মানব জীবনের অর্থ কি জানুন গীতার মাধ্যমে | krishna motivation | gita saar bangla #krishnamotivation — Transcript
Full transcript
- 0:00মানুষ জন্মায় বড় হয় সুখ-দুঃখের মধ্যে
- 0:03দিয়ে জীবন কাটায় একদিন সবকিছু ছেড়ে চলে
- 0:06যায়। কিন্তু কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন
- 0:08করেছেন এই মানব জীবনের প্রকৃত অর্থ কি?
- 0:11কেন আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি? শুধু খাওয়া,
- 0:14ঘুমানো, অর্থ উপার্জন করা এবং একদিন
- 0:17মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়াই কি জীবনের
- 0:19উদ্দেশ্য? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে আরো
- 0:22গভীর কোন সত্য? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবত
- 0:26গীতায় সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন যা
- 0:29হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মনকে আলোকিত
- 0:32করে আসছে। নমস্কার প্রিয় শ্রোতা বন্ধুরা।
- 0:36পথ অফ ধর্ম পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের
- 0:39প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা,
- 0:41শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে স্বাগতম।
- 0:45জীবনের ব্যস্ততা, [মিউজিক]
- 0:46দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতার মাঝেও যদি আপনি
- 0:49আজ একটু শান্তি, সাহস আর ঈশ্বরের
- 0:52আশীর্বাদের খোঁজে এখানে এসে থাকেন তাহলে
- 0:55বিশ্বাস রাখুন আপনি একদম সঠিক জায়গায়
- 0:58এসেছেন। আজ আমরা একসঙ্গে শুনবো
- 1:00শ্রীকৃষ্ণের সেই অমূল্য বাণী যা শুধু মনকে
- 1:03শান্তই নয় জীবনের কঠিন সময়ও নতুন আশা,
- 1:07শক্তি ও সঠিক পথের সন্ধান দেয়। তাই
- 1:10অনুরোধ ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে
- 1:13শুনুন। কে জানে আজকের এই কয়েকটি মিনিটই
- 1:16হয়তো আপনার জীবনের নতুন সূচনার কারণ হয়ে
- 1:19উঠবে। চলুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে প্রণাম
- 1:22জানিয়ে শুরু করি আজকের এই পবিত্র
- 1:24আধ্যাত্মিক যাত্রা। হরে কৃষ্ণ। আজ আমরা
- 1:28গীতার আলোকে মানব জীবনের প্রকৃত অর্থ
- 1:31সম্পর্কে আলোচনা করব। আমরা জানার চেষ্টা
- 1:33করবো কেন মানুষ জন্মগ্রহণ করে। কেন সুখ ও
- 1:37দুঃখ জীবনের অংশ। কেন মানুষ অশান্তিতে
- 1:40ভোগে? কিভাবে প্রকৃত শান্তি লাভ করা যায়
- 1:43এবং কিভাবে শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ অনুসরণ করে
- 1:46জীবনকে অর্থপূর্ণ করা যায়। এই আলোচনা
- 1:49ধীরে ধীরে আমাদের এমন কিছু সত্যের কাছে
- 1:52নিয়ে যাবে যা হয়তো আমাদের জীবনের প্রতি
- 1:54দৃষ্টিভঙ্গিকেই পরিবর্তন করে দিতে পারে।
- 1:57তাই শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকুন। মানুষ যখন
- 2:00এই পৃথিবীতে আসে তখন সে কিছুই সঙ্গে নিয়ে
- 2:03আসে না। তার পরিচয় থাকে না, তার সম্পদ
- 2:06থাকে না। তার কোন অহংকার থাকে না। কিন্তু
- 2:09সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজেকে বিভিন্ন
- 2:11পরিচয়ে আবদ্ধ করে ফেলে। কেউ নিজেকে ধনী
- 2:14বলে মনে করে। কেউ নিজেকে শিক্ষিত বলে গর্ব
- 2:17করে। কেউ আবার নিজের ক্ষমতা নিয়েও অহংকার
- 2:20করে। কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় এই সমস্ত
- 2:23পরিচয় সাময়িক। এগুলো আমাদের প্রকৃত
- 2:25পরিচয় নয়। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন,
- 2:29মানুষের আসল পরিচয় তার শরীর নয় তার
- 2:32আত্মা। এই শরীর একদিন নষ্ট হয়ে যাবে।
- 2:36কিন্তু আত্মা কখনো ধ্বংস হয় না। যেমন
- 2:39মানুষ পুরনো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র
- 2:42ধারণ করে তেমনি আত্মা পুরনো দেহ ত্যাগ করে
- 2:46নতুন দেহ গ্রহণ করে। তাই শুধুমাত্র দেহকে
- 2:50কেন্দ্র করে জীবন গড়ে তোলা কখনো প্রকৃত
- 2:53অর্থে জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। আজকের
- 2:56পৃথিবীতে মানুষ নিজের সুখের জন্য ছুটছে।
- 3:00কেউ অর্থের পিছনে ছুটছে, কেউ খ্যাতির
- 3:02পিছনে, কেউ ক্ষমতার পিছনে। কিন্তু এত কিছু
- 3:06পাওয়ার পরেও মানুষের মনের শান্তি নেই।
- 3:09কারণ মানুষ বাইরের জগতে সুখ খুলছে। অথচ
- 3:13প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে নিজের অন্তরে এবং
- 3:16ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে। অনেক সময়
- 3:20আমরা ভাবি যদি আরো কিছু টাকা পেতাম তাহলে
- 3:23সুখী হতাম। যদি আরো বড় বাড়ি থাকতো তাহলে
- 3:27শান্তি পেতাম। যদি সমাজে আরো সম্মান পেতাম
- 3:30তাহলে জীবন পূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু
- 3:33বাস্তবে দেখা যায় সবকিছু পাওয়ার পরেও
- 3:36মানুষের মনে এক ধরনের শূনতা থেকে যায়।
- 3:40কারণ বস্তুগত জিনিস কখনো আত্মার চাহিদা
- 3:43পূরণ করতে পারে না। গীতার শিক্ষা হলো
- 3:46মানুষ শুধু একটি শরীর নয় মানুষ একটি
- 3:49চিরন্তন আত্মা। আর সেই আত্মার প্রকৃত
- 3:53আশ্রয় হলেন পরমেশ্বর। যখন মানুষ এই সত্য
- 3:57ভুলে যায় তখনই তার জীবনে অশান্তি, ভয়,
- 4:01দুঃখ এবং হতাশা প্রবেশ করে। আমরা প্রায়ই
- 4:04জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই। কখনো
- 4:08প্রিয়জনের বিচ্ছেদ, কখনো আর্থিক কষ্ট,
- 4:11কখনো ব্যর্থতা, কখনো অপমান। তখন মনে হয়
- 4:15কেন আমার জীবনেই এত সমস্যা? কেন ভগবান
- 4:18আমাকে এত কষ্ট দিচ্ছেন? কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ
- 4:21আমাদের শেখান জীবনের প্রতিটি ঘটনাই কোন না
- 4:25কোন শিক্ষা নিয়ে আসে। সুখ যেমন স্থায়ী
