"শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—রাতে ঘুমানোর আগে একবার শুনুন | জীবন বদলে যাবে | Geeta Saar Bangla | Krishna Bani" — Transcript
Full transcript
- 0:00ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় জয় শ্রীকৃষ্ণ রাধে রাধে শ্রীমদ ভগবত গীতা এমন একমাত্র গ্রন্থ
- 0:10যা মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য সঠিক দিশা দেখায়। ভগবত গীতা জীবনে ধর্ম কর্ম এবং
- 0:17প্রেমের পাড় শেখায়। ভগবত গীতার জ্ঞান মানব জীবন এবং জীবনের পরবর্তী জীবনের জন্য
- 0:23উপযোগী মনে করা হয়। গীতা হলো সম্পূর্ণ জীবন দর্শন। আর যে ব্যক্তি একে যথাযথভাবে
- 0:30অনুসরণ করতে পারে সেই ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ হয়। ভগবত গীতায় মোট 18 টি অধ্যায় এবং
- 0:37700 টি শ্লোক আছে যা সবার পক্ষে প্রতিদিন পাঠ করা এবং উপলব্ধি করা সম্ভব পর হয় না।
- 0:44সেইজন্য আজকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ভিডিওতে আমরা ভগবত গীতার 121 টি উপলব্ধি
- 0:51নিয়ে কথা বলব। যেটা জানার পর আপনি শ্রীমদ ভগবত গীতার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে
- 0:57পারবেন। তাই আপনি প্রতিদিন এই ভিডিওটি রাতে ঘুমানোর আগে অথবা সকালে ঘুম থেকে
- 1:03ওঠার পর অবশ্যই একবার হলেও শুনবেন। তাহলে চলুন এগনো যাক পৃথিবীর সেই মহাজ্ঞানের
- 1:10ভান্ডারের দিকে যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং নিজের মুখে বলেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেন, এই
- 1:17সংসার আমারই তৈরি মায়া দ্বারা আচ্ছন্ন। এই সংসার আমার দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। আমি এই
- 1:24সংসারের পালনকর্তা। আবার আমি সবকিছুর বিনাশু করে থাকি। আমি অতীত, বর্তমান এবং
- 1:32ভবিষ্যতের সকল প্রাণীকে জানি কিন্তু বাস্তবে আমাকে কেউই জানতে পারে না। ভগবান
- 1:39বলেন, যেমন প্রকাশের জ্যোতি অন্ধকারেও ঝলমল করে, একই রকমভাবে সত্য ঝলমল করে।
- 1:46এইজন্য মনুষ্যকে সর্বদা সত্যের পথেই থাকা উচিত। মৃত্যু হলো একটি অটল সত্য। যাকে
- 1:54কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যখন থেকেই সংসারের নির্মাণ হয়েছে তখন থেকেই জন্ম ও
- 2:00মৃত্যুর চক্র ঘুরে চলেছে। যেভাবে মনুষ্য তার পুরাতন বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন
- 2:05বস্ত্র পরিধান করে। একই রকমভাবে আত্মাও পুরাতন জীর্ণ শরীর পরিত্যাগ করে নতুন শরীর
- 2:12ধারণ করে। এটাই হলো প্রকৃতির নিয়ম। এই কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে ভয়মুক্ত হয়ে
- 2:17বর্তমানেই বাঁচা উচিত। যারা প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি তারা না তো মৃত ব্যক্তির জন্য শোখ
- 2:23করেন না তো তাদের জন্য শোখ করেন যারা জীবিত আছেন। কারণ তিনি জানেন যে মারা গেছে
- 2:29সে আবার জন্ম নেবে। আর যে জীবিত আছে সেও একদিন নিশ্চয়ই মারা যাবে। ভগবান
- 2:35শ্রীকৃষ্ণ বলেন, মনের শান্তির থেকে বড় সম্পদ এই পৃথিবীতে আর কোন কিছুই নেই। যে
- 2:41ব্যক্তি নিজের মনকে শান্ত রাখতে শিখে গেছে তার থেকে বড় ধনী এই সংসারে আর কোথাও নেই।
- 2:47সময় কখনো মানুষের তৈরি পথে চলে না। মানুষকেই সময়ের তৈরি পথে চলতে হয়। একেই
- 2:52তো নিয়তি বলে। জীবন তখন কঠিন মনে হয় যখন আমরা নিজেকে পরিবর্তন করার পরিবর্তে
- 2:58পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। কর্মই হলো সবথেকে বড় ধর্ম। ভগবান
- 3:04শ্রীকৃষ্ণ গীতায় অর্জুনকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন, মনুষ্য কর্ম করার জন্যই
- 3:09পৃথিবীতে জন্ম নেয়। আর কর্ম না করে কেউ ক্ষণকালও থাকতে পারে না। পরিণামের কথা
- 3:14চিন্তা না করে মানুষকে নিজের কর্তব্য পালন করে যাওয়া উচিত। ক্রোধ মানুষকে নরকে টেনে
