প্রেমান্দোলন/লেখিকা: নাবিলা ইষ্ক/পর্ব ৭/কন্ঠে: মেহু @বইপোঁকাMehu — Transcript
Full transcript
- 0:00রাজিয়ার ঘরের দেয়াল ঘড়িটা ঘুরছে রাত
- 0:0311:30 এ। বেলি কিছুক্ষণ পর পর দৃষ্টি
- 0:06ফেলছে ওখানে। ত্রিশা তখনো দুপা মেলে
- 0:09বেলিকে তাদের ফ্যামিলি অ্যালবাম দেখাতে
- 0:11ব্যস্ত। বেলি মনোযোগ দিয়ে শুধু তৃষ্ণার
- 0:14ছবিগুলো দেখছে। বাকিদের কিছুই তার মাথায়
- 0:17নেই। এতে বেশ লজ্জাও লাগলো তার। সে কিভাবে
- 0:21এমন হয়ে যাচ্ছে? এ সময়ে ঝড়ের মত ঘরের
- 0:24ভেতর প্রবেশ করে তৃষ্ণা। কানে ফোন গুজে
- 0:28রেখেছে গম্ভীর মুখে কথা বলছে অমন গম্ভীর
- 0:31কন্ঠের কয়েকটি শব্দ কেমন ভারী শোনায়
- 0:35বেলির আত্মা কেঁপে ওঠে ত্রিশা ইতোমধ্যে
- 0:38গিয়ে ভাইয়ের পা জড়িয়ে ঝুলে আছে বানরের
- 0:41মত তৃষ্ণা ওর এলোমেলো চুল নাড়িয়ে দেয়
- 0:44ফোনের কথা বলার এক ফাঁকে ত্রিশাকে নরম
- 0:47সুরে বলে ভাইয়ের রুম থেকে ওয়ালেটটা
- 0:50নিয়ে আসো আচ্ছা আমি যাব আর আসবো ত্রিশা
- 0:55ছুটে বেরিয়েছে তৃষ্ণা আর কয়েক সেকেন্ড
- 0:58কথা বলে কান থেকে ফোন নামিয়ে নিয়েছে
- 1:01ফোনটা পায়জামার পকেটে চালান করতে গিয়ে
- 1:03বেলির দিকে এগিয়ে আসে বেলি তড়িঘড়ি করে
- 1:06বসা থেকে দাঁড়িয়ে গিয়েছে যুবথুবু হয়ে
- 1:10এক কোনাতে দাঁড়িয়েছে সন্ধ্যার খাওয়া
- 1:12ধমকে বেশ কাবু হয়েছে মেয়েটা এমনিতে
- 1:15জন্মের ভয় পেত এবারে তা আকাশ ছুয়েছে যেন
- 1:19তা খুব বুঝে নিয়েছে তৃষ্ণা সে হাসে খুব
- 1:22করে দেখে ভীত মুখটা কন্ঠস্বর নরম তুলতুলে
- 1:26যেন কিচ্ছু হয়নি। সন্ধ্যায় অনেকগুলো
- 1:28চোখের সামনে এসে উদ্ভট কান্ড ঘটায়নি। তোর
- 1:32এমন অবস্থা দেখতে পেলে তোর হেডমাস্টার বাপ
- 1:36আমার নামে নির্ঘাত মামলা দিবে। বেলি মাথা
- 1:40তুলে তাকালো না। জমিনে দৃষ্টি রাখায় বেশ
- 1:43দেখল। তৃষ্ণা দু কদম এগিয়ে এসে সে তার
- 1:47দিকে। বেলি পিছু হেটে দেয়ালছই। তৃষ্ণা
- 1:51গুন্ডার মত সমানে পা মিলিয়ে কাছে এসে
- 1:53দাঁড়ায়। বেলির থুতনি আলতভাবে ধরে মাথা
- 1:56উঁচু করে ধরলো। মিহি গলায় বলল, বল তোরে কি
- 2:00মেরেছি আমি? হু। ভালোভাবে ধমকটুকুও তো
- 2:05দিলাম না। তাহলে এমনভাবে কেঁদে কেটে
- 2:07ভাসিয়েছিস যেন খুব করে বগেছি। মুখের কি
- 2:11হাল করেছিস? কিছুই বলা যায় না।
- 2:15এত কান্না আসে কোত থেকে তোর? চোখে সমুদ্র
- 2:18বানিয়ে নিয়েছিস? ছুয়ে দিলে ঝরণার মতন পড়তে
- 2:22থাকে। তোরে নিয়ে আমার কি যে হবে
- 2:26বেলির ঠোট কাপে সে থেমে থেমে বলে আর
- 2:30লিপস্টিক দেবো না কষনোই না তৃষ্ণা হাসে
- 2:36দীর্ঘ হাসিটুকু ঠোটে ঠাই পায় অনেকক্ষণ
- 2:40বিলাতি চোখ জোড়া জলজল করে ওঠে চাপা স্বরে
- 2:43সুদায় তুই কি তোতা পাখি বেলি সংশয় নিয়ে
- 2:47মাথা নাড়িয়ে আওড়ায় না তো তৃষ্ণার এর
- 2:52সেলফোন ফের বাজছে। পকেট হাতরে এসে ফোন বের
- 2:55করে। স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে বলে, কিসের না?