- 4:28নয় তেমনি দুঃখও চিরস্থায়ী নয়। জীবনের
- 4:31প্রতিটি পরিস্থিতিকে ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণ
- 4:34করতে পারলেই মানুষ প্রকৃত জ্ঞানের পথে
- 4:37এগিয়ে যেতে পারে। যে ব্যক্তি শুধুমাত্র
- 4:40সুখের সময় ভগবানকে স্মরণ করে সে এখনো
- 4:43জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেনি। কারণ
- 4:46সত্যিকারের ভক্ত সেই যে সুখে যেমন ভগবানকে
- 4:50স্মরণ করে তেমনি দুঃখের মধ্যেও তার উপর
- 4:53আস্থা রাখে। জীবনের অনেক মুহূর্তে আমরা
- 4:56একাকি অনুভব করি। মনে হয় কেউ আমাদের
- 4:59বুঝছে না। [মিউজিক] চারপাশে অনেক মানুষ
- 5:02থাকা সত্ত্বেও মন যেন শূন্য হয়ে যায়।
- 5:05কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় মানুষ কখনো একা
- 5:08নয়। পরমাত্মা সর্বদা আমাদের সঙ্গে আছেন।
- 5:12তিনি আমাদের হৃদয়ের মধ্যেই অবস্থান করছেন
- 5:15এবং প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের পথ দেখিয়ে
- 5:18চলেছেন। মানুষ যখন নিজেকে শুধুমাত্র দেহ
- 5:21হিসেবে দেখতে শুরু করে তখনই ভয় জন্মায়।
- 5:25মৃত্যুর ভয়, ব্যর্থতার ভয়, অপমানের ভয়,
- 5:29ভবিষ্যতের ভয় তাকে গ্রাস করে। কিন্তু যখন
- 5:33সে বুঝতে পারে যে সে এক অবিলস্বর্যর আত্মা
- 5:37তখন তার ভিতরে এক অদ্ভুত সাহসের জন্ম হয়।
- 5:40তখন সে বুঝতে পারে এই পৃথিবীর কোন ঘটনাই
- 5:44তাকে সত্যিকার অর্থে ধ্বংস করতে পারে না।
- 5:47শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন কর্ম করাই মানুষের
- 5:50অধিকার। কিন্তু ফলের উপর মানুষের অধিকার
- 5:53নেই। এই শিক্ষা মানব জীবনের অন্যতম
- 5:56গুরুত্বপূর্ণ সত্য। আজ আমরা অধিকাংশ সময়
- 5:59ফল নিয়ে চিন্তা করি। যদি সফল না হই, যদি
- 6:03মানুষ আমাকে সম্মান না দেয়, যদি আমার
- 6:05পরিশ্রমের মূল্য না পাই, এই সমস্ত চিন্তাই
- 6:09মানুষকে দুর্বল করে তোলে। কিন্তু যখন
- 6:11মানুষ নিঃস্বার্থভাবে নিজের কর্তব্য পালন
- 6:14করতে শেখে, তখন তার মন শান্ত হতে শুরু
- 6:17করে। কারণ তখন সে ফলের দাস হয়ে থাকে না।
- 6:21সে বুঝতে শেখে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা
- 6:24দেওয়াই তার কাজ। আর ফল নির্ধারণ করার
- 6:27অধিকার ভগবানের। কি শিখলাম? আমরা শিখলাম
- 6:31যে মানব জীবনের প্রকৃত অর্থ শুধুমাত্র ভোগ
- 6:35বিলাস বা বাহ্যিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ
- 6:38নয়। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার আত্মা এবং
- 6:42সেই আত্মার চিরন্তন সম্পর্ক রয়েছে
- 6:44পরমেশ্বরের সঙ্গে। সুখ ও দুঃখ উভয়ই
- 6:49সাময়িক। কিন্তু ভগবানের প্রতি বিশ্বাস
- 6:51এবং কর্তব্যের পথে অবিচল থাকা মানুষকে
- 6:55প্রকৃত শান্তি ও জীবনের সত্য উপলব্ধি করার
- 6:58দিকে নিয়ে যায়। অনেক মানুষ মনে করেন
- 7:01জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন একটি
- 7:03বিষয়। কেউ বছরের পর বছর ধরে জ্ঞান
- 7:06অনুসন্ধান করেন। কেউ তীর্থস্থানে ঘুরে
- 7:09বেড়ান। কেউ আবার বিভিন্ন বই [মিউজিক]
- 7:11পড়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু
- 7:13গীতা আমাদের খুব সহজ একটি সত্য শেখায়।
- 7:16মানুষ যতক্ষণ না নিজের প্রকৃত সত্তাকে
- 7:19উপলব্ধি করতে পারে ততক্ষণ তার সমস্ত অর্জন
- 7:22অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ বাইরের জগতে যত
- 7:26বড় সাফল্যই আসুক না কেন অন্তরের শূন্যতা
- 7:29দূর না হলে প্রকৃত তৃপ্তি লাভ করা যায়
- 7:32না। আজ আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি
- 7:35যেখানে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি
- 7:38সুবিধা ভোগ করছে। প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে।
- 7:41যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। মানুষের
- 7:44হাতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ এসেছে।
- 7:48কিন্তু এত উন্নতির পরেও মানুষের মন থেকে
- 7:51উদ্বেগ, হতাশা এবং অশান্তি দূর হয়নি। বরং
- 7:55অনেক ক্ষেত্রেই তা আরো বেড়েছে। এর কারণ
- 7:58কি? কারণ মানুষ বাইরের জগৎকে জয় করার
- 8:02চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিজের মনকে জয় করার
- 8:05চেষ্টা করেনি। শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,
- 8:09মানুষের মনই তার সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং
- 8:12মানুষের মনই তার সবচেয়ে বড় শত্রু।
- 8:16যে ব্যক্তি নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে
- 8:18পারে সে জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত
- 8:21থাকতে পারে। আর যে ব্যক্তি নিজের [মিউজিক]
- 8:23মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে
- 8:26বাহ্যিকভাবে যত শক্তিশালী হোক না কেন
- 8:28ভিতরে ভিতরে দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা অনেক
- 8:32সময় নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের জীবনের
- 8:34[মিউজিক] তুলনা করি। অন্যের সাফল্য দেখে
- 8:37ঈর্শা জন্মায়। অন্যের সুখ দেখে নিজের
- 8:41জীবনকে [মিউজিক] ব্যর্থ মনে হয়। কিন্তু
- 8:43গীতা আমাদের শেখায় প্রত্যেক মানুষের পথ
- 8:46আলাদা, প্রত্যেক মানুষের কর্ম আলাদা। তাই
- 8:50অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের
- 8:53কর্তব্য পালন করাই প্রকৃত জ্ঞানীর লক্ষণ।
- 8:56যে ব্যক্তি সবসময় অন্যকে দেখে নিজের জীবন
- 8:59বিচার করে সে কখনো শান্তি লাভ করতে পারে
- 9:02না। কারণ তুলনা মানুষের আনন্দকে ধীরে ধীরে
- 9:06নষ্ট করে দেয়। মানুষের জীবনে অহংকার একটি
