আপনি কি মনমরা? গীতা শুনুন | সহজ বাংলা ভাষায় ||Geeta Sar in Bengali || — Transcript
Full transcript
- 0:00তুমি কি প্রতিদিন সকালে উঠে মনে মনে ভাবো
- 0:03আর পারছি না। রাতের পর রাত ঘুম আসে না।
- 0:07মাথার ভেতরে হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খায়।
- 0:10বুকের ভেতরে একটা অজানা ভার চেপে বসে
- 0:13থাকে। আর তুমি জানো না এই কষ্টের শেষ
- 0:16কোথায়? হয়তো তুমি একা লড়াই করছো এমন
- 0:20একটা যুদ্ধে যেখানে কেউ তোমার পাশে নেই।
- 0:23না পরিবার, না বন্ধু না প্রিয়জন। হয়তো
- 0:27তুমি ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছো। স্বপ্ন
- 0:30ভেঙে গেছে। বিশ্বাস করেছিলে যাকে সে
- 0:33প্রতারণা করেছে। অথবা এত কষ্ট করেও জীবনের
- 0:37সাফল্য আসছে না। আর ভেতরে ভেতরে [মিউজিক]
- 0:40তুমি ভেঙে পড়ছো। কিন্তু আজ ঠিক এই
- 0:43মুহূর্তে জেনে রাখো তুমি একা নও। আজ থেকে
- 0:46হাজার হাজার বছর আগে একজন মানুষ ঠিক এই
- 0:50রকমই [মিউজিক] ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি ছিলেন
- 0:52মহাবীর, তিরন্দাজ, যোদ্ধা। তবু তিনি
- 0:56কাঁদছিলেন। তার হাত থেকে ধনুক খসে
- 0:59পড়েছিল। তিনি ছিলেন অর্জুন। আর সেই
- 1:02মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্বয়ং
- 1:05শ্রীকৃষ্ণ এবং বলেছিলেন এমন কিছু কথা যা
- 1:09আজও তোমার আমার জীবনের প্রতি কষ্টের উত্তর
- 1:12দেয়। সেই বাণীগুলি আজ আমরা শুনবো, অনুভব
- 1:16করব এবং জীবনে প্রয়োগ করব। স্বাগতম পথ অফ
- 1:21ধার্মা চ্যানেলে। আজকের এই দীর্ঘ যাত্রায়
- 1:24আমরা একসাথে পাঁচটি গভীর অধ্যায় পার করব।
- 1:27প্রতিটি অধ্যায় তোমার জীবনের একটি করে
- 1:30কষ্টের দরজা খুলবে এবং শ্রীকৃষ্ণের বাণীর
- 1:33আলোয় সেই অন্ধকার দূর করবে। প্রথম
- 1:37অধ্যায়ে আমরা জানবো কেন সকালবেলাটাই
- 1:40সবচেয়ে শক্তিশালী সময় এবং সেই সময়ে
- 1:42শ্রীকৃষ্ণের বাণী কিভাবে তোমার পুরো
- 1:45দিনটাকে বদলে দিতে পারে। দ্বিতীয়
- 1:47অধ্যায়ে থাকবে কর্মের কথা। যখন মনে হয়
- 1:50সব চেষ্টা বৃথা তখন কি করবে? তৃতীয়
- 1:54অধ্যায় [মিউজিক] থাকবে ভয় ও হতাশার
- 1:56বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অস্ত্র। চতুর্থ
- 1:59অধ্যায় থাকবে ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং
- 2:02সম্পর্কের ব্যথার নিরাময়। এবং পঞ্চম
- 2:05[মিউজিক] অধ্যায় থাকবে নিজেকে চেনার সেই
- 2:07গভীর সত্য যা জানলে আর কোনদিন ভাঙবে না
- 2:11তুমি। তাহলে চলো শুরু করি এই অসাধারণ
- 2:15যাত্রা। প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন একটা
- 2:18সময় আসে যখন সে বুঝতে পারে না সামনে যাবে
- 2:21না পেছনে ফিরবে। সে বুঝতে পারে না তার
- 2:24কষ্টটা আসলে কোঠা থেকে [মিউজিক] আসছে।
- 2:27সকালে উঠলেই মনে হয় আর একটা দিন শুরু
- 2:30হলো। কিন্তু কিসের জন্যে? [মিউজিক] এই
- 2:32প্রশ্নটা যদি তোমার মনেও আসে তাহলে জেনে
- 2:35রাখো এই প্রশ্নটাই তোমার জীবনের সবচেয়ে
- 2:38গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এবং এই প্রশ্নের
- 2:40উত্তর শ্রীকৃষ্ণ দিয়েছেন গীতায়। এত
- 2:43স্পষ্ট ভাষায় এত গভীর মমতায় যে পড়লে
- 2:46মনে হয় তিনি যেন তোমাকেই উদ্দেশ্য করে
- 2:49বলছেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন উদ্ধারে তাতমানাম
- 2:54আতমানাম নাতমানাম অবসাদে
- 2:57অর্থাৎ নিজেকে নিজেই উদ্ধার করো। নিজেকে
- 3:00কখনো অবনত করো না। এই একটি বাক্যের মধ্যে
- 3:04লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।
- 3:07তুমি নিজেই তোমার সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং
- 3:10তুমি নিজেই তোমার নিজের সবচেয়ে বড়
- 3:12শত্রু। যখন তুমি নিজের উপর বিশ্বাস রাখো,
- 3:16নিজেকে ভালোবাসো, নিজের ক্ষমতার উপর আস্থা
- 3:18রাখো, তখন তুমি তোমার নিজের সেরা বন্ধু।
- 3:22আর যখন তুমি নিজেকে দোষ দাও, নিজেকে ছোট
- 3:25করো, নিজেকে অযোগ্য মনে করো, তখন তুমি
- 3:28তোমার নিজেরই সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে ওঠো।
- 3:31এখন প্রশ্ন হলো, সকালবেলার সাথে এর
- 3:34সম্পর্ক কি? সম্পর্কটা অত্যন্ত গভীর।
- 3:37বিজ্ঞান বলে সকালের প্রথম এক ঘন্টা হলো
- 3:40মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য
- 3:43সময়। এই সময় যা শোনো, যা ভাবো, যা অনুভব
- 3:47করো তা সারাদিনের জন্য তোমার মনের ভেতরে
- 3:49গেঁথে যায়। যদি সকালে উঠেই তুমি নেতিবাচক
- 3:52চিন্তা করো, খবরের কাগজের দুর্ঘটনার খবর
- 3:55পড়ো বা সোশ্যাল মিডিয়ার ঝগড়া-বিবাদ
- 3:58দেখো, তাহলে সারাদিন তোমার মন সেই
- 4:00নেতিবাচকতার ভেতরেই ডুবে থাকবে। কিন্তু
- 4:03যদি সকালে উঠেই তুমি শ্রীকৃষ্ণের বাণী
- 4:05শোনো, সেই প্রেমময় কন্ঠস্বর তোমার কানে
- 4:08পৌঁছায়, সেই জ্ঞানের আলো তোমার মনে
- 4:11ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সারাদিনটা কেমন হবে
- 4:14ভাবো একবার। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ব্রাহ্ম
- 4:17মুহূর্তকে অর্থাৎ ভোরের সেই পবিত্র সময়কে
- 4:21সবচেয়ে মূল্যবান সময় বলা হয়েছে। এই
- 4:24সময় আকাশ যেমন ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে
- 4:26আলোর দিকে যায় ঠিক তেমনি মানুষের মনও যদি
- 4:30সেই মুহূর্তে সৎচিন্তায় আলোকিত হয় তাহলে
- 4:33পুরো দিনটাই আলোকময় হয়ে ওঠে। শ্রীকৃষ্ণ
- 4:36নিজে ভোরবেলা জাগতেন, ধ্যান করতেন,
- 4:40সূর্যকে প্রণাম জানাতেন। তিনি জানতেন
- 4:42দিনের শুরুটা সঠিক হলে দিনের শেষটাও সঠিক
- 4:46হয়। তুমি কি কখনো লক্ষ্য করেছো যেদিন
- 4:49সকালটা ভালো যায় সেদিন সারাদিনটাও কেমন
- 4:51হালকা লাগে? আর যেদিন সকালেই মেজাজ খারাপ
- 4:54হয় সেদিন সবকিছু এলোমেলো মনে হয়? এটা
- 4:57কোন কাকতলীয় ঘটনা নয়। এটাই প্রকৃতির
- 5:00নিয়ম। এবং শ্রীকৃষ্ণ সেই নিয়মকেই তার
- 5:03বাণীতে ধরে রেখেছেন। এখন অনেকে বলবেন আমার
- 5:06সকালের সময় কোথায়? সংসারের কাজ, অফিস,
- 5:10বাচ্চার স্কুল এত কিছুর মধ্যে কি করে করি?