- 3:20নিয়ে যায়। ক্রোধ করার জন্য মানুষের মন অশান্ত হয়ে পড়ে। আবেগের বশবর্তী হয়ে
- 3:25তখন সে নিজেরই ক্ষতি করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, মনুষ্যকে ক্রোধ এড়িয়ে চলতে হবে।
- 3:32যতই রাগ হোক না কেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা করতে হবে। এই সংসারে আজ যা
- 3:39তোমার আছে গতকাল তা অন্য কারো ছিল। আগামীকাল তা অন্য কারো হয়ে যাবে। তুমি এই
- 3:44পৃথিবীতে খালি হাতেই এসেছো আর তোমাকে খালি হাতেই এখান থেকে ফিরে যেতে হবে। মনের উপর
- 3:51নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। মানুষের মন বায়ুর মত চঞ্চল হয়ে থাকে। এই মনের
- 3:57জন্যই মানুষ কাম বাসনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে ভ্রষ্ট হয়ে যায়। যদি
- 4:03জীবনের সফলতা পেতে হয় তাহলে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া খুবই জরুরি। মনকে নিজের
- 4:09বসে করতে পারলে মস্তিষ্কের শক্তি কেন্দ্রীভূত হয় এবং তার জন্য কাজের সফলতা
- 4:15পাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। গীতা আমাদের শেখায় যে ব্যক্তি নিজের মনের উপর
- 4:21নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে তার মনে অপ্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা এবং কামনা-বাসনা
- 4:26প্রবেশ করতে পারে না। সে অকারণ ইচ্ছা থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে পারে। আর তার
- 4:32সাথে ব্যক্তি নিজের লক্ষ্যকেও খুব সহজেই জয় করে নিতে পারে। নিজের মনের ভেতর থেকে
- 4:38খারাপ গুণগুলিকে পরিতর করার কথা বলা হয়েছে। ভগবত গীতায় বলা হয়েছে দম্ভ,
- 4:44দৌরপিমান, ক্রোধ, পারুষ্য, অজ্ঞনাতাস্য, পার্থসম্পদ,
- 4:50অহংকার, রাগ কঠোর বাণী এবং অজ্ঞানতা এইসব থেকে মনুষ্যকে দূরে থাকা উচিত। সদগুণ
- 4:57গুলিকে নিজের জীবনে ধারণ করা উচিত। এর ফলে জীবনে পরম শান্তির অনুভূতি হয়। শ্রীকৃষ্ণ
- 5:03আরো বললেন জ্ঞানে সদৃশং পবিত্র মিহ বিদ্যতে অর্থাৎ এই সংসারে জ্ঞানের মত
- 5:11পবিত্র আর কোন কিছুই হতে পারে না শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম অর্থাৎ জ্ঞানের
- 5:17প্রতি জিজ্ঞাসা থাকলেই জ্ঞান লাভ করা যায় জ্ঞান লব্ধা পরাং শান্তিময়চিরে
- 5:24জীবনের শান্তি লাভ করার জন্য সাধনা নয় বরং জ্ঞানের প্রয়োজন হয় তিনি সমগ্র
- 5:32মানবজাতিকে কে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে বলেছিলেন, যদি মনকে বসে না করতে পারো
- 5:37তাহলে সেই মন তোমার চরম শত্রু হয়ে উঠবে। সদা সন্দেহকারী ব্যক্তি না তো এই জীবনে
- 5:44শান্তি পায় নাতো অন্য জীবনে। আর সেজন্যই তুমি সন্দেহের প্রবণতা থেকে দূরে থাকো।
- 5:51অধিক সন্দেহ করলে মনের সমস্ত শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। আর ব্যক্তি ভ্রমের বশবতী হয়ে
- 5:58আপনজনদের সঙ্গে সব সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে। শরীরের সৌন্দর্য মনকে আকর্ষিত করে কিন্তু
- 6:06স্বভাবের সৌন্দর্য হৃদয়কে আকর্ষণ করে। সেইজন্যই মনুষ্যের স্বভাব সর্বদা নির্মল
- 6:13হওয়া উচিত। কে কি করছে, কেন করছে এবং কিভাবে করছে এসব
- 6:19থেকে যত দূরে থাকবে ততই তুমি সুখে থাকবে। জীবনে আমরা কতটা ঠিক এবং কতটা ভুল এটা
- 6:27মাত্র দুজনই জানে। একজন হলেন পরমাত্মা এবং দ্বিতীয়জন হলো আমাদের অন্তরাত্মা। ভগবান
- 6:34শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যে ব্যক্তির মধ্যে জ্ঞানের অভাব এবং ঈশ্বরে বিশ্বাসের অভাব
- 6:39থাকে সেই ব্যক্তি জীবনে কখনো আনন্দ এবং সফলতা লাভ করতে পারে না। মানুষের দুঃখের
- 6:46প্রধান কারণই হল তার মোহ। যে যত বেশি মোহ করবে সে তত বেশি দুঃখ ভোগ করবে। তোমার