- 9:10বড় বাধা। যখন মানুষ মনে করে সবকিছুই সে
- 9:14নিজে করছে, সবকিছুই তার শক্তির ফল। তখন
- 9:17ধীরে ধীরে তার মধ্যে অহংকার জন্ম নেয়।
- 9:21কিন্তু গীতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই
- 9:23পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে তার পিছনে ঈশ্বরের
- 9:27ইচ্ছা কাজ করছে। মানুষ শুধু একটি মাধ্যম।
- 9:30তাই অহংকার না করে বিনয়ী হওয়াই প্রকৃত
- 9:34জ্ঞানীর লক্ষণ। যে মানুষ বিনয়ী সে সবসময়
- 9:38শেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। আর যে অহংকারী
- 9:41সে নিজের অজান্তেই অন্ধকারের দিকে এগিয়ে
- 9:44যায়। আমরা প্রায়ই ভাবি কেন কিছু মানুষের
- 9:47জীবনে এত কষ্ট আসে। কেন কেউ জন্ম থেকেই
- 9:51সুখী আবার কেউ সংগ্রামের মধ্যে জীবন
- 9:54কাটায়। এই প্রশ্নের উত্তর গীতার
- 9:56কর্মতত্ত্বের মধ্যে লুকিয়ে আছে।
- 9:59শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, মানুষের বর্তমান জীবন
- 10:02শুধুমাত্র এই জন্মের ফল নয়। কর্মের
- 10:05প্রভাব অনেক গভীর এবং তা মানুষের
- 10:08ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করে। তাই অন্যের
- 10:11ভাগ্য দেখে হতাশ না হয়ে নিজর কর্মের উপর
- 10:15গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ আজকের সৎকর্ম
- 10:18আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি
- 10:22করে। অনেক মানুষ মনে করেন ভগবানের প্রতি
- 10:26ভক্তি মানে সংসার ত্যাগ করা। কিন্তু গীতা
- 10:30এমন শিক্ষা দেয় না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে
- 10:34যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে বলেননি।
- 10:36বরং তিনি বলেছেন নিজের কর্তব্য পালন করতে
- 10:40করতে ভগবানকে স্মরণ করো। অর্থাৎ ভক্তি
- 10:44মানে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়
- 10:47বরং দায়িত্ব পালন করতে করতেই ঈশ্বরের
- 10:51প্রতি সমর্পিত হওয়া। একজন ছাত্র পড়াশোনা
- 10:55করতে করতেই ভগবানকে স্মরণ করতে পারে। একজন
- 10:58কর্মচারী নিজের কাজ করতে করতেই ভগবানের
- 11:02প্রতি ভক্তি রাখতে পারে। একজন গৃহস্থ
- 11:05সংসারের দায়িত্ব পালন করতে করতেই
- 11:08আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতি করতে পারে। কারণ
- 11:11ভক্তি কোন নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে
- 11:14সীমাবদ্ধ নয়। এটি হৃদয়ের একটি অবস্থা।
- 11:18মানুষ যখন শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথা
- 11:21চিন্তা করে তখন তার মন সংকীর্ণ হয়ে যায়।
- 11:24কিন্তু যখন সে অন্যের কল্যাণের কথা ভাবতে
- 11:28শেখে তখন তার হৃদয়ে প্রসারিত হতে থাকে।
- 11:32গীতা আমাদের নিঃস্বার্থ কর্মের শিক্ষা
- 11:34দেয়। যে ব্যক্তি [মিউজিক] কোন প্রতিদানের
- 11:37আশা না করে অন্যের মঙ্গল কামনা করে সে
- 11:41ধীরে ধীরে ঈশ্বরের আরো নিকতবর্তী হয়ে
- 11:44ওঠে। কারণ ভালোবাসা, দয়া এবং সেবা
- 11:48মানুষের ভিতরের দেবত্বকে জাগ্রত করে।
- 11:51জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন মনে হয়
- 11:55সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোন পথ খুঁজে
- 11:58পাওয়া [মিউজিক] যায় না। চারপাশে শুধু
- 12:01অন্ধকার দেখা যায়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই
- 12:04বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ
- 12:08সূর্য অস্ত যাওয়ার পর যেমন আবার নতুন
- 12:11সকাল আসে তেমনি জীবনের কঠিন সময়ও একদিন
- 12:15কেটে যায়। শ্রীকৃষ্ণ কখনো বলেননি যে তার
- 12:19ভক্তদের জীবনে কোন সমস্যা আসবে না বরং
- 12:22তিনি বলেছেন যে তার উপর বিশ্বাস রাখে তিনি
- 12:26তাকে শক্তি প্রদান করেন যাতে সে সমস্ত
- 12:29বাধা অতিক্রম করতে পারে মানুষ অনেক সময়
- 12:32ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে কি হবে
- 12:36কি হবে না যদি ব্যর্থ হই যদি ক্ষতি হয় এই
- 12:40সমস্ত চিন্তা বর্তমানের শান্তিকে নষ্ট করে
- 12:43দেয় কিন্তু গীতা আমাদের বর্তমান মুহূর্তে
- 12:47বাঁচতে শেখায়। কারণ অতীত চলে গেছে এবং
- 12:50ভবিষ্যৎ এখনো আসেনি। মানুষের হাতে রয়েছে
- 12:54শুধু বর্তমান। তাই বর্তমানকে সৎকর্ম, ভালো
- 12:58চিন্তা এবং ভগবানের স্মরণ দিয়ে সুন্দর
- 13:01করে তোলাই জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।
- 13:05পৃথিবীতে যা কিছু আমরা নিজের বলে মনে করি
- 13:09তা একদিন ছেড়ে চলে যেতে হবে। অর্থ,
- 13:12সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি সম্মান এমনকি প্রিয়
- 13:16মানুষদের সঙ্গ একদিন শেষ হয়ে যাবে।
- 13:20কিন্তু মানুষের সৎকর্ম এবং ঈশ্বরের প্রতি
- 13:23ভক্তি কখনো নষ্ট হয় না। এই কারণেই গীতা
- 13:28আমাদের বাহ্যিক জিনিসের প্রতি অতিরিক্ত
- 13:30আসক্ত না হয়ে আধ্যাত্মিক সম্পদ অর্জন
- 13:34করার শিক্ষা দেয়। কারণ সেটি মানুষের
- 13:37সঙ্গে চিরকাল থাকে। মানুষ যত বেশি কামনা
- 13:41বাসনার পিছনে ছুটে তত বেশি অশান্তি তার
- 13:44জীবনে বৃদ্ধি পায়। এক ইচ্ছা পূরণ হলে
- 13:48আরেকটি ইচ্ছা জন্ম নেয়। এভাবেই মানুষের
- 13:51মন কখনো সন্তুষ্ট হতে পারে না। কিন্তু
- 13:54সন্তুষ্টি এমন একটি সম্পদ যা বাইরের কোন
- 13:58জিনিস দিয়ে কেনা যায় না। সন্তুষ্টি আসে
- 14:01কৃতজ্ঞতা থেকে। যে ব্যক্তি ভগবানের দেওয়া
- 14:05আশীর্বাদের জন্য কৃতজ্ঞ হতে শেখে তার
- 14:08জীবনে শান্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- 14:11কারণ সে যা নেই তার জন্য দুঃখ না করে যা
- 14:15আছে তার জন্য আনন্দ করতে শেখে। কি শিখলাম?