- 5:13এই প্রশ্নটাই আসলে সমস্যার মূলে। আমরা
- 5:16সবার জন্য সময় রাখি কিন্তু নিজের আত্মার
- 5:19জন্য সময় রাখি না। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে
- 5:23মানুষ নিজের ভেতরের সাথে সংযোগ হারিয়ে
- 5:25ফেলে সে বাইরের দুনিয়ায় যতই ব্যস্ত
- 5:28থাকুক ভেতরে ভেতরে সে ফাঁকা হতে থাকে। সেই
- 5:31ফাঁকা জায়গাটাই একসময় হতাশা, রাগ, দুঃখ
- 5:35এবং একাকিত্ব দিয়ে ভরে যায়। মাত্র 15
- 5:39মিনিট। প্রতিদিন মাত্র 15 মিনিট যদি তুমি
- 5:42শ্রীকৃষ্ণের বাণী শোনার জন্য আলাদা করে
- 5:44রাখো তাহলে দেখবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই
- 5:47তোমার [মিউজিক] জীবন বদলে যাচ্ছে। কারণ
- 5:49শ্রীকৃষ্ণের বাণী শুধু শব্দ নয় এগুলো
- 5:53শক্তি। এগুলো তোমার ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা
- 5:56সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। ভাবো সেই দিনটার
- 5:59কথা যেদিন অর্জুন কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে
- 6:01ভেঙে পড়েছিলেন। সামনে তার প্রিয়জনরা
- 6:04পিতামহ ভিষ্ গুরু দ্রোণাচার্য ভাই বন্ধু
- 6:08স্বজন। তিনি জানতেন যুদ্ধ করলে তাদের মরতে
- 6:12হবে। সেই মুহূর্তে তার মনে যে প্রশ্নগুলো
- 6:14জেগে উঠেছিল কেন লড়াই করব? কিসের জন্য
- 6:18বাঁচবো? এই জীবনের মানেটা কি? এই
- 6:21প্রশ্নগুলো কিন্তু তোমার আমার মনেও আসে
- 6:24প্রতিদিন। হয়তো ভিন্ন রূপে। কিন্তু মূলত
- 6:27একই যন্ত্রণা। আর শ্রীকৃষ্ণ সেই মুহূর্তে
- 6:30পালিয়ে যাননি। চুপ থাকেননি। তিনি সরাসরি
- 6:34অর্জুনের চোখের দিকে তাকিয়ে [মিউজিক]
- 6:35বলেছিলেন, ওঠো। তুমি জানো না তুমি কে?
- 6:39তুমি যদি জানতে তাহলে কাঁদবে না। এই কথাটা
- 6:43আজও সমান সত্য। তুমি যদি সত্যিই জানতে
- 6:46তুমি কে? তোমার আত্মা কতটা শক্তিশালী।
- 6:49তোমার ভেতরে কতটা অসীম সম্ভাবনা আছে।
- 6:52তাহলে তুমি কষনো হার মানতে না।
- 6:55শ্রীকৃষ্ণের বাণী শোনার সবচেয়ে বড় উপকার
- 6:57এটাই যে এটা তোমাকে তোমার নিজের পরিচয়
- 7:00দেয়। তুমি জানতে পারো তুমি শুধু একটা
- 7:02শরীর নও। তুমি শুধু তোমার সমস্যার সমষ্টি
- 7:05নও। তুমি শুধু তোমার ব্যর্থতার গল্প নও।
- 7:09তুমি একটি আত্মা যা অজর, অমর, অবিনস্বর।
- 7:13এই জ্ঞানটুকু যদি প্রতিদিন সকালে তোমার
- 7:16মনে গেঁথে যায় তাহলে কোন সমস্যাই তোমাকে
- 7:19পুরোপুরি ডুবিয়ে [মিউজিক] দিতে পারবে না।
- 7:21সকালের প্রথম মুহূর্তগুলোকে পবিত্র রাখো।
- 7:24চোখ খোলার পর পরই ফোন ধরো না। একটু চুপ
- 7:27করে বসো। একটু শ্বাস নাও এবং মনে মনে
- 7:31অনুভব করো আজকের এই দিনটা একটা উপহার।
- 7:34শ্রীকৃষ্ণ প্রতিদিন তোমাকে একটা নতুন দিন
- 7:37দিচ্ছেন। সেটা কাজে লাগানো না লাগানো
- 7:39তোমার হাতে। এই বোধটাই হলো শ্রীকৃষ্ণের
- 7:42বাণী শোনার প্রথম ফল। গীতা শ্রীকৃষ্ণ
- 7:45বলেছেন, যোগাস্থা কুরু কারমানি সঙ্গম
- 7:49ত্যাক্ত ধানঞ্জয়া। অর্থাৎ হে অর্জুন ফলের
- 7:53আসক্তি ত্যাগ করে যোগে স্থির থেকে কর্ম
- 7:56করো। সকালবেলায় এই বাণী মনে রাখা মানে হলো
- 7:59আজকের দিনটা আমি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে
- 8:02ফলের চিন্তা না করে শুধু কাজটুকু ভালোভাবে
- 8:05করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। এই
- 8:08মানসিকতা নিয়ে দিন শুরু করলে কাজে ভুল কম
- 8:11হয়, মন শান্ত থাকে এবং ফলাফলও
- 8:14স্বাভাবিকভাবেই ভালো আসে। তুমি হয়তো
- 8:16ভাবছো এত কিছু বুঝলাম কিন্তু সত্যিকারের
- 8:19জীবনে কি এটা কাজ করে? হ্যাঁ করে। হাজার
- 8:22হাজার মানুষ আছেন যারা শুধুমাত্র গীতার
- 8:25বাণীকে জীবনে প্রয়োগ করে তাদের সবচেয়ে
- 8:28কঠিন সময়গুলো পার করেছেন। কারণ
- 8:30শ্রীকৃষ্ণের কথা কোন ধর্মীয় বইয়ের শুকন
- 8:33উপদেশ নয়। এটা একজন প্রেমময় বন্ধুর কথা।
- 8:36যিনি তোমার কষ্ট বোঝেন এবং সঠিক পথ দেখান।
- 8:40এই প্রথম অধ্যায়ে আমরা যা শিখলাম তা হলো
- 8:43সকাল হলো জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়
- 8:46এবং সেই সময়টাকে শ্রীকৃষ্ণের বাণীর আলোয়
- 8:49ভরিয়ে দিলে পুরো দিনটাই বদলে যায়। তুমি
- 8:52নিজেই তোমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এটা মনে
- 8:54রাখো এবং প্রতিদিন সকালে নিজেকে মনে
- 8:57করিয়ে দাও তুমি একটি অমর আত্মা। তোমাকে
- 9:00কোন পরিস্থিতি শেষ করতে পারবে না। এখন কথা
- 9:03বলব কর্মের কথা। কারণ আমাদের বেশিরভাগ
- 9:06কষ্টের শুরু হয় যখন আমরা এত পরিশ্রম করি
- 9:09এত চেষ্টা করি কিন্তু ফল পাই না তুমি
- 9:12হয়তো মাসের পর মাস ধরে একটা কাজ করছো রাত
- 9:15জেগে পড়ছো সংসারের সুখ বিসর্জন দিয়ে
- 9:17স্বপ্নের পেছনে ছুটছো কিন্তু মনে হচ্ছে
- 9:20কিছুই হচ্ছে না এই অনুভূতিটা এত কষ্টের এত
- 9:24হতাশার যে মানুষ একসময় সব ছেড়ে দিতে
- 9:27চায় আর ঠিক সেই মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণ বলেন
- 9:30তার সবচেয়ে বিখ্যাত সেই বাণী করমান্য
- 9:33অধিকার আসতে
- 9:35মা ভালে সুকাদাজানা মা কার্মা ভালা হেতুর
- 9:38ভুর মাতে সাঙ্গাস্ত কারমানী এই শ্লোকটি
- 9:42গীতার সবচেয়ে পরিচিত শ্লোক এর অর্থ হল
- 9:45কর্মে তোমার অধিকার আছে কিন্তু ফলে নয়
- 9:49ফলের আশায় কর্ম করো না আবার কর্ম না করার
- 9:52দিকেও ঝুকো না এই কথাটা শুনতে সহজ কিন্তু
- 9:55এর গভীরতা বুঝতে হলে একটু থামতে হবে আমরা
- 9:58যখন কোন কাজ করি তখন আমাদের মাথায় সবসময়
- 10:01একটাই প্রশ্ন এটা করলে কি পাবো? এই
- 10:05প্রশ্নটাই আমাদের কাজকে ভারী করে দেয়।
- 10:08কাজটা আর আনন্দের থাকে না। সেটা হয়ে যায়
- 10:10একটা বোঝা। কারণ ফলের চিন্তা মাথায় থাকলে