- 6:54আফসোস তোমার অতীতকে পরিবর্তন করতে পারবে না। আবার তোমার দুশ্চিন্তা তোমার ভবিষ্যৎ
- 7:00কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। সেই জন্যই বর্তমানের আনন্দ উপভোগ করাই সবথেকে সুখের।
- 7:08শ্রীকৃষ্ণ আরো বলেন, যে তোমার পাশে থাকে তুমিও তার পাশে সবসময় থেকো। আর যে তোমার
- 7:15সাথে প্রতারণা করে তাকে তুমি ত্যাগ করো। যে স্থানে তোমার কোন সম্মান নেই সেখানে
- 7:21কখনোই যাওয়া উচিত নয়। কারণ এটা করলে লোক তোমাকে বোকা এবং দুর্বল ভাববে। ক্রোধভাবতি
- 7:29সমহম স্মৃতিভ্রংসাং বুদ্ধিনাশ বুদ্ধিনাশত প্রণসতি। গীতার এই
- 7:36শ্লোকটি বলে যে কোন কাজের সাফল্যের জন্য মনের প্রশান্তির প্রয়োজন হয়। ভগবান
- 7:43শ্রীকৃষ্ণ বলেন, রাগ বুদ্ধিকে ধ্বংস করে ব্যক্তিকে মূর্খ করে তোলে। একজন মূর্খ
- 7:49ব্যক্তি নিজেকে ধ্বংস করে। এমতাবস্থায় যেকোন কাজের সফলতার জন্য ক্রোধ ত্যাগ করা
- 7:56অতি আবশ্যক। যদি সফল হতে চাও তাহলে ভয়কে জয় করো। অর্জুন যখন কৌরবদের বিরুদ্ধে
- 8:03যুদ্ধ করতে রাজি হলেন না তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে বললেন, হতবাইপয়স্বর্গবেই
- 8:09ভাই মহিমা তাসমাত প্রতিষ্ঠা কন্তেয় যুদ্ধাকৃত নিশ্চয় হে অর্জুন তুমি নির্ভয়ে
- 8:17যুদ্ধ করো নিহত হলে স্বর্গ পাবে আর জিতলে পৃথিবী শাসন করবে তাই যে কোন কাজে সফলতা
- 8:24পেতে হলে মন থেকে ভয়কে দূর করতে হবে কর্মফল নিয়ে পরমেশ্বর ভগবান গীতায় বলেছেন
- 8:31কারমাননেবাধিকারস্তে মাফলেশুদাজানা
- 8:35গীতা এই শ্লোকে ফলের আকাঙ্ক্ষা ব্যতীত কর্মের আদিক্ষেত্রের উপর জোর দেওয়া
- 8:41রয়েছে। আপনি যদি কোন কাজে সাফল্য চান তবে কর্মে মনোযোগ দিন। তবেই আপনি বিভ্রান্তি
- 8:47ছাড়া কর্ম করতে সক্ষম হবেন। গীতায় বলা হয়েছে ফল কামনা করে কর্ম করলে কর্মের
- 8:54দিকে কম আর ফলের দিকেই বেশি মনোযোগ থাকে। যতক্ষণ না তুমি নিজের কাছে হেরে যাচ্ছ
- 8:59ততক্ষণই পৃথিবীর কেউ তোমাকে হারাতে পারবে না। দুর্বল তুমি নয়, দুর্বল তোমার সময়।
- 9:06আর সময় প্রত্যেকের পরিবর্তন হয়। তুমি শুধু নিজের কর্ম করতে থাকো। যে কখনো
- 9:11জীবনের সংকটে পড়েনি সে কখনো নিজের শক্তি সম্পর্কে জানতে পারে না। যে অন্যের দুঃখকে
- 9:17অনুভব করতে পারে। যার মনে দয়া আছে যারা মন থেকে শুদ্ধ সেই পৃথিবীর জন্ম মৃত্যুর
- 9:24চক্র থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ভগবত গীতার একটি বড় শিক্ষা হলো এই যে কাউকে কিছু
- 9:29দিয়ে কখনো অহংকার করা উচিত নয়? কে বলতে পারে? তুমি তাকে সেটা দিচ্ছ নাকি
- 9:35পূর্বজন্মের ঋণ পরিশোধ করছো? যেসব ব্যক্তিরা অহংকারী হয় তাদের বংশ, বৈভব
- 9:41এবং প্রতিষ্ঠা তিনটেই চলে যায়। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে রাবণ, কৌরব এবং
- 9:47কংশকে দেখো। যারা অতিরিক্ত অহংকারের কারণে নিজেদেরকেই ধ্বংস করেছিল। যদি কাউকে
- 9:53বিশ্বাস করতে হয় তাহলে তার কথায় নয় তার ব্যবহার দেখো। অতিরিক্ত রাগের সময় কিছুটা
- 9:59চুপ থাকলে এবং ভুলের সময় কিছুটা মাথা নত করলে জীবন আরো সহজ হয়ে ওঠে। ভগবান বলেন,
- 10:07যে ব্যক্তি আমাকে জেনে যায় সেই কষ্টের ভরা পৃথিবীর জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে
- 10:12মুক্তি পেয়ে যায়। যে ব্যক্তি ভগবত গীতা পড়ে এবং তাকে অনুসরণ করে তার জীবন থেকে
- 10:18সমস্ত দুষ্কর্মের প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। যা তোমার ভাগ্যে আছে তা দৌড়ে তোমার কাছে
- 10:24আসবে। আর যা তোমার ভাগ্যে নেই তা এসেও আবার চলে যাবে। ঝড় যেমন নদীতে থাকা নৌকোকে
- 10:31পথভ্রষ্ট করে দেয় সেরকমই বাসনা মানুষের বুদ্ধিকে ভ্রষ্ট করে দেয়। যে মানুষ
- 10:38সুখ-দুঃখে মান অপমানের শান্ত থাকতে পারে সেই মানুষ আমার অতি প্রিয়। বুদ্ধিমান