- 14:19আমরা শিখলাম যে মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ
- 14:23বাইরের জগতের সঙ্গে নয়। নিজের মনের
- 14:26সঙ্গে। তুলনা, অহংকার, স্বার্থপরতা এবং
- 14:30অতিরিক্ত কামনা মানুষকে অশান্তির দিকে
- 14:33নিয়ে যায়। কিন্তু নিঃস্বার্থ কর্ম,
- 14:36বিনয়, কৃতজ্ঞতা এবং ভগবানের প্রতি
- 14:39বিশ্বাস, মানুষকে প্রকৃত শান্তি এবং
- 14:42জীবনের অর্থ উপলব্ধি করার পথে এগিয়ে
- 14:45নিয়ে যায়। মানুষের জীবনে এমন অনেক
- 14:48মুহূর্ত আসে যখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই
- 14:52প্রশ্ন করতে শুরু করে। চারপাশে এত মানুষ,
- 14:56এত সম্পর্ক, এত ব্যস্ততার মাঝেও কখনো কখনো
- 15:00মন গভীর শূন্যতায় ভরে যায়। তখন মনে হয়
- 15:04এই সবকিছুর মধ্যেও যেন কিছু একটা অপূর্ণ
- 15:07রয়ে গেছে। মানুষ যতই বাহ্যিক জগতের দিকে
- 15:11এগিয়ে যাক না কেন তার অন্তরের গভীরে
- 15:14সবসময় একটি প্রশ্ন থেকে যায়। আমি কে কেন
- 15:18এসেছি এবং আমার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য
- 15:21কি? ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতার মাধ্যমে এই
- 15:25প্রশ্নগুলোর এমন [মিউজিক] উত্তর দিয়েছেন
- 15:28যা শুধু একটি যুগের জন্য নয় সমস্ত যুগের
- 15:31মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ
- 15:34মানুষের বাহ্যিক পরিস্থিতি বদলায়। কিন্তু
- 15:37মানুষের অন্তরের অনুসন্ধান কখনো বদলায়
- 15:40না। আজও মানুষ সেই একই শান্তি, সেই একই
- 15:45ভালোবাসা এবং সেই একই সত্যের সন্ধান করে
- 15:48যা হাজার হাজার বছর আগে মানুষ খুঁজতো।
- 15:52শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শেখান, মানুষ কেবলমাত্র
- 15:55জৈবিক অস্তিত্ব নয়। মানুষ একটি চৈতন্যময়
- 15:59আত্মা। এই আত্মা কখনো জন্ম নেয় না। কখনো
- 16:03মৃত্যুবরণ করে না। শরীর পরিবর্তিত হয়।
- 16:07কিন্তু আত্মা চিরন্তন। এই সত্য উপলব্ধি
- 16:11করতে পারলেই জীবনের অনেক ভয় দূর হয়ে
- 16:14যায়। কারণ অধিকাংশ ভয়ের মূল কারণ হলো
- 16:18দেহের সঙ্গে অতিরিক্ত আসক্তি। মানুষ যখন
- 16:21মনে করে এই শরীরই সবকিছু তখন সে মৃত্যুকে
- 16:25ভয় পায় বার্ধক্যকে ভয় পায় ক্ষতিকে ভয়
- 16:29পায় কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে যে সে একটি
- 16:32অবিনস্যর আত্মা তখন তার ভিতরে এক নতুন
- 16:36শক্তির জন্ম হয় জীবনের কঠিন সময়ে মানুষ
- 16:40প্রায়ই ভেঙে পড়ে কখনো প্রিয়জনের
- 16:42বিশ্বাসঘাতকতা কখনো কাছের মানুষের অবহেলা
- 16:46কখনো নিজের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া তাকে হতাশ
- 16:49করে তোলে কিন্তু গীতার শিক্ষা হলো পৃথিবীর
- 16:52কোন ঘটনাই স্থায়ী নয়। সুখ যেমন
- 16:56চিরস্থায়ী নয় তেমনি দুঃখও [মিউজিক]
- 16:58চিরস্থায়ী নয়। ঋতুর পরিবর্তনের মতোই
- 17:02জীবনের পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হয়। তাই
- 17:05কঠিন সময়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।
- 17:08কারণ যে রাত সবচেয়ে অন্ধকার তারপরেই নতুন
- 17:13সূর্যের উদয় হয়। অনেক মানুষ মনে করেন
- 17:16শুধুমাত্র সফল মানুষরাই সুখী। কিন্তু
- 17:19বাস্তবে সফলতা এবং শান্তি এক জিনিস নয়।
- 17:23একজন মানুষ অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
- 17:27সমাজে অনেক সম্মান পেতে পারেন। কিন্তু
- 17:30তবুও তার মন অশান্ত থাকতে পারে। আবার এমনও
- 17:34মানুষ আছেন, যাদের কাছে খুব বেশি কিছু
- 17:36নেই। কিন্তু তারা ভিতর থেকে শান্ত এবং
- 17:39আনন্দময়। এর কারণ হলো প্রকৃত সুখ বাইরের
- 17:44পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে না বরং মনের
- 17:47অবস্থার উপর নির্ভর করে। গীতা আমাদের
- 17:50ভিতরের শান্তিকে খুঁজে নিতে শেখায়। কারণ
- 17:53যে ব্যক্তি নিজের মনকে জয় করতে পারে তার
- 17:56কাছে পৃথিবীর কোন বাহ্যিক পরিবর্তন খুব
- 17:59বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না। মানুষের জীবনে
- 18:02ক্রোধ একটি ভয়ঙ্কর শত্রু। ক্রোধ মানুষের
- 18:06বিচারশক্তিকে নষ্ট করে দেয়। এবং অনেক
- 18:09সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে যার
- 18:12জন্য পরে অনুশোচনা করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণ
- 18:16বলেছেন ক্রোধ থেকে মোহ জন্মায়। মোহ থেকে
- 18:19স্মৃতিভংস হয় এবং স্মৃতিভংস [মিউজিক]
- 18:22মানুষের বুদ্ধিকে ধ্বংস করে দেয়। তাই
- 18:25ক্রোধকে প্রশ্রয় দেওয়া নয় বরং তাকে
- 18:28নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় প্রকৃত শক্তির
- 18:31পরিচয়। যে ব্যক্তি নিজের রাগকে
- 18:33নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সেই প্রকৃত অর্থে
- 18:36শক্তিশালী। কারণ অন্যকে পরাজিত করা সহজ।
- 18:40কিন্তু নিজের দুর্বলতাকে পরাজিত করা অনেক
- 18:42বেশি কঠিন। পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষ
- 18:45ভালোবাসা চায়। সবাই [মিউজিক] চায় কেউ
- 18:47তাকে বুঝুক, কেউ তাকে মূল্য দিক। কেউ তাকে
- 18:50নিঃস্বার্থভাবে গ্রহণ করুক। কিন্তু মানুষ
- 18:53অনেক সময় ভুল জায়গায় সেই ভালোবাসা
- 18:55খুঁজতে থাকে। তাই প্রত্যাশা পূরণ না হলে
- 18:57সে কষ্ট পায়। গীতা আমাদের শেখায়, প্রকৃত
- 19:00ভালোবাসা স্বার্থহীন। যেখানে শুধুমাত্র
- 19:03নিজের প্রয়োজন পূরণের চিন্তা থাকে সেখানে
- 19:06ভালোবাসা নয় আসক্তি জন্মায়। আর আসক্তি
- 19:09থেকেই দুঃখের শুরু হয়। কিন্তু যখন মানুষ
- 19:12ভগবানের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে শেখে
- 19:15তখন তার হৃদয় ধীরে ধীরে বিশুদ্ধ হতে
- 19:17থাকে। তখন সে অন্যদের কাছ থেকেও কম
- 19:20প্রত্যাশা করে এবং বেশি ভালোবাসা দিতে
- 19:22শেখে। মানুষের জীবনে কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব
- 19:25অপরিসীম। আমরা প্রায়ই যা নেই তার জন্য
- 19:28দুঃখ করি। কিন্তু যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ
- 19:31হতে ভুলে যাই। অথচ প্রতিটি নতুন সকাল,
- 19:34প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি সুযোগ, প্রতিটি
- 19:36সম্পর্কই ভগবানের একটি আশীর্বাদ। যে
- 19:39ব্যক্তি কৃতজ্ঞ হতে শেখে তার জীবনে আনন্দ
- 19:42বৃদ্ধি পায়। কারণ কৃতজ্ঞতা মানুষের মনকে
- 19:45ইতিবাচক করে তোলে এবং তাকে ঈশ্বরের আরো
- 19:48কাছাকাছি নিয়ে যায়। অনেক সময় আমরা ভাবি
- 19:51কেন আমাদের জীবনে এত অপেক্ষা? কেন
- 19:54প্রার্থনার উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়