- 10:14কাজে মনোযোগ থাকে না। ভুল হয়, সময় বেশি
- 10:17লাগে এবং মানসিক চাপ বাড়ে। কিন্তু যখন
- 10:20তুমি শুধু কাজটাকে ভালোবেসে করো, ফলের কথা
- 10:24না ভেবে তখন একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটে। কাজটা
- 10:27সহজ হয়ে যায়। মন হালকা থাকে এবং অনেক
- 10:30সময় দেখা যায় ফলটাও এসে যায় অনেক
- 10:33ভালোভাবে অনেক দ্রুত। এটাকে আধুনিক
- 10:36মনোবিজ্ঞানে বলে ফ্লো স্টেট। যখন তুমি
- 10:39সম্পূর্ণভাবে একটা কাজের মধ্যে ডুবে যাও
- 10:42ফলের চিন্তা মাথা থেকে চলে যায় তখন তোমার
- 10:45মস্তিষ্ক সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে।
- 10:48বিজ্ঞান যেটা আজ আবিষ্কার করেছে শ্রীকৃষ্ণ
- 10:51সেটা হাজার বছর আগেই বলে গেছেন। তোমার
- 10:54জীবনে একবার ভাবো কখন তুমি সবচেয়ে ভালো
- 10:58কাজ করেছো। নিশ্চয়ই তখন যখন কাজটা করতে
- 11:01তোমার ভালো লাগছিল। যখন তুমি ভুলে
- 11:03গিয়েছিলে সময়ের কথা। মানুষ কি বলবে তার
- 11:06কথা ফলাফল কি হবে তার কথা। সেই
- 11:10মুহূর্তগুলোই ছিল তোমার সেরা মুহূর্ত।
- 11:12শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, প্রতিটি কাজকে সেইভাবে
- 11:15করো। এখন অনেকে প্রশ্ন করবেন তাহলে কি
- 11:18লক্ষ্য থাকবে না? লক্ষ্য ছাড়া কিভাবে কাজ
- 11:21করব? শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু লক্ষ্য না রাখতে
- 11:24বলেননি। তিনি বলেছেন লক্ষ্য রাখো কিন্তু
- 11:27লক্ষ্যের উপর আসক্ত হয় না। ফুটবলার মাঠে
- 11:30নামে গোল করার জন্য। কিন্তু সে যদি শুধু
- 11:33গোলের চিন্তা করে খেলে তাহলে বলটাই মিস
- 11:36হয়। সে যখন পুরোপুরি খেলায় মনোযোগ দেয়
- 11:39তখনই গোল আসে। ঠিক এইভাবে তুমি যদি
- 11:42পরীক্ষার ফলের চিন্তা না করে পড়াশোনায়
- 11:44মনোযোগ দাও তাহলে ফল ভালো আসে। তুমি যদি
- 11:47ব্যবসায় লাভের চিন্তা না করে পণ্যের
- 11:50মানের দিকে মনোযোগ দাও তাহলে লাভ আসে।
- 11:53তুমি যদি সম্পর্কে কি পাবে তার চিন্তা না
- 11:56করে কিভাবে দেবে তার উপর মনোযোগ দাও তাহলে
- 11:59সম্পর্ক গভীর হয়। শ্রীকৃষ্ণের কর্মযোগের
- 12:03আরেকটি দিক আছে কাজকে পূজা হিসাবে দেখা।
- 12:06তিনি বলেছেন যে কাজই করো না কেন সেটা
- 12:09ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করো। এটাকে
- 12:12অনেকে ধর্মীয় অর্থে বোঝেন কিন্তু এর
- 12:14ব্যবহারিক অর্থটা আরো গভীর। যখন তুমি মনে
- 12:17করো আমি এই কাজটা শুধু নিজের জন্যে না
- 12:20আমার পরিবারের জন্যে সমাজের জন্যে একটা
- 12:23বড় উদ্দেশ্যের জন্য করছি। তখন কাজের মান
- 12:26বদলে যায়। তুমি আর ফাঁকি দিতে পারো না।
- 12:30কারণ তোমার কাজটা এখন আর তোমার নয়। একজন
- 12:34ডাক্তার যখন ভাবেন আমি রোগীকে সুস্থ করছি
- 12:37তখন তিনি অনেক বেশি যত্নশীল হন অনেক বেশি
- 12:40মনোযোগ দেন একজন শিক্ষক যখন ভাবেন আমি
- 12:44একটা মানুষের ভবিষ্যৎ করছি তখন তার পাঠদান
- 12:48অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয় এটাই কর্মকে
- 12:52পূজায় পরিণত করা কিন্তু বাস্তব জীবনের
- 12:55সমস্যা আসে যখন অনেক চেষ্টার পরেও কিছু
- 12:58হয় না তুমি হয়তো মাসের পর মাস ধরে
- 13:02চাকরির জন্য আবেদন করছো কিন্তু কোন ডাক
- 13:04আসছে না। হয়তো ব্যবসা শুরু করেছিলে কিন্তু
- 13:08লোকসান হচ্ছে। হয়তো পরিশ্রম করেছিলে
- 13:11কিন্তু অন্য কেউ স্বীকৃতি পেয়েছে। এই
- 13:14মুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণের কথা মনে রাখতে হবে।
- 13:17ফল দেওয়ার অধিকার আমার নয়। কিন্তু চেষ্টা
- 13:20[মিউজিক]
- 13:20করার অধিকার সর্বদা আমার। এই কথাটা শুনতে
- 13:25অনেকের কাছে হয়তো সান্ত্বনার মতো মনে হতে
- 13:28পারে। কি লাভ? চেষ্টা করে যদি ফল না পাই।
- 13:32কিন্তু আসলে এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই তোমাকে
- 13:34সবচেয়ে শক্তিশালী করে। কারণ যখন তুমি
- 13:37ফলের উপর নির্ভরশীল হও তখন একটা ব্যর্থতা
- 13:40তোমাকে ভেঙে দেয়। কিন্তু যখন তুমি
- 13:43প্রক্রিয়ার উপর মনোযোগ দাও তখন প্রতিটি
- 13:46চেষ্টা তোমাকে আগের চেয়ে শক্তিশালী করে।
- 13:49ফলাফল যাই হোক না কেন। থমাস এরিসন
- 13:53হাজারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন বাল্ব আবিষ্কার
- 13:55করতে গিয়ে। কিন্তু তিনি বলেছিলেন আমি
- 13:58ব্যর্থ হইনি। আমি এমন 100 টা পথ খুঁজে
- 14:01পেয়েছি যেগুলো কাজ করে না। এই
- 14:04মানসিকতাটাই কর্মযোগ। এটা জানা যে প্রতিটি
- 14:09প্রচেষ্টাই শেখার একটা সুযোগ। ব্যর্থতা
- 14:12নয়। শ্রীকৃষ্ণ আরো বলেছেন যুক্তাহার
- 14:16বিহারস যুক্ত চেষ্টাযুক্ত
- 14:20যুক্ত স্বপ্নাবোধ।
- 14:23অর্থাৎ যে মানুষ সঠিকভাবে খায়, সঠিকভাবে
- 14:27কাজ করে, সঠিকভাবে ঘুমায় সেই যোগী।
- 14:32এটা অত্যন্ত বাস্তব ধর্মী কথা। শ্রীকৃষ্ণ
- 14:35বলছেন না যে ঘর সংসার ছেড়ে বনে চলে যাও।
- 14:39তিনি বলছেন তোমার দৈনন্দিন জীবনকেই
- 14:42সুশৃঙ্খল করো। সেটাই যোগ। আমাদের অনেকের
- 14:46সমস্যা হলো আমরা জীবনকে জটিল করে ফেলি।
- 14:49সঠিক সময় ঘুমাই না, সঠিক খাবার খাই না,
- 14:52শরীরের যত্ন নেই না এবং তারপর বলি জীবনে
- 14:56কিছু হচ্ছে না। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, আগে
- 14:58নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখো। কারণ একটি
- 15:02সুস্থ শরীর ও শান্ত মন ছাড়া কোন বড় কাজই
- 15:06সম্ভব নয়। কর্মযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ
- 15:10দিক হলো নিজের ধর্ম পালন করা। এখানে ধর্ম
- 15:14মানে ধর্মীয় পরিচয় নয়। মানে হলো নিজের
- 15:18স্বাভাবিক কাজ। নিজের দায়িত্ব, নিজের