- 10:45ব্যক্তি যখন সম্বন্ধ রাখা বন্ধ করে দেয় তখন বুঝে নেওয়া উচিত যে তার আত্মসম্মানে
- 10:51কোথাও না কোথাও আঘাত লেগেছে। প্রেম সর্বদা ক্ষমা চাইতে পছন্দ করে। কিন্তু অহংকার
- 10:58ক্ষমা চাওয়াতে পছন্দ করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, তোমার নাম নয়, কর্মই
- 11:05তোমার আসল পরিচয়। তার কারণ এক নামের হাজার মানুষ আছে। তাদের নাম এক হলেও কর্ম
- 11:12ভিন্ন হয়। আর সেটাই তাদের আসল পরিচয়। একটা ভালো কথার মধ্যেও লোক তোমার খারাপ
- 11:19কথাটাকেই মনে রাখবে। তাই লোক কি বলছে তাতে মনোযোগ দিও না। যতটা সম্ভব নিশ্চুপ থাকাই
- 11:26শ্রেয়। কারণ মানুষের পাপের জন্ম তার মুখের কথা থেকেই প্রথম শুরু হয়। কারো
- 11:32সাথে ছলনা করা বা ঠকানো হলো একটা ঋণের মত যা অন্য কারোর কাছে তোমাকে পরিশোধ করতেই
- 11:38হবে। আজ তুমি একজনকে ঠকাবে। আগামীকাল তার পরিণাম তুমি অন্য কারোর কাছ থেকে অবশ্যই
- 11:45পাবে। যদি তোমার দৃষ্টি সত্যিই ভালো হয় তাহলেই একমাত্র তুমি নিজের দোষ এবং অন্যের
- 11:52গুণগুলি খুঁজে পাবে। যে সময়ের সাথে স্বভাব পরিবর্তন করে তাকে কখনোই বিশ্বাস
- 11:57করা উচিত নয়। জীবনে কখনো নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করো না। তুমি যেমনই হও সেটাই
- 12:04সর্বশ্রেষ্ঠ। প্রত্যেকেই তাদের জীবন বদলানোর জন্য সময় পায়। কিন্তু সময়
- 12:09বদলানোর জন্য দ্বিতীয় জীবন কেউই পায় না। ভগবান বলেন, যা অবসম্ভাবী তা ঘটবে। আর যা
- 12:17হবার নয় তা কখনোই হবে না। এরকম বিচার যার মনে থাকে তাকে দুশ্চিন্তা কখনোই পীড়া
- 12:25দেয় না। ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে যে কাজ করা হয় তা কখনোই ব্যর্থ হয় না। আর তার ফলও
- 12:32তুমি একদিন নিশ্চয়ই পাবে। জীবনের সবথেকে বড় ভুল হলো সেটাই যেটা থেকে আমরা কিছু
- 12:39শিখতে পারি না। আজ তুমি যে কাজ করছো তার ফল তুমি ভবিষ্যতে নিশ্চিত পাবে। আর আজ
- 12:46তুমি যা পেয়েছো তা তোমারই দ্বারা করা তোমার অতীতের কর্মের ফল। শ্রীকৃষ্ণ বলেন,
- 12:53যে মানুষ শ্রদ্ধা ভক্তির সঙ্গে আমার উপাসনা করে আমি তাকে সেই সবকিছু দিয়ে
- 12:59থাকি যা তার কাছে নেই। আর তার কাছে যা থাকে আমি তা রক্ষাও করি। কাকে কি আর কতটা
- 13:07বলতে হবে যদি তুমি শিখে নাও তাহলে তোমার জীবন সার্থক হয়ে যাবে। যদি জীবনে কখনো
- 13:14সুযোগ পাও তাহলে স্বার্থ ত্যাগ করে সাহায্য করে দিও। কিন্তু কখনোই স্বার্থপর
- 13:20হয়ে এড়িয়ে যেও না। ধর্ম দ্বারা পরিপূর্ণ হৃদয় সর্বদা ধর্মের পরামর্শ
- 13:26দেয়। আর অধর্ম দ্বারা পরিপূর্ণ হৃদয় সর্বদা অধর্মের পরামর্শ। মানুষ এই জন্য
- 13:33দুঃখী নয় যে সে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে না। মানুষ এইজন্য দুঃখী কারণ
- 13:40সে ঈশ্বরের জ্ঞানকে বিশ্বাস করে না। সময় এলে সবকিছুই পাওয়া যায়। সময়ের আগেই কোন
- 13:46কিছু পাওয়ার ইচ্ছায় দুঃখের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যারা প্রেমকে জঘন্য বলেন
- 13:53তারা মূর্খ। এই জগত প্রেম দিয়েই তৈরি হয়েছে। প্রেমই হলো এই জগতের মেরুদন্ড।
- 14:00মনুষ্য তার বিশ্বাস এবং চিন্তাভাবনা দ্বারাই তৈরি হয়। যার মনের চিন্তাভাবনা
- 14:06যেমন হয় সেই মানুষ সেরকমই তৈরি হয় এই সংসারে। ভাগ্যের থেকে বেশি এবং সময়ের
- 14:13থেকে আগে না তো কেউ কিছু পেয়েছে আর না কখনো পাবে। মুখ থেকে বেরনো কথার মধ্যে
- 14:18সংযম থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ মুখের কথা একজনকে যা আঘাত দিতে পারে সেই আঘাতের ক্ষত
- 14:26কোনদিন পূরণ করা যায় না। শ্রীকৃষ্ণ বলেন ধর্মের জন্য লড়াই করতে শেখো। অধর্মের
- 14:32শত্রু হতে শেখো এবং যারা তোমার আপন তাদের জন্য ত্যাগ করতে শেখো। সত্য সর্বদা জলে
- 14:39ভাসমান তেলের মত হয়। তুমি যতই মিথ্যার জল ঢালো সত্য সর্বদা উপরেই থাকবে। জীবনের