- 19:56না? কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শেখান সময়ের
- 19:58আগে কিছুই ঘটে না এবং সঠিক সময়ের পরে
- 20:01কিছুই আসে না। মানুষ যা দেখে ভগবান তার
- 20:04চেয়েও অনেক বেশি দেখতে পান। তাই কখনো
- 20:06কখনো বিলম্ব আশীর্বাদ হয়ে আসে। কারণ
- 20:09ঈশ্বর জানেন কোন সময় কোন জিনিসটি আমাদের
- 20:12জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই ধৈর্য এবং
- 20:15বিশ্বাস জীবনের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- 20:18মানুষ যখন নিজের সমস্ত সমস্যার ভার একা
- 20:21বহন করতে চায় তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে
- 20:24কিন্তু যখন সে নিজের সমস্ত দুশ্চিন্তা
- 20:26ভগবানের চরণে সমর্পণ করতে শেখে তখন তার
- 20:29হৃদয় হালকা হয়ে যায় এর অর্থ এই নয় যে
- 20:32মানুষকে নিজের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে
- 20:34বরং নিজের কর্তব্য পালন করার পর ফলের
- 20:38চিন্তা ভগবানের উপর ছেড়ে দেওয়াই হলো
- 20:40প্রকৃত সমর্পণ এতে মন শান্ত থাকে এবং
- 20:43উদ্বেগ কমে যায় গীতা আমাদের শেখায় জীবন
- 20:47একটি যাত্রা
- 20:48এই যাত্রায় সুখও আসবে, দুঃখও আসবে, লাভও
- 20:52হবে, ক্ষতিও হবে, সম্মানও আসবে, অপমানও
- 20:56আসবে। কিন্তু যে ব্যক্তি সব পরিস্থিতিতে
- 20:59নিজেকে স্থির রাখতে পারে সেই প্রকৃত
- 21:02জ্ঞানী। কারণ বাহ্যিক পরিবর্তন কখনো থেমে
- 21:05থাকবে না। কিন্তু অন্তরের স্থিরতা মানুষকে
- 21:08অটল রাখে। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে ব্যক্তি
- 21:11আনন্দে উচ্চসিত হয় না এবং দুঃখে ভেঙে
- 21:14পড়ে না সেই প্রকৃত অর্থে মুক্তির পথে
- 21:17এগিয়ে যায়। মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়
- 21:20অর্জন অর্থ, খ্যাতি বা ক্ষমতা নয়।
- 21:24মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এমন একটি
- 21:27হৃদয় লাভ করা যা ভালোবাসায় পূর্ণ। এমন
- 21:30একটি মন লাভ করা যা শান্ত এবং এমন একটি
- 21:34আত্মা লাভ করা যা ভগবানের প্রতি সম্পূর্ণ
- 21:37সমর্পিত। কারণ পৃথিবীর সমস্ত অর্জন একদিন
- 21:40শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আত্মার উন্নতি কখনো
- 21:43নষ্ট হবে না। তাই জীবনের প্রকৃত অর্থ
- 21:46খুঁজতে হলে বাইরের জগতের পাশাপাশি নিজের
- 21:49অন্তরের দিকেও তাকাতে হবে। যে মানুষ নিজের
- 21:52ভিতরে ভগবানের উপস্থিতি অনুভব করতে শেখে
- 21:55তার জীবন আর আগের মতো থাকে না। তার
- 21:58দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তার চিন্তা বদলে
- 22:01যায় এবং ধীরে ধীরে তার সমগ্র জীবনই এক
- 22:04নতুন আলোয়ে আলোকিত হয়ে ওঠে। কি শিখলাম?
- 22:08আমরা শিখলাম যে মানুষের প্রকৃত শক্তি
- 22:11বাহ্যিক সাফল্যে নয় বরং অন্তরের শান্তি,
- 22:14ধৈর্য, [মিউজিক] কৃতজ্ঞতা এবং ভগবানের
- 22:17প্রতি বিশ্বাসের মধ্যে লুকিয়ে আছে। সুখ ও
- 22:20দুঃখ সাময়িক কিন্তু আত্মা চিরন্তন। তাই
- 22:24জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে স্থির থেকে
- 22:26নিজের কর্তব্য পালন করে এবং পরমেশ্বরের
- 22:29প্রতি ভালোবাসা ও সমর্পণের মাধ্যমে মানুষ
- 22:32তার জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে
- 22:35পারে। মানুষের জীবনে যতই অভিজ্ঞতা বাড়তে
- 22:38থাকে ততই সে উপলব্ধি করতে শুরু করে যে
- 22:41পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তনশীল। যে মানুষ
- 22:45একসময় খুব কাছের ছিল সে একদিন দূরে চলে
- 22:48যেতে পারে। যে সম্পদ অর্জনের জন্য মানুষ
- 22:51সারাজীবন পরিশ্রম করে তা এক মুহূর্তের
- 22:53মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে। যে সম্মান
- 22:56নিয়ে মানুষ গর্ব করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
- 22:59সেটিও ম্লান হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই
- 23:01পরিবর্তনের মাঝেও এমন একটি সত্য আছে যা
- 23:04কখনো পরিবর্তিত হয় না। সেই সত্য হলো
- 23:07পরমেশ্বর এবং মানুষের আত্মা। গীতার
- 23:11মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ আমাদের এই চিরন্তন
- 23:14সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেন। মানুষ যখন
- 23:18শুধুমাত্র পরিবর্তনশীল জিনিসের উপর নিজের
- 23:21সুখ নির্ভর করিয়ে ফেলে তখন সে
- 23:24স্বাভাবিকভাবেই দুঃখের শিকার হয়। কারণ যা
- 23:28পরিবর্তনশীল তা কখনো স্থায়ী আনন্দ দিতে
- 23:31পারে না। তাই জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে
- 23:34পেতে হলে মানুষকে সেই চিরন্তন সত্যের দিকে
- 23:38এগিয়ে যেতে হবে যা সময়, পরিস্থিতি এবং
- 23:42মৃত্যুর ঊর্ধে অবস্থান করে। আমরা অনেক
- 23:45সময় মনে করি আমাদের জীবনের সমস্ত সমস্যার
- 23:49কারণ বাইরের মানুষ অথবা পরিস্থিতি। কিন্তু
- 23:53গীতা আমাদের শেখায় মানুষের অনেক কষ্টের
- 23:56মূল কারণ তার নিজের চিন্তা এবং আসক্তি।
- 24:01যখন আমরা কোন ব্যক্তি, কোন বস্তু অথবা কোন
- 24:05পরিস্থিতির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে
- 24:07পড়ি তখন সেই জিনিসের সামান্য পরিবর্তনও
- 24:11আমাদের কষ্ট দেয়। তাই শ্রীকৃষ্ণ বারবার
- 24:15আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন।
- 24:18এর অর্থ এই নয় যে মানুষ কাউকে ভালোবাসবে
- 24:21না বা কোন দায়িত্ব পালন করবে না। বরং এর
- 24:25অর্থ হলো মানুষ ভালোবাসবে কিন্তু সেই
- 24:28ভালোবাসার মধ্যে অধিকারবোধ এবং অতিরিক্ত
- 24:32প্রত্যাশা রাখবে না। কারণ প্রত্যাশা যত
- 24:35বেশি হতাশার সম্ভাবনাও তত বেশি। জীবনের
- 24:40পথে অনেক সময় মানুষ একের পর এক ব্যর্থতার
- 24:43সম্মুখীন হয়। তখন মনে হয় হয়তো আমি
- 24:46যথেষ্ট ভালো নই। হয়তো আমার ভাগ্য খারাপ।
- 24:50হয়তো আমার দ্বারা কিছুই সম্ভব নয়।
- 24:53কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় কোন ব্যর্থতাই
- 24:57মানুষের শেষ পরিচয় নয়। কারণ ব্যর্থতা
- 25:01মানে শেষ নয়। ব্যর্থতা মানে শিক্ষা। অনেক
- 25:05সময় ভগবান আমাদের জীবনে এমন কিছু ঘটতে
- 25:08দেন যা প্রথমে কষ্টদায়ক মনে হয়। কিন্তু
- 25:11পরবর্তীকালে আমরা বুঝতে পারি সেটি আমাদের
- 25:15জন্য সবচেয়ে ভালো ছিল। তাই কঠিন সময়ও
- 25:18বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। কারণ যে
- 25:21দরজা আজ বন্ধ হয়ে গেছে হয়তো তার থেকেও
- 25:25ভালো কোন দরজা আগামী দিনে খুলে যাবে।
- 25:29মানুষ প্রায়ই অন্যের স্বীকৃতির জন্য
- 25:32বেঁচে থাকে। কে কি বলবে, সমাজ কি ভাববে?