- 2:58তুই হচ্ছিস তোতা পাখি। মনে থাকবে? বেলির
- 3:02মনে থাকবে। আজীবন থাকবে। তৃষ্ণা কল রিসিভ
- 3:06করে কানে ধরার পূর্বেই বলে লেট হচ্ছে। আয়
- 3:09তোকে দিয়ে আসি। বেলি আশ্চর্য হয়। আপু
- 3:14তৃষ্ণা নির্বিকার উত্তর। ওরা চলে গেছে
- 3:18আমাকে না নিয়েই তৃষ্ণা ভ্রু তুলে চেয়ে
- 3:22আছে প্রতুত্তরে বেলি ঘাবড়ায় আর কিছু বলে
- 3:26না তৃষ্ণার পিছু পিছু বেরয় ঘর ছেড়ে
- 3:29তৃষ্ণা কথা বলছে ফোনে বেলি চোখের সামনে
- 3:32লম্বাটে দেহখানা দেখতে দেখতে আনমনে হয়
- 3:34তাকে না নিয়ে কিভাবে চলে গেল আপু সে কি
- 3:37বাবার ভয় পায়নি তাকে ছাড়া ফিরলে বাবা
- 3:40নিশ্চিত অসন্তুষ্ট হবেন তাহলে কিভাবে চলে
- 3:44গেল যেতে নিয়ে করিডরে দেখা হয় জয়া
- 3:47বেগমের সাথে। ভদ্র মহিলা উপর থেকে নামছেন
- 3:50কাপড়-চোপড় হাতে নিয়ে। বেলিকে দেখেই
- 3:53দাঁড়ান। কাপড়-চোপড় ছেলের হাতে ধরিয়ে
- 3:55বেলির মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ
- 3:58করেন এক মনে। এও বলেন তিনি ব্যস্ত ছিলেন।
- 4:01তাই কথাবার্তা বলতে পারেননি। একদিন বেলিকে
- 4:04আনিয়ে সারাদিন রেখে গল্প করবেন। তৃষ্ণা
- 4:08কথা বলছে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে। হাতে
- 4:10একগাদা কাপড়-চোপড় মুখ গম্ভীর। এক অদ্ভুত
- 4:14কম্বিনেশন বেলির খুব হাসি পেল মানুষটার
- 4:17এমন অবস্থা দেখে এ সময় তৃষ্ণা হঠাৎ চাইল
- 4:20দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলতেই তৃষ্ণার ড্রানভুরু
- 4:24নাচিয়ে সুধালো কি হয়েছে বেলি দ্রুত
- 4:28দৃষ্টি ফেরায় হাইওয়ের নিচে হিমাদ্রি নদী
- 4:31সেথায় পাগল ঢেউের জোয়ার বাতাসে বাতাসে
- 4:35জোয়ারের শব্দ ঘাটে ঘাটে ফাঁকা নৌকার ভিড়
- 4:38জমেছে ঠান্ডা বাতাসের তোরজোর জানাচ্ছে
- 4:41বৃষ্টি হবে কঠিন বৃষ্টি
- 4:43মেঘ ডাকছে বজ্রপাত ঘটেছে কয়েকটি
- 4:46বজ্রপাতের শব্দে পেলি কেঁপে উঠেছে সে যে
- 4:50বজ্রপাতের শব্দে ভয় পায় খুব বিভৎস সেই
- 4:54শব্দ মনে হয় এইতো বজ্রের পতন তার মাথায়
- 4:58ঘুরবে বেলি সিটে নড়েচড়ে বসে ঢোক গেলে
- 5:01জীবগাড়িটা তখন সাবলীল গতিতে চলছে বেশ
- 5:05বেলি চতুর্দিকটা উপভোগ করছে রাতের পথটা কি
- 5:09দারুণ বেলি এভাবে কখনো এমন নির্জন
- 5:12রাস্তাঘাট উপভোগ করেনি। জীবনের এই প্রথম
