করেছেন যে সময় চলে যাচ্ছে।
- 43:37তাদের নিজেদের পরিবর্তন করার সময় শেষ
- 43:39হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সূরা
- 43:41আসরের শিক্ষাগুলো অনুধাবন করার তৌফিক দিন।
- 43:43আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে এর শিক্ষাগুলো
- 43:45গেঁথে নেয়ার তৌফিক দিন। যেন আমরা এগুলো
- 43:47সবসময় স্মরণে রাখতে পারি। আল্লাহ যেন
- 43:49আমাদের সাহাবাদের মত হওয়ার তৌফিক দেন।
- 43:51যারা যখনই একে অপরের সাথে দেখা করতেন সূরা
- 43:53আসর না পড়ে তারা একে অপরের সাথে বিদায়
- 43:55নিতেন না।
- 43:57ইনসলা
- 43:58ইল্লাল্লাহ
- 44:04আল্লাহুম্মা আমানুহাত
- 44:09আমিন রাব্বুল আলামিন ইনশল্লাহ সবার সাথে
- 44:11আগামী মঙ্গলবার আবার দেখা হবে। আসসালামু
- 44:13আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ
About this transcript
This page contains the full transcript of আল্লাহর হুকুমে সময়ের গভীর রহস্যময় ভূমিকা | নোমান আলী খান | Noman Ali Khan Bangla | Islam Our Life by Islam Our Life, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 7,306 words across 1,126 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.