- 25:36মানুষ আমাকে সম্মান করবে কিনা? এই চিন্তা
- 25:39অনেক সময় মানুষকে নিজের সত্যিকারের
- 25:42পরিচয় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু
- 25:44শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে শিখিয়েছিলেন, সত্যের
- 25:48পথে চলতে গেলে সবসময় সবার প্রশংসা পাওয়া
- 25:51যায় না। অনেক সময় সমালোচনার মুখোমুখীও
- 25:55হতে হয়। কিন্তু যদি মানুষের উদ্দেশ্য
- 25:58পবিত্র হয় এবং তার কর্ম সৎ হয় তাহলে
- 26:01অন্যের মতামতের চেয়ে ভগবানের সন্তুষ্টিকে
- 26:05বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ মানুষের
- 26:07দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। কিন্তু
- 26:10ঈশ্বরের বিচার সর্বদা ন্যায়সঙ্গত।
- 26:13পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সবকিছু
- 26:16পেয়েও শান্তি পান না। আবার এমনও অনেক
- 26:19মানুষ আছেন যাদের কাছে খুব বেশি কিছু নেই
- 26:22তবুও তাদের মুখে হাসি দেখা যায়। এর কারণ
- 26:25হলো শান্তি বাইরের কোন বস্তু নয়। এটি
- 26:28অন্তরের একটি অবস্থা। গীতা আমাদের শেখায়
- 26:32সন্তুষ্টি এমন একটি সম্পদ যা একজন দরিদ্র
- 26:35মানুষকেও ধনী করে তুলতে পারে। যে ব্যক্তি
- 26:38নিজের জীবনের [মিউজিক] প্রতি কৃতজ্ঞ এবং
- 26:41ভগবানের উপর বিশ্বাস রাখে সে খুব সহজেই
- 26:44আনন্দ খুঁজে পায়। কিন্তু যে ব্যক্তি
- 26:46সবসময় আরো বেশি পাওয়ার চিন্তায় ব্যস্ত
- 26:49থাকে তার কাছে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও
- 26:52যথেষ্ট মনে হয় না। মানুষের জীবনে সময়ের
- 26:55মূল্য অপরিসীম। একবার যে সময় চলে যায়
- 26:58তার কখনো ফিরে আসে না। অথচ আমরা অনেক সময়
- 27:02এমন বিষয় নিয়ে চিন্তা করি যা আমাদের
- 27:04নিয়ন্ত্রণে নেই। অতীতের ভুল নিয়ে
- 27:06অনুশোচনা করি এবং ভবিষ্যতের ভয় নিয়ে
- 27:09উদ্বিগ্ন থাকি। ফলে বর্তমান মুহূর্তটিকে
- 27:12হারিয়ে ফেলি। কিন্তু গীতা আমাদের
- 27:14বর্তমানের গুরুত্ব শেখায়। কারণ মানুষ
- 27:16শুধু বর্তমান মুহূর্তেই সৎকর্ম করতে পারে,
- 27:20ভালোবাসতে পারে, ভগবানকে স্মরণ করতে পারে
- 27:23এবং নিজের জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে।
- 27:26তাই বর্তমানকে অবহেলা না করে প্রতিটি
- 27:28মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করা উচিত। মানুষ
- 27:31অনেক সময় মনে করে আধ্যাত্মিক জীবন মানেই
- 27:34সমস্ত আনন্দ ত্যাগ করা। কিন্তু গীতার
- 27:37শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। শ্রীকৃষ্ণ কখনো
- 27:40মানুষকে আনন্দহীন জীবন যাপন করতে বলেননি।
- 27:43বরং তিনি এমন আনন্দের কথা বলেছেন যা
- 27:46সাময়িক নয় যা কোন বাহ্যিক পরিস্থিতির
- 27:49উপর নির্ভরশীল নয়। সেই আনন্দ আসে ভগবানের
- 27:52সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে, সৎকর্মের মধ্যে
- 27:55এবং বিশুদ্ধ হৃদয়ের মধ্যে। এই আনন্দ
- 27:58মানুষকে ভিতর থেকে পরিপূর্ণ করে তোলে।
- 28:01জীবনের পথে কখনো কখনো মানুষ নিজেকে খুব
- 28:04একা মনে করে। মনে হয় কেউ তাকে বুঝতে পারছে
- 28:06না। কিন্তু ঠিক সেই সময় মনে রাখা উচিত
- 28:10ভগবান কখনো কাউকে একা ছেড়ে দেন না। মানুষ
- 28:13হয়তো সবসময় তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারে
- 28:16না। কিন্তু তিনি প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের
- 28:18সঙ্গে থাকেন। অনেক সময় আমরা যে সাহায্য
- 28:21আশা করি তা প্রত্যাশিত উপায়ে আসে না।
- 28:24কিন্তু পড়ে বুঝতে পারি ভগবান অন্য কোন পথ
- 28:27দিয়ে আমাদের রক্ষা করেছেন। তাই বিশ্বাস
- 28:30এমন একটি শক্তি যা মানুষকে সবচেয়ে অন্ধকার
- 28:33সময়ও আলো দেখাতে পারে। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,
- 28:37যে ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে তার উপর নির্ভর
- 28:40করে এবং তার প্রতি ভক্তি রাখে তিনি তার
- 28:43অভাব পূরণ করেন এবং যা আছে তা রক্ষা করেন।
- 28:47এই শিক্ষা মানুষের হৃদয়ে এক গভীর আশ্বাস
- 28:50সৃষ্টি করে। কারণ তখন মানুষ বুঝতে পারে সে
- 28:54একা নয়। তার জীবনের সমস্ত কিছু ঈশ্বরের
- 28:57দৃষ্টির মধ্যে রয়েছে। তাই অতিরিক্ত
- 28:59উদ্বেগের পরিবর্তে বিশ্বাস এবং ধৈর্য
- 29:03নিয়ে এগিয়ে চলাই উচিত। পৃথিবীতে জন্ম
- 29:05নেওয়া প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি বিশেষ
- 29:08উদ্দেশ্য রয়েছে। কেউই অকারণে জন্মগ্রহণ
- 29:11করেনি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু না
- 29:14কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে [মিউজিক] যা ঈশ্বর
- 29:17তাকে দিয়েছেন। তাই নিজের জীবনকে অন্যের
- 29:20সঙ্গে তুলনা না করে নিজের কর্তব্য এবং
- 29:23নিজের পোথকে সম্মান করা উচিত। কারণ ভগবান
- 29:27প্রত্যেক মানুষকে আলাদা উদ্দেশ্য নিয়ে
- 29:29সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কাজ হলো সেই
- 29:32উদ্দেশ্যকে খুঁজে বের করা এবং সৎভাবে তা
- 29:36পূরণ করার চেষ্টা করা। ধীরে ধীরে মানুষ
- 29:39যখন গীতার শিক্ষাকে জীবনের সঙ্গে যুক্ত
- 29:42করতে শুরু করে তখন তার ভিতরে এক নতুন
- 29:45পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সে ছোটখাট বিষয়
- 29:48নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয় না। মানুষের
- 29:51প্রতি তার ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। অহংকার
- 29:53কমে যায়। ক্ষমা করার শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- 29:56সে বুঝতে পারে জীবন শুধুমাত্র নিজের জন্য
- 29:59নয় বরং অন্যের উপকারের মধ্যেও জীবনের
- 30:03গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে। তখন তার হৃদয়ে এক
- 30:06নতুন শান্তি জন্ম নেয় যা পৃথিবীর কোন
- 30:09বস্তু দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। কি শিখলাম?