- 15:21ভূমিকা। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন শ্রেয়ান
- 15:24সধর্মাবিগুণ
- 15:26পরাধর্মাত সনুষ্ঠিতা। অর্থাৎ নিজের
- 15:30দায়িত্ব অসম্পূর্ণভাবে পালন করাও অন্যের
- 15:33দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করার চেয়ে
- 15:35ভালো। এর মানে হলো তুমি যে আছো, যেখানে
- 15:39আছো, যা করছো সেটাকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ
- 15:43দিয়ে করো। অন্যের জীবন দেখে সান্বিত হয়ো
- 15:46না। অন্যের মত হওয়ার চেষ্টা করো না। তোমার
- 15:50নিজের পথটাকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে অতিক্রম
- 15:53করো। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে
- 15:56আমরা সবসময় অন্যের জীবনের সাথে নিজেকে
- 15:59তুলনা করি। অন্যের সাফল্য দেখে মনে হয় আমি
- 16:02কিছুই করতে পারিনি। কিন্তু মনে রেখো
- 16:05সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ শুধু তাদের সেরা
- 16:07মুহূর্তগুলো দেখায়। তাদের কষ্ট, তাদের
- 16:10ব্যর্থতা, তাদের কান্না সেগুলো দেখায় না।
- 16:14তুলনা করার আগে মনে করো শ্রীকৃষ্ণের সেই
- 16:17কথা। তুমি তোমার পথের জন্যেই তৈরি। অন্য
- 16:20কারো পথের জন্য নয়। কর্মযোগের সবচেয়ে
- 16:24সুন্দর শিক্ষা হলো প্রতিটি মুহূর্তকে
- 16:27সম্পূর্ণভাবে বাঁচো। অতীতের দুঃখ নিয়ে
- 16:30পড়ে থেকো না। ভবিষ্যতের চিন্তায়
- 16:32বর্তমানকে নষ্ট করো না। এখন যে কাজটা হাতে
- 16:36আছে সেটাকেই সম্পূর্ণ ভালোবাসা দিয়ে করো।
- 16:39এটাই ধ্যান। এটাই যোগ। এটাই শ্রীকৃষ্ণের
- 16:43পথ। একটা ছোট্ট গল্প বলি। একবার একজন কুমর
- 16:48তার মাটির পাত্র তৈরি করছিলেন। [মিউজিক]
- 16:50কেউ জিজ্ঞেস করল, তুমি এত মনোযোগ দিয়ে
- 16:53কাজ করছো কেন? এটা তো সামান্য একটা মাটির
- 16:56পাত্র। কুমর হেসে বললেন, এটা সামান্য নয়।
- 17:00এই পাত্রে কেউ জল রাখবে, কেউ খাবার রাখবে।
- 17:03এই পাত্রটা কারো তৃষ্ণা মেটাবে, কারো
- 17:06ক্ষুধা মেটাবে। এটাই আমার পূজা। এই
- 17:09দৃষ্টিভঙ্গিটাই কর্মযোগ। তাহলে এই
- 17:12দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে আমরা যা শিখলাম তা
- 17:15হলো কাজের ফলের চিন্তা না করে কাজের
- 17:18প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দাও। প্রতিটি কাজকে
- 17:20ভালোবাসো। নিজের [মিউজিক] দায়িত্বকে
- 17:22সম্মান করো এবং অন্যের সাথে তুলনা না করে
- 17:26নিজের পথে এগিয়ে চলো। [মিউজিক] কারণ
- 17:28শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে নিজের কর্তব্য
- 17:31সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে করে সেই প্রকৃত
- 17:34যোগী। এখন আসি সেই কথায় যেটা হয়তো তুমি
- 17:37সবচেয়ে বেশি শুনতে চেয়েছিলে। ভয়ের কথা,
- 17:41হতাশার কথা। সেই অন্ধকারের কথা যেটা রাতের
- 17:44বেলায় একা থাকলে ভেতর থেকে গ্রাস করতে
- 17:46শুরু করে। তুমি কি কখনো রাতে একা শুয়ে
- 17:49ভেবেছো যে, যদি কাল থেকে সব ঠিক না হয়?
- 17:52যদি এই কষ্টটা কোনদিন না যায়? যদি আমি
- 17:56সত্যিই পারিনা এই ভয়গুলো কতটা ভারী কতটা
- 18:00শ্বাস রোধকারী সেটা যে অনুভব করেছে সেই
- 18:02জানে। আর এই ভয়ের সবচেয়ে ভয়ানক দিক হলো
- 18:06এটা তোমাকে এগোতে দেয় না। তুমি জানো কি
- 18:09করতে হবে। কিন্তু ভয় তোমাকে পিছিয়ে
- 18:11রাখে। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে দেখলেন ভয়ে
- 18:14কাঁপছেন এবং তিনি বললেন [মিউজিক]
- 18:17ক্লাইবিয়াম মাসগামাহ পার্থা নাইতাপতে
- 18:22ক্ষুদ্র হৃদয়া দৌরলাম অর্থাৎ হে অর্জুন
- 18:27কাপুরুষতায় মগ্ন হয় না এটা তোমার মানায় না
- 18:30হৃদয়ের এই ক্ষুদ্র দুর্বলতাকে ত্যাগ করে
- 18:33উঠে দাঁড়াও লক্ষ্য করো শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু
- 18:35বললেন না কষ্টটা নেই তিনি বললেন না সব ঠিক
- 18:38হয়ে যাবে তিনি বললেন উঠে দাড়াও কারণ তিনি
- 18:42জানতেন সমস্যাটা কষ্টে নয়। সমস্যাটা সেই
- 18:44কষ্টের কাছে হার মানার মানসিকতায়। ভয়
- 18:48হলো মনের একটি অবস্থা। এটা বাস্তব নয়।
- 18:51এটা তোমার মাথার ভেতরে তৈরি হওয়া একটি
- 18:53গল্প। যে গল্পটা বলে তুমি পারবে না। তুমি
- 18:56যোগ্য নও। তুমি শেষ হয়ে গেছ। কিন্তু সেই
- 18:59গল্পটা সত্য নয়। এটা শুধু একটা চিন্তা
- 19:02এবং চিন্তাকে পাল্টানো যায়। শ্রীকৃষ্ণ
- 19:05বলেছেন মানা এ মনুষাম কারণম বন্ধ মো
- 19:11অর্থাৎ মনই মানুষের বন্ধন ও মুক্তির কারণ।
- 19:15যদি মন বিষন্ন থাকে, নীতিবাচক চিন্তায়
- 19:18ভরে থাকে তাহলে পরিস্থিতি যতই ভালো হোক
- 19:21মানুষ বন্দি থাকে। আর যদি মন শান্ত,
- 19:24ইতিবাচক ও দৃঢ় থাকে, তাহলে পরিস্থিতি যতই
- 19:28কঠিন হোক মানুষ মুক্ত থাকে। এই কথাটা
- 19:31আজকের মনোবিজ্ঞানও স্বীকার করে। কগনিটিভ
- 19:34বিহেভিয়ারাল থেরাপি বলে, তোমার অনুভূতি
- 19:37তোমার চিন্তার উপর নির্ভর করে। চিন্তা
- 19:39পাল্টাও অনুভূতি পাল্টে যাবে। শ্রীকৃষ্ণ
- 19:43একই কথা হাজার বছর আগে বলেছেন। হতাশার
- 19:46কথায় আসি। হতাশা আসে যখন আমরা মনে করি এর
- 19:49কোন সমাধান নেই। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন
- 19:53নাস্তি বুদ্ধিরাস
- 19:55নাচাতাস
- 19:57ভাবনা। যে মানুষ স্থির বুদ্ধি নয় তার কোন
- 20:00চিন্তাশক্তি নেই। অর্থাৎ অস্থির মনে কোন
- 20:04সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না। প্রথমে
- 20:06মনকে শান্ত কর। তারপর সমাধান নিজেই আসবে।
- 20:10যখন তুমি হতাশায় থাকো তখন একটু থামো।
- 20:14গভীর শ্বাস নাও এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করো এই
- 20:17মুহূর্তে এখনই কি সত্যিই কোন বিপদ আছে?