- 14:45একটি অমূল্য শিক্ষা। খুব আনন্দের সময় কারোর কাছে কোন প্রতিজ্ঞা করো না। খুব
- 14:51রাগের সময় কাউকে উত্তর দিও না। আবার যখন খুব দুঃখ হবে তখন কোন সিদ্ধান্ত নিও না।
- 14:58যদি কোন মনুষ্য সমগ্র জগতকে জেনে যায়, সমগ্র সংসারকে জেনে যায় কিন্তু সে নিজেকে
- 15:04না জানতে পারে তাহলেও সেই মানুষ নির্বোধ থেকে যায়। যদি যদি কেউ তোমাকে
- 15:10প্রত্যাখ্যান করে তাহলে দুঃখ করো না। কারণ বাস্তবে সে তোমার মূল্য বোঝেনি। যে
- 15:16সম্পর্ক তোমাকে কাঁদিয়ে দেয় সেই সম্পর্কের থেকে গভীর সম্পর্ক আর কোন কিছুই
- 15:21হয় না। আর যে সম্পর্ক তোমাকে কাঁদার জন্য ছেড়ে দেয় তার থেকে দুর্বল আর কোন
- 15:27সম্পর্ক হয় না। সর্বদা শান্ত থাকতে শেখো। তাহলেই তুমি নিজেকে মজবুত অনুভব করবে।
- 15:32উত্তপ্ত লোহাকে গরম অবস্থায় যে কোোন রূপে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু ঠান্ডা হয়ে
- 15:38গেলে সেই লোহাই অনেক বেশি মজবুত হয়ে যায়। কোন রকম দুঃখ কষ্টের মধ্যে তোমাকে
- 15:43এই সাতটি গুণ বাঁচাবে তোমার জ্ঞান, তোমার বিনম্রতা, তোমার বুদ্ধি, তোমার ভিতরের
- 15:50সাহস, তোমার ভালো কর্ম, সত্য কথা বলার অভ্যাস এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস।
- 15:59যখন কঠিন সময় আসে তখন ব্যক্তি একা হয়ে যায়। কিন্তু এটাও সত্য যে সেই কঠিন সময়
- 16:04ব্যক্তিকে আরো মজবুত করে দেয়। যে তোমাকে সম্মান দেয় তাকেও তুমি সম্মান দাও। কারো
- 16:11সামর্থ্য দেখে তার সামনে মাথা ঝোকানো ভিরুতার লক্ষণ। তোমার সামনে যত বড় কঠিন
- 16:17পরিস্থিতি এসে পড়ুক না কেন একটা কাজ করবে। নিজের সবকিছু ভগবানকে সমর্পণ করে
- 16:23দাও। ভগবানের উপর বিশ্বাসী ছোট্ট শিশুর মত করো। যাকে হাওয়াতে ছুড়ে দিলেও সে হাসতে
- 16:30থাকে। সে ভয় পায় না। কারণ সে জানে যে তুমি তাকে নিচে ফেলে দেবে না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
- 16:36বলেন, তুমি মন ছোট করো না। যদি আপনজন তোমার থেকে মুখ ফিরিয়েও নেয়, আমি তোমার
- 16:42সাথে সবসময় থাকবো। কারো সামনে এতটাও ঝোকা উচিত নয় যে সে
- 16:46তোমাকে নিচু শ্রেণীর লোক ভাবতে শুরু করে। মনুষ্য সর্বদা তার ভাগ্যকে দোষারোপ করে।
- 16:52এটা জেনেও যে ভাগ্যের থেকেও বড় হলো তার কর্ম। যেটা তার নিজের হাতেই রয়েছে। একজন
- 16:59জ্ঞানী ব্যক্তি হলো সেই যে অন্যকে দেখে এবং তার থেকে শিক্ষা লাভ করে। কিন্তু তাকে
- 17:04কখনো ঈর্ষা করে না। এই পৃথিবীতে কেউ কারোর আপন হয় না। মৃতদেহকে শ্মশানে নিয়ে
- 17:10যাওয়ার পর আপনজন জিজ্ঞাসা করে আর কতক্ষণ লাগবে? জীবনে দুঃখ পাওয়াও জরুরি। না হলে
- 17:17সুখের গুরুত্ব অনুভব করা যায় না। এই পৃথিবীতে একমাত্র মাতা এবং পিতাই হলেন
- 17:22দুজন ব্যক্তি যারা সর্বদাগা চান যেন তার সন্তান তাদের থেকে উন্নতি করে। সময়,
- 17:29বন্ধু এবং সম্পর্ক হলো এই তিন জিনিস যা আমরা বিনামূল্যে পাই। কিন্তু এদের মূল্য
- 17:34আমরা তখন বুঝতে পারি যখন কোন একটি আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। জীবনে কিছু দুঃখ
- 17:40আমাদের এমনও থাকে যা আমাদের বাঁচতে দেয় না। আবার জীবনে কিছু কিছু কর্তব্য এমন
- 17:45থাকে যা আমাদের মরতেও দেয় না। তুমি যত ইচ্ছা ভালো কাজ করে নাও। তোমার প্রশংসা
- 17:51একমাত্র শ্মশানেই হবে। যদি তুমি কোন ব্যক্তিকে একবার ক্ষমা করে দাও তাহলে তুমি
- 17:56জ্ঞানী। যদি দ্বিতীয়বার ক্ষমা করে দাও তাহলে তুমি নরম মনের মানুষ। কিন্তু যদি
- 18:00তুমি সেই ব্যক্তিকে তৃতীয়বারও ক্ষমা করে দাও তাহলে তুমি দুনিয়ার সবথেকে বড়
- 18:05মূর্খ। এই জীবনের সবথেকে দামি জিনিস হলো বুদ্ধি বিপর্যয় ঘটে এবং কর্তব্যে অনিহা
- 18:12আসে তখন বুঝবে তমগুণ প্রাধান্য পেয়েছে। সত্যগুণ প্রাপ্ত অবস্থায় যদি জীব