- 5:16রাতের পৃথিবী যে এতটা সুন্দর হতে পারে তার
- 5:18জানা ছিল না। মুগ্ধ চোখ দুটো তখন তৃষ্ণার
- 5:22মুখে এসে থামে। থমকায় বিমূড়ো হয়। বুকের
- 5:26ভেতর ভালো লাগায় ভেসে যায়। আন্দোলন হয়।
- 5:29তৃষ্ণার দৃষ্টি সামনে। হুইলে রাখা বড় সড়
- 5:32হাত দুটো ভীষণ বড়।
- 5:35বেলি নিজের পিচ্চি হাত দুটোর দিকে চেয়ে
- 5:39ফের তৃষ্ণার হাতের দিকে যায়। মানুষটার
- 5:42হাতের বিপরীতে তার হাত দ্রুত অনেকটাই ছোট।
- 5:45আর আপন মনে হাতটা বাড়িয়ে হুইলে রাখা
- 5:48হাতের সাথে মেপে দেখতে চায়। আর আর চোখে
- 5:51খেয়াল করে তৃষ্ণা। ঠোঁটের কোণে হাসি আর
- 5:55চোখে খেয়াল করে তৃষ্ণার ঠোঁটের কোণের
- 5:57বাঁকা হাসি। মুহূর্তেই মেয়েটা লজ্জায়
- 5:59মাথা নুইয়ে নেয়। দ্রুত নিজের কোলে এনে
- 6:02রাখে তার সরল হাতখানা। তৃষ্ণা এক
- 6:06মুহূর্তের জন্য চায় শব্দহীন হাসি।
- 6:09ডান হাতটা পাকাপক্তভাবে হুইলে ধরে বাম
- 6:13হাতটা অবলীলায় বাড়িয়ে দেয় বেলির সামনে
- 6:16ফের তাকায় রাস্তায় সেখানে তাকিয়ে গভীর
- 6:19রাতের চেয়েও গভীর স্বরে বলে লোকে বলে
- 6:22আমার হাতে কালো জাদু আছে যা ছুয়ে দিই তাই
- 6:26ধ্বংস হয় না হয় আমার হয় হাত দে বেলি
- 6:30দেখি তুই ধ্বংস হস নাকি আমার হোস বেলির
- 6:34হৃদপিন্ড দৃঢ়ভাবে লাফায়ে ওঠে
- 6:37শ্বাসপশ্বাস থমকায় চোখ দুটো বড় বড় হয়ে আসে
- 6:41পরম মুহূর্তে অন্যরকম লজ্জায় নেতিয়ে যায়
- 6:44ফুলের মতন তৃষ্ণা এবার শব্দ করে হাসে আদেশ
- 6:48ছুড়ে হাত দে মেপে দেখ বেলি লাজুক দৃষ্টিতে
- 6:53বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা ঠাই বসে থেকে দেখে ওই
- 6:57হাতে হাত বাড়িয়ে রাখার স্পর্ধা যে বেলির
- 7:00হচ্ছে না ভয় লাজ সব মিলিয়ে মিশিয়ে
- 7:03পাঁচমিশালী অনুভূতির জোয়ারে সে ভেসে যায়
- 7:07মনে প্রাণে চেষ্টা করে হাতটা বাড়িয়ে ওই
- 7:10হাতের উপর রাখার। অথচ কোলের উপর রাখা
- 7:13নিজের কোমল হাতটা পাথরের মত ভারী মনে
- 7:17হচ্ছে। তুলতে পারছে না। তৃষ্ণা তাড়া দেয়
- 7:20না। মুখে কিচ্ছুটি বলে না। চুপচাপ হাত
- 7:23বাড়িয়ে রেখেছে। বেলি চোখ বুঝে লম্বা
- 7:26শ্বাস নেয়। কাঁপতে থাকা হাত উঠিয়ে ধীরে
- 7:28ধীরে আনে তৃষ্ণার হাতের কাছে। তৃষ্ণার
- 7:31আগ্রহ দৃষ্টি না পেয়ে কিছুটা শান্ত হয়।