- 20:21বেশিরভাগ সময় উত্তর হবে না। ভবিষ্যতের
- 20:24কাল্পনিক ভয়ই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট
- 20:27দেয়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, অতীত আর নেই।
- 20:30ভবিষ্যৎ এখনো আসেনি। আছে শুধু এই মুহূর্ত।
- 20:34এই মুহূর্তে তুমি বেঁচে আছো, শ্বাস নিচ্ছ,
- 20:37ভাবতে পারছো এটাই যথেষ্ট। কিন্তু যখন
- 20:40সত্যিকারের কষ্ট আসে, কোন প্রিয়জন চলে
- 20:43যান, স্বপ্ন ভেঙে যায়, বিশ্বাস ভাঙ্গে
- 20:46তখন কি করবে? শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, দুঃখে এস
- 20:49আনবিগ্নমানাহা
- 20:51সুখে বিগতা স্প্রেহা। যে দুঃখে [মিউজিক]
- 20:53বিচলিত হয় না এবং সুখে আসক্ত হয় না সেই
- 20:57স্থিত প্রজ্ঞ। এটা শুনতে অনেক কঠিন মনে
- 21:00হয়। কিন্তু একটু গভীরে ভাবো। শ্রীকৃষ্ণ
- 21:03বলছেন না যে কষ্ট পাবে না বা কাঁদবে না।
- 21:06তিনি বলছেন কষ্টের কাছে নিজেকে পুরোপুরি
- 21:08সমর্পণ করে দিও না। কষ্টটা স্বীকার করো,
- 21:11অনুভব করো। কিন্তু সেটাকেই নিজের পরিচয়
- 21:14বানিয়েও নিও না। তুমি তোমার কষ্টের চেয়ে
- 21:17অনেক বড়। একটা দ্বীপ শিখার কথা ভাবো।
- 21:20বৃষ্টি পড়ছে, [মিউজিক] ঝড় আসছে। কিন্তু
- 21:22সঠিকভাবে সুরক্ষিত থাকলে শিখাটা নেভে না।
- 21:26তুমিও তেমন। জীবনের ঝড়গুলো আসবে। কিন্তু
- 21:29তোমার ভেতরের শিখাটা যদি তুমি জ্বালিয়ে
- 21:31রাখতে পারো তাহলে কোন ঝড়ই তোমাকে শেষ
- 21:34করতে পারবে না। ভয়ের একটা বিশেষ ধরণ হলো
- 21:37মানুষ কি বলবে এই ভয়। কতজনের জীবন এই
- 21:40একটা ভয় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তুমি একটা কাজ
- 21:43করতে চাও কিন্তু মানুষ কি বলবে ভেবে করতে
- 21:46পারছো না। তুমি নিজের মত পোশাক পড়তে চাও।
- 21:49নিজের মত বাঁচতে চাও কিন্তু সমাজের চোখ
- 21:51তোমাকে আটকে রাখে। শ্রীকৃষ্ণ এই বিষয়ে
- 21:54অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেছেন যে অন্যের
- 21:57মতামতের উপর নির্ভরশীল সে কখনো মুক্ত হতে
- 22:00পারে না। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব পথ আছে,
- 22:03নিজস্ব ধর্ম আছে। সেই পথে চলতে সাহস লাগে
- 22:07এবং সেই সাহসটাই ভগবত গীতার সবচেয়ে বড়
- 22:10শিক্ষা। আজ তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। যদি
- 22:14তুমি কোন কারণে মনে করছো যে জীবনটা খুব
- 22:17কঠিন হয়ে [মিউজিক] গেছে। যদি মনে হচ্ছে
- 22:19আর পারছো না তাহলে একটাই কাজ করো। চোখ
- 22:22বন্ধ করো এবং মনে করো শ্রীকৃষ্ণ এখন তোমার
- 22:26পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক যেভাবে অর্জুনের
- 22:28পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তিনি তোমাকে
- 22:31বলছেন উঠে দাঁড়াও। তুমি আমার সন্তান।
- 22:34তোমার মধ্যে আমি আছি। তুমি একা নও। এই
- 22:38অনুভূতিটা যদি তুমি সত্যিই মনে গেঁথে নিতে
- 22:40পারো তাহলে ভয় কমে যাবে। হতাশা কমে যাবে।
- 22:45কারণ একটা মানুষ কখনো ভাঙ্গে না যদি সে
- 22:47জানে যে তার পাশেই কেউ আছে। শ্রীকৃষ্ণ
- 22:51বলেছেন আনন্যায়াস চিন্তমা যেনা পরিপাসতে
- 22:58তেশা নিত্যাভিযুক্তাম
- 23:00যোগেমবাহামহ
- 23:03অর্থাৎ যারা অনন্য মনে আমার ধ্যান করে
- 23:07তাদের যোগক্ষেমে আমিই বহন করি। এর মানে
- 23:10হলো যে মানুষ শ্রীকৃষ্ণের উপর ভরসা রাখে
- 23:14তাদের দায়িত্ব স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ নেন। এটা
- 23:17শুধু বিশ্বাসের কথা নয়। এটা একটা গভীর
- 23:20সত্য। যখন তুমি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে
- 23:23ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করে দাও তখন একটা
- 23:26অদ্ভুত শান্তি আসে। সেই শান্তি কোন যুক্তি
- 23:29দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভয় ও হতাশার
- 23:32বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র
- 23:34হল কৃতজ্ঞতা।
- 23:36তিনি বলেছেন যে মানুষ প্রতিটি পরিস্থিতিতে
- 23:39কৃতজ্ঞ থাকে, সে কখনো পুরোপুরি হেরে যায়
- 23:42না। আজ তুমি যদি একটু থেমে ভাবো তোমার
- 23:46জীবনে কতটুকু আছে যার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া
- 23:49উচিত। তুমি শ্বাস নিচ্ছ এটা কম কি? তুমি
- 23:53দেখতে পাচ্ছ, শুনতে পাচ্ছ, ভাবতে পারছো।
- 23:57এটা কত বড় উপহার। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ
- 24:01মানুষ আছে যারা এই সামান্য জিনিসগুলো পায়
- 24:04না। এই তৃতীয় অধ্যায় থেকে আমরা যা
- 24:06শিখলাম তা হলো ভয় ও হতাশা হলো মনের তৈরি
- 24:10করা গল্প। শ্রীকৃষ্ণের বাণী আমাদের সেই
- 24:13গল্পটা পাল্টে দিতে শেখায়। মানুষ কি বলবে
- 24:17এই ভয় থেকে মুক্ত হয়ে নিজের পথে চলো এবং
- 24:20সবচেয়ে কঠিন সময় মনে রাখো শ্রীকৃষ্ণ
- 24:23তোমার পাশে আছেন। তুমি একা নও। এখন আসবো
- 24:27সেই বিষয়ে যেটা আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট
- 24:30দেয়। ভালোবাসা, সম্পর্ক, বিশ্বাস,
- 24:34প্রিয়জনের প্রতারণা, মনের মানুষকে
- 24:37হারানোর যন্ত্রণা। তুমি হয়তো কাউকে
- 24:39সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছিলে। আর সে চলে
- 24:42গেছে। হয়তো বছরের পর বছর ধরে যত্ন
- 24:45করেছিলে। কিন্তু তোমাকেই দোষী বানানো
- 24:47হয়েছে। হয়তো বিশ্বাস করেছিলে এমন কাউকে
- 24:51যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই কষ্টগুলো
- 24:54শরীরের কষ্টের চেয়েও ভয়ানক। কারণ শরীরের
- 24:57ক্ষত দেখা যায় ওষুধ দেওয়া যায়। কিন্তু
- 25:00মনের ক্ষতের জন্য কোন ডাক্তার নেই।
- 25:03শ্রীকৃষ্ণ প্রেমের দেবতা। তিনি নিজে
- 25:06প্রেমের [মিউজিক] মূর্তি। রাধার সাথে তার
- 25:09প্রেমের কথা শুধু একটা গল্প নয় এটা একটা
- 25:12দর্শন। শ্রীকৃষ্ণ আর রাধার প্রেম হলো সেই
- 25:15প্রেমের প্রতীক যেখানে দেওয়াটাই সব
- 25:18পাওয়ার প্রত্যাশা নেই। রাধা জানতেন
- 25:21শ্রীকৃষ্ণ একদিন চলে যাবেন। তবু তিনি
- 25:24ভালোবেসেছিলেন সম্পূর্ণভাবে কোন শর্ত
- 25:27ছাড়া। এই প্রেমই হল সর্বোচ্চ ভক্তি। এবং
- 25:31শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, এই ধরনের প্রেমই
- 25:33সত্যিকারের প্রেম। যে প্রেমে আমি কি পাবো?