- 18:20দেহত্যাগ করে তবে সে স্বর্গলোক প্রাপ্ত হয় যদি রজগুণ থাকা অবস্থায় দেহত্যাগ করে
- 18:26তবে পরজন্মে কর্মী হয়ে মনুষ্যীতে জন্মগ্রহণ করে। আর যদি তমগুণ অবস্থায় দেহ
- 18:33ত্যাগ করে তবে বোকা পাগল অথবা অবিবেকী হয়ে এই জাতীয় বিভিন্ন জনিতে জন্মগ্রহণ করে।
- 18:42হে অর্জুন আমি অব্যক্ত রূপে সমস্ত জগৎব্যাপী আছি। সমস্ত জীব সকল আমাতেই
- 18:48অবস্থিত। কিন্তু আমি তাহাতে নই। যেমন আয়নাতে তুমি নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাও।
- 18:55অর্থাৎ তুমি আয়নার মধ্যেই আছো। কিন্তু আয়না তোমার মধ্যে নেই। হে কৌন্তেয় কল্পের
- 19:03শেষে সমস্ত জীব আমাতেই বিলীন হয়। আবার কল্পারম্ভে পুনরায় তারা আমার থেকেই নির্গত
- 19:09হয়। আমি নিজ প্রকৃতিকে নিজের বশে রেখে নিজ নিজ কর্মনিমিত্তে স্বভাব অনুযায়ী জীবগণকে
- 19:16বারবার সৃষ্টি করে থাকি। আমার অধিষ্ঠানের জন্যই এই জগৎ প্রসব হয়। এই জন্যই জগৎ
- 19:24বারবার উৎপন্ন হয়। হে কন্তেও যারা অন্য দেবতায় ভক্তিযুক্ত
- 19:30হয়ে পূজা করেন তারাও আমাকেই পূজা করেন। কিন্তু তারা শাস্ত্রবিধি অমান্য করে। আমি
- 19:36সর্বযজ্ঞের ফলদাতা ও ভোক্তা। এই তত্ত্ব জানে না বলেই তারা পুনরায় সংসারে পতীত
- 19:42হয়। যারা দেবগণের পূজা করেন তারা দেবলোক। যারা পিতৃগণের পূজা করেন তারা পিতৃলোক।
- 19:49যারা যক্ষ রক্ষাদিকের পূজা করেন তারা ভূতলোক প্রাপ্ত হন। কিন্তু যারা আমার
- 19:55ভোজনা করেন তারা আমাকেই প্রাপ্ত হন। যিনি আমাকে পত্র, পুষ্প, ফল, জল ইত্যাদি
- 20:02ভক্তিপূর্বক দান করেন আমি সেই ভক্তের উপহার গ্রহণ করে থাকি। বিষয় চিন্তা করতে
- 20:09করতে মানুষের তাতে আসক্তি জন্মায়। আসক্তি থেকে কামনা, কামনা থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে
- 20:16মোহ, মোহ থেকে স্মৃতিভংশ, স্মৃতিভংশ থেকে বুদ্ধিনাশ আর বুদ্ধি নাশ হলেই বিনাশ ঘটে।
- 20:24কিন্তু যার ইন্দ্রিয় প্রসন্ন চিত্ত এবং বুদ্ধি ঈশ্বরে স্থিত তিনি অমৃত লাভ করেন।
- 20:32আর যিনি অযুক্ত যার চিত্ত ঈশ্বরে সমাহিত নয় তার আত্মা বিষয়ক বুদ্ধিও হয় না। যার
- 20:40আত্মা বিষয়ক বুদ্ধি চিন্তা নেই তার শান্তিও নেই। আর যার শান্তি নেই তার সুখ
- 20:46কোথায়? আমাদের মন সকল ইন্দ্রিয়কে পরিচালনা করে। যখন ইন্দ্রিয় সকল মনের
- 20:53অধীন এবং প্রজ্ঞাবান যার ইন্দ্রিয় সকল বিষয় থেকে নিবৃত হয়েছে তার প্রজ্ঞা
- 20:59প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানবে। যেমন নদীর জল সমুদ্রে প্রবেশ করে বিলীন হয়ে যায়
- 21:06তেমনি আত্মাবান ব্যক্তিতে বিষয় সকল প্রবেশ করলেও তাতে চিত্ত বিক্ষিপ্ত না
- 21:11হয়ে স্থির থাকে। এরূপ স্থির আত্মাবান ব্যক্তি শান্তি লাভ করে। কিন্তু যিনি ভোগ
- 21:19কামনা করেন তিনি শান্তি পান না। যে ব্যক্তি সমস্ত কামনা ত্যাগ করে নিষ্প্রিয়
- 21:26হয়ে বিচরণ করেন যিনি মমতাশূন্য এবং অহংকার শূন্য তিনি শান্তি প্রাপ্ত হন। হে
- 21:33পার্থ এই স্থিতিপ্রজ্ঞ অবস্থাই হলো ব্রাহ্মী স্থিতি। এই অবস্থা প্রাপ্ত হলেই
- 21:40জীবের আর মোহ থাকে না। মৃত্যুকালেও এই অবস্থা বিদ্যমান থাকায় তিনি ব্রহ্মে লীন
- 21:46হন। অর্থাৎ তিনি মোক্ষ লাভ করেন। তৃতীয় অধ্যায়ের অর্জুনের প্রশ্নের উত্তরে শ্রী
- 21:53ভগবান কর্মযোগের অবতারণা করেছেন। এখানেও নিষ্কাম কর্মের উপায় রূপে প্রথমে আত্মাতে
- 22:00সন্তুষ্ট আত্মারাম জ্ঞানীর ভাবানুযায়ী ফলাশক্তি বর্জন করে কর্ম করার উপদেশ
- 22:06দিলেন। তারপর অহংকার বর্জিত নির্লিপ্ত বুদ্ধিতে কর্ম করার উপদেশ দিলেন। তিনি
- 22:13বলছেন সর্বানি কর্মানি সান্ধারতাচেত সাহা অর্থাৎ বিবেক বুদ্ধি দ্বারা আমাদের
- 22:21সমস্ত কর্ম সমর্পণ করো। এখানেও শ্রী ভগবান কর্মযোগের সহজ পন্থা স্পষ্ট করে নির্দেশ
- 22:28করে দিচ্ছেন। ঈশ্বরের সমস্ত কর্ম সমর্পণ করতে হবে আমাদের। তাহলে সেই কর্মের ফল আর