- 30:13আমরা শিখলাম যে জীবনের সমস্ত পরিবর্তনের
- 30:16মাঝেরও পরমেশ্বর এবং আত্মার সত্য চিরন্তন।
- 30:20আসক্তি, অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং অন্যের
- 30:24স্বীকৃতির উপর নির্ভরশীলতা। মানুষকে
- 30:26দুঃখের দিকে [মিউজিক] নিয়ে যায়। কিন্তু
- 30:28সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা, বর্তমানকে মূল্য
- 30:32দেওয়া এবং ভগবানের উপর বিশ্বাস মানুষের
- 30:35জীবনে প্রকৃত শান্তি ও আনন্দ নিয়ে আসে।
- 30:38ধীরে ধীরে গীতার শিক্ষাকে জীবনে গ্রহণ
- 30:41করলে মানুষের অন্তরে এমন এক আলোর জন্ম হয়
- 30:44যা তাকে জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে
- 30:47সাহায্য করে। মানব জীবনের সবচেয়ে বড়
- 30:50রহস্য হলো মানুষ সবসময় এমন কিছু খুঁজে
- 30:54বেড়ায় যা তাকে স্থায়ী সুখ দিতে পারে।
- 30:57ছোটবেলায় মানুষ ভাবে বড় হয়ে গেলে সে
- 30:59সুখী হবে। বড় হওয়ার পর মনে হয় ভালো
- 31:03চাকরি পেলে জীবন সুন্দর হয়ে যাবে। চাকরি
- 31:06পাওয়ার পরে মনে হয় আরো অর্থ আরো সম্মান
- 31:10আরো সাফল্য পেলে জীবনের সমস্ত শূন্যতা দূর
- 31:13হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো
- 31:16একটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পর আরেকটি নতুন
- 31:19ইচ্ছা জন্ম নেয়। এভাবেই মানুষ সারা জীবন
- 31:23ছুটতে থাকে কিন্তু প্রকৃত শান্তি খুঁজে
- 31:26পায় না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় এই
- 31:29কারণেই বলেছেন যে ব্যক্তি নিজের মনকে
- 31:32নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং কামনা বাসনার
- 31:35দ্বারা পরিচালিত না হয়ে কর্তব্য এবং
- 31:38ভক্তির পথে চলতে শেখে সেই প্রকৃত সুখ লাভ
- 31:42করে। কারণ সুখ বাইরের কোন বস্তু নয়। এটি
- 31:46অন্তরের একটি উপলব্ধি। পৃথিবীর প্রতিটি
- 31:49মানুষই কোন না কোন সময় দুঃখের সম্মুখীন
- 31:52হয়। এমন কেউ নেই যার জীবনে কোন সমস্যা
- 31:56নেই। পার্থক্য শুধু এই যে কেউ সমস্যার
- 31:59কাছে হার মেনে নেয়। আবার কেউ সমস্যার
- 32:02মধ্যেই শিক্ষা খুঁজে পায়। গীতা আমাদের
- 32:05শেখায় দুঃখ মানুষের শত্রু নয়। অনেক সময়
- 32:09দুঃখ মানুষকে সেই শিক্ষা দেয় যা সুখের
- 32:13সময় পাওয়া যায় না। যখন মানুষ কষ্টের
- 32:16মধ্যে দিয়ে যায় তখন সে আরো বিনয়ী হয়,
- 32:19আরো ধৈর্যশীল হয় এবং ভগবানের উপর আরো
- 32:22বেশি নির্ভর করতে শেখে। তাই জীবনের
- 32:25প্রতিটি কঠিন সময়কে অভিশাপ মনে না করে
- 32:29সেটিকে নিজের আত্মিক উন্নতির একটি সুযোগ
- 32:31হিসেবে দেখা উচিত। অনেক সময় মানুষ মনে
- 32:34করে সে একাই সবকিছু করছে তার পরিশ্রম তার
- 32:38বুদ্ধি তার ক্ষমতায় তাকে এগিয়ে নিয়ে
- 32:41যাচ্ছে কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় মানুষের
- 32:44সমস্ত শক্তির উৎস পরমেশ্বর মানুষ চেষ্টা
- 32:49করতে পারে কিন্তু ফলের চূড়ান্ত
- 32:51নিয়ন্ত্রণ ঈশ্বরের হাতে এই সত্য উপলব্ধি
- 32:55করতে পারলে মানুষের অহংকার ধীরে ধীরে দূর
- 32:58হতে শুরু করে তখন সে বুঝতে পারে জীবনের যা
- 33:02কিছু ভালো এসেছে তার পিছনেও ঈশ্বরের কৃপা
- 33:05রয়েছে। আর এই উপলব্ধি মানুষকে আরো কৃতজ্ঞ
- 33:09এবং [মিউজিক] বিনয়ী করে তোলে। পৃথিবীতে
- 33:12ক্ষমা একটি মহান গুণ। কিন্তু অনেক সময়
- 33:15মানুষ অন্যকে ক্ষমা করতে পারে না। অতীতের
- 33:18কষ্ট, অপমান এবং বিশ্বাসঘাতকতা সে নিজের
- 33:22হৃদয়ে বহন করে চলতে থাকে। ফলে সেই রাগ
- 33:25এবং কষ্ট ধীরে ধীরে তার নিজের মনকেই
- 33:28বিষাক্ত করে তোলে। গীতার শিক্ষা হলো ক্ষমা
- 33:31দুর্বলতার লক্ষণ নয় বরং এটি একটি শক্তি।
- 33:34[মিউজিক]
- 33:35কারণ যে ব্যক্তি ক্ষমা করতে পারে সে নিজের
- 33:38হৃদয়কে নেতিনাচকতার হাত থেকে মুক্ত করতে
- 33:41পারে। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন
- 33:44করা নয় বরং নিজের মনকে শান্তির পথে নিয়ে
- 33:48যাওয়া। মানুষ প্রায়ই ভবিষ্যৎ নিয়ে এত
- 33:51বেশি চিন্তা করে যে বর্তমানের আনন্দ উপভোগ
- 33:54করতেই ভুলে যায়। কিন্তু গীতা আমাদের
- 33:57শেখায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ কোন
- 34:00সমস্যার সমাধান করে না। বরং এটি মানুষের
- 34:04শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই নিজের
- 34:06কর্তব্য নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে বাকিটা
- 34:10ভগবানের উপর ছেড়ে দেওয়াই হলো জ্ঞানীর
- 34:12পথ। কারণ মানুষ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে
- 34:15পারে না। কিন্তু সে নিজের চিন্তা, নিজের
- 34:18কর্ম এবং নিজের বিশ্বাসকে অবশ্যই
- 34:21নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। জীবনের পথে অনেক
- 34:24সময় এমন মানুষদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়,
- 34:27যারা আমাদের কষ্ট দেয়, কেউ প্রতারণা করে,
- 34:31কেউ অবহেলা করে, কেউ ভুল বোঝে। তখন মনে
- 34:34হয় কেন এমন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো।
- 34:37কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারি প্রত্যেক
- 34:39মানুষই আমাদের জীবনে কোন না কোন শিক্ষা
- 34:42নিয়ে আসে। কেউ ভালোবাসা শেখায়, কেউ
- 34:45ধৈর্য শেখায়, [মিউজিক]
- 34:46কেউ ক্ষমা শেখায়। আবার কেউ শেখায় কাকে
- 34:50বিশ্বাস করা উচিত এবং কাকে নয়। তাই
- 34:53জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার মধ্যেই একটি
- 34:56শিক্ষা লুকিয়ে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের
- 34:58শেখান একজন জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো ঘৃণাকে
- 35:02ঘৃণা দিয়ে উত্তর দেয় না। কারণ অন্ধকার
- 35:05কখনো অন্ধকারকে দূর করতে পারে না।
- 35:08শুধুমাত্র আলোই অন্ধকারকে দূর করতে পারে।
- 35:11তেমনি ঘৃণাকে শুধুমাত্র ভালোবাসা এবং
- 35:14জ্ঞান দিয়েই জয় করা সম্ভব। মানুষের