- 7:34আরেকটু চেষ্টা করে ওই বড় পুরুষালী রুক্ষ
- 7:38হাতের উপর নিজের হাতটা রাখে। এতেই যেন
- 7:41মস্ত বড় অপরাধ। থরথর করে কেঁপে ওঠে বেলির
- 7:44সত্তা। পরপরই তরিঘড়ি করে হাত ছড়িয়ে আনে।
- 7:48তৃষ্ণার ঠোঁটে তখনো মৃদু হাসির অস্তিত্ব
- 7:50বিরাজমান। এ সময় বেলির হাতে এক ফোঁটা জল
- 7:53এসে ছয়। পরপর দ্বিতীয় ফোঁটা। এরপর
- 7:57তৃতীয়টি। ঝুমঝুম বৃষ্টি শুরু হবে বলেই।
- 8:01বেলি সাদা কামিজ পড়েছে শরীর ভিজলে বড্ড
- 8:04বিশ্রি হবে ব্যাপারটা সে আতকে ওঠে চিন্তিত
- 8:07গলায় আওড়ায়
- 8:09বৃষ্টি শুরু হচ্ছে তৃষ্ণা ইতমধ্যে চঞ্চল
- 8:12গতিতে হুইল ঘোরাচ্ছে ব্যস্ত কিন্তু অতি
- 8:15তীঘ্ন দৃষ্টিতে চতুর্দিকটা দেখে নিচ্ছে
- 8:18ইউটার্ন নিয়ে চেনা পরিচিত এক পরিত্যক্ত
- 8:21বাড়ির পথই ধরে যেখানে মিনিটেই পৌঁছে এই
- 8:25বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে ওই বাড়ি বড্ড
- 8:28ভুতুরে ওই বাড়ির আশেপাশে কোনবাড় বাড়ি
- 8:31নেই। আকাশের সামনে উঁচু গাছপালা দিয়ে
- 8:33বাড়ির চতুর্দিক যেন বন্ধ। বৃষ্টি এবারে
- 8:36মোটা হয়ে পড়ছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে বৃষ্টি
- 8:38পড়ার গতি। তৃষ্ণা গাড়িটা এসে থেমে
- 8:41তৃষ্ণার গাড়িটা এসে থেমেছে বাড়ির সামনে।
- 8:44গাড়ির সামনে লাইটের আলোয় গাছপালার
- 8:46আড়ালে বাড়িটির ছাউনি দেখা মিলছে। তৃষ্ণা
- 8:51বেলিকে তাকাতে দেয়। ওই ছাউনির নিচে গিয়ে
- 8:54দাঁড়া। বৃষ্টি তখনো ঝুম হয়ে নামতে
- 8:56ধরেছে। বেলি ছুটে গিয়ে পৌঁছায় টিনের
- 8:59ছাউনির নিচে। আধ ভেজা হয়েছে
- 9:01অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। বেলি ওড়নাটা শরীরে
- 9:03ভালোভাবে জড়িয়ে নেয়। ঠান্ডা বাতাসের
- 9:07সংস্পর্শে কেঁপে ওঠে। ঘুটঘুটে অন্ধকার
- 9:10চিড়েছে জীব গাড়ির লাইটের আলো। আশপাশটা
- 9:13আলোকিত করে রেখেছে। পিনপতন নীরবতা নির্জন।
- 9:17কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই। তারা ব্যতীত।
- 9:21বেলির এতে অবশ্য হেলদোল নেই। সে চিন্তিত
- 9:24দৃষ্টিতে সামনের মানুষটাকে দেখে যাচ্ছে।
- 9:27তৃষ্ণা গাড়িতে কি যেন একটা ব্যস্ত হাতে
- 9:29করছে। আশ্চর্য ভিজে যাচ্ছে তো। বেলির গলা
- 9:34তুলে বলতে ইচ্ছে করে। ভিজে যাচ্ছেন তো?