- 22:34আমাদের উপর বর্তাবে না। ঈশ্বর তার অনন্ত কৃপাগুণে আমাদের সমস্ত কর্মভোগ কাটিয়ে
- 22:42মোক্ষের অধিকারী করে দেবেন। এরপর চতুর্থ অধ্যায়ে ভগবান তার করুণার পরাকাষ্ঠা
- 22:49প্রকাশ করে প্রতিজ্ঞা করছেন যে যথা আভাজা অর্থাৎ যে যেখানে যেভাবে যে অবস্থায় আমার
- 22:57স্মরণ নেয় তাকে সেইখানে সেইভাবে সেই অবস্থায় আমি অনুগ্রহ করে থাকি। যে বিষয়
- 23:04কামনা করে তাকে আমি কাম্যবস্তু প্রদান করে থাকি। যে মোক্ষ কামনা করে তাকে আমি মোক্ষ
- 23:11ফল প্রদান করি। যে ভক্তি প্রার্থনা করে তাকে আমি ভক্তি প্রদান করি। ভগবান
- 23:17শ্রীকৃষ্ণ দেহের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ককে খুব সুন্দরভাবে ভগবত গীতায় তুলে ধরেছেন।
- 23:24জীবের সত্তা কি? দেহের সাথেই বা আত্মার সম্পর্ক কি? আত্মার স্বরূপ কি? এই সকল
- 23:32জটিল বিষয়বস্তু খুব সূক্ষাতি সূক্ষভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় তুলে ধরেছেন।
- 23:38আমাদের মূল সত্তাকে অবগত করার মানুষে প্রথমেই আত্মার স্বরূপ সম্পর্কে ভগবান
- 23:45ধারণা দিচ্ছেন অন্তবন্ত ইনে দেহা নিত্যসক্তা শরীর নাশিন আপ্রমেস তাসমাদস
- 23:54ভারতা আত্মা যে দেহকে আশ্রয় করে অবস্থান করেন সেই দেহ বলে কথিত হয়েছে কিন্তু আত্মা
- 24:02হলো অবিনস্বর তাহলে এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে যে আমি আসলে কে দেহটা যদি
- 24:10নসবরই তাহলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তাহলে আমি
- 24:14ধ্বংস হয়ে গেলে কর্মফলের ভোগটার কার? এই প্রশ্নের উত্তরটা কিন্তু ভগবানের এই
- 24:21শ্লোকে স্পষ্টভাবেই প্রতিয়মান হয়। দেহটা যেহেতু নসবর তাই এই দেহটা আমি নই। যেহেতু
- 24:29আত্মা অবিনশ্বর ও নিত্য তাই আত্মাটাই হচ্ছি আমি। আমার মূল সত্তা হলো আমি এক
- 24:37আত্মা যে একটি দেহকে আশ্রয় করে আছি। দেহটা আত্মার একটি আবরণ মাত্র। যেটা ভগবান আরো
- 24:45স্পষ্ট করে বলেছেন বাসানসি জিরনা যথাবিহায় নবানী গৃহাতি নরপরানি তথা শরীরানী বিহায়
- 24:54জীর্ণান্তি না সাইয়াতি দেহী। যেরকম মনুষ্য তার পুরাতন বস্ত্রগুলি ত্যাগ করে নতুন
- 25:01বস্ত্র ধারণ করে সেইরূপ জীবাত্মাও পুরাতন শরীর ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে।
- 25:08বর্তমানে আমি এই দেহকে আশ্রয় করে আছি। আবার কোন এক সময় পুরাতন বস্ত্রের মতোই এই
- 25:15দেহকে পরিত্যাগ করে কর্মফল অনুযায়ী নতুন একটি দেহ আমি ধারণ করব। এটাই হলো প্রকৃতির
- 25:22বিধান। এখানে কিন্তু ভগবান আমাদের জীবাত্মা বলে সম্বোধন করেছেন। এর মানে হলো
- 25:29আমি হলাম আত্মা। তবে জীবাত্মা। আর পরমেশ্বর ভগবান যেহেতু সর্বভূতে অবস্থান
- 25:35করেন তাই তিনি হলেন পরমাত্মা। যেহেতু আমার জন্ম হয়েছে তাই আমার মৃত্যু অবশ্যমভাবে।
- 25:42কিন্তু জন্ম ও মৃত্যু কোন সৃষ্টি বা বিনাশ নয়। গীতার ভাষায় এটা দেহ পরিবর্তন করার
- 25:49একটা নিয়ম মাত্র। যাতাসচাহি ধ্রুব মৃত্যু ধ্রুবম জন্ম মৃতসচ তসমাত পরিহারথে নাতমাম
- 25:58সচিতামারহাসি যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু নিশ্চিত আবার যার মৃত্যু হয়েছে তার জন্ম
- 26:05হওয়াও নিশ্চিত সুতরাং যা অবশ্যমভাবী তার জন্য আমাদের শোখ করা উচিত নয় এটি হলো
- 26:12ভগবত গীতার সবথেকে বড় উপলব্ধি যারা এই শরীরকে সর্বস্ব বলে মনে করেন তারাই কেবল
- 26:18দুঃখ ভোগ করেন কিন্তু যারা জানেন এই শরীরটা আমি নই আমি জীবাত্মা আমার বিনাশ
- 26:24নেই তারা কখনো কোন কষ্টে ব্যথিত হন না বা অধিক আনন্দে প্রভাবিত হন না আমাদের জীবনের
- 26:32সবথেকে কটু সত্য হলো এটি যে আমরা সর্বদা সুখের জন্য চেষ্টা করি কিন্তু আমরা দুঃখ
- 26:38পাই আমরা প্রেম কামনা করি কিন্তু আমরা হতসার সাথে মিলিত হই আমরা জীবন কামনা করি