- 35:17জীবনে সত্যের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক সময়
- 35:21সাময়িক লাভের জন্য মানুষ মিথ্যার আশ্রয়
- 35:24নেয়। কিন্তু মিথ্যা হয়তো কিছু সময়ের
- 35:26জন্য সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু
- 35:28দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষের শান্তি কেড়ে
- 35:31নেয়। কারণ সত্যের উপর দাঁড়ানো জীবনই
- 35:34সবচেয়ে শক্তিশালী জীবন। গীতা আমাদের
- 35:37শেখায় সত্য, করুণা, [মিউজিক]
- 35:39দয়া, বিনয় এবং আত্মসংযম মানুষের প্রকৃত
- 35:44সম্পদ। এগুলোই একজন মানুষকে মহান করে
- 35:47তোলে। পৃথিবীর সমস্ত ধনসম্পদ একদিন শেষ
- 35:51হয়ে যাবে। কিন্তু চরিত্র এবং সৎকর্ম
- 35:54মানুষের সঙ্গে চিরকাল থাকবে। মানুষের
- 35:58জীবনে ভক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। ভক্তি মানে
- 36:02শুধু মন্দিরে যাওয়া বা কিছু নিয়ম পালন
- 36:05করা নয়। প্রকৃত ভক্তি হলো প্রতিটি কাজের
- 36:09মধ্যে ঈশ্বরকে অনুভব করা। যখন মানুষ সততার
- 36:13সঙ্গে নিজের কর্তব্য পালন করে। অন্যের
- 36:16প্রতি দয়া দেখায়, অহংকার ত্যাগ করে এবং
- 36:19কৃতজ্ঞ হৃদয়ে জীবন যাপন করে। তখন সেই
- 36:23জীবন নিজেই এক প্রার্থনায় পরিণত হয়।
- 36:26শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে ব্যক্তি ভালোবাসা
- 36:29এবং বিশ্বাসের সঙ্গে তাকে স্মরণ করে তিনি
- 36:33কখনো সেই ভক্তকে ত্যাগ করেন না। এই আশ্বাস
- 36:36মানুষের হৃদয়ে এক গভীর শান্তি এনে দেয়।
- 36:40কারণ তখন সে বুঝতে পারে পৃথিবীর সমস্ত
- 36:43মানুষ তাকে ছেড়ে গেলেও পরমেশ্বর কখনো
- 36:47তাকে ছেড়ে যাবেন না। মানুষের জীবনের শেষ
- 36:50সত্য হলো মৃত্যু। এই সত্য কেউ এড়িয়ে
- 36:53যেতে পারে না। কিন্তু গীতা আমাদের শেখায়
- 36:56মৃত্যু কোন শেষ নয়। এটি শুধুমাত্র একটি
- 37:00পরিবর্তন। যেমন সূর্য অস্ত যায় এবং আবার
- 37:04নতুন দিনে উদিত হয় তেমনি আত্মাও এক দেহ
- 37:07থেকে অন্য দেহে যাত্রা করে। তাই মৃত্যুকে
- 37:11ভয় না করে জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলাই
- 37:14মানুষের প্রকৃত কর্তব্য। কারণ কতদিন
- 37:17বাঁচলাম তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো
- 37:20কিভাবে বাঁচলাম? আমরা কি ভালোবাসা
- 37:23দিয়েছি? আমরা কি অন্যের উপকার করেছি?
- 37:26আমরা কি ভগবানের প্রতি বিশ্বাস রেখে সৎপথে
- 37:30চড়েছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই মানুষের
- 37:33জীবনের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে। শেষ
- 37:37পর্যন্ত গীতার শিক্ষা আমাদের এই সত্য
- 37:40উপলব্ধি করতে সাহায্য করে যে মানুষ এই
- 37:43পৃথিবীতে শুধুমাত্র ভোগের জন্য আসেনি।
- 37:47মানুষ এসেছে নিজের আত্মাকে উন্নত করার
- 37:50জন্য, ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য,
- 37:53সৎকর্ম করার জন্য এবং পরমেশ্বরের সঙ্গে
- 37:57নিজের চিরন্তন সম্পর্ককে উপলব্ধি করার
- 38:00জন্য। যখন মানুষ এই সত্য বুঝতে শুরু করে
- 38:04তখন তার জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে
- 38:07যায়। তখন সে ছোটখাট বিষয় নিয়ে অশান্ত
- 38:10হয় না। সে অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়
- 38:13না। সে নিজের কর্তব্য পালন করে এবং
- 38:16ভগবানের উপর বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলে। তখন
- 38:20তার জীবনে এমন এক শান্তির জন্ম হয় যা কোন
- 38:24বস্তু কোন অর্থ বা কোন সম্মান দিয়ে অর্জন
- 38:27করা যায় না। সেই শান্তিই হল প্রকৃত
- 38:31সম্পদ। সেই শান্তিই হল মানব জীবনের প্রকৃত
- 38:35অর্থ। কি শিখলাম? আমরা শিখলাম যে প্রকৃত
- 38:39সুখ বাহ্যিক অর্জনের মধ্যে নয় বরং আত্মিক
- 38:43জাগরণ, সৎকর্ম, কৃতজ্ঞতা, ক্ষমা, সত্য এবং
- 38:48ভগবানের প্রতি ভক্তির মধ্যে লুকিয়ে আছে।
- 38:51জীবনের প্রতি অভিজ্ঞতা আমাদের কিছু না
- 38:54কিছু শিক্ষা দেয় এবং পরমেশ্বরের উপর
- 38:57বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলাই মানুষের সবচেয়ে
- 39:00বড় শক্তি। যখন মানুষ নিজের আত্মার প্রকৃত
- 39:04পরিচয় উপলব্ধি করে তখনই সে মানব জীবনের
- 39:08আসল অর্থ খুঁজে পায়। প্রিয় শ্রোতা
- 39:11বন্ধুরা আজকের এই পবিত্র গীতার আলোচনা যদি
- 39:14আপনার হৃদয়কে সামান্য স্পর্শ করে থাকে
- 39:17যদি শ্রীকৃষ্ণের এই অমূল্য বাণী আপনার মনে
- 39:21একটুখানি শান্তি সাহস বা আশার আলো
- 39:24জ্বালিয়ে থাকে তাহলে একটি ছোট্ট অনুরোধ
- 39:27রইল পাথ অফ ধার্ম পরিবারের সঙ্গে যুক্ত
- 39:30থাকুন ভিডিওটি একটি লাইক করুন কারণ আপনার
- 39:34একটি লাইক আমাদের আরো বেশি মানুষের কাছে
- 39:37গীতার অমৃতবাণী পৌঁছে দিতে সাহায্য
- 39:40আপনার পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে
- 39:43ভিডিওটি শেয়ার করুন যাতে তারাও ভগবান
- 39:46শ্রীকৃষ্ণের এই অমূল্য শিক্ষা থেকে উপকৃত
- 39:50হতে পারেন। আর যদি এই আলোচনা সত্যিই আপনার
- 39:53ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই হাইপ করতে
- 39:56ভুলবেন না। এমনি হৃদয়স্পর্শী গীতা জ্ঞান
- 39:59শ্রীকৃষ্ণের অনুপ্রেরণামূলক বাণী এবং
- 40:02আধ্যাত্মিক আলোচনার জন্য আজই আমাদের
- 40:05চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাথ অফ ধর্ম
- 40:07পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যান। ভগবান
- 40:11শ্রীকৃষ্ণের অসীম কৃপা আপনার ও আপনার
- 40:14পরিবারের উপর সর্বদা বর্ষিত হোক। আপনার
- 40:18জীবন ভরে উঠুক শান্তি ভক্তি সুখ ও
- 40:22সমৃদ্ধিতে। জয় শ্রীকৃষ্ণ। রাধে রাধে হরে
- 40:27কৃষ্ণ।
About this transcript
This page contains the full transcript of মানব জীবনের অর্থ কি জানুন গীতার মাধ্যমে | krishna motivation | gita saar bangla #krishnamotivation by Path Of Dharma , generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 4,893 words across 758 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.