- 25:36এই প্রশ্ন নেই। কিন্তু বাস্তব জীবনে এটা
- 25:40কতটা কঠিন সেটা আমরা সবাই জানি। তুমি
- 25:42ভালোবাসো কিন্তু সে ভালোবাসে না। তুমি
- 25:45যত্ন নাও কিন্তু তোমার যত্নের কোন মূল্য
- 25:48দেওয়া হয়। তুমি থাকতে চাও কিন্তু তাকে
- 25:50তুমি আটকে রাখতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে
- 25:54কি করবে? শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন আসক্তি দুঃখের
- 25:58মূল। সাঙ্গাত সংজায়াতে কামাত কামাত
- 26:02ক্রোধভিজায়াতে।
- 26:03আসক্তি থেকে কামনা জন্মায়। কামনা থেকে
- 26:06ক্রোধ এবং ক্রোধ থেকে আসে সর্বনাশ। কিন্তু
- 26:10এর মানে কি ভালোবাসতে নেই? আসক্তি না
- 26:12রাখলে কি প্রেম সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব।
- 26:16শ্রীকৃষ্ণ বলছেন না ভালোবেসো না। তিনি
- 26:19বলছেন ভালোবাসো কিন্তু দাবি রেখো না।
- 26:22ভালোবাসো কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা
- 26:25করো না। ভালোবাসো কিন্তু সেই ভালোবাসার
- 26:28উপর নিজের সুখ দুঃখ নির্ভর করিয়ে রেখো
- 26:31না। একটা ফুলের কথা ভাবতো। যদি তুমি একটা
- 26:34ফুলকে ভালোবাসো তাহলে তুমি তাকে মুক্ত
- 26:37রাখো। জল দাও, যত্ন নাও কিন্তু ছিড়ে
- 26:40নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করো না। কারণ
- 26:43ছেড়া ফুল অচিরেই মরে যায়। কিন্তু যাকে
- 26:46মুক্ত রেখে ভালোবাসো সে সবসময় ফুটে থাকে।
- 26:50এটাই শ্রীকৃষ্ণের [মিউজিক]
- 26:51প্রেমের দর্শন। রাধাকে তিনি বেঁধে
- 26:53রাখেননি। মধুরায় চলে গেছেন। কিন্তু রাধার
- 26:56হৃদয়ে সবসময় ছিলেন। কারণ সত্যিকারের
- 27:00প্রেম দূরত্বে মরে না। যখন কোন সম্পর্ক
- 27:03ভেঙে যায় তখন সবচেয়ে বড় কষ্টটা হয় আমি
- 27:06কি যথেষ্ট ছিলাম না? এই প্রশ্নটা মনের
- 27:09মধ্যে ঘুরতে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ এই প্রশ্নের
- 27:12উত্তর দিয়েছেন এইভাবে। প্রতিটি আত্মা তার
- 27:15নিজের পথে চলে। কেউ কারো পথ নিয়ন্ত্রণ
- 27:18করতে পারে না। যদি কেউ চলে যায় সেটা
- 27:21তোমার কারণে নয়। সেটা তার পথের কারণে।
- 27:24তুমি নিজেকে দোষ দিও না। বিশ্বাসঘাতকতার
- 27:27কষ্টের কথায় আসি। যখন যাকে সবচেয়ে বেশি
- 27:30বিশ্বাস করেছিলে সেই ধোকা দিয়েছে। তখন
- 27:33মনে হয় আর কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না।
- 27:37মনে হয় মানুষ মানেই বিশ্বাসঘাতক। কিন্তু
- 27:40শ্রীকৃষ্ণ [মিউজিক] কিন্তু এই পথেও
- 27:42হেঁটেছেন। তার জীবনেও বিশ্বাসঘাতকতা
- 27:46এসেছে। শিশুপাল জরাসন্ধ অনেকেই তার
- 27:50বিরুদ্ধে গেছেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ কখনো
- 27:53মানুষের উপর থেকে আস্থা হারাননি। কারণ
- 27:56তিনি জানতেন প্রতিটি মানুষ তার নিজের
- 27:59বোঝার স্তর অনুযায়ী কাজ করে। যে তোমার
- 28:02সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সে হয়তো নিজের
- 28:05কোন [মিউজিক] কষ্ট, ভয় বা লোভের কাছে
- 28:08হেরে গেছে। এটা তার দুর্বলতা। তোমার
- 28:12ব্যর্থতা নয়। এটা বোঝা গেলে ক্ষমা করা
- 28:15সহজ হয় [মিউজিক] এবং ক্ষমাই হলো নিজেকে
- 28:18সেই কষ্ট থেকে মুক্ত করার সবচেয়ে বড়
- 28:22উপায়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে মানুষ ক্ষমা
- 28:26করতে পারে সে শক্তিশালী। ক্ষমা মানে ওই
- 28:29মানুষকে ছেড়ে দেওয়া নয়। ক্ষমা মানে
- 28:32নিজেকে সেই বিষ থেকে মুক্ত করা যে বিষ
- 28:35তুমি মনে পুষে রাখছিলে। রাগ, ঘৃণা,
- 28:39বিদ্বেষ এগুলো তোমার নিজের ক্ষতি করে।
- 28:42অন্যের নয়। এখন একটা অত্যন্ত
- 28:46গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব। অনেক মানুষ
- 28:49ভালোবাসার নামে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।
- 28:51সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজের
- 28:54স্বপ্ন, নিজের মূল্যবোধ, নিজের সম্মান সব
- 28:58বিসর্জন দিয়ে দেন। শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু এটা
- 29:01কখনো শেখাননি। তিনি বলেছেন, আত্মানাং
- 29:05বৃদ্ধি। নিজেকে জানো, নিজেকে চেনো। যে
- 29:09নিজেকে ভালোবাসে না সে অন্যকেউ সত্যিকারের
- 29:12ভালোবাসতে পারে না। প্রথমে নিজেকে সম্মান
- 29:15করো। তারপর সম্পর্কে যাও ভক্তির কথা বলি
- 29:19একটু শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ভক্তি হলো সর্বোচ্চ
- 29:23পদ ভক্তামা আভিজানতি
- 29:28আসমিতাহা
- 29:29ভক্তির মাধ্যমেই তাকে সত্যিকারে চেনা যায়
- 29:32এই ভক্তি মানে শুধু পূজা করা নয় এর মানে
- 29:35হল সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখা সন্দেহীন আস্থা
- 29:41যখন তুমি শ্রীকৃষ্ণের উপর সম্পূর্ণ ভরসা
- 29:44রাখো তখন মনে একটা শান্তি আসে যা কোন
- 29:47মানুষ দিতে পারে না। কারণ মানুষ সীমাবদ্ধ।
- 29:51তারা তোমাকে সবসময় বুঝবে না। সবসময় পাশে
- 29:54থাকবে না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সবসময় আছেন।
- 29:58যে মানুষগুলো তোমার জীবনে এসেছে ভালো হোক
- 30:01বা খারাপ তারা সবাই শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায়
- 30:04এসেছে। কেউ এসেছে তোমাকে ভালোবাসতে। কেউ
- 30:08এসেছে তোমাকে শেখাতে। যে তোমাকে আঘাত
- 30:11করেছে সেও হয়তো তোমার জীবনের সবচেয়ে বড়
- 30:14শিক্ষকদের একজন। কারণ তার কারণেই তুমি
- 30:17অনেক কিছু শিখেছো। শক্তিশালী হয়েছো,
- 30:20নিজেকে চিনেছো।
- 30:22প্রেম ও ভক্তির আরেকটি সুন্দর দিক হলো এটা
- 30:25তোমাকে নিঃস্বার্থ করে তোলে। যখন তুমি
- 30:28নিঃস্বার্থভাবে কাউকে ভালোবাসতে পারো,
- 30:30প্রতিদান না চেয়ে তখন তোমার ভেতরে একটা