- 9:37তাড়াতাড়ি আসুন না। কিন্তু ভিতু তার
- 9:41দ্বারা সম্ভব হলো না। শুধু অসহায় চোখে
- 9:44দেখে গেল তৃষ্ণার ব্যস্ত লম্বাটে শরীরটা।
- 9:47গাড়ির আরেকটু পাশ করে আরো সামনে এনে তবেই
- 9:52নামে গাড়ি থেকে। ভেজা স্লিভ দুটো কনুই
- 9:55ফোল্ড করতে করতে এগিয়ে এসেছে বেলির দিকে।
- 9:59পরণে সাদা পাঞ্জাবি ভিজে পেটানো শরীরের
- 10:02লেপটে গিয়েছে কেমন। ছোট চুলগুলো ভিজে
- 10:05কপালে এসে ছুঁয়েছে। বেলি আর চোখে নিপুণ
- 10:08ভাবে দেখে সবাই। বেলি আর চোখে নিপুণভাবে
- 10:12দেখে সবটাই। উপলব্ধি করে তার ভেতর দুরু
- 10:15দুরু কাঁপছে। তৃষ্ণা এসে দাঁড়ায় পাশেই।
- 10:18তৃষ্ণা এসে তার পাশেই দাঁড়িয়েছে। এতে
- 10:21যেন কাপাকাপির মাত্রা ছাড়াই। লম্বা চওড়া
- 10:24সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষটার সামনে যেন
- 10:27পুটি মাছ। বেলিম মনোযোগ ফেলে সামনে। দেখে
- 10:31বৃষ্টি টিনের চাল বেয়ে ঝুমঝুম করে পড়ছে।
- 10:34তৃষ্ণা একচিত্তে চেয়ে থাকলো। স্বাভাবিক
- 10:37থাকার চেষ্টা করতে থাকা বেলির মুখপানে।
- 10:40অনেকক্ষণ নীরবে চেয়ে ঠোঁটের ভিজিয়ে
- 10:43সুধালো। ভয় করছে না তোর? বেলি দৃষ্টি
- 10:47উঠিয়ে চায়। সময় নিয়ে প্রতুত্তর করে
- 10:49বলে না তৃষ্ণা আগ্রহী হয়ে ফের
- 10:53জিজ্ঞাসাবাদ চালায় কেন বেলি বড্ড সরল
- 10:57জবাবটা থেমে থেমে দেয় আপনি আছেন না
- 11:00সাধারণ বাক্য অথচ অদ্ভুত শক্তি এই বাক্যে
- 11:04তৃষ্ণা স্তব্ধ মুগ্ধ পরপর অশান্ত হয়
- 11:08বিচলিত দৃষ্টিতে দেখে লাজে হাসফাস করা
- 11:11বেলিকে বলে হ আমি আছি
- 11:16বেশখানিক লজ্জায় পড়ল দৃষ্টি এদিক ওদিক
- 11:19ঘোরাতে ব্যস্ত হলো। তৃষ্ণার নজর এলো বেলির
- 11:23হাতের প্যাকেট। আগেও লক্ষ্য করেছে তবে
- 11:26প্রশ্ন করেনি। এখন করল কি এটা? বেলি সংশয়
- 11:30নিয়ে বলল, উপহার। আশ্চর্য হলো তৃষ্ণা। কার
- 11:34জন্য? বেলি চুপসে গেল কেমন? ভীতু হল।
- 11:38অশান্ত ভঙ্গিতে মাথা ঘোরালো। আওয়াজ নামিয়ে
- 11:42তোলানো ভঙ্গিতে বলল,
- 11:45আপনার জন্য। দ্বিতীয় দফায় অবাক হলো
- 11:48তৃষ্ণা। স্বর উচিয়ে বলল, দিচ্ছিস না কেন
- 11:52তাহলে? ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিস নাকি
- 11:55বাসায়? অনুশোচনায় ভোগে তার সামান্য উপহার
- 11:59নিয়ে। মানে এটা না খুবই সাধারণ উপহার।
- 12:05তৃষ্ণা হাত বাড়ালো চটপট। দে বেলি বাড়ানো
- 12:08হাতটাই দে দৃষ্টি তুলে তাকালো দু হাতে