- 26:44কিন্তু আমরা জানি যে আমরা প্রত্যেক মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি
- 26:50প্রত্যেক ব্যক্তি সুখ লাভের জন্য ফলপ্রশু কাজে নিয়োজিত থাকে কিন্তু তৃপ্তি পায়
- 26:55না। পরিবর্তে এই ক্রিয়াকলাপ গুলি কেবল দুঃখকে আরো বাড়িয়েই তোলে। ফলে এই
- 27:00পৃথিবীতে কার্যত সবাই অসুখী। কেউ কেউ নিজের শরীর ও মনের দুঃখে ভোগে। অন্যরা
- 27:06তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়দের দ্বারা যন্ত্রণা প্রাপ্ত হয়। কেউ কেউ
- 27:11ধনসম্পদের অভাব ও জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতিতে ভুগছেন। বস্তুগত
- 27:17মানসিকতার লোকেরা জানে যে তারা অসুখী। কিন্তু তারা মনে করে যে তাদের সামনে থাকা
- 27:23অন্যরা সবাই সুখী এবং তাই তারা বস্তুগত বৃদ্ধির জন্য ছুটতে থাকে। এই অন্ধ সাধনা
- 27:30চলে বহুকাল যাবৎ তবুও সুখের দেখা নেই। এখন যদি মানুষ এটা বোঝে যে ফলপ্রসু কাজে লিপ্ত
- 27:37হয়েও কেউ কখনো সুখ অর্জন করতে পারেনি তাহলে তারা বুঝবে যে তারা যেদিকে ছুটছে তা
- 27:43বৃধা এবং অর্থহীন এবং তখন তারা আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে ফিরতে পারে। যাদের বুদ্ধি
- 27:51আধ্যাত্মিক জ্ঞানে স্থির হয়ে গেছে তারা বোঝে যে ভগবানই সবকিছুর পরম ভোগদাতা।
- 27:57ফলস্বরূপ তারা তাদের কর্মের ফলের প্রতি আসক্তি পরিত্যাগ করে। তার কাছে সমস্ত কিছু
- 28:02নিবেদন করে এবং তার করুণা হিসেবে যা আসে তা নির্মলভাবে গ্রহণ করে। এটি করার ফলে
- 28:08তাদের কর্মগুলি কর্মিক প্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত হয়ে যায় যা একজনকে জীবন ও মৃত্যুর
- 28:14চক্রে আবদ্ধ করে। বন্ধুরা আমি আশা করব এই ভগবত ভক্তির উপর উপলব্ধিগুলি শুনে আপনি
- 28:21শান্তি লাভ করেছেন। পাথ অফ ধর্ম ভগবত গীতার প্রচারের নিমিত্ত এই ভিডিওটি আপনি
- 28:25আপনার আপনজনদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন যাতে তারাও ভগবত গীতার এই উপলব্ধিগুলি
- 28:31অনুধাবন করতে পারে যা আমাদের সমাজের পক্ষে অত্যন্ত মঙ্গলজনক। ভগবত গীতা প্রচারের এই
- 28:37প্রচেষ্টা যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই ভিডিওটিতে একটি লাইক করবেন এবং
- 28:42এরকম ধরনের নিত্য নতুন ভিডিও পাওয়ার জন্য চ্যানেলটিকে আজই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
- 28:47সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। জয় শ্রীকৃষ্ণ
About this transcript
This page contains the full transcript of "শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—রাতে ঘুমানোর আগে একবার শুনুন | জীবন বদলে যাবে | Geeta Saar Bangla | Krishna Bani" by Path Of Dharma , generated from the public captions YouTube serves with the video. The transcript has 3,482 words across 266 segments, with the original timestamps preserved so you can click any line to jump to that moment in the embedded player.
What you can do with it
Use the transcript to take notes, quote the speaker, build a study guide, generate a summary with ChatGPT or Claude via the YouTube Summary tool, or export it as a timed subtitle file with YouTube to SRT. You can also re-open it in the transcriber to translate the transcript into 100+ languages.
Free YouTube transcript tool
YouTube2Text is a free YouTube transcript generator — no signup, no daily limit. Paste any YouTube link and get the full transcript instantly, with timestamps, click-to-jump, translation to 100+ languages, AI prompts for ChatGPT, Claude, and Gemini, and exports to TXT, SRT, VTT, or Markdown.