- 30:33অদ্ভুত পরিতৃপ্তি আসে। এটা সেই সুখ যা কোন
- 30:37বস্তু বা সম্পর্ক দিতে পারে না। তোমার
- 30:40জীবনে কি কেউ আছে যার জন্য তুমি কিছু করতে
- 30:43পারো? কোন বয়স্ক প্রতিবেশী, একটি অসহায়
- 30:46শিশু, একটি অসুস্থ পশু সেই মানুষটির জন্য
- 30:50কিছু করো। দেখবে তোমার নিজের কষ্টটা কেমন
- 30:53হালকা হয়ে যাচ্ছে। [মিউজিক] কারণ যখন
- 30:55তুমি দেওয়ার মোড়ে থাকো তখন মন পাওয়ার
- 30:58অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসে। শ্রীকৃষ্ণ
- 31:01বলেছেন সর্বভূত হিতেতাহা
- 31:04সকল প্রাণীর মঙ্গলে রত থাকাই হল সর্বোচ্চ
- 31:07ভক্তি। তাই প্রেম শুধু একজনের মধ্যে
- 31:11সীমাবদ্ধ রেখো না। তোমার ভালোবাসার পরিধি
- 31:14বাড়াও। পরিবার থেকে সমাজে, সমাজ থেকে
- 31:17প্রকৃতিতে, প্রকৃতি থেকে সমগ্র সৃষ্টিতে।
- 31:20[মিউজিক] এই চতুর্থ অধ্যায় থেকে আমরা যা
- 31:22শিখলাম প্রকৃত প্রেম হলো শর্তহীন দাবিহীন।
- 31:27সম্পর্কের ব্যথায় নিজেকে দোষ দিও না।
- 31:29ক্ষমা করো নিজের মুক্তির [মিউজিক] জন্য।
- 31:32এবং মানুষের প্রেমের পাশাপাশি ঈশ্বরের
- 31:35প্রতি ভক্তি রাখো। কারণ সেই ভালোবাসাই
- 31:38একমাত্র অটুট। এবার আসি এই দীর্ঘ যাত্রার
- 31:42সবচেয়ে গভীর ও শেষ অধ্যায়ে। এখানে আমরা
- 31:45কথা বলবো আত্মজ্ঞানের কথা। নিজেকে জানার
- 31:49সেই গভীর সত্য যা জানলে জীবনের কোন
- 31:52পরিস্থিতি তোমাকে পুরোপুরি ভাঙতে পারবে
- 31:54না। তুমি কি কখনো ভেবে দেখেছো তুমি আসলে
- 31:57কে? যখন তুমি বল আমি তখন তুমি কি বোঝাও?
- 32:01এই শরীরটা, এই নাম, এই পেশা এই
- 32:05সম্পর্কগুলো। কিন্তু এগুলো সবই
- 32:08পরিবর্তনশীল। শরীর বদলায়, নাম বদলানো যায়,
- 32:12পেশা বদলায়, সম্পর্ক বদলায়। তাহলে তুমি কে
- 32:15যে কখনো বদলায় না। শ্রীকৃষ্ণ এই প্রশ্নের
- 32:19উত্তর দিয়েছেন গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে
- 32:22নইনাং ছিদন্তিশাস্ত্রানি
- 32:24নং দহাতি পাবকহাচনাতিমারহা
- 32:31অর্থাৎ এই আত্মাকে কোন অস্ত্র কাটতে পারে
- 32:34না আগুন পোড়াতে পারে না জল ভেজাতে পারে
- 32:37না বায়ু শুকাতে পারে না এই আত্মা নিত্য
- 32:41সর্বব্যাপী অচল ও শাশ্বত এই কথাটা শুধু
- 32:46একটা ধর্মীয়বিস নয়। এটা তোমার জীবনের
- 32:49সবচেয়ে বড় সত্য। তুমি এই শরীর নও। তুমি এই
- 32:53নাম নও। তুমি এই সমস্যাগুলো নও। তুমি হলে
- 32:57সেই আত্মা যা অমর যা শক্তিশালী যা ঈশ্বরের
- 33:01একটি অংশ। এই সত্যটা জীবনের সবচেয়ে কঠিন
- 33:05সময় [মিউজিক] তোমাকে ধরে রাখে। যখন মনে হয়
- 33:08সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তখন মনে করো যা শেষ
- 33:12হয়েছে সেটা পরিস্থিতি। শরীরের কষ্ট,
- 33:15সম্পর্কের ক্ষত কিন্তু তুমি সেই প্রকৃত
- 33:19তুমি কখনো শেষ হয় না। আত্মজ্ঞানের পথে
- 33:23প্রথম পদক্ষেপ হলো নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে
- 33:26শেখা। তুমি যখন রাগান্বিত হও তখন একটু
- 33:30থামো এবং দেখো কে রাগছে। তুমি যখন দুঃখী
- 33:34হও দেখো কে দুঃখী। তুমি যখন ভয় পাও দেখো
- 33:38কে ভয় পাচ্ছে। এই দ্রষ্টার ভূমিকায় যদি
- 33:41একবার স্থির হতে পারো তাহলে বুঝবে তুমি
- 33:45রাগ নও তুমি দুঃখ নও তুমি ভয় নও তুমি সেই
- 33:49সাক্ষী যে সবকিছু দেখছে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন
- 33:54বিদ্যা বিনয় সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গাবি
- 33:58হাস্তিনি শুনিয়ে চাইবা সপাকেচা পন্ডিতাহা
- 34:02সমদর্শিনাহ
- 34:04অর্থাৎ যিনি প্রকৃত জ্ঞানী তিনি বিদ্বাান
- 34:07ব্রাহ্মণ গরু হাতি, কুকুর ও চন্ডালের
- 34:12মধ্যে একই আত্মাকে দেখেন। এই সমদৃষ্টি হল
- 34:15আত্মজ্ঞানের পরিপক্ক অবস্থা। আমরা অনেক
- 34:19সময় মানুষকে ভাগ করি। ধনী, গরীব, উঁচু
- 34:22নিচু, আমার তোমার এই বিভাজনই আমাদের
- 34:26সমাজের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ। কিন্তু
- 34:28যে মানুষ সত্যিকারের আত্মজ্ঞান লাভ করে সে
- 34:32প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতে
- 34:35পায়। সে অন্যকে কষ্ট দিতে পারে না। কারণ
- 34:38অন্যকে কষ্ট দেওয়া মানে নিজেকেই কষ্ট
- 34:40দেওয়া। মোক্ষের কথা বলা যাক। মোক্ষ মানে
- 34:44মৃত্যুর পরে কোন মুক্তি নয়। মোক্ষ হলো এই
- 34:47জীবনেই অর্জন করার বিষয়। যখন তুমি
- 34:50সম্পূর্ণভাবে বর্তমানে থাকতে পারো। অতীতের
- 34:53গ্লানী ও জীবনের উদ্বেগ থেকে মুক্ত হতে
- 34:55পারো এবং প্রতিটি মুহূর্তে পরিপূর্ণভাবে
- 34:58বাঁচতে পারো। সেটাই মোক্ষ। সেটাই মুক্তি।
- 35:02শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ব্রহ্মভূতাহা
- 35:05প্রসন্নাত্মা না সোচতি না কাংশতি সমাহা
- 35:10সরবেশুভূতে
- 35:12মদভক্তিম লাভতে পারাম অর্থাৎ যে ব্রহ্মময়
- 35:16অর্থাৎ ঈশ্বরে স্থিত হয় সে প্রসন্ন চিত্ত
- 35:20হয় শোখ করে না কামনা করে না সকল প্রাণীতে
- 35:24সমভাব থাকে এবং পরম ভক্তি লাভ করে এই
- 35:28অবস্থায় পৌঁছানো কি সাধারণ মানুষের পক্ষে
- 35:31সম্ভব হ্যা হ্যাঁ, সম্ভব। তবে এটা হঠাৎ
- 35:34হয় না। এটা একটা যাত্রা। প্রতিদিন একটু
- 35:38একটু করে। [মিউজিক] প্রতিদিন সকালে
- 35:40শ্রীকৃষ্ণের বাণী শুনলে, ধ্যান করলে,
- 35:43নিজেকে পর্যবেক্ষণ করলে ধীরে ধীরে এই
- 35:46অবস্থার [মিউজিক] দিকে এগোনো যায়।
- 35:48আত্মধ্যানের পথে একটি বড় বাধা হলো
- 35:51অহংকার। আমরা মনে করি আমি [মিউজিক] অনেক
- 35:54কিছু জানি। আমি অনেক কিছু করেছি। এই আমি
- 35:58ভাবটাই সমস্ত কষ্টের মূল। শ্রীকৃষ্ণ
- 36:01[মিউজিক] বলেছেন, যখন তুমি সমর্পণ করতে
- 36:04পারবে এই অহংটাকে, এই আমিকে, তখনই
- 36:07সত্যিকারের মুক্তি আসবে। সমর্পণ মানে