- 12:12প্যাকেটটা বাড়িয়ে ধরলো মাথা নুয়ে
- 12:14মিনমিন স্বরে বলল শুভ জন্মদিন তৃষ্ণার
- 12:18অন্তর ভালো লাগায় চঞ্চল হলো ঠোটে দাঁত
- 12:21চেপে হাসলো গিফটটা নিল খুব আগ্রহী সে
- 12:25তাড়াহুড়ো হাতে গিফটটা খুলতে ব্যস্ত হল
- 12:29এবং এক টানে ছিড়ে ফেলল প্যাকেটটা খুব
- 12:32সুন্দর এক রঙের কাপড়ের রুমাল চার কোনা
- 12:36হাতের কাজ করা তার নামও লিখা রয়েছে
- 12:40সুন্দর আকৃতির ফুলপাতাও। এই মেলি গিফট
- 12:43অন্য কেউ দিলে নির্ঘাত এক রামধম খেত
- 12:47তৃষ্ণার থেকে। অথচ অন্য কেউ নয় বেলি
- 12:51দিয়েছে। তৃষ্ণা আওড়ালো। নিজ হাতে করেছিস
- 12:55সেগুলো। হুম। তৃষ্ণা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখল
- 12:59রুমালটা। তারপর দৃষ্টি তুলে বেলির দিকে।
- 13:02তার গভীর দৃষ্টির সামনে বেলি লাজে
- 13:06অপ্রস্তুত ছন্ন ছাড়া হচ্ছে। ধরফর করছে
- 13:09ভেতরটা। ঠিক ঝুম বৃষ্টির মতন। টিনে বৃষ্টি
- 13:13পড়ার শব্দ ভাসছে চতুর্দিকে। বাতাসের
- 13:16তরজোর বাড়ছে অনেকাংশে। বাতাসে ভেসে আসছে
- 13:20একদল বৃষ্টি। তারা শরীর ছুয়ে যাচ্ছে।
- 13:24তৃষ্ণা নিজের ভেজা মুখশ্রী মুছে বেলির
- 13:28দেওয়া রুমালটা দিয়ে। বেলির বেলি গন্ধ
- 13:30রুমাল জুড়ে। চমৎকার। রুমাল দিয়ে সে
- 13:33মাথাটাও মুছে নেয়। হাত দুটো মুছে রুমাল
- 13:36ভাজ করে পকেটে ঢোকায়। বেলি গোপনভাবে
- 13:39সবটাই দেখে নেয়। ভালো লাগায় তার ছোট্ট
- 13:42হৃদয় লাফিয়ে উঠেছে ক্ষনে। দুজন পাশাপাশি
- 13:46বেশ ছুইছুই হয়ে দাঁড়িয়ে দুজনের দৃষ্টি
- 13:49সামনে। বেশ আমার বৃষ্টির দিকে। একসময়
- 13:52বেলি ভেজা বৃষ্টিতে আচ্ছন্ন ওই প্রকৃতিতে
- 13:57বিভর হয়। দুপা এগিয়ে ডান হাতটা
- 14:00নিস্তেজভাবে বাড়িয়ে দেয়। খোলা আকাশের
- 14:03থেকে নামতে ধরা বৃষ্টি তার ফর্সা হাত
- 14:06স্পর্শ করে বড্ড ঠান্ডা সে স্পর্শ তবুও
- 14:10ভালো লাগে বেলির তার হাতের চুরিগুলো শব্দ
- 14:13করছে হাত নড়াতে বৃষ্টি এবং চুরির রিমঝিম
- 14:17বৃষ্টি এবং চুরির রিমঝিম শব্দ এক প্রকার
- 14:20সুর তৈরি করেছে আগামবার্তা ছাড়াই বেলির
- 14:24হাতের নিচে আরেকটি বড় হাতের আগমন ঘটে সেই
- 14:27পুরুষালী হাতের কবজিতে আছে আকর্ষণীয় ঘড়ি
- 14:31বেলি এক মনে দেখে বুকের ভেতর ধুকপুক
- 14:34উপলব্ধি করে তবে সরে যায় না ঠাই রয়
- 14:39সেভাবেই তৃষ্ণার হাতটা নিচ থেকে ধরে তার
- 14:43হাত বেলি ধরতে দেয় কেঁপে ওঠে মিলিত হাত
- 14:48দুটো একসাথে ভিজতে থাকে বৃষ্টিতে সেই
- 14:51দৃশ্য তার সরল হৃদয়ে ভূমিকম্প তোলে সুখের
- 14:54সাগর ভাসিয়ে নেয় লজ্জায় বেলির সাহস হলো
- 14:57না পাশে দাঁড়ানো তৃষ্ণার দিকে তাকানোর
- 15:00তৃষ্ণা বেলির নরম র হাতটা নিজের হাতের
- 15:02মুঠয় পুড়ে নেয়। ধীরে সুজতে হাতটা ফিরিয়ে
- 15:05আনে ছাউনির নিচে। আওড়ায় ঠান্ডা লাগবে। তবে
- 15:10বেলির হাতটা আর ছাড়লো না। ধরে রাখলো
- 15:13মুষ্টিবদ্ধ করে। বেলিও ছাড়ানোর প্রয়াস করল
- 15:16না। নিজেকে স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হল। আপন
- 15:20মনে কেঁপে কেঁপে উঠলো ক্ষনে কষণ। হাওলাদার
- 15:23বাড়ির পেছনের রাস্তায় এসে থেমেছে
- 15:25জীবগাড়িটা। বৃষ্টি থেমেছে কিছুক্ষণ। এই
- 15:29ফাঁকেই তৃষ্ণা এক টানে চলে এসেছে। সম্ভবত
- 15:32বৃষ্টি আবার শুরু হবে। নিশ্চয়তা আছে
- 15:35সারারাত হবার। বেলি বেলি গাড়ি থেকে নেমে
- 15:38এল। তৃষ্ণার ড্রাইভিং এ বসে আছে। বেলি
- 15:42নেমে চলে গেল না। কেমন দাঁড়িয়ে থাকলো।
- 15:45তৃষ্ণা এতেও আনন্দ পায়। বেলিকে বাধ্য
- 15:49বেলিকে দেখে বাধ্য বেলিকে দেখে কিছুক্ষণ।
- 15:52পরে বলে ভেতরে যা।
- 15:55বেলি যেন এই আদেশটুকুর অপেক্ষাতেই ছিল।
- 15:58মাথা দোলায়। ঘুরে ছোট ছোট কদমে এগোতে
- 16:01থাকল। গাছ পেরিয়ে একটু ভেতরে গিয়েই একটা
- 16:04গাছের পেছনে আড়াল হয়ে দাঁড়ালো। পুরোপুরি
- 16:07গেল না সে। তৃষ্ণা তাকিয়েছিল তার পথেই।
- 16:10বেলি আড়াল বেলিকে আড়াল হতে দেখে কিছুক্ষণ
- 16:14তেমনিই থাকল। পরপর চোখ সরালো। মাথাটা
- 16:17হুইলে ঠেলে কেমন বসে রইল। বেলি এতে
- 16:20চিন্তিত হল। ব্যাকুল চোখে দেখে গেল এই
- 16:23দৃশ্য। কি হয়েছে মানুষটার? অস্বস্তি হচ্ছে
- 16:26কি? এমন বাজে সময় ভিজলো নিশ্চয়ই মাথা
- 16:31ব্যথা হচ্ছে। তৃষ্ণা মাথা উঠালো এবেলায়।
- 16:34গাড়ি স্টার্ট দিল। দ্বিতীয়বারের মত
- 16:36হাওলাদার বাড়িটা দেখে এক টানে সোজা চলে
- 16:40গেল। গাড়িটা চোখের বাইরে যেতেই বেলি বেরলো
- 16:43আড়াল। হাতটা সে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে
- 16:46রেখেছে।
About this transcript
This page contains the full transcript of প্রেমান্দোলন/লেখিকা: নাবিলা ইষ্ক/পর্ব ৭/কন্ঠে: মেহু @বইপোঁকাMehu by বইপোঁকা Mehu, generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 1,954 words across 301 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.