- 36:10দুর্বলতা নয়। সমর্পণ মানে হলো আমার সব
- 36:14চেষ্টা আমি করেছি এখন বাকিটা তোমার হাতে।
- 36:17এই বিশ্বাসটুকু যখন আসে তখন একটা
- 36:20অবিশ্বাস্য শান্তি নামে। কারণ তুমি বুঝতে
- 36:23পারো সব তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং থাকতেও
- 36:26হবে না। শ্রীকৃষ্ণ গীতার শেষে বলেছেন
- 36:29সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা সর্বধর্মান
- 36:32পরিত্যাজা মামেকম সরণম ব্রজা আহম সর্ব
- 36:37পাপেভ মোকাইশ্যামি মাস সুচাহা অর্থাৎ
- 36:41সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে শুধু আমার স্মরণে
- 36:44এসো আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব
- 36:48দুশ্চিন্তা করো না। এই একটি শ্লোকের
- 36:51মধ্যেই পুরো গীতার সার নিহিত। তুমি যা
- 36:54কিছু বহন করছো অপরাধ বোধ, লজ্জা,
- 36:57ব্যর্থতার বোঝা, অন্যের প্রতি রাগ, নিজের
- 37:00প্রতি ঘৃণা সব ছেড়ে দাও। শ্রীকৃষ্ণের
- 37:03কাছে নিয়ে এসো। তিনি নিয়ে নেবেন। এটা
- 37:06করার একটা সহজ উপায় আছে। প্রতি রাতে
- 37:09ঘুমানোর আগে একটু শান্তভাবে বসো।
- 37:12সারাদিনের সব কষ্ট সব ব্যর্থতা সব রাগ
- 37:16দুঃখ মনে করো এবং মনে মনে বলো এগুলো আমার
- 37:20নয় আমি এগুলো তোমার কাছে দিয়ে দিলাম
- 37:22[মিউজিক] এই ছোট্ট অভ্যাসটি তোমার জীবন
- 37:25বদলে দেবে এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- 37:28নিজের উপর দয়া করতে শেখো আমরা অন্যের ভুল
- 37:32ক্ষমা করতে পারি কিন্তু নিজের ভুল ক্ষমা
- 37:34করতে পারি না সারাজীবন নিজেকে শাস্তি দিতে
- 37:37থাকি শ্রীকৃষ্ণ [মিউজিক] বলেছেন ঈশ্বর
- 37:40তোমার কৃতকর্মের এর বিচারক নন। তিনি তোমার
- 37:43প্রেমিক। তিনি তোমাকে যেমন আছো তেমনভাবেই
- 37:46ভালোবাসেন। তাই নিজেকেও ভালোবাসতে শেখো।
- 37:50তুমি যত ভুলই করো না কেন প্রতিটি ভুল থেকে
- 37:53শেখার সুযোগ আছে। প্রতিটি পতন থেকে ওঠার
- 37:56সুযোগ আছে। শ্রীকৃষ্ণ একবারও বলেননি তুমি
- 37:59বেশি ভুল করেছো তাই তোমার জন্য আমার কাছে
- 38:02জায়গা নেই। তিনি সবসময় বলেছেন এসো আমার
- 38:06কাছে এসো। আত্মজ্ঞানের আরেকটি সুন্দর
- 38:09শিক্ষা হলো পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো।
- 38:12জীবনের সবকিছুই পরিবর্তনশীল। শরীর
- 38:15পরিবর্তন হয়, সম্পর্ক পরিবর্তন হয়,
- 38:18পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। যে মানুষ
- 38:20পরিবর্তনকে ভয় পায় সে জীবনের স্বাভাবিক
- 38:23প্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ক্লান্ত
- 38:25হয়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, পরিবর্তনই
- 38:27[মিউজিক]
- 38:28এই জগতের নিয়ম। যেটা আজ আছে কাল থাকবে
- 38:31না। যেটা আজ নেই কাল আসতে পারে। তাই কোন
- 38:34পরিস্থিতিকে স্থায়ী মনে করো না। ভালো
- 38:36সময় অহংকারী হয় না। খারাপ সময় হতাশ
- 38:39হয়ো না। কারণ দুটোই কেটে যাবে। এই পঞ্চম
- 38:42ও শেষ অধ্যায়ে আমরা যা শিখলাম তুমি এই
- 38:45শরীর নও। তুমি একটি অমর আত্মা। আত্মজ্ঞানী
- 38:48হলো সমস্ত কষ্টের সর্বোচ্চ সমাধান। নিজেকে
- 38:51ক্ষমা করতে শেখো। নিজেকে ভালোবাসতে শেখো।
- 38:54পরিবর্তনকে ভয় পেও না এবং সম্পূর্ণভাবে
- 38:57শ্রীকৃষ্ণের স্মরণে যাও। তিনি তোমার সমস্ত
- 39:00বোঝা নিয়ে নেবেন। প্রিয় বন্ধুরা আজকের
- 39:03এই দীর্ঘযাত্রা এখানেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু
- 39:05তোমার জীবনের যাত্রা কখনো শেষ হয় না।
- 39:08প্রতিটি সকাল একটি নতুন সুযোগ। নিজেকে
- 39:11নতুন করে চেনার, নতুন করে গড়ার, নতুন করে
- 39:14শুরু করার। আজ থেকে প্রতিদিন সকালে উঠে
- 39:17একটাই কাজ করো। শ্রীকৃষ্ণের নাম নাও। তার
- 39:20বাণী শোনো। মনে মনে বলো আমি প্রস্তুত।
- 39:23আজকের দিনটা আমার। এই ছোট্ট অভ্যাসটাই
- 39:26তোমার জীবনকে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত করবে।
- 39:29মনে রেখো শ্রীকৃষ্ণ কোন মন্দিরের মূর্তিতে
- 39:31সীমাবদ্ধ নন। তিনি আছেন তোমার হৃদয়ের
- 39:34গভীরে। প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি স্পন্দনে।
- 39:37তুমি যখনই তাকে ডাকবে তিনি সাড়া দেবেন।
- 39:40এটাই তার প্রতিশ্রুতি। পথ অফ ধর্ম
- 39:42চ্যানেলের এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে
- 39:45আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাই।
- 39:48আপনারা যদি আজকের এই যাত্রায় একটুও আলো
- 39:51খুঁজে পেয়ে থাকেন, [মিউজিক] একটুও ভালো
- 39:52অনুভব করে থাকেন, তাহলে আমাদের এই পরিশ্রম
- 39:55সফল। আপনাদের মতামত, আপনাদের অনুভূতি,
- 39:58আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। যদি আজকের এই
- 40:01কথাগুলো আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে এখনি
- 40:04পথ অফ ধর্ম চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
- 40:06ভিডিওটিকে লাইক দিন। বন্ধু ও পরিবারের
- 40:09সাথে শেয়ার করুন। কারণ হয়তো আপনার একটা
- 40:11শেয়ারই কারো জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার রাতে
- 40:14একটু আলো জ্বালিয়ে দেবে এবং ভিডিওটিকে
- 40:17হাইপ করুন যাতে আরো বেশি মানুষের কাছে
- 40:19শ্রীকৃষ্ণের এই অমৃতময় বাণী পৌঁছে যায়।
- 40:22জয় শ্রীকৃষ্ণ
About this transcript
This page contains the full transcript of আপনি কি মনমরা? গীতা শুনুন | সহজ বাংলা ভাষায় ||Geeta Sar in Bengali || by Path Of Dharma , generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 4,939 words across 